রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:০২ পি.এম
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : হংকংয়ের সাবেক নেতা তুং চি-হুয়ার শেষকৃত্যে রোববার সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষেরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এএফপির সাংবাদিকরা এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন।
চলতি মাসে ৮৯ বছর বয়সে তুং মারা যান। সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং ১৯৯৭ সালে চীনের কাছে হস্তান্তরের পর, বেইজিংয়ের মনোনীত সাবেক এই জাহাজ ব্যবসায়ী নগরীর নেতৃত্বে আসেন। হংকং থেকে এএফপি সংবাদ সংস্থা এ খবর জানায়।
কট্টর রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত তুং আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে ব্যাপক বিক্ষোভের পর তিনি পদত্যাগ করেন। তার মেয়াদজুড়ে নানা সংকট দেখা দেয়।
রোববার, চীনের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো তুংয়ের কফিন শববাহী গাড়িতে করে হংকং ফিউনারেল হোম থেকে একটি দাহস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্মরণসভা কক্ষে তুংয়ের একটি প্রতিকৃতি স্থাপন করা হয়। ছবিতে তাকে হাস্যোজ্জ্বল ও তার স্বভাবসুলভ ছোট করে ছাঁটা চুলে দেখা যায়। চারপাশে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে সাদা অর্কিড রাখা হয়।
স্মরণসভা কক্ষের বাইরের রাস্তাজুড়ে সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী নেতাদের পাঠানো শত শত পুষ্পস্তবক রাখা হয়।
তুংয়ের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুলের শোকবার্তায় বলা হয়েছে, ‘গভীর কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে আমরা তাকে স্মরণ করছি।’
শেষকৃত্য আয়োজক কমিটি তাকে ‘খ্যাতিমান দেশপ্রেমিক’ এবং ‘চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
৮৯ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত সংস্কারকর্মী চেউং কোয়ক-লিক জানান, সাবেক এই নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি বাসে করে এক ঘণ্টার পথ পেরিয়ে এসেছেন।
তুংয়ের দায়িত্ব পালনের সময় এশীয় আর্থিক সংকট ও প্রাণঘাতী সার্স মহামারি মোকাবিলা করতে হয়েছিল। চেউং বলেন, ‘এটি কোনোভাবেই সহজ ছিল না।’
তুংয়ের নেতৃত্বের সময় রেকর্ড বেকারত্ব এবং ১৯৯৭ সালের বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবও ঘটে।
নগরীর বাসিন্দা কিকি হো জানান, শ্রদ্ধা জানানোর পরও তিনি ‘দুঃখ ভারাক্রান্ত ও আবেগাপ্লুত’ অনুভব করছেন।
৬৮ বছর বয়সী এই নারী বলেন, ‘তিনি যে সময় ও পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তাতে পরিস্থিতি তার অনুকূলে ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘তিনি একজন ভদ্রলোক ছিলেন। অভিজ্ঞ একজন মানুষ ছিলেন। হংকংয়ের জন্য সত্যিকার অর্থেই কিছু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক অঙ্গন হয়তো তার জন্য খুব বেশি জটিল ছিল।’
এর আগে ব্রিটিশ ও মার্কিন কনস্যুলেট তুংয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে।
কয়েক দশক ধরে তিনি বেইজিং, হংকং এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করেছেন।
চীনে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাক্স বাউকাস তুংকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘জীবনের শেষ কয়েক দশকে তিনি এই বিশ্বাসে নিবেদিত ছিলেন যে, আমাদের দুই দেশের পারস্পরিক শান্তি নিশ্চিত ও বজায় রাখা প্রয়োজন।’
বাউকাস আরও বলেন, ‘এটি অর্জনের সবচেয়ে ভালো উপায় হল জনগণের মধ্যে কূটনীতিÑএমনটাই তিনি বিশ্বাস করতেন।’
তুং তার স্ত্রী বেটি চিউ, দুই ছেলে এবং এক মেয়ে রেখে গেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বার্সেলোনা একসময় বিশ্বফুটবল শাসন করেছে জাভি হার্নান্দেজের মাঝমাঠ এবং লিওনেল মেসির আক্রমণভাগের জুটিতে। ২০১৫ সালে জাভি কাতালান ক্লাবটি ত্যাগ করার পর দুজনের পথ আলাদা হয়ে যায়। তবে ২০২১ সালে বার্সার প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাভি তার পুরনো বন্ধু মেসিকে ক্যাম্প ন্যুয়ে ফেরানোর জন্য চেষ্টা করেন।
