ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চট্টগ্রামের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৭


চট্টগ্রামের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৭

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। এ তথ্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ইয়ার্ড ম্যানেজার হতাহতের কথা স্বীকার করেছেন, তবে তার দাবি ইয়ার্ড বন্ধের দিনের কারণে গ্যাস লিকেজের খবর শুনে কৌতূহলী এলাকাবাসী যখন জাহাজের কাছে আসে, তখন কিছু লোক হতাহত হয়েছেন। তবে তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি ঠিক কতজন আহত হয়েছেন।

উপজেলার নির্বাহী অফিসারও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত

জানা গেছে, ভাটিয়ারী সাগর উপকূলে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে একটি জাহাজে গ্যাস লিকেজে অনেকেই হতাহত হয়েছেন। তবে হতাহতের সঠিক সংখ্যা কেউ জানাতে পারেননি।

জানতে চাইলে ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডের ম্যানেজার মোহাম্মদ ইউসুফ বলেছেন, ‘আজ শুক্রবার ইয়ার্ড বন্ধ রয়েছে।

কিন্তু সকাল ৯টার সময় স্ক্র্যাপ এলএনজি জাহাজে একটি ট্যাঙ্ক লিকেজ হয়ে যায়। এ খবর পেয়ে স্থানীয় বহিরাগত কিছু লোক তা দেখতে আসে। এসময় জমে থাকা গ্যাসে কয়েকজনের মৃত্যু হয় ও কয়েকজন আহত হন’। তবে আহতদের সংখ্যা ও নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তিনি নিশ্চিতভাবে এর বেশি বলতে পারছেন না। তদন্ত ছাড়া ঠিক কিভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা বলা যাবে না।

আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত

ইয়ার্ডটির কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর স্থানীয় শতাধিক বিক্ষুব্দ লোক ইয়ার্ডে গিয়ে ভাঙচুর করেছে। অনেক মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে সুযোগ সন্ধানীরা।

কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ আল মামুন জানিয়েছেন, শিপইয়ার্ডে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চলমান রয়েছে।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন বলেছেন, ‘আমরা এখনো পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর কথা শুনেছি। উদ্ধারকাজ চলছে এবং এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।’

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এসএসসিতে শতভাগ ফেল, সমালোচনার মুখে ৩১২ প্রতিষ্ঠানকে শোকজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


এসএসসিতে শতভাগ ফেল, সমালোচনার মুখে ৩১২ প্রতিষ্ঠানকে শোকজ

এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ ফেল করা ৩১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ড শোকজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জনেরও কম এবং এখানে পড়াশোনার উপযুক্ত পরিবেশ নেই। শিক্ষা গবেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেল।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুলের শুধু পাঁচজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল, এবং তাদের সবাই ফেল করেছে। প্রতিষ্ঠানে সাতজন শিক্ষক আছেন এবং তাদের অভিযোগ, নানা সংকটের কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে। একজন শিক্ষকের বক্তব্য, গণিতের শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় তিনি নিয়মিত ক্লাসে আসছেন না, ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সমস্যা হয়েছে।

গাজীপুরের মেরুয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষার জন্য ১৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, কিন্তু একজনও পাস করেনি। এখানে ১৮ জন শিক্ষক রয়েছে এবং তারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবক পড়াশোনা নিয়ে সচেতন নয়। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে অল্পবয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেক সময় ক্লাস চলাকালীন অভিভাবক এসে মেয়েদের নিয়ে যাচ্ছেন। পরে জানা যায় তাদের বিয়ে হয়ে গেছে।

শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠানের চিত্র প্রায় একই, যেখানে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ থেকে সাতজন। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭২ শতাংশই মাদ্রাসা।

শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ধাপে ধাপে শোকজ করা হবে। আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অবহেলা বা নিজেদের কোনো সমস্যার কারণে এমন ফলাফল হলে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা পরীক্ষা করা দরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী মন্তব্য করেছেন, পুরো উপজেলায় মাত্র একজন শিক্ষা কর্মকর্তা ও এক বা দুইজন সহকারী কর্মকর্তা রয়েছে। তাদের পক্ষে সকল প্রতিষ্ঠানের নজর রাখা সম্ভব নয়, তাই দূর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা জোরদার করা উচিত।

