বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:১৬ পি.এম
মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং জ্ঞান ও স্বাধীনতা প্রদান করেছেন। তবে, এই স্বাধীনতা বল্গাহীন নয়। ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করেই সবকিছু করতে হবে।
ইসলামে ব্যবসার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যবসায়ীদের নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককারদের সঙ্গে পরকালে হাশর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে, এই ফজিলত শুধু তাদের জন্য, যারা ব্যবসায় ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করবে। ইসলামে ব্যবসার দশ মূলনীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
ব্যবসায় কারো ক্ষতি করা যাবে না
ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের উপকার করার মানসিকতা সবসময় থাকতে হবে। কারও ক্ষতি যেন না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিদ্ধান্ত দেন যে,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَضَى أَنْ لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ। নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অন্যের ক্ষতি করা উভয়ই উচিত নয়। (ইবনে মাজাহ: ২৩৪১)
ব্যবসায় গ্রাহকের কাছ থেকে লাভের পাশাপাশি তাদের জিনিস ও সেবা প্রদান করা হয়। যদি যৌক্তিক লাভ হয় এবং একচেটিয়া ব্যবসা না করা হয়, তবে এটি সমাজের জন্য বড় সহায়তা। ভালো জিনিস যৌক্তিক দামে প্রদান করায় সমাজের মানুষ সন্তুষ্ট হবে, এতে মহান আল্লাহও আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হবেন। যখন ব্যবসায়ী ও গ্রাহক উভয় পক্ষ অনুভব করবে যে তারা উপকৃত হয়েছে, তখন সেখানে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হবে। ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়ে যাবে, যা একটি সুগঠিত সমাজের জন্য প্রয়োজন। এতে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সাওয়াব পাবেন।
ধোঁকা, প্রতারণা ও ফাঁকিবাজি করা যাবে না।
এ ধরনের অপকর্ম ইসলামে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত। মন্দ জিনিস ভালো বলে চালিয়ে দেওয়া, ভালোর সঙ্গে মন্দের মিশ্রণ ঘটিয়ে ধোঁকা দেওয়া ইত্যাদি সম্পূর্ণ হারাম। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى صُبْرَةِ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهَا، فَنَالَتْ أَصَابِعُهُ بَلَلًا فَقَالَ: «مَا هَذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ؟»। খাদ্য বিক্রেতা বলল, এতে বৃষ্টি পড়েছিল। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি সেটাকে খাবারের উপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকেরা দেখতে পেত? যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মত নয়। (মুসলিম: ১০২)
মিথ্যার আশ্রয় নেয়া যাবে না
মিথ্যা একটি নিন্দনীয় ও বড় ধরনের অপরাধ। ব্যবসার সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ আরও মারাত্মক ও ক্ষতিকর। কোনো মুসলিম সত্যের সঙ্গে মিথ্যার সংমিশ্রণ করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَلۡبِسُواْ ٱلۡحَقَّ بِٱلۡبَٰطِلِ وَتَكۡتُمُواْ ٱلۡحَقَّ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ। তোমরা সত্যের সঙ্গে অসত্যের মিশ্রণ ঘটাবে না। জেনেশুনে সত্য গোপন করো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪২)
একজন মুমিনের দোষ-ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, যা মেনে নেওয়া যায়; কিন্তু একজন মুমিনের মধ্যে মিথ্যা ও খিয়ানতের দোষ থাকাকে কোনোক্রমেই মেনে নেওয়া যায় না। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো,
أيكون المؤمن جبانًا؟ قال: نعم। قيل: أيكون بخيلاً؟ قال: نعم। قيل: أيكون كذابًا؟ قال: لا। একজন মুমিন দুর্বল হওয়া কি স্বাভাবিক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবারও জিজ্ঞাসা করা হলো, মুমিন কি কৃপণ হতে পারে? বললেন, হ্যাঁ। তারপর জিজ্ঞাসা করা হলো, একজন মুমিন মিথ্যুক হতে পারে? বললেন, ‘না’। (বাইহাকি শুআবুল ঈমান: ৪৮১২)
হাদিসে একজন মুমিনের অন্যান্য দুর্বলতা বা দোষের কথা স্বাভাবিক বলা হলেও মিথ্যাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া হয়নি।
ওজনে নিজ স্বার্থরক্ষায় কমবেশি করা যাবে না।
অন্যকে দেয়ার সময় ওজনে কম দেওয়া আর নেয়ার সময় বেশি করে নেয়া জঘন্য অপরাধ। মহান আল্লাহ বলেন,
وَيۡلٞ لِّلۡمُطَفِّفِينَ -ٱلَّذِينَ إِذَا ٱكۡتَالُواْ عَلَى ٱلنَّاسِ يَسۡتَوۡفُونَ - وَإِذَا كَالُوهُمۡ أَو وَّزَنُوهُمۡ يُخۡسِرُونَ। ধ্বংস যারা পরিমাপে কম দেয় তাদের জন্য। যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে। আর যখন তাদেরকে মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। (সুরা মুতাফফিফিন: ১-৩)
সুতরাং তুমি যখন কাউকে দেবে, তখন কম দেবে না। তুমি যে কাজটি তোমার নিজের জন্য পছন্দ করো না, তা অন্যের জন্য কীভাবে পছন্দ কর। তুমি যখন নিজের জন্য নাও, তখন তো তোমাকে মাপে কম দিলে তুমি সন্তুষ্ট হবে না। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ। তুমি তোমার নিজের জন্য যা ভালোবাসো, তা অন্যের জন্যও ভালোবাসার আগ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। (বুখারি: ১৩)
পণ্য বিক্রির জন্য মিথ্যা শপথ করা যাবে না।
