ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

৪০০ বছর আগে ১০টি কাজ হতে পারত জাদুবিদ্যার সন্দেহের কারণ


৪০০ বছর আগে ১০টি কাজ হতে পারত জাদুবিদ্যার সন্দেহের কারণ

একবার কল্পনা করুন, আপনি ষোড়শ শতকে চলে গেছেন, বর্তমানের আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসার সুযোগগুলোকে পেছনে ফেলে। চারপাশে নেই স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ, এমনকি আপনার সাধারণ অভ্যাসও বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কেউ যদি আপনাকে সন্দেহের চোখে দেখে ফিসফিস করে বলে, ‘এই মানুষটার মধ্যে নিশ্চয়ই কিছু একটা অস্বাভাবিক ব্যাপার আছে!’

এটি শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে ডাইনি সন্দেহে বিচার ও নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত ভয়াবহ। বিশেষ করে ধর্মীয় কুসংস্কার, অজানা বিষয়ের প্রতি ভয়, ব্যক্তিগত শত্রুতা এবং নারীদের ওপর সামাজিক নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেক নিরীহ মানুষকে ডাইনি বলে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

তখন অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলেই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা খোঁজার সুযোগ ছিল সীমিত। অসুস্থতা, দুর্ভাগ্য কিংবা কারও ব্যতিক্রমী আচরণকেও অনেকে জাদুবিদ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখত। ভাবুন তো, আজকের দিনে যেসব কাজ একেবারেই স্বাভাবিক, সেগুলোর জন্য যদি আপনাকে সন্দেহের চোখে দেখা হতো, তাহলে কেমন লাগত?

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী

চলুন জেনে নেওয়া যাক, এমন ১০টি সাধারণ অভ্যাস ও পরিস্থিতির কথা, যেগুলো সেই সময়ে কিছু মানুষের চোখে আপনাকে ডাইনি সন্দেহভাজন করে তুলতে পারত।

১. বাড়িতে বিড়াল পোষা, বিশেষ করে কালো বিড়াল

বিড়াল ভালোবাসেন? তাহলে ১৬০০-এর দশকে আপনার জন্য খবরটা খুব একটা ভালো নয়! আজকের দিনে বিড়াল মানেই আদুরে পোষা প্রাণী। কিন্তু ইউরোপের কিছু অঞ্চলে তখন বিড়াল, বিশেষ করে কালো বিড়ালকে ঘিরে ছিল নানা কুসংস্কার। অনেকে বিশ্বাস করত, ডাইনিরা এসব প্রাণীর সাহায্যে অশুভ কাজ করে। আপনি হয়তো বাড়ির ইঁদুর তাড়াতে কিংবা নিঃসঙ্গতা কাটাতে একটি বিড়াল পুষেছেন। কিন্তু বিড়ালটি রাতে ঘোরাফেরা করলে, অন্ধকারে চোখ জ্বলজ্বল করলে কিংবা একদৃষ্টিতে কারও দিকে তাকিয়ে থাকলে প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ জাগতে পারত। অথচ বিড়াল তো এমন আচরণ করেই থাকে! সমস্যা আরো বাড়তে পারত যদি আপনার বিড়ালটি কোনো প্রতিবেশীর বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করত। কেউ অসুস্থ হলে বা দুর্ভাগ্যের শিকার হলে সেই বিড়ালকেও সন্দেহের তালিকায় ফেলা হতে পারত।

২. ভেষজ জ্ঞান থাকা

আরও পড়ুন: ২৪ অক্টোবর: ইতিহাসে আলোচিত ঘটনাগুলো কী ছিল?