সাবেক এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার সম্প্রতি বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সভাপতি হোয়ান লাপোর্তার অনীহার কারণে মেসির প্রত্যাবর্তন বাস্তবে রূপ নেয়নি। মেসি ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে পিএসজিতে যাওয়ার মাত্র তিন মাস পর জাভি ক্লাবের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর লাপোর্তা প্রশাসন তাকে বরখাস্ত করে হান্সি ফ্লিককে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়। জাভির দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয় করার পর মেসিকে ফেরানোর একটি বিশাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল।
জাভি সম্প্রতি বলেন, ‘মেসি আমার খুব কাছের বন্ধু এবং আমরা সবসময়ই যোগাযোগ রাখতাম। বার্সেলোনায় ফেরার জন্য সে নিজেও ভীষণ আগ্রহী ছিল, আর আমিও শতভাগ এর পক্ষে ছিলাম। পুরো চার মাস আমরা টানা যোগাযোগের মধ্যে ছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত সভাপতি লাপোর্তা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান যে, তিনি মেসিকে পুনরায় সাইন করাতে চান না। তিনি চাননি মেসি বার্সেলোনায় ফিরুক, এটাই আসল সত্য।’
মেসিকে ফেরাতে না পারার দুঃখ প্রকাশ করে জাভি বলেন, ‘মেসি নিজেও অনেক আশা নিয়ে ছিল, আমি এবং পুরো কোচিং স্টাফও অনেক প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই সভাপতি সবকিছু বাতিল করে দেন। হ্যাঁ, বাস্তবতা এতটাই নিষ্ঠুর ছিল! এটি বাস্তবায়িত হলে ফুটবলের ইতিহাসে একটি স্বপ্নের অধ্যায় হতে পারত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। বিষয়টি সত্যিই অত্যন্ত আফসোসের।’
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানিয়েছেন মেসি। জাভি জানান, নিয়মিত যোগাযোগের কারণে তিনি এই সিদ্ধান্তের আভাস পেয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের ওয়ারী বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃত এক আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগ এলাকা থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রায়হান উদ্দিন (৩৫), রাসেল খান (৩২), আলা উদ্দিন (২৮) ও আব্দুল্লাহ (২৮)।
ডিবি ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে সড়কে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এক পথচারী গুরুতর আহত হন। ঘটনার পর যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ওয়ারী বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর বংশাল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রায়হান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি দল।
পরে রায়হান উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে লালবাগ থানাধীন জেন সাহা রোডের একটি ১০ তলা ভবনের নিচতলার পার্কিং এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পার্কিংয়ের একটি পিলারের পাশে ইটের সুরকির বস্তার মধ্য থেকে লাল রঙের কসটেপ দিয়ে মোড়ানো চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।
এরপর ডেমরা থানাধীন ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি ওয়ারী বিভাগ জানায়, গ্রেপ্তার রায়হান উদ্দিন এর আগে মতিঝিল থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। পরে জামিনে বের হয়ে তিনি পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তবে এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি আজ রোববার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে সৌদি আরব থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ সেপ্টেম্বর চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি ও তাঁর স্ত্রী পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের (১৩) নির্মম হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মোবাইলের মাধ্যমে তিনি অপ্রতিমের বাবার সঙ্গে কথা বলে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি তিনি জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "এই খবরটি দেখে আমরা খুবই মর্মাহত হয়েছি। আপনার ছেলের জন্য দোয়া রইল। আপনাদের পরিবারকে যেন আল্লাহ তায়ালা ধৈর্য ধরার তৌফিক দেন।"
তিনি ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, "আমরা চাই, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