মিথ্যা মানবতাবোধকে লোপ করে, নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটায়। মিথ্যাবাদীর উপর মহান আল্লাহর অভিশাপ। মিথ্যা বলে বা মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রি করার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ: الْمَنَّانُ الَّذِي لَا يُعْطِي شَيْئًا إِلَّا مَنَّهُ، وَالْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْفَاجِرِ، وَالْمُسْبِلُ إِزَارَهُ। কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তিন ব্যক্তির সাথে কোনো ধরনের কথা বলবেন না, তাদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তাদের একজন- যে তার ব্যবসায়িক পণ্যকে মিথ্যা কসম খেয়ে বিক্রি করে। (মুসলিম: ১০৬)
অপর একটি হাদিসে এ দৃষ্টান্ত এভাবে তুলে ধরা হয়েছে-
رجل حلف على سلعة بعد العصر، لقد أعطي بها كذا، وكذا، فصدقه المشتري وهو كاذب। এক ব্যক্তি আসরের পর তার পণ্য সম্পর্কে কসম খেয়ে বলে, তাকে পণ্যটি এত এত মূল্যে দেয়া হয়েছে। তার কথা ক্রেতা বিশ্বাস করল, অথচ সে মিথ্যুক। (আবু দাউদ: ৩৪৭৪)
নিজে ঠকা যাবে না এবং অপরকেও ঠকানো যাবে না।
এক ব্যক্তি রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে অভিযোগ করল, যে সে বেচা-কেনাতে প্রতারিত হয়। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
إِذَا أَنْتَ بَايَعْتَ، فَقُلْ: لَا خِلَابَةَ، ثُمَّ أَنْتَ فِي كُلِّ سِلْعَةٍ ابْتَعْتَهَا بِالْخِيَارِ ثَلَاثَ لَيَالٍ। যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে, তখন তুমি বলে দেবে যে কোনো প্রতারণা বা ঠকানোর দায়িত্ব আমি নেব না। তোমার জন্য তিনদিন পর্যন্ত পণ্য ফেরত দেওয়ার অধিকার রয়েছে। (বুখারি: ৬৯৬৪)
ব্যবসার সাথে সুদকে মেশানো যাবে না
সুদ একটি মারাত্মক অপরাধ। সুদ থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। ব্যবসার নামে কোনো প্রকার সুদ চালু করা যাবে না। সুদের পরিণতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
ٱلَّذِينَ يَأۡكُلُونَ ٱلرِّبَوٰاْ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِي يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيۡطَٰنُ مِنَ ٱلۡمَسِّۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَالُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡبَيۡعُ مِثۡلُ ٱلرِّبَوٰاْۗ وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْۚ। যারা সুদ খায় তারা কেয়ামতের দিন দণ্ডায়মান হবে শয়তানের আসরে মোহাবিষ্টদের মতো। কারণ, তারা বলে ক্রয়-বিক্রয় (ব্যবসা) ওতো সুদের মতো, অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫)
মহান আল্লাহ আরও বলেন,
يَمۡحَقُ ٱللَّهُ ٱلرِّبَوٰاْ وَيُرۡبِي ٱلصَّدَقَٰتِۗ আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খায়রাতকে বর্ধিত করেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৬)
লেনদেন যদি সুদ সংক্রান্ত হয় তবে হাদিসে এসেছে, জাবের ইবন আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন যে,
لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ» ، وَقَالَ: «هُمْ سَوَاءٌ। আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, হিসাবকারী এবং সাক্ষী সবার প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন এবং তিনি বলেন তারা সবাই সমান। (মুসলিম: ১৫৯৮)
অনুমানভিত্তিক ব্যবসা করা হতে বিরত থাকা।
বৃক্ষস্থিত ফলকে বৃক্ষ হতে আহরিত ফলের বিনিময়ে অনুমান করে বিক্রি করাকে মুযাবানা বলে। বিভিন্ন ধরনের মুযাবানা বর্তমানেও প্রচলিত আছে। ক্ষেতে অকীর্তিত খাদ্য শস্য যথা গম, বুট ইত্যাদিকে শুকনা পরিষ্কার করা খাদ্য যথা, গম, বুট ইত্যাদির বিনিময়ে অনুমান করে বিক্রি করাকে মুহাকালা বলে। সুদের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোকেও সুদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। (ইবনে কাসির)
অপরের মাল হনন করার চেষ্টা করা যাবে না।
ব্যবসার জটিল মারপ্যাঁচে অন্যের মাল হরণ করা হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٖ مِّنكُمۡۚ। হে ঈমানদারগন, তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। মাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯)
হাদিসে এসেছে একটি ব্যবসায়িক লেনদেনে উভয় পক্ষই খুঁতসহ পণ্যেও সঠিক বর্ণনা দিতে হবে। ইসলামের বিজনেস কনডাক্ট সম্পর্কে জাবির (রা.) এভাবে বর্ণনা করেন রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
رَحِمَ اللَّهُ رَجُلًا سَمْحًا إِذَا بَاعَ، وَإِذَا اشْتَرَى، وَإِذَا اقْتَضَى। আল্লাহ তার প্রতি দয়া বর্ষণ করুক যে বিক্রির সময়, ক্রয়ের সময় এবং অভিযোগের সময় সদয় থাকে। (বুখারি: ২০৭৬)
মজুত করা যাবে না
অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অন্তঃসারশূন্য ও বরবাদ করার জন্য যত প্রকার অর্থনৈতিক দুর্নীতি আছে, তন্মধ্যে অন্যতম হল মজুতদারি। মজুতদারির প্রভাবে দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী হয়। এতে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, لاَ يَحْتَكِرُ إِلَّا خَاطِئٌ। মাত্র পাপী ব্যক্তিই মজুতদারি করে থাকে। (মুসলিম: ১৬০৫)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদীতে নিজের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটবাড়ি দখল, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ তুলেছেন কাজী আজিজ উল্যা নামে এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, বাড়ির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা নিজেদের বসতবাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা।
ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম পাড়ার কাজী বাড়ির বাসিন্দা। তার দাবি, ৯৮ নম্বর মাইজদী মৌজায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। বাড়িটির নাম আজিজ টাওয়ার।