ধরুন, গ্রামের কেউ মাথাব্যথায় ভুগছেন। আপনি তাকে ঔষধি গাছ দিয়ে তৈরি একটি পানীয় খেতে দিলেন। কিন্তু সুস্থ হওয়ার জন্য ধন্যবাদ পাওয়ার বদলে আপনাকেই শুনতে হলো জাদুবিদ্যার অভিযোগ! ১৬০০-এর দশকে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা আজকের মতো উন্নত ছিল না। তাই ভেষজ উদ্ভিদ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা মানুষ, ধাত্রী কিংবা লোকজ চিকিৎসকদের অনেকেই অসুস্থদের সাহায্য করতেন। কিন্তু কারও চিকিৎসায় দ্রুত সুস্থতা এলে কিছু মানুষ ভাবতে পারত, এর পেছনে নিশ্চয়ই কোনো অস্বাভাবিক ক্ষমতা রয়েছে। আবার রোগী সুস্থ না হলে অভিযোগ উঠতে পারত, তাকে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে! ভাবুন তো, দুই পরিস্থিতিতেই বিপদ! প্রকৃতির কাছ থেকে শেখা জ্ঞান ও অন্যকে সাহায্য করার ইচ্ছা যেখানে প্রশংসা পাওয়ার কথা, সেখানে কুসংস্কারের কারণে সেটিই কারও বিরুদ্ধে সন্দেহের কারণ হয়ে উঠতে পারত।

৩. নিজের সঙ্গে নিজে কথা বলা

আপনি হয়তো কোনো গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অথবা ঘরের কাজ করতে করতে নিজের মনেই বিড়বিড় করছেন। আজকের দিনে এতে অস্বাভাবিক কিছু নেই। কিন্তু তখনকার কোনো সন্দেহপ্রবণ মানুষ আপনার আচরণের অন্য অর্থ খুঁজতে পারত। তার ধারণা হতে পারত, আপনি অদৃশ্য কোনো আত্মার সঙ্গে কথা বলছেন, মন্ত্র পড়ছেন কিংবা শয়তানের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন! অথচ আপনি হয়তো শুধু মনে মনে হিসাব করছেন, বাজার থেকে কী কী কিনতে হবে। মানুষের চিন্তা করার ধরন যে একেকজনের একেক রকম, সেই সাধারণ বিষয়টিই কুসংস্কারের আড়ালে হারিয়ে যেতে পারত। নিজের সঙ্গে কথা বলা কোনো জাদুবিদ্যার প্রমাণ নয়। কিন্তু অজানা বিষয় নিয়ে ভয় থাকলে সাধারণ আচরণও মানুষের কাছে রহস্যময় হয়ে উঠতে পারে।

৪. নিজের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা, বিশেষ করে নারী হলে

আরও পড়ুন: গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা সেমিনার ও স্ক্রিনিং অনুষ্ঠিত

আপনি কি নিজের অধিকারের কথা বলতে জানেন? তাহলে সেই সময়ে আপনার দৃঢ়তাই হয়ে উঠতে পারত বিপদের কারণ! ১৬০০-এর দশকের অনেক সমাজে নারীদের জন্য আচরণবিধি ছিল অত্যন্ত কঠোর। তাদের শান্ত, বাধ্য ও সামাজিক নিয়মের অনুগত থাকার প্রত্যাশা করা হতো। কোনো নারী সেই প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করলে, তর্ক করলে কিংবা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানালে তাকে অপছন্দ করা হতে পারত। আর ব্যক্তিগত শত্রুতা বা স্থানীয় কুসংস্কারের সঙ্গে বিষয়টি মিশে গেলে তার বিরুদ্ধে ডাইনি হওয়ার অভিযোগও উঠতে পারত। ভাবুন, আপনি শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু কেউ আপনার সাহসকে স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বের অংশ হিসেবে না দেখে অশুভ শক্তির প্রভাব বলে মনে করল!

