০১:০৩ পি.এম
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) বাস থেকে নামতে গিয়ে সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মনীষার আহত হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তসহ সাত দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচিতে নামেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে পাবনা শহরের মুক্তমঞ্চ বাসস্টপে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মনীষা।
আরও পড়ুন: ঢাবির অমর একুশে হলে ১০ শিক্ষার্থী পেলেন প্রভোস্ট অ্যাওয়ার্ড
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস থেকে কয়েকজন ছাত্রী শহরের মুক্তমঞ্চ এলাকায় নামছিলেন। এ সময় মনীষা বাস থেকে নামার আগেই চালক হঠাৎ বাসটি চালিয়ে দেন। ফলে তিনি রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং তার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাবনা এসোর্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে সমাজকর্ম বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মোশাররফ পারভেজ বলেন, "আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং মনীষার চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের দাবি জানাই।" তিনি আরও বলেন, "ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার প্রশাসনকেই নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।"
একই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুহুস্তাসিন নাদির জানান, "মনীষার দুর্ঘটনার ঘটনায় অবিলম্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।" তিনি বলেন, "এ ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আগামী তিন দিনের মধ্যে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন ব্যর্থ হলে আমাদের চলমান আন্দোলন আরও কঠোর ও বেগবান হবে।" তিনি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গতকাল রাতেই আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর, ছাত্রপরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক, সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকেরা।
আরও পড়ুন: চবির শাটলে সিট ধরা নিয়ে অপসংস্কৃতি, আগে উঠেও দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের
শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবিগুলো হল
১) দুর্ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী মনীষার চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে এবং তাঁর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
২) দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী বাসচালকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কোনো বাস চালানোর দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
৩) শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ওঠানামা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বাসে কমপক্ষে একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত হেলপার নিয়োগ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক হেলপার নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম ৩৬ দিন পর আংশিক শুরু, আন্দোলন অব্যাহত
৪) প্রতিটি নির্ধারিত বাসস্টপেজে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে ওঠানামা সম্পন্ন হওয়ার পর বাসের পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চালক ও হেলপারকে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
৫) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও যাতায়াতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
৬) সকল বাসচালক ও হেলপারের নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা যাচাই, পেশাগত দক্ষতা মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের শালীন, দায়িত্বশীল ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৭) অনিবার্য কারণ দেখিয়ে হঠাৎ করে দূরপাল্লার বাস বন্ধ করা যাবে না, একান্তই বন্ধ রাখলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: শেকৃবি শিক্ষার্থীরা নতুন সচিবালয় নির্মাণের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে গেলেন
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, "এ ধরনের দুর্ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।" তিনি জানান, "আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের গেট থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেছি। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা রয়েছে, তাই বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার কথা বলেছি। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুপুর ১২টায় আলোচনায় বসব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন