ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সীতাকুণ্ডে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও গাছ কাটার অভিযোগ, মিথ্যা প্রোপাগান্ডার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন


সীতাকুণ্ডে ব্যবসায়ীর ওপর হামলা ও গাছ কাটার অভিযোগ, মিথ্যা প্রোপাগান্ডার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়ন এলাকায় চাঁদা না পেয়ে এক সফল ব্যবসায়ী ও নিরীহ ব্যক্তির ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা ভুক্তভোগীর বাগানবাড়ির গাছপালা কেটে ক্ষতিসাধন এবং একটি ভুঁইফোড় অনলাইন মিডিয়ায় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করে মানহানি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূরুল আবছার।

আজ সোমবার ( নভেম্বর ২০২৬) সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক লিখিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সীতাকুণ্ড থানাধীন ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মৃত মোহাম্মদ ইসমাইলের ছেলে এবং বিভিন্ন খাতের রাজস্ব আদায়কারী ব্যবসায়ী নূরুল আবছার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নূরুল আবছার জানান, এলাকার একটি চিহ্নিত দাঙ্গাবাজ ও চাঁদাবাজ চক্র দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা না দেওয়ায় স্থানীয় ওই চক্রটি তার ক্ষতি করার বিভিন্ন ফন্দি আঁটতে থাকে।

আরও পড়ুন: জনগণের সেবক হতে চান ধীতপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মোকসেদুল ইসলাম ইকবাল

ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি তার বাগানবাড়িতে লেবারদের কাজের তদারকির জন্য যান। এর ২০ মিনিট পর প্রতিপক্ষ সুমন হাতে ধারালো কিরিচ নিয়ে তার ওপর চড়াও হয় এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে সুমন তাকে কোপ দিতে গেলে তিনি হাত চেপে ধরে আত্মরক্ষা করেন এবং এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে সুমন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাতেই সীতাকুণ্ড মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি।

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, জিডি করার জেরে পরদিন ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সকাল ১০টার দিকে সন্ত্রাসী সুমন ও তার সহযোগীরা তার বাগানের একটি বড় জাম গাছ এবং ১৮টি আম গাছ গোড়া থেকে কেটে ফেলে। যার আনুমানিক ক্ষতি ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এ সময় বাগানে গিয়ে তিনি গাছ কাটার দৃশ্য দেখার সময় সুমনের বোন ও সুমন নিজে তাকে ফের গালাগালি করে এবং একপর্যায়ে সুমন ধারালো দা নিয়ে এসে তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে কোমরে উপর্যুপরি লাথি মারে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলায় তার কোমড়ে গুরুতর আঘাত লাগে।

সংবাদ সম্মেলনে নূরুল আবছার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সন্ত্রাসী সুমন তার দাঙ্গাবাজির পাশাপাশি আমাকে জাতির কাছে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য গত ৩১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অজ্ঞাত ‘জাগ্রত চট্টগ্রাম (জেসি) টিভি’ নামক একটি অনলাইন মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন কাহিনীর সংবাদ প্রকাশ করে। আমার কণ্ঠ এডিট করে আমার ছবি ও মিথ্যা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে, যার বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। ওই অনলাইন পোর্টালের কোনো সাংবাদিক আমার সাথে যোগাযোগই করেনি।

তিনি আরও জানান, অভিযুক্তরা বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ইতিমধ্যে এলাকাবাসী কর্তৃক একঘরে ও সমাজচ্যুত হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচন সম্পন্ন

এমন ন্যক্কারজনক হামলা, বাগান ভাঙচুর এবং অনলাইন মিডিয়ায় মিথ্যা সংবাদ প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ভুক্তভোগী নূরুল আবছার। পাশাপাশি, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী সুমনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে ২ তরুণকে অপহরণের পর ভারতে পাচারের অভিযোগে ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


রাজবাড়ীতে ২ তরুণকে অপহরণের পর ভারতে পাচারের অভিযোগে ২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

রাজবাড়ী জেলার পাংশা এলাকায় ২ তরুণকে অপহরণের পর ভারতে পাচারের অভিযোগে মো. রেজাউল মন্ডল (১৮) ও মো. শাহীদুল মিয়া (২৭) নামের দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, তাদেরকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মো. রেজাউল মন্ডল পাংশা উপজেলার ধুলিয়াট গ্রামের আদো মন্ডলের ছেলে এবং মো. শাহীদুল মিয়া একই গ্রামের মৃত আতর আলী মিয়ার ছেলে।

