বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০২ পি.এম
রাজশাহীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়।
এই সভাটি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, রাজশাহীর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘মনিটরিং টিমের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. লুৎফর রহমান উল্লেখ করেন, "পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বায়ু, পানি ও মাটি দূষণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবেশ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, "পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব।" তিনি জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহীর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাশয় সংরক্ষণ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর পরিচালক (উপসচিব) নিলুফা ইয়াছমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সবুর আলী, পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহীর উপপরিচালক মোছা. তাছমিনা খাতুন, সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচিতে পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা শহরের মধ্যে নাশকতা ও মিছিলের প্রস্তুতির কারণে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর পাবনার সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবসহ ১৫ জন নেতাকর্মীকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করেছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডের ইন্দিরা মোড়ের সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। আব্দুল ওহাব ছাড়া আটককৃত অন্যান্যদের তাৎক্ষণিক নাম পরিচয় জানা যায়নি।
পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, তারা শহরের মধ্যে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। নাশকতার অংশ হিসেবে মাইক্রোবাসে করে এসে শহরের মধ্যে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাবনা সদর থানায় পাঠানো হয়েছে।
এটি আব্দুল ওহাবের জন্য তৃতীয়বারের মতো আটক হওয়া। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে আটক করেছিল। সেই সময় তাকে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনার সময় আটজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ছিনিয়ে নেওয়ার তিনদিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ আবারও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল ওহাবকে গ্রেফতার করে। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে সুজানগর এলাকায় আবারো আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করেন আব্দুল ওহাব এবং তার সমর্থকরা। চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতের অভিযানে পুলিশ আব্দুল ওহাবসহ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২১ নেতাকর্মীকে আটক করেছিল। এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর তারা জামিনে মুক্তি পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনা জেলার সাঁথিয়ায় লোকালয়ে প্রবেশ করা একটি পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে শিয়ালটিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪ টা থেকে সাড়ে ৫ টার মধ্যে সাঁথিয়া পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের শালঘর মহল্লা ও সাতবিলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহতদের চিকিৎসার জন্য সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শালঘর মহল্লার মো. রফিকের বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে বেঁধে রাখা একটি ছাগল প্রথমে শিয়ালের হামলার শিকার হয়। এরপর শিয়ালটি একে একে গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে আরও কয়েকজনকে কামড়ে আহত করে। আহতদের মধ্যে শালঘর এলাকার বাদশার মেয়ে জুবাইদা (০৪), মংলা খাতুন (৭০), আলেয়া (২৫), ওয়াজ কুরুনি (০৭), শাহিদা (৫০), সোনিয়া (১৪) রয়েছেন।
এছাড়াও গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের সাতবিলা গ্রামের সাব্বিরের মেয়ে সিনহা (০৩), লাকি (৩০), বায়জিদ (০৬), রেহেনা (৪২), সামসুর (২২) পাগলা শিয়ালের আক্রমণের শিকার হন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে আত্মরক্ষার্থে গ্রামবাসীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। বিকেল ৫ টার দিকে গ্রামের শতাধিক মানুষ শিয়ালটিকে খুঁজতে বের হয় এবং পাশের একটি ঝোপ থেকে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার সময় সেটিকে ধরে পিটিয়ে হত্যা করে মহল্লাবাসী।
সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাফুজ জানিয়েছেন, আহতদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। যদিও শিয়ালটি মারা গেছে, তবুও আহতদের পরিবার এবং পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাঙামাটি পার্বত্য জেলা কমিটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্মল বড়ুয়া মিলন দলটির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গণমাধ্যমে পাঠানো এক পদত্যাগপত্রে তিনি এ ঘোষণা দেন। পদত্যাগপত্রে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের বিরুদ্ধে দলীয় গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন, কেন্দ্রীয় কমিটিকে পাশ কাটিয়ে একক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, দলীয় অর্থনৈতিক বিষয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে আলোচনা না করার মতো একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নির্মল বড়ুয়া মিলনের অভিযোগ, দুই কংগ্রেসের মধ্যবর্তী সময়ে দলের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব কেন্দ্রীয় কমিটির হাতে থাকার কথা থাকলেও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কেন্দ্রীয় কমিটিকে পাশ কাটিয়ে একাধিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন। একইভাবে কেন্দ্রীয় কমিটি সমগ্রভাবে দলের প্রতিনিধিত্ব ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার কথা থাকলেও একক সিদ্ধান্তে দল পরিচালনার অভিযোগও করেন তিনি।
