ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আমতলীতে সহজলভ্য সাগর কলা: পুষ্টির উৎস, নাকি অদৃশ্য রাসায়নিক ঝুঁকি?


আমতলীতে সহজলভ্য সাগর কলা: পুষ্টির উৎস, নাকি অদৃশ্য রাসায়নিক ঝুঁকি?

বরগুনার আমতলী উপজেলা শহরের চায়ের দোকান, মুদি দোকান, ফলের আড়ত থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার ছোট-বড় প্রায় সব বাজারেই সহজলভ্য সাগর কলা। স্বল্পমূল্য, সহজপ্রাপ্যতা ও পুষ্টিগুণের কারণে শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের খাদ্যতালিকায় রয়েছে এ ফল।

নাশতা, আপ্যায়ন কিংবা তাৎক্ষণিক ক্ষুধা নিবারণে প্রতিদিনই অনেক মানুষ কলা কিনছেন। তবে বাজারে আসা এসব কলা কোথায় উৎপাদিত, কী ধরনের সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করা হয়েছে, ফসল তোলার আগে নির্ধারিত অপেক্ষাকাল মানা হয়েছে কি না এবং দ্রুত পাকানোর ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এসব তথ্য অধিকাংশ ভোক্তারই অজানা।
এ কারণে প্রশ্ন উঠছে—আমতলীর বাজারে বিক্রি হওয়া সাগর কলা কতটা নিরাপদ?


কলা জাতভেদে আকার, আকৃতি ও ওজনে ভিন্ন হতে পারে। উৎপাদন পদ্ধতি, মাটির উর্বরতা, সেচ, আবহাওয়া ও কৃষি ব্যবস্থাপনাও ফলনের ওপর প্রভাব ফেলে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে রাসায়নিক ব্যবহারের ঝুঁকি নেই। অনুমোদিত বালাইনাশক মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ, ফসল সংগ্রহের আগে নির্ধারিত অপেক্ষাকাল না মানা কিংবা অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফলের মধ্যে ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ থাকার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থাপনার নীতিতেও সঠিক মাত্রায় অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহার, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা এবং ফসল সংগ্রহের আগে নির্ধারিত সময় মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ক্যালসিয়াম কার্বাইড পানির সংস্পর্শে এলে অ্যাসিটিলিন গ্যাস উৎপন্ন করে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফল পাকানোর কাজে এ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার খাদ্যনিরাপত্তার উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে শিল্পমানের ক্যালসিয়াম কার্বাইডে আর্সেনিক ও ফসফরাসজাত ক্ষতিকর অমিশ্রণ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে ফল পাকানোর ক্ষেত্রে অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কতা জরুরি।

আমতলী উপজেলা শহরে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ কলা আসে। স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী ও খুচরা বিক্রেতারা সাধারণত সরবরাহ কারীর কাছ থেকে কলা সংগ্রহ করেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভোক্তা জানতে পারেন না
কলা কোন এলাকা থেকে এসেছে;
উৎপাদনে কী ধরনের বালাইনাশক ব্যবহার হয়েছে;
শেষবার কখন বালাইনাশক প্রয়োগ করা হয়েছিল;

ফসল সংগ্রহের আগে নির্ধারিত অপেক্ষাকাল মানা হয়েছিল কি না;
কলা প্রাকৃতিকভাবে নাকি নিয়ন্ত্রিত অনুমোদিত পদ্ধতিতে পাকানো হয়েছে;
কিংবা অননুমোদিত কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে কি না।
ফলে ভোক্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাজার পর্যায়ে নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা ও নজরদারি জরুরি।

আমতলীর বাজার থেকে নিয়মিতভাবে কলার নমুনা সংগ্রহ করে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ এবং অননুমোদিত পাকানোর রাসায়নিকের ব্যবহার পরীক্ষা করা গেলে জনমনে থাকা প্রশ্নের বৈজ্ঞানিক উত্তর পাওয়া সম্ভব। আর পরীক্ষার ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ করা হলে ভোক্তার আস্থা বাড়বে, পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ী বা অনিয়মকারী উৎপাদকদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: হিমেল পাল, জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) তিনি বলেন, অতিরিক্ত কারবাইড মিশ্রিত ফল খেলে মানুষের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে, মবি,পেট ব্যাথা, ডায়রিয়া, হজমের সমস্যা, মাথা ঘোড়াও দূর্বলতা, গলা বা পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া, শ্বাসকষ্ট তীব্র অস্বস্তি তা বিষক্রিয়ায় স্বাস্থগত লক্ষ্মণ হতে পারে পাশাপাশি দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় কার্বাইডের সংস্পর্শে স্নায়ুতন্ত্রসহ অন্যানো অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পুষ্টিকর এই ফলটি যেন মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্যের অংশ হয়—এ জন্য উৎপাদন থেকে বাজারজাত করণ ও পাকানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর সরকারি নজরদারি নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবরোধের আগের দিন আমতলীর পায়রা নদীতে জেলে নিখোঁজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমতলী(বরগুনা)প্রতিনিধি