সোমবার দুপুরে রাজবাড়ী মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তহিদুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামিরা মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়া পলাতক ছিলেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, মো. একলাস উদ্দিন মালিথা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ও ১০(১) ধারায় আসামি মো. রেজাউল মন্ডলসহ অজ্ঞাত ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৬ মে পাংশা থানায় মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তার পুত্র মো. ফারুক ওরফে মারুফ (১৬) পাংশা থানার বাগদুলী গ্রামে তার নানা মো. সাবিন ব্যাপারীর বাড়িতে লেখাপড়া করতেন। ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, ১০ মে রাত ১০টার সময় মো. রেজাউল মন্ডলসহ অজ্ঞাতনামারা মো. ফারুক ওরফে মারুফ এবং তার খালাতো ভাই মো. আজিজুল ইসলাম (১২) কে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নামে অপহরণ করে। ১৭ দিন পরে মো. আজিজুল ইসলাম পাচারকারীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে যশোর শহরের পালবাড়ীর মুক্তির মোড়ে এসে চায়ের দোকানদারের মোবাইল ফোন থেকে বাড়িতে ঘটনা জানান। এরপর মো. ফারুক ওরফে মারুফের বাবা মো. একলাস উদ্দিন মালিথা পাংশা থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর তদন্তে প্রকাশ পায় যে, মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়া অজ্ঞাত পাচারকারীদের সাথে যোগসাজসে ভারতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে ১০ মে রাত ১০টার দিকে মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে প্রথমে মোটরসাইকেলে করে পাংশা থানার আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে অপরিচিত দুজন পাচারকারীর কাছে হস্তান্তর করে। সেখান থেকে ওই ২ জন অপরিচিত পাচারকারী মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে একটি পিকআপে করে পোড়াদহ রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে যায়। ট্রেনে উঠিয়ে পানীয় জাতীয় কিছু পান করিয়ে তাদেরকে অজ্ঞান করে ফেলে। এরপর তারা ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখে। পাচারকারীরা সেখান থেকে প্রথমে মো. ফারুক ও মারুফকে ভারতে পাচার করে দেয়, যার আজ পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পাংশা থানার এসআই কামাল হোসেন ভূঁইয়া এ মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্তে মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়ার বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদ উদ্দিন মোল্লা জানান, মামলাটি প্রমাণের জন্য রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ৮ জন সাক্ষীকে পরীক্ষা করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রমাণিত হয় যে, মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়া মানব পাচারকারী দলের সক্রিয় সদস্য। তারা অজ্ঞাত পাচারকারীদের সাথে পরস্পর যোগসাজসে মো. ফারুক ওরফে মারুফ ও মো. আজিজুল ইসলামকে ভারতে পাচার করার উদ্দেশ্যে যশোর জেলার ভারতীয় সীমান্তে নিয়ে আটকে রাখে। পাবলিক প্রসিকিউটর জানান, অপর ভুক্তভোগী মো. আজিজুল ইসলাম কৌশলে পাচারকারীদের হেফাজত থেকে পালিয়ে আসেন এবং তিনি এ ট্রাইব্যুনালে আসামিদের বিরুদ্ধে ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়াকে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ও ১০(১) ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৭ ধারার অপরাধে আসামি মো. রেজাউল মন্ডল ও মো. শাহীদুল মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০(১) ধারার অপরাধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাবের দাবি, ২০২৭ সালে হজের কোটা ২০ হাজার বাড়ানো হোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


হাবের দাবি, ২০২৭ সালে হজের কোটা ২০ হাজার বাড়ানো হোক

বাংলাদেশের জন্য ২০২৭ সালের হজে নির্ধারিত কোটা আরও ২০ হাজার বাড়ানোর দাবি করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত কোটার বাইরে ২০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন। এই হজযাত্রীরা হজ পালনের জন্য মানসিক ও আর্থিকভাবে প্রস্তুত রয়েছেন। তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সৌদি সরকারের কাছে অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলনে হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার এবং মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার এই দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ২০২৭ সালের হজ ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা, বর্ধিত কোটা, সৌদি আরবে আটকে থাকা মেডিকেল ফির টাকা ফেরত এবং হজযাত্রীদের প্যাকেজের বাকি টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এ সময় জানানো হয়, আগামী ১৫ মে ২০২৭ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি সরকার এ বছর বাংলাদেশের জন্য ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশের মূল হজ কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে গত কয়েক বছরে হজযাত্রীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় সৌদি সরকার এই কোটা কমিয়ে দিয়েছে।

