ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হংকংয়ে ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ তহবিল গঠনের উদ্যোগ: অর্থমন্ত্রী


হংকংয়ে ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ তহবিল গঠনের উদ্যোগ: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, ২২ আগস্ট, ২০২৬ : বিকল্প অর্থায়নের উৎস সৃষ্টি করা, পুঁজিবাজার পুনরুজ্জীবিত করা এবং প্রচলিত ঋণনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে হংকংয়ে বাংলাদেশের জন্য ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি উল্লেখ করেন, এটি একটি ঋণ নয়; বরং এটি ইকুইটি বিনিয়োগের জন্য একটি তহবিল। যাহা আন্তর্জাতিক পুঁজি বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন একটি পথ তৈরির ব্যবস্থা করবে।

আজ শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর মতিঝিলের ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাইঅ্যানুয়াল ইকোনমিক স্টেট ইন এফওয়াই ২০২৬: ফিসকাল অ্যান্ড মনিটারি পার্সপেকটিভ অ্যান্ড প্রাইভেট সেক্টর এক্সপেকটেশনস’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন: ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী

আমীর খসরু আরও বলেন, ‘আমরা হংকংয়ে বাংলাদেশের জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠন করতে যাচ্ছি। এর আকার হবে ২০০ কোটি ডলার।’

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের ওপর চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে সরকার আন্তর্জাতিক পুঁজি সংগ্রহের বিকল্প উৎস অনুসন্ধান করছে। এই প্রেক্ষাপটে হংকংয়ে প্রস্তাবিত তহবিলটি বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক পুঁজি সংগ্রহের একটি বিকল্প মাধ্যম হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন দুর্বল অবস্থায় ছিল। সেইসাথে বেসরকারি খাতের অর্থায়নের সুবিধা আরো কিছু শক্তিশালী করা প্রয়োজন ছিল। এ কারণেই সরকার বিকল্প অর্থায়নের উৎস তৈরির পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে কার্যকর পুঁজিবাজার বলতে তেমন কিছু ছিল না। এজন্য বিকল্প অর্থায়নের অন্যতম উৎস হিসেবে আমরা পুঁজিবাজারকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন: ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও চিকিৎসাসেবায় একগুচ্ছ উদ্যোগের কথা জানালেন আখতার হোসেন

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক কাঠামোয় ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও জানান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) নতুন নেতৃত্ব এসেছে। সেখানে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফল ধীরে ধীরে দেখা যাচ্ছে।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরতে শুরু করেছে এবং বাজারও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলব না যে পুঁজিবাজার পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়েছে। তবে আস্থা ফিরছে। বাজার শক্ত অবস্থানে যাচ্ছে এবং ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: ভোটের পাঁচ দিন আগে বাইশিমাস নির্বাচন স্থগিত, প্রার্থীদের প্রতিবাদ

কিন্তু শুধু বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরলেই হবে না উল্লেখ করে তিনি আসন্ন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে মূলধন সংগ্রহ করতে আগ্রহী ভালো কোম্পানিগুলোর জন্যও বাজারের ওপর আস্থা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘ভালো কোম্পানিগুলো তখনই তালিকাভুক্ত হতে আসবে, যখন তাদের বাজারের ওপর আস্থা থাকবে।’

পুঁজিবাজারের অতীত পরিস্থিতি সমালোচনা করে আমীর খসরু বলেন, একসময় বাজারটি কার্যত একটি ‘ক্যাসিনোতে’ পরিণত হয়েছিল। যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও একটি অংশ সুবিধা নিয়েছে।

সরকার এখন সেই সংস্কৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে নতুনভাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি

আমীর খসরু বলেন, সরকারের সংস্কার কার্যক্রম আন্তর্জাতিক তহবিল ব্যবস্থাপকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, বৈশ্বিক তহবিল ব্যবস্থাপকরা এগিয়ে আসছেন। এটি খুবই ভালো খবর।’

প্রস্তাবিত ২০০ কোটি ডলারের হংকং ভিত্তিক তহবিলও আন্তর্জাতিক ইকুইটি মূলধন বাংলাদেশে আনার উদ্যোগগুলোর একটি বলে জানান তিনি।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যেহেতু এটি ঋণ নয়, সেজন্য এ তহবিলের কারণে সরকার বা দেশের ওপর বাড়তি কোনো ঋণের দায় সৃষ্টি হবে না।

বিদেশি অর্থায়নের উৎস বহুমুখীকরণে সরকার আরো কয়েকটি আর্থিক উপকরণ ব্যবহারের বিষয়েও ভাবছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা ডলার বন্ডে যেতে চাই। পান্ডা বন্ড এবং সামুরাই বন্ডের দিকে যাব।’