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


অবরোধের আগের দিন আমতলীর পায়রা নদীতে জেলে নিখোঁজ

অবরোধ পালনে পায়রা নদীতে ফেলে রাখা ইলিশ  শিকারের জাল ও সরঞ্জামাদি অপসারণ করতে গিয়ে জেলে ওমর আলী গাজী (৫৫) নদীতে পড়ে  নিখোঁজ হয়েছেন। তিন ঘন্টা চেষ্টা চালিয়েও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি। ধারনা করা হচ্ছে তিনি ভাটার স্রোতে সাগরের দিকে নেমে গেছেন। ঘটনা ঘটছে বুধবার বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে আমতলী উপজেলার লোচা এলাকার পায়রা নদীতে। 
জানাগেছে,  বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকে সাগর ও নদীতে ইলিশ শিকার, পরিবহন ও বিপনন নিষিদ্ধ করেছেন সরকার। আমতলী পৌরসভার  লোচা গ্রামের জেলে ওমর আলী গাজী ও জলিলুর রহমান অবরোধ পালনে বুধবার বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে পায়রা নদীতে জাল ও জাল ফেলার সরঞ্জামাদি অপসারণ করতে যায়। ওই সময় জেলে ওমর আলী গাজী নদীতে পড়ে যায়।  অপর জেলে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের লোকজন উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। কিন্তু তিন ঘন্টা (এ প্রতিবেদন লেখা দুপুর ২ টা পর্যন্ত ) পেরিয়ে গেলেও তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়নি বলে জানান উপজেলা মৎস্য অফিসের ফ্যাসিলেটেটর মোঃ হিমেল মিয়া। ধারনা করা হচ্ছে ভাটার স্রোতে তাকে সাগরের দিকে নিয়ে গেছে। এমন ঘটনায় পরিবার ও এলাকার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিখোঁজ জেলে ওমর আলীর গাজীর ছোট ভাই আক্কেল আলী গাজী বলেন, বড় ভাই পায়রা নদীতে জাল ও জালের সরঞ্জামাদি তুলতে গিয়ে নদীতে পড়ে যায়। তারপর আর উঠতে পারেনি।
জেলে জলিলুর রহমান বলেন, আমরা দুইজনে পায়রা নদীতে ইলিশ জাল ফেলে মাছ শিকার করি। অবরোধ পালনে বুধবার বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে জাল ও জাল ফেলার সরঞ্জামাদি নদী থেকে তুলতেছিলাম। এমন মুহুর্তে ওমর আলী গাজী ছিটকে নদীতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধারে চেষ্টা করেও পারিনি। তিনি স্রোতে তলিয়ে গেছেন।
আমতলী ফায়ার ষ্টেশন লিডার গোলাম মোস্তফা বলেন, উদ্ধার অভিযান অব্যহত আছে। কিন্তু কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। 
আমতলী থানার ওসি মোঃ ইয়াকুব হোসাইন বলেন, খবর  পেয়ে জেলেকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। উদ্ধার অভিযান অব্যহত আছে। কিন্তু এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমিকের অধিকার ও শোভন কাজ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি: শ্রমমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:০৬ পি.এম


শ্রমিকের অধিকার ও শোভন কাজ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতিশ্রুতি: শ্রমমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমিকদের জন্য একটি ন্যায্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা করা, সামাজিক সংলাপকে জোরদার করা এবং শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।

তিনি বুধবার (৭ অক্টোবর) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন (আইটিইউসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব এমপ্লয়ার্সের (আইওই) উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন।

প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন— আইটিইউসির মহাসচিব লুক ট্রায়াঙ্গল, আইওইর ভাইস-চেয়ার কাইজার মোয়ানে, আইএলও গভর্নিং বডির সদস্য জেস ভোগট এবং আইএলওর কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

শ্রমমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের শ্রমিক, নিয়োগকর্তা এবং সরকারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংলাপ এবং আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে দেশের অগ্রগতি ও যৌথ কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার শোভন কাজ, শ্রমিক কল্যাণ এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন করেছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশ সম্প্রতি আইএলওর ১৫৫, ১৮৭ ও ১৮৯ নম্বর কনভেনশন অনুমোদন করেছে। সামাজিক সংলাপ, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং শ্রম প্রশাসনকে শক্তিশালী করার জন্যও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমানে মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে সংশোধিত শ্রম আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং সরকারের অঙ্গীকারগুলোকে শ্রমিকদের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়নে রূপ দেওয়া।

তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকের অধিকার রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা—দুটিই একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। শিল্পে শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় সংলাপ এবং সামাজিক অংশীদারত্ব অপরিহার্য।

আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রতিনিধিদলের সুচিন্তিত পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

সাক্ষাতে আইটিইউসি ও আইওইর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের শ্রম আইন সংশোধন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজীকরণ, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা ইপিজেডের জন্য পৃথক আইনের পরিবর্তে দেশের সামগ্রিক শ্রম আইনের আওতায় ইপিজেডকে আনার অনুরোধও জানান।

সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা চেম্বার ও ইআরএফের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১৬ পি.এম


ঢাকা চেম্বার ও ইআরএফের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ইন্সটিটিউটের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে গৃহীত হয়েছে।

৭ অক্টোবর বুধবার মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী উল্লেখ করেন, "স্থানীয় ও বৈশ্বিক পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সরকারের নীতিনির্ধারকদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অর্থনৈতিক বিষয়ক সংবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ঢাকা চেম্বার ও ইআরএফের যৌথ উদ্যোগে প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সেমিনার, গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রম অর্থনীতি বিষয়ক সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা জানান, "দেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে ঢাকা চেম্বারই প্রথম সংগঠন, যার সঙ্গে ইআরএফ এ ধরনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।" তিনি ঢাকা চেম্বারের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনায় দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও সুনামের