হাবের নেতারা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এবার হজযাত্রীর সংখ্যা আশাতীতভাবে বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোটা পূর্ণ হওয়ার পরেও ২০ হাজারের বেশি হজযাত্রী অপেক্ষমাণ রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকের পরিবারের একাধিক সদস্য নিবন্ধন করতে পারলেও অন্যরা কোটার অভাবে অপেক্ষা করছেন। এ অবস্থায় অন্তত ২০ হাজার অতিরিক্ত কোটা বরাদ্দ দেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপির প্রতি সৌদি সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে হাব।

সংগঠনটির নেতারা জানান, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে ধর্মমন্ত্রীর সুসম্পর্ক রয়েছে। তারা আশাবাদী যে, মন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিলে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীদের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে। যদিও মন্ত্রী এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন, তবে অপেক্ষমাণ হজযাত্রীরা উৎকণ্ঠায় রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাব জানায়, চলতি বছর সৌদি সরকার কোনো পূর্বঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই মেডিকেল ফির নামে বাংলাদেশের হজ এজেন্সিগুলোর প্রায় ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল আটকে রেখেছিল। বিষয়টি জানার পর হাব সংবাদ সম্মেলন করে অর্থ ফেরত পেতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে। পরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ ও সহযোগিতায় গতকাল আটকে রাখা ৩০ লাখ রিয়াল ফেরত পাওয়া গেছে।

হাব নেতারা এ জন্য প্রধানমন্ত্রী, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ), প্রতিমন্ত্রী মুহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা অবশিষ্ট অর্থও দ্রুত ফেরত দেওয়ার অনুরোধ জানান।

এছাড়া সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, মক্কায় কাউন্সেলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম, কনসাল (হজ) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং হজ কার্যক্রমে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

হজযাত্রীদের সেবায় সহযোগিতার জন্য সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ. বিন আবিয়াহসহ সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে হাব নেতারা জানান, ২০২৭ সালের হজে প্রাথমিকভাবে নিবন্ধিত যাত্রীদের প্যাকেজের সম্পূর্ণ টাকা আগামী ৭ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে বাকি টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন না করলে প্রাথমিক নিবন্ধন বাতিল বলে গণ্য হবে। এতে সংশ্লিষ্টদের আগামী বছরের হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

সুতরাং, প্রাথমিক নিবন্ধন করা সব হজযাত্রীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্যাকেজের বাকি টাকা জমা দিয়ে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে হাব।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বলেন, গণমাধ্যমের সহযোগিতায় হজ ব্যবস্থাপনা ক্রমেই সুশৃঙ্খল ও সফল হচ্ছে। ২০২৬ সালের হজ অতীতের যেকোনো বছরের তুলনায় সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। আগামী বছরও হজ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাইক টাইসনের ধর্ষণ মামলা নিয়ে নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্রে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


মাইক টাইসনের ধর্ষণ মামলা নিয়ে নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্রে বিতর্ক

মাইক টাইসন এক সময় বক্সিং রিংয়ে আতঙ্কের প্রতীক ছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন। তবে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে নানা বিতর্ক, কারাবাস, মাদকাসক্তি এবং নির্যাতনের অভিযোগও তাঁকে বারবার আলোচনায় এনেছে। সম্প্রতি, নেটফ্লিক্সের চার পর্বের প্রামাণ্যচিত্র ‘টাইসন’ তাঁর জীবনের এসব অধ্যায় নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

১৩ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া এই সিরিজটি দর্শকদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে এটি বিশ্বব্যাপী ৫১ লাখ ভিউ পায়। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৩৮ লাখ ভিউ যুক্ত হওয়ায় দুই সপ্তাহে মোট দর্শকসংখ্যা ৮৯ লাখে পৌঁছায়। নেটফ্লিক্সের ইংরেজি ভাষার সিরিজের তালিকায় এই প্রামাণ্যচিত্রটি দুই সপ্তাহ ধরে চতুর্থ অবস্থানে ছিল।

সিরিজটিতে টাইসনের দারিদ্র্যপীড়িত শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বসেরা বক্সার হয়ে ওঠার গল্প তুলে ধরা হয়েছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণকারী টাইসন ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন। অপরাধপ্রবণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই কিশোরের জীবন বদলে দেন বক্সিং প্রশিক্ষক কাস ডি’আমাতো। তাঁর সহায়তায় টাইসন পেশাদার বক্সিংয়ে প্রবেশ করেন এবং অল্প বয়সেই বিশ্বজয়ের পথে এগিয়ে যান।

