০৫:২২ পি.এম
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এই সৌজন্য সাক্ষাৎ আজ রোববার স্পিকারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, নরওয়ে এবং বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর এই সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে। নরওয়ে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর মনোনীত
তিনি বলেন, নরওয়ে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রসারে সবসময় সহায়তা করে আসছে।
স্পিকার আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রকে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। স্বৈরাচারী সরকার গুম, খুন, সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তৎকালীন বিরোধীদলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘২৪ জুলাই গণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটানো হয় এবং দেশে পুনরায় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা শুরু হয়।
স্পিকার জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছিল। এই নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করে চলেছে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। রোহিঙ্গা জনগণের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রয়োজন। তিনি বলেন, নরওয়ে এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশ বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে পারে।
আরও পড়ুন: ঢাকাসহ ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু, ফি ৮-১০ হাজার টাকা
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন মন্তব্য করেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণ করে আসছে। বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে সারাবিশ্বের শান্তিরক্ষায় একটি প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, নরওয়ে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিস্তার এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় সবসময় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকালে তারা দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, সংসদীয় প্রতিনিধিদের সফর বিনিময় এবং বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া চলমান সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রম এবং জুলাই সনদ নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এ সময় স্পিকার ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের জন্য নরওয়ের কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে নরওয়ের দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: চলতি বছরে উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন