বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১১:৪৬ এম
পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার হাটবাজারে চাঁইয়ের বেচাকেনা জমে উঠেছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে এবং এ অবস্থায় খাল, বিল ও ধানখেতে পানি বেড়েছে। ফলে, চিংড়ি ও দেশিও ছোট মাছ ধরার জন্য চাঁইয়ের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলার দক্ষিণবন্দর সড়কের পার্শ্বে জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহের বুধবার একদিন চাঁইয়ের হাট বসে। এই হাটে সাধারণত এক থেকে দুই হাজার চাঁই বিক্রি হয়ে থাকে।
বুধবার (১ জুলাই) সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে কম্পিত চাঁই সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। হাটে চাঁই কিনতে অনেক আশপাশের কৃষক ও জেলেরা এসেছেন। সকাল থেকে বেলা একটার মধ্যে বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়।
এসময়, কথা হয় উপজেলার দক্ষিণ মিঠাখালী গ্রামের কৃষক সত্তার হালদারের (৫৫) সঙ্গে। তিনি চাঁই কেনার উদ্দেশ্যে হাঁটে এসেছেন। তাঁর মন্তব্য ছিল, "জমিতে পানি উঠছে। এ সময় বিলে প্রচুর চিংড়ি ও মাছের আনাগোনা বাড়ে। তাই মাছ ধরার জন্য চাঁই কিনতে এসেছি।"
স্থানীয় চাঁই ব্যবসায়ীরা জানান, জেলার বিভিন্ন হাটে বর্ষা মৌসুম শুরু হলে চাঁই বিক্রি হয়ে থাকে। সাধারণত জ্যৈষ্ঠ মাস থেকে শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি সময়ে চাঁইয়ের হাটে বেচাকেনা বাড়িয়ে। এ সময়ে হাটগুলোতে প্রচুর চাঁই ওঠে।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম থেকে ব্যবসায়ীরা চাঁই কিনে হাটে বিক্রি করেন। অনেকে নিজের তৈরি চাঁইও হাটে নিয়ে বিক্রি করেন। এইচ, বাঁশ, নাইলন বা প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে চাঁই তৈরি করা হয় এবং প্রতি জোড়া চাঁইয়ের দাম ৩২০-৩৫০ টাকা।
চাঁই ব্যবসায়ী রহমান হোসেন (৪৫) জানান, বর্ষা মৌসুমে জ্যৈষ্ঠ থেকে শ্রাবণ তিন মাস চাঁইয়ের হাট জমজমাট থাকে। আষাঢ়ের শুরুতে চাঁই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে। এ সময়ে প্রতি হাটে দুই থেকে তিন হাজার চাঁই বিক্রি হয়। এ অঞ্চলের হাটগুলোয় চাঁইয়ের ক্রেতারা মূলত কৃষক, জেলে ও গৃহস্থ পরিবার।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, এই অঞ্চলে দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ পাওয়া যায়। ফলে, স্থানীয় কৃষকরা চাঁইয়ের ক্রেতা হয়ে ওঠেন। বর্ষা মৌসুমে এর চাহিদা বেড়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের আটটি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরে একটি নম্বর সংকেত দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই, দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য প্রদান করা সতর্কবার্তায় এ ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
এই এলাকার নদী বন্দরসমূহকে এক নম্বর সতর্কতা সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারের দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিশেষ করে ‘একটি শিশু, এক বৃক্ষ' কর্মসূচির আওতায় রোপণ করা চারার টিকে থাকা, বৃদ্ধি এবং কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরি করা হচ্ছে।
জাতীয় সবুজ মিশনের অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের (এফওয়াই২৭) জাতীয় বাজেট বক্তৃতা এবং বাংলাদেশ জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭-এ এ উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাজেট ও জলবায়ু নীতিসংক্রান্ত দলিল অনুযায়ী, দেশজুড়ে রোপণ করা গাছের ধারাবাহিক ডিজিটাল নজরদারি ও পরিচর্যার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে অ্যাপটি তৈরি করা হচ্ছে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চারার বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা হবে। বিশেষ করে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচির আওতায় বাড়ি ও বসতভিটায় রোপণ করা বিপুল সংখ্যক গাছের নজরদারির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে তাদের বাড়ি ও বসতভিটায় ১ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নিয়ে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পর্যবেক্ষণ আরও নির্ভুল করতে ট্রি মনিটরিং অ্যাপকে জিপিএস (গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম) ও জিআইএস (জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম) ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বিত করা হবে। এর মাধ্যমে বন অধিদফতরের আওতায় বনায়নকৃত এলাকার ডিজিটাল মানচিত্র ও তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ করার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
বিশেষ করে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বৃক্ষরোপণ এলাকায়, যেখানে সরাসরি তদারকি করা কঠিন, সেখানে চারার টিকে থাকা নিশ্চিত করতে অ্যাপটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় সবুজ মিশনের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অবক্ষয়িত বন পুনরুদ্ধার, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং কার্বন শোষণ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।
বৃহত্তর এ বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজেট দলিল অনুযায়ী, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশকে কার্বন বাণিজ্য ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বনায়ন কর্মসূচিতে উপকূলীয় চরাঞ্চলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ রোপণ, পাহাড়ি ও মধ্যাঞ্চলের শালবন পুনরুদ্ধার এবং বিলুপ্তপ্রায় বনজ প্রজাতি সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, যাতে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষিত থাকে।
এছাড়া সড়ক, মহাসড়ক, বাঁধ, নদীতীর ও খালপাড়ের পতিত জমিতে অঞ্চলভিত্তিক উপযোগী বৃক্ষরোপণ, পাশাপাশি নগর বনায়ন ও কৃষিবনায়ন কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বাজেটে গাছ ও সুগন্ধি গাছের নির্যাস আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যা পরিবেশ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, জাতীয় সবুজ মিশনের অন্যতম প্রধান ডিজিটাল অবকাঠামো হিসেবে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ বৃহৎ পরিসরের বনায়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ বাংলাদেশ গঠনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন করলেন। তিনি বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) নজরুল বর্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, শুধু মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, সরকার এটি নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে যে, কোনো প্রাণীই যেন হিংস্রতার শিকার না হয়।
বিশদ প্রতিবেদন আসছে....
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা এলাকায় মোতালেব হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যিনি তোশকে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরোনো সড়কের পাশে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
মোতালেব লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার শিবপুর গ্রামের মৃত ছলেমান মিয়ার ছেলে হিসেবে পরিচিত। তিনি মাসদাইর গোরস্থানের সাজেদা মঞ্জিলে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করতেন এবং মাসদাইর বাজারের সুমাইয়া টেলিকম ও বুক নামে ফ্লেক্সিলোডের দোকানের মালিক ছিলেন।
নিহতের শ্যালক কামাল জানান, তার ভাই ১ জুলাই সকাল ৮টায় বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন তারা। বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে এসে সড়কে তোশকে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহ শনাক্ত করেন। তিনি হত্যাকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক ওয়াসিম খান জানান, ধারণা করা হচ্ছে তাকে নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এরপর দুর্বৃত্তরা মরদেহের পরিচয় গোপন করার জন্য তোশকে মুড়িয়ে সড়কে ফেলে দেয়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