তবে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছানোর পরও বিতর্ক তাঁকে ছাড়েনি। ১৯৯০ সালে বস্টার ডগলাসের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ১৯৯২ সালে ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন টাইসন। এই কারণে তাঁকে তিন বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটাতে হয়। যদিও তিনি বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে ইভান্ডার হলিফিল্ডের কানে কামড় বসানোর ঘটনা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে দাঁড়ায়। সিরিজটিতে দাম্পত্য কলহ, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মাদকাসক্তি এবং ছোট মেয়ের অকালমৃত্যুর মতো ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে টাইসনের জীবনের অন্ধকার দিকগুলো উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আপত্তি উঠেছে। বিশেষ করে ধর্ষণের মামলার অভিযোগকারী ডিজিরি ওয়াশিংটন এবং টাইসনের সাবেক স্ত্রী রবিন গিভেন্সের বক্তব্য যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও গিভেন্স কেউই নতুন সাক্ষাৎকার দেননি, ফলে তাঁদের অভিজ্ঞতার তুলনায় টাইসন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য বেশি স্থান পেয়েছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর সমালোচকেরা প্রামাণ্যচিত্রটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, টাইসন নিজের অতীতের নানা ঘটনা নিয়ে কথা বললেও গুরুতর অভিযোগগুলোর দায় স্বীকারের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ এবং ‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর মতো গণমাধ্যম সিরিজটির প্রশংসা করেছে। তাদের মতে, টাইসনের অস্থির এবং আবেগপ্রবণ ব্যক্তিত্ব পর্দায় আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে ‘টাইসন’ শুধুমাত্র একজন কিংবদন্তি বক্সারের জীবনী নয়, বরং অতীতের অপরাধ, অনুশোচনা এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জটিল সম্পর্কও সামনে এনেছে। মানুষ কি সত্যিই নিজের অতীত থেকে বদলে যেতে পারে, নাকি সময়ের সঙ্গে শুধু নিজেকে উপস্থাপনের ধরন পাল্টায়? সিরিজটি দর্শকদের সামনে সেই প্রশ্নই রেখে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় বায়ুদূষণ রোধে ৯ দফা নির্দেশনা, প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ পি.এম


ঢাকায় বায়ুদূষণ রোধে ৯ দফা নির্দেশনা, প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে উচ্চ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ৯ দফা নির্দেশনার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোর তথ্য জানাতে হাইকোর্ট দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আদালতে বিস্তারিত হলফনামা আকারে এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলো দাখিল করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানির জন্য আদালত আগামী ১৬ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) এ বিষয়ে শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ জারি করেন।

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ, যিনি আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডলের সহযোগিতা গ্রহণ করেন।

আদালতের এই নির্দেশনার মাধ্যমে ২০২০ সালে ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রদত্ত ৯ দফা নির্দেশনার বাস্তবায়নের অগ্রগতি পুনরায় পর্যালোচনা করার উদ্যোগ নেওয়া হলো।

২০২০ সালে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) দায়ের করা এক জনস্বার্থমূলক রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৯ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন।

এই নির্দেশনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পানি ছিটানো, বালু পরিবহনের ট্রাক ঢেকে রাখা, নির্মাণকাজের স্থান ঘিরে রাখা, বিভিন্ন মার্কেটের বর্জ্য নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাগে ভরে অপসারণ এবং ঢাকার আশপাশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করার নির্দেশনা।

এইচআরপিবির পক্ষে করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত পূর্বে ৯ দফা নির্দেশনার বাস্তবায়নে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নির্দেশনা পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককেও আদালতে তলব করা হয়েছিল।

শুনানিতে আজ এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ উল্লেখ করেন, ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বর্তমানে ঢাকায় বায়ুদূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। এর ফলে নগরবাসীর স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।

রিটের আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী মো. সারোয়ার আহাদ চৌধুরী এবং রিপন বাড়ৈ। বিবাদীদের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে গণমাধ্যমে ২০১৯ সালের ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে এ রিট দায়ের করা হয়। ওই রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৮ জানুয়ারি আদালত রুলসহ আদেশ প্রদান করেন।

আদেশে এসব ইটভাটা বন্ধ করতে প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে বলা হয়। পাশাপাশি ঢাকায় বায়ুদূষণের কারণ এবং দূষণরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পরিবেশ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটিকে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রাজধানীতে বায়ুদূষণ রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে সম্পূরক আবেদন করেন এইচআরপিবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%