শিক্ষার্থীদের ফেল করার কারণ অনুসন্ধানের পরামর্শও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বিগত সময়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন যথাযথ নিয়ম না মেনে দেওয়া হয়েছে এবং এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান এবং উপযুক্ত পরিবেশ তো দুরের কথা, গুনগত শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গৃহীত হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেছ, শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের কারণ চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় গোরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ৫৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


নেত্রকোনায় গোরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ৫৬

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় গোরস্থানের জমির মালিকানা এবং ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ৫৬ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের আমগড়া এলাকায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, আমগড়া এবং পুলিয়া পানেশ্বরপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে গোরস্থানের জমির মালিকানা ও ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। দুই গ্রামের লোকজনও দীর্ঘদিন ধরে ওই গোরস্থানে মৃত ব্যক্তিদের দাফন করে আসছেন।

গোরস্থানের পাশে বাজার নির্মাণের ব্যাপারে এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল।

শুক্রবার সকালে বিরোধের কারণে দুই গ্রামের লোকজন একত্রিত হলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সেই সময় রাস্তার নির্মাণের জন্য রাখা ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। বর্তমানে সেখানে পুলিশের মোতায়েন রয়েছে। কিন্তু এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর ১টা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ৫৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয় জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র রেফার করা হয়েছে।

কলমাকান্দা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গোরস্থানের জমির মালিকানা ও ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য আর বিশ্বাস করছে না সিআইএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৫ পি.এম


ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য আর বিশ্বাস করছে না সিআইএ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন মিত্র ইসরায়েলের কাছ থেকে গোয়েন্দা তথ্য প্রাপ্তির পর। ওই তথ্যে জানানো হয়েছিল, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

তবে, যুদ্ধ শুরুর ছয় মাস পরেও ট্রাম্প এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার কৌশল খুঁজে পেতে বেশ সমস্যায় পড়ছেন।

এভাবে যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা হ্রাস পেয়েছে। একসময় ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়া ইসরায়েল, এখন আর ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে, গত তিন মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার দীর্ঘদিনের মিত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন প্রকট হয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায়, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে জানা যায়, গোপনে তুরস্ক থেকে একটি সামরিক বিমানে করে যুক্তরাজ্যে চলে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের একটি হত্যাচেষ্টার হুমকি এড়াতে। নজিরবিহীন সেই নিরাপত্তা অভিযানে, ট্রাম্পকে একটি খাবারের ট্রলির মাধ্যমে এক বিমান থেকে অন্য বিমানে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর তিনি ন্যাটোর আঙ্কারা সম্মেলন থেকে গোপনে ছোট একটি সামরিক বিমানে ব্রিটেনের উদ্দেশে রওনা হন।

এদিকে, ট্রাম্পের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইসরায়েলের দেওয়া তথ্য নিয়ে সন্দিহান ছিল। বুধবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, সিআইএ ওই গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ‘কম আস্থা’ দেখিয়েছে। এরপরও মার্কিন কর্মকর্তারা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন।

একটি সূত্র সংবাদপত্রটিকে জানায়, এই সতর্কবার্তাটি ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের একটি বৃহত্তর ধারার সঙ্গে মিলে যায়। ওই ধারার তথ্যগুলোকে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, শুধুমাত্র তথ্য প্রদান করার জন্য নয়, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতেও দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা দ্য ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠতা এখন চরম চাপে পড়েছে। একই সঙ্গে দুই নেতাও ইরানকে কেন্দ্র করে নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছেন।

১৯৭৮ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা মার্কিন কূটনীতিক অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ হামলা ইরানের সরকার পরিবর্তনের পথ তৈরি করবে। এই বিষয়ে ইসরায়েলের ‘চরম আত্মবিশ্বাস’ ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে সন্দেহ তৈরির ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু প্রায়ই তার উদ্দেশ্য সাধনের জন্য গোয়েন্দা মূল্যায়নের সঙ্গে হেলাফেলা করেন, বিশেষ করে যখন ইরান ও হামাসের মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রসঙ্গ আসে।’ একই সঙ্গে, ট্রাম্পের ওপর আগের ক্ষতিকর হামলার ঘটনা এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে হত্যার জন্য আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট একটি ষড়যন্ত্রের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায়, ইসরায়েলের গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে সিআইএ মনে সন্দেহ থাকলেও মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায়নি।