৫. বাঁ হাতে লেখা বা কাজ করা

আজকের দিনে বাঁহাতি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ বাঁ হাতে লেখেন, খান কিংবা নানা কাজ করেন। কিন্তু ইতিহাসের কিছু সমাজে বাঁ দিককে অশুভতার সঙ্গে যুক্ত করা হতো। লাতিন ভাষার sinister শব্দটির আদি অর্থ ছিল ‘বাম’ বা ‘বাঁ দিক’; পরে ইংরেজিতে এটি অশুভ বা ভয়ংকর অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে। এই ভাষাগত ইতিহাস বাঁ দিক নিয়ে পুরোনো নেতিবাচক ধারণার একটি উদাহরণ। তবে শুধু বাঁহাতি হওয়ার কারণে ১৬০০-এর দশকে সবাইকে ডাইনি বলা হতো, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম ছিল না। বরং তখনকার কুসংস্কারপ্রবণ পরিবেশে কোনো ব্যক্তির ভিন্নতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সেটি তার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারত। আপনি যে ইচ্ছা করে বাঁহাতি হননি, সেটি তো আপনার দোষ নয়! কিন্তু অজ্ঞতা আর কুসংস্কারের যুগে সাধারণ পার্থক্যও কখনো কখনো মানুষের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতো।

৬. অজানা রোগে আক্রান্ত হওয়া, কিংবা অন্যদের চেয়ে সুস্থ থাকা

আরও পড়ুন: ২৩ অক্টোবর: ইতিহাসে আলোচিত ঘটনার সংকলন

একটু ভাবুন, গ্রামের অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু আপনি সুস্থ আছেন। এমনকি অন্যদিকে আপনার নিজের কোনো অদ্ভুত উপসর্গ দেখা দিলেও মানুষ সেটিকে স্বাভাবিক অসুস্থতা হিসেবে বুঝতে পারছে না।

১৬০০-এর দশকে রোগের অনেক কারণই মানুষের অজানা ছিল। খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা আচরণের আকস্মিক পরিবর্তনের মতো বিষয়ের ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়া সব সময় সহজ ছিল না। ফলে কিছু মানুষ এসব ঘটনাকে অশুভ আত্মা, অভিশাপ কিংবা জাদুবিদ্যার সঙ্গে যুক্ত করত। আবার কোনো মহামারি বা রোগ ছড়ানোর সময় কেউ সুস্থ থাকলেও তাকে নিয়ে সন্দেহ তৈরি হতে পারত।

মূল সমস্যা ছিল, যখন মানুষ কোনো ঘটনার কারণ বুঝতে পারত না, তখন কেউ কেউ বাস্তব ব্যাখ্যার বদলে অতিপ্রাকৃত ব্যাখ্যায় বিশ্বাস করত। আর সেই বিশ্বাসের মূল্য দিতে হতো নিরীহ মানুষকেও।

৭. কোনো কাজে অসাধারণ দক্ষ হওয়া

আরও পড়ুন: ধূমপান না করেও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকিতে অনেকেই

আপনি খুব ভালো রান্না করেন? আপনার বাগানে অন্যদের তুলনায় বেশি ফসল হয়? কিংবা আপনি এমন কিছু জানেন, যা গ্রামের আর কেউ জানে না? আজকের দিনে এগুলো আপনার প্রতিভা ও পরিশ্রমের পরিচয়। কিন্তু কুসংস্কারে আচ্ছন্ন সমাজে কখনো কখনো ব্যতিক্রমী সাফল্যও মানুষের সন্দেহের কারণ হয়ে উঠতে পারত। বিশেষ করে আপনার সাফল্যের সঙ্গে কারও দুর্ভাগ্যের ঘটনা মিলে গেলে লোকজন দুটির মধ্যে সম্পর্ক খুঁজতে পারত। ধরুন, আপনার জমিতে ভালো ফসল হয়েছে, অথচ পাশের জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো প্রতিবেশী যদি আগে থেকেই আপনাকে অপছন্দ করেন, তাহলে তিনি আপনার সাফল্যকেও সন্দেহের চোখে দেখতে পারেন।