আরও পড়ুন: বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

আমীর খসরু বলেন, এসব উপকরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক বা প্রচলিত অর্থায়নের উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে বাংলাদেশে একাধিক বৈশ্বিক পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পাবে।

সরকারি অর্থায়নে অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোর সাফল্য অর্জনের উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণ ও বিনিয়োগের আরো বেশি সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, সরকারি অর্থায়নের ক্ষেত্রে অতিরিক্তভাবে বেসরকারি খাত ও দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা থেকে বাংলাদেশকে সরে আসতে হবে।

আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, ‘বিকল্প অর্থায়নের মাধ্যমে আমরা বেসরকারি খাত থেকে ঋণ নেওয়া কমানোর চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে: জোনায়েদ সাকি

সরকার ইতোমধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া কিছুটা কমাতে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিকল্প অর্থায়নের দিকে পুরোপুরি সরে আসতে সময় লাগবে।

তবে, বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করতে সরকার এ উদ্যোগ গৃহীত রাখবে বলেও জানান তিনি।

কর ব্যবস্থার প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য বর্তমানে কর দিচ্ছেন এমন করদাতাদের ওপর করের বোঝা বাড়ানো নয়; বরং করজাল সম্প্রসারণ করা।

তিনি বলেন, ‘যখন আমরা কর বাড়ানোর কথা বলি, তখন যারা ইতিমধ্যে কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর কর বাড়ানোর কথা বলছি না। আমরা করের আওতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি।’

টেকসইভাবে সরকারের রাজস্ব বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

কর প্রশাসনে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বা অটোমেশনের গুরুত্ব তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, করদাতা ও কর কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ কমানো গেলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং দুর্নীতির সুযোগও কমে যাবে।

পুনরুজ্জীবিত পুঁজিবাজার, আন্তর্জাতিক ইকুইটি তহবিল, বিভিন্ন ধরনের বন্ডের মাধ্যমে অর্থায়ন, এবং করের আওতা সম্প্রসারণ- এই সমন্বিত উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য আরও টেকসই অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও আরো শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরগঞ্জের শ্রেষ্ঠ মাদকদ্রব্য উদ্ধারকারী অফিসার এসআই সুজন বিশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব কিশোরগঞ্জ

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪২ পি.এম


কিশোরগঞ্জের শ্রেষ্ঠ মাদকদ্রব্য উদ্ধারকারী অফিসার এসআই সুজন বিশ্বাস

মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ মাদকদ্রব্য উদ্ধারকারী অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন কুলিয়ারচর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস।

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের জুলাই ২০২৬ মাসের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে বিশেষ অবদান রাখায় তাঁকে জেলার শ্রেষ্ঠ মাদকদ্রব্য উদ্ধারকারী অফিসার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। এ অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের স্বাক্ষরিত প্রশংসাপত্র এসআই সুজন বিশ্বাসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ আগস্ট দেওয়া ওই প্রশংসাপত্রে উল্লেখ করা হয়, জুলাই মাসে মাদকদ্রব্য উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালনের জন্য তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। কুলিয়ারচর থানায় দায়িত্ব পালনের সময় এসআই সুজন বিশ্বাস মাদকবিরোধী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে ভূমিকা পালন করে আসছেন। মাদকদ্রব্য উদ্ধার, মাদক কারবারিদের শনাক্ত এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তাঁর তৎপরতা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

জেলা পর্যায়ে এমন স্বীকৃতি পাওয়ায় কুলিয়ারচর থানার পুলিশ সদস্যদের মধ্যেও সন্তোষ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এসআই সুজন বিশ্বাস বলেন, “এই স্বীকৃতি আমার একার নয়, এটি কুলিয়ারচর থানার পুরো টিমের অর্জন। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান আরও জোরদার হবে। সবার সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতেও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে চাই।”

পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন, মাদকবিরোধী অভিযানে মাঠপর্যায়ে পুলিশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মাদক নির্মূলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেলা পর্যায়ে এ ধরনের স্বীকৃতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও উৎসাহিত করবে এবং মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও গতিশীল করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিজের কিডনি দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না আকলিমা, শোকে স্তব্ধ পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


নিজের কিডনি দিয়েও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না আকলিমা, শোকে স্তব্ধ পরিবার