চ্যাথাম হাউসের মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ইয়োসি মেকেলবার্গ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-কে বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো যে প্রথমে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে, বাস্তবে সেগুলো হয়তো এতটা নির্ভরযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, সিআইএ মনে করে, ইরান যুদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা কিছুটা প্রভাবের বাইরে চলে গেছে এবং এখন সেই প্রভাব ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছে। যুদ্ধের সময় গোয়েন্দা তথ্য, বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনেক ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘সিআইএ মনে করে, তারা কিছুটা উপেক্ষিত হয়ে পড়েছে এবং এখন আবার নিজেদের প্রভাব ফেরানোর চেষ্টা করছে।’ তার মতে, এ যুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক ব্যর্থতা রেকর্ড করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইরানের মিনাবের একটি স্কুলে হামলার কথা উল্লেখ করেন। সেই হামলায় ১৭০ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছিল এবং ঘটনাটি বর্তমানে মার্কিন সরকার তদন্ত করছে।

তিনি আরো বলেন, ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত ফোনালাপের নানা তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়ে গেলেও, ট্রাম্পের নেতানিয়াহুর প্রতি ‘বিশেষ দুর্বলতা’ রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ। গত মাসে নেতানিয়াহু অষ্টমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যান। এ থেকে বোঝা যায়, সম্পর্কের মধ্যে কিছু টানাপোড়েন থাকলেও তাদের সম্পর্ক এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী।

বিশেষ করে লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যায়নি। ইসরায়েল দাবি করছে, তারা হিজবুল্লাহকে পরাস্ত করার জন্যই লেবাননে এই অভিযান চালাচ্ছে।

অধ্যাপক মেকেলবার্গের মতে, গাজা নিয়ে ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করার পরও, ট্রাম্প এই বিষয়ে নীরব রয়েছেন। একইভাবে, নেতানিয়াহু বলেছেন, তার প্রধানমন্ত্রীত্বের সময় কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। এসব বিষয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানো না হওয়া দুই নেতার সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, এই সম্পর্কের ওপর সামনে আরো চাপ বাড়তে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, অক্টোবরের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে লড়াই করছেন নেতানিয়াহু। ফলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়তে পারে।

লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যান্ড্রু মোরান মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সম্পর্কে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে। তিনি বলেন, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্য একসময় খুবই নির্ভরযোগ্য মনে করা হত, কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ট্রাম্পকে সম্ভাব্য হামলা থেকে সরিয়ে নেওয়া একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ছিল। তবে একই সাথে ওই গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগের মতো আস্থা নেই, তা প্রকাশ করে।

৭ অক্টোবরের হামলার আগাম তথ্য দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে অধ্যাপক মোরান মনে করেন, ট্রাম্প ইসরায়েল থেকে দূরে সরে যাবেন না। কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে বেশি অনিশ্চিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি কি সত্যিই পাকিস্তানের জন্য সামরিক পদক্ষেপে যাবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০২:২৮ পি.এম


সৌদি কি সত্যিই পাকিস্তানের জন্য সামরিক পদক্ষেপে যাবে?

দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণের সূচনা ঘটিয়ে, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিটির মূল কথা হলো, জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশের ওপর সামরিক হামলা হলে, তা তিনটি দেশের ওপরই হামলা হিসেবে গণ্য হবে। কাগজে কলমে এটিকে একটি প্রতিরক্ষামূলক ও সম্মিলিত নিরাপত্তার কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করা হলেও, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকদের কাছে এটি একটি নতুন কূটনৈতিক ধোঁয়াশার জন্ম দিয়েছে। প্রধান প্রশ্ন উঠছে, সংকটকালে এই কৌশলগত প্রতিশ্রুতি কি সত্যিই সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে রূপান্তরিত হবে, নাকি তা কেবল রাজনৈতিক সংহতি, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং লজিস্টিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

এই চুক্তির আসল গভীরতা বুঝতে হলে, এটিকে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের বহু বছরের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা প্রয়োজন। এই সম্পর্কটি ২০২৫ সালে একটি আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিপক্ষীয় রূপ নিয়েছিল। কিন্তু ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, কৌশলগত চুক্তি বা সামরিক সুসম্পর্ক থাকলেই, সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তার গ্যারান্টি পাওয়া যায় না। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দশকের পর দশক ধরে ঘনিষ্ঠ সামরিক যোগাযোগ রয়েছে এবং বহু বছর ধরে সৌদি ভূখণ্ডে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন রয়েছে।