৮. গ্রামের কারও সঙ্গে তর্ক বা শত্রুতা তৈরি হওয়া

কখনো কখনো আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার জন্য অদ্ভুত কোনো আচরণেরও প্রয়োজন হতো না। ব্যক্তিগত বিরোধই যথেষ্ট হয়ে উঠতে পারত। ধরুন, গ্রামের এক প্রতিবেশীর সঙ্গে আপনার তর্ক হয়েছে। কয়েক দিন পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন। অথবা তার গবাদিপশু মারা গেল কিংবা জমির ফসল নষ্ট হলো। এখন কেউ যদি বিশ্বাস করেন যে আপনি তাকে অভিশাপ দিয়েছেন, তাহলে ওই ঘটনাগুলোর জন্যও আপনাকে দায়ী করা হতে পারত। কিন্তু একজনের সঙ্গে তর্ক হওয়ার পর অন্য কোনো দুর্ভাগ্য ঘটলেই যে তর্ক করা ব্যক্তিই তার কারণ, এমন তো নয়! ডাইনি বিচারের ইতিহাসে ব্যক্তিগত শত্রুতা, প্রতিবেশীদের বিরোধ ও পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে ছোট সম্প্রদায়ে গুজব ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারত।

৯. অদ্ভুত স্বপ্ন দেখা বা স্বপ্নের কথা বলা

আরও পড়ুন: ১৪ অক্টোবর: ইতিহাসের পাতায় উল্লেখযোগ্য ঘটনা ও বিশ্ব মান দিবসের স্মরণ

এক রাতে আপনি স্বপ্ন দেখলেন, আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছেন। কিংবা এমন কাউকে দেখলেন, যাকে বাস্তবে কখনো দেখেননি। সকালে উঠে বন্ধুদের কাছে স্বপ্নের গল্প করলেন। আজকের দিনে এমন ঘটনা নিয়ে হয়তো সবাই মজা করবে। কিন্তু ইতিহাসের কিছু সমাজে স্বপ্ন ও অতিপ্রাকৃত বিশ্বাসের মধ্যে গভীর সম্পর্ক কল্পনা করা হতো। বিশেষ করে ধর্মীয় বিশ্বাস ও লোককথায় প্রভাবিত মানুষ কখনো কখনো স্বপ্নকে বিশেষ বার্তা, অশুভ সংকেত কিংবা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখত। তবে শুধু অদ্ভুত স্বপ্ন দেখার কারণে কাউকে ডাইনি হিসেবে অভিযুক্ত করা হতো, এমন সাধারণ নিয়ম ছিল না। স্বপ্নের ব্যাখ্যা অঞ্চল, সময় ও ব্যক্তির বিশ্বাস অনুযায়ী ভিন্ন ছিল। তারপরও, আপনার বলা কোনো স্বপ্ন যদি আগে থেকেই প্রচলিত ভয় বা সন্দেহের সঙ্গে মিলে যেত, তাহলে কেউ সেটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারত। আপনার কাছে সেটি ছিল নিছক স্বপ্ন। অন্য কারও কাছে সেটিই হয়ে উঠতে পারত রহস্যময় কোনো ঘটনার গল্প!

১০. অন্যদের চেয়ে একটু আলাদা হওয়া

সবশেষে রয়েছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি। অনেক সময় আপনার বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি হওয়ার জন্য আলাদা কোনো অপরাধের প্রয়োজনই হতো না। আপনার জীবনযাপন বা সামাজিক অবস্থানই যথেষ্ট হয়ে উঠতে পারত। হয়তো আপনি একা থাকতে পছন্দ করেন। অন্যদের সঙ্গে খুব বেশি মেলামেশা করেন না। আপনার পোশাক, কথাবার্তা কিংবা অভ্যাস গ্রামের অন্যদের চেয়ে আলাদা। এসবের কোনোটিই অপরাধ নয়। কিন্তু কুসংস্কারপ্রবণ সমাজে পরিচিত নিয়মের বাইরে থাকা মানুষকে কখনো কখনো সন্দেহের চোখে দেখা হতো। বিশেষ করে কেউ যদি আগে থেকেই আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতেন, তাহলে আপনার সাধারণ আচরণকেও সেই অভিযোগের পক্ষে ব্যাখ্যা করা হতে পারত। এভাবেই গুজব, ব্যক্তিগত বিরোধ ও অন্ধবিশ্বাস মিলে একজন নিরীহ মানুষকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারত। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, একবার কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্দেহ ছড়িয়ে পড়লে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারত।