ভালোবাসার এক বিরল ও নির্মম দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের আকলিমা বেগম (২৬)। স্বামীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করেছিলেন তিনি। সফল অস্ত্রোপচারের পর আশা জেগে উঠলেও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হেরে গেছেন তাঁর প্রবাসফেরত স্বামী দেলোয়ার হোসেন (৪২)।উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ রূপসা গ্রামের পাঠান বাড়িতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে পাগলপ্রায় দুই অবুঝ সন্তানের জননী আকলিমা।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে কিডনিজনিত জটিল রোগে ভুগছিলেন প্রবাসফেরত দেলোয়ার হোসেন। চিকিৎসকেরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দিলে আকলিমা বেগম সানন্দে নিজের কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ১০ দিন আগে রাজধানীর শ্যামলী সিকেডি হাসপাতালে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রাথমিক অবস্থায় দেলোয়ারের স্বাস্থ্যের উন্নতি হলেও ৪-৫ দিন আগে হঠাৎ ডায়াবেটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার তাঁর মৃত্যু হয়।এই দম্পতির ঘরে আফরিন জান্নাত ইরা (১১) ও আশুরা জাহান ইভা (৪) নামের দুটি ছোট কন্যা সন্তান রয়েছে।নিহতের বড় ভাই আনোয়ার হোসেন ও বৃদ্ধা মা শামছুন্নাহার আহাজারি করে জানান, আকলিমা নিজের অঙ্গ দিয়ে ভালোবাসার সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে।এখন স্বামীকে হারিয়ে সে নিজেও অসুস্থ ও শোকে দিশেহারা। তারা অসহায় এই পরিবার ও পিতৃহীন দুই শিশুর ভবিষ্যতের জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহির হোসেন বলেন, 'স্বামীর প্রতি আকলিমার এই ভালোবাসা সমাজে বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৮ পি.এম


অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বিদেশ যেতে আগ্রহী অভিবাসীদের মধ্যে ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেকে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে এ প্রবণতা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীতে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ আয়োজনের একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই কর্মশালাটি ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ বিষয়ক ছিল। ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহায়তায় আয়োজিত কর্মশালায় জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।

একই সঙ্গে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের মতো আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিষয়টির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে গণমাধ্যমের সুস্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা।

তিনি এ নিয়ে আরও বলেন, এই আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬ সালের নতুন আইন প্রণয়ন সেই প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

নতুন আইনে ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। কর্মশালায় নতুন আইন নিয়ে মূল আলোচনা করেন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নতুন আইনে অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অধ্যায় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রটোকলের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনি কাঠামোর সামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে।

নতুন আইনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রক্রিয়াগত পরিবর্তনও আনা হয়েছে বলে তিনি জানান। মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের ক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ধর্ষণ ও হত্যার মতো আনুষঙ্গিক অপরাধ, যা আগে ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের বাইরে ছিল, এখন সংশ্লিষ্ট আনুষঙ্গিক অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য করা হয়েছে।

এআই ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে ভুয়া তথ্য। কর্মশালায় ইমিগ্রেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু নোমান বলেন, অপরাধী চক্রগুলো বিদ্যমান ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে মানুষকে চোরাচালানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাচ্ছে। ভিসা সংগ্রহের জন্য জাল নথি তৈরির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য তৈরির ঘটনাও ঘটছে।

তিনি বলেন, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের বিদেশযাত্রা ঠেকানোসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা রয়েছে।

কর্মশালায় নৈতিক ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন বাংলা সম্পাদক মো. এস কে তানভীর মাহমুদ। তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি জানান, মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অনেক সময় অপরাধ ও অপরাধীর দিকটি বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু এসব ঘটনায় ভুক্তভোগী এবং বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা, অধিকার ও সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাও সমান গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা উচিত।

কর্মশালায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের ক্রমবর্ধমান জটিল ও আন্তঃদেশীয় প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। আইন প্রয়োগের দৃষ্টিকোণের পাশাপাশি ভুক্তভোগী ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা এবং তাদের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

শেষ পর্বে বাস্তবভিত্তিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে কেস আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের ভবিষ্যৎ প্রতিবেদনে আলোচনার বিষয়গুলো প্রয়োগ করে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বিষয়ে আরও তথ্যসমৃদ্ধ, দায়িত্বশীল ও ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক প্রতিবেদন তৈরির আহ্বান জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২২শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫১ পি.এম


সিলেটে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

সিলেটের ওসমানীনগরে তেলবাহী একটি ট্রাক এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনার ফলে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিন জন।

শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা তিনটের দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

হতাহতদের তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় জানা যায়নি। আহত সকলকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, ওসমানীনগরের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী পদ্মা কোম্পানির তেলবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ ঘটে। এতে অটোরিকশাটি সম্পূর্ণরূপে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই ঘটনায় অটোরিকশায় থাকা চারজনের মৃত্যু ঘটে।

উল্লেখ্য, ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা এই দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%