এতে সত্ত্বেও, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে পাকিস্তান সবসময়ই একটি সতর্ক দূরত্ব বজায় রেখেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৫ সালে যখন সৌদি আরবের নেতৃত্বে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু হয়, তখন পাকিস্তানের পার্লামেন্ট সে দেশে সেনা পাঠানো বা সরাসরি সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিল। এ থেকে স্পষ্ট হয় যে, জাতীয় স্বার্থ, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে প্রতিটি রাষ্ট্রই নিজেদের সামরিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত হিসাব-নিকাশ করে চলে।

সম্প্রতি এই দ্বিপক্ষীয় জোটে তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় একটি নতুন ত্রিপক্ষীয় মাত্রা তৈরি হয়েছে। অনেকে একে রূপক অর্থে একটি ইসলামিক ন্যাটো বা সুন্নি নিরাপত্তা বলয় বলে অভিহিত করলেও, এটি একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার অতিসরলীকরণ মাত্র। কারণ এই তিন দেশের প্রধান নিরাপত্তা হুমকি ও ভৌগোলিক গুরুত্বের ক্ষেত্রগুলো সম্পূর্ণ আলাদা। পাকিস্তানের সমস্ত কৌশলগত মনোযোগ কেন্দ্রীভূত দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর।

অন্যদিকে, তুরস্ক ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক থিয়েটারে নিজস্ব প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত। আবার সৌদি আরবের মূল নিরাপত্তা উদ্বেগ হলো, পারস্য উপসাগরের স্থিতিশীলতা রক্ষা, নিজের তেল অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইরান সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীদের হামলা মোকাবিলা করা। সম্প্রতি সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি হওয়ায়, রিয়াদ প্রথাগত পশ্চিমা নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে গিয়ে তাদের সামরিক অংশীদারত্বকে বহুমুখী করার তাগিদ অনুভব করছে।

ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখলে, এই চুক্তি দিল্লির নিরাপত্তার জন্য নিশ্চিতভাবেই একটি বাড়তি কৌশলগত জটিলতা তৈরি করে। পাকিস্তান এখন দুটি প্রধান আঞ্চলিক শক্তির আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সমর্থন লাভ করছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সৌদি আরব বা তুরস্কের সরাসরি সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা যদিও কম, তবুও সম্ভাব্য সংকটের সময় ইসলামাবাদ রিয়াদ বা আঙ্কারা থেকে কূটনৈতিক সমর্থন, গোয়েন্দা তথ্য, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি এবং লজিস্টিক সহযোগিতা পেতে পারে।

তবে এর বিপরীতে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বাধাটি সৃষ্টি করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতা। সৌদি আরব তাদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে ভারতের মতো বৃহৎ অর্থনীতির সাথে গভীর ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ভারতের বিশাল জ্বালানি বাজার এবং সেখানে সৌদি পুঁজির ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ রিয়াদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রিয়াদ কখনোই চাইবে না এমন কোনো কঠোর সামরিক অবস্থানের দিকে যেতে, যা নয়াদিল্লির সঙ্গে তাদের সুদৃঢ় বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে চিরতরে বিনষ্ট করে। ২০২৫ সালের পাহালগাম সন্ত্রাসী হামলা এবং ভারতের 'অপারেশন সিঁদুর'-এর প্রেক্ষাপটে ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার সময়েও সৌদি আরব পাকিস্তানের পক্ষে সরাসরি কোনো সামরিক বা উস্কানিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থেকে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেছিল।

মক্কা চুক্তিকে কোনো চূড়ান্ত সামরিক জোট হিসেবে দেখার সুযোগ যেমন নেই, তেমনি একে কেবল একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হিসেবে উড়িয়ে দেওয়াও সমীচীন হবে না। এটি মূলত পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার একটি প্রতিফলন, যেখানে রিয়াদ কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন খুঁজছে, আঙ্কারা তার আঞ্চলিক প্রভাব বাড়াতে চাইছে এবং ইসলামাবাদ নিজেদের নিরাপত্তা সহযোগীদের ক্ষেত্র বিস্তৃত করছে।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%