১৬০০-এর দশকের ডাইনি শিকারের ইতিহাস শুধুমাত্র অতীতের কিছু অদ্ভুত বিশ্বাসের গল্প নয়। এটি দেখায়, ভয়, কুসংস্কার, সামাজিক বৈষম্য ও ব্যক্তিগত শত্রুতা একসঙ্গে কাজ করলে নিরীহ মানুষও কীভাবে নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সব অঞ্চলে একই রকম পরিস্থিতি ছিল না। ডাইনি বিচারের কারণ ও ধরনও সময়, স্থান এবং সামাজিক পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন ছিল। আজ আমরা বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছি। তাই অতীতের এসব ঘটনা জানার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র অবাক হওয়া নয়; বরং কুসংস্কারের বদলে যুক্তি, গুজবের বদলে প্রমাণ এবং বিদ্বেষের বদলে সহানুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।

আজ বুধবার, জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী এ সহযোগিতার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ।’

বৈঠকে উভয় পক্ষ একমত হয় যে, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ককে জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী জাপানের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য। এসব উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।

জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বৈঠক শেষে, জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে তার আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতাওকা সুসুমুকে তার সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এ সময়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাসস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আলফাডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার প্রদর্শনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


আলফাডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার প্রদর্শনী

‘হাত ধোয়ার নায়ক হোন’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়।

র‍্যালি শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিকভাবে হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি শেখানো হয়।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ কে এম রায়হানুর রহমানের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশরাফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আল-আমিন।

সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলমগীর কবির।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তরুণ বসু, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরোয়ার হোসেন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এস এম হাফিজুর রহমান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

সভায় বক্তারা বলেন, দৈনন্দিন জীবনে সাবান দিয়ে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন এবং বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। নিয়মিত ও সঠিক পদ্ধতিতে হাত ধোয়ার অভ্যাস ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। তাই সুস্থ থাকতে এবং রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধে খাবার গ্রহণের আগে, শৌচাগার ব্যবহারের পরে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সময়ে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাজেক সড়কের অবরোধ সপ্তম দিনে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৭ পি.এম


সাজেক সড়কের অবরোধ সপ্তম দিনে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক সড়কের অবরোধ এখন সপ্তম দিনে প্রবাহিত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের আলোচনা পঞ্চম দিনে অনুষ্ঠিত হলেও, এক দফা বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে অবরোধ কর্মসূচির সমাধান এখনও হয়নি। ফলে, সাতদিন ধরে সাজেক পর্যটনকেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে, সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয় অবরোধকারীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উপস্থিত রয়েছেন। সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে।

এর আগে, ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দেয়।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানিয়েছেন, সাজেকের পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সহসাই এর সমাধান হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অন্ধ্র প্রদেশ অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


অন্ধ্র প্রদেশ অতিক্রম করেছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সকালে ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করেছে। বর্তমানে এটি অন্ধ্র প্রদেশ ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছে।

ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে থাকায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে এবং দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না পরবর্তী নির্দেশনা আসে।

আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া আবহাওয়া পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া, ঢাকা, খুলনা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগ এবং পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা ও বরিশাল জেলায় চলমান মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা প্রশমিত হতে পারে।

সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ২২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ৩ মিনিটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%