পদত্যাগপত্রে দলটির গঠনতন্ত্রের ১৯ ধারার বিভিন্ন উপধারার উল্লেখ করে নির্মল বড়ুয়া মিলন দাবি করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে দলীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদ দীর্ঘদিন শূন্য রাখার বিষয়টিও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।
দলীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ‘কালের দাবি’ পত্রিকার দায়িত্ব থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন নির্মল বড়ুয়া মিলন। তার দাবি, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পত্রিকার ওয়েবসাইট উন্নয়নের কথা বলে তাকে কোনো কিছু না জানিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ওয়েবসাইট এবং ‘জনগণতন্ত্র’ পত্রিকার ওয়েবসাইটসহ তিনটি ওয়েবসাইটের ইন্টারনেট বিল তিনি দীর্ঘ আট বছর নিজ খরচে বহন করেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসে এক হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ হিসেবে তার পাওনা ৯৬ হাজার টাকা বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়েও পদত্যাগপত্রে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেছেন নির্মল বড়ুয়া মিলন। তার অভিযোগ, এসব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় ও জোটগত সিদ্ধান্তের বাইরে এককভাবে আসন পরিবর্তন, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে উপস্থাপন না করা এবং বিএনপির সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও দলীয় কাঠামো অনুসরণ না করার অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পদত্যাগপত্রে উল্লিখিত দাবিগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পদত্যাগপত্রে তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বিএনপি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক এবং জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই অংশ নেওয়া হয়েছে।
নির্মল বড়ুয়া মিলনের ভাষ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর দলটির সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তার মনে হয়েছে, দলটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও পরিচালনায় সীমিতসংখ্যক ব্যক্তির প্রভাব অত্যধিক। তিনি দাবি করেন, এতে মফস্বলের জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতা-কর্মী এবং শ্রমিক শ্রেণির নেতা-কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না।
পদত্যাগপত্রের শেষাংশে নির্মল বড়ুয়া মিলন বলেন, তিনি বৈষম্যের শিকার শ্রমিক শ্রেণি ও মুক্তিকামী মানুষের রাজনীতির পক্ষে থাকবেন। তবে ‘বামপন্থী’ ও ‘বিপ্লবী’ শব্দ ব্যবহার করে দলীয় নেতা-কর্মী ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতির সঙ্গে তিনি আর যুক্ত থাকতে চান না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার পূর্বধলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে হামলা, সংঘর্ষ ও মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) নেত্রকোনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাজিবুল হাসানের আদালতে জামিনের আবেদন করেন আসামিরা। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মো. জয়নাল আবেদীনও রয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম।
কী অভিযোগ মামলায়
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের জটিয়াবর গ্রামের বাসিন্দা ও ৭ নম্বর আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. উমর শরীফ গত ২৫ মে রাতে পূর্বধলা থানায় মামলাটি করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, ২০ মে বিকেলে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রম শেষে মোটরসাইকেলে করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরছিলেন উমর শরীফ। বিকেল তিনটার দিকে আগিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল লোক তাঁর পথরোধ করে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলায় জয়নাল আবেদীনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ধলামূলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজুয়ানুর রহমান রনি, পূর্বধলা সদর ইউনিয়ন উপজেলা জামায়াতের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম বাবুলসহ মোট ৩৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় উমর শরীফের সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। তাঁর ব্যবহৃত টিভিএস স্ট্রাইকার মোটরসাইকেলে পেট্রোল বোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। আহত উমর শরীফকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
‘মিথ্যা মামলা’, বলছে জামায়াত
মামলাটিকে মিথ্যা দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামী। নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বলেন, তাঁরা মামলাটি আইনিভাবে মোকাবিলা করবেন। দ্রুত মামলা প্রত্যাহার ও নেতাকর্মীদের মুক্তির প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগের সত্যতা ও দায়-দায়িত্বের বিষয়টি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