লিখিত বক্তব্যে কাজী আজিজ অভিযোগ করেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ মাঠকর্মী এবিএম আবদুল মতিন চৌধুরী ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বোনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন। পরে তিনি আরো দেড় শতাংশ জমির জাল দলিল তৈরি করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটবাড়ির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
কাজী আজিজ বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ মে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দাপট দেখিয়ে আবদুল মতিন চৌধুরী ও তার স্ত্রী আজিজুর নাহারের নেতৃত্বে একদল লোক তার ফ্ল্যাটবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার বৃদ্ধ মা সারেজাহান বেগম ও বোন সেলিনা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। পরে বাড়িটির একতলা ইউনিট দখল করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মতিন চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেলে তিনি পুনরায় বাড়ির দখল বুঝে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর আবদুল মতিন চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী, ছেলেরা এবং বিভিন্ন এলাকার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও বাড়িটিতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন কাজী আজিজ। এ সময় তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পুনরায় বাড়িটি দখল করা হয়।
কাজী আজিজের অভিযোগ, বর্তমানে বাড়ির ভেতরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান করিয়ে তাঁকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এতে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাঁদের।
কাজী আজিজ উল্যা তার বসতবাড়ি দখল, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মতিন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ছলিম উদ্দিন তরফদার ও তার স্ত্রী শামীমা আক্তার শিরিনের ২৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এই আদেশটি প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত উক্ত আদেশটি জারি করেন।
দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শামীমা আক্তার শিরিন (৫৬) তার স্বামী মো. ছলিম উদ্দিন তরফদারের (৫৭) সহযোগিতায় পরস্পর যোগসাজশে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তারা এই সম্পদ নিজেদের ভোগদখলে রেখেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে শামীমা আক্তার শিরিনকে প্রভাব ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন ছলিম উদ্দিন তরফদার।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, এই কর্মকাণ্ড দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।
দুদকের আবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, শামীমা আক্তার শিরিন ও ছলিম উদ্দিন তরফদার তাদের ব্যাংক হিসাবের অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। মামলা নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা হলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবেদনটির শুনানি শেষে আদালত তাদের ২৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর পবা উপজেলায় এক কৃষককে নিজ বাড়ির ছাদে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় মধুসূদনপুর মধ্যপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
খবর পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পবা থানা পুলিশ মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ (৪৫) নামের ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পবা থানার ওসি আব্দুল মতিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, আবুল কালাম আজাদের মরদেহের গলা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ছুরির আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। রাতের সময় নিহতের স্ত্রী ছাড়া বাড়িতে আর কেউ ছিলেন না। ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারছেন না। কে বা কারা কেন এবং কিভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।
তিনি আরো জানান, সকালেই নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-১ শাখা থেকে গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের নির্বাহী কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ঘোষিত নির্বাচনের পরিবর্তে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এ জন্য বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২ এবং বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা, ১৯৯৪ অনুসরণ করে সংগঠনের ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে হবে। একই সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন বোর্ড গঠন করে নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে হবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সদস্য মোঃ আসাদুজ্জামানের ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনার ফলে ২১ নভেম্বরের ঘোষিত নির্বাচনের পরিবর্তে নতুন তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা রয়েছে। তবে নতুন নির্বাচনের তারিখ কবে ঘোষণা করা হবে, তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি।
চিঠিটি রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয়েছে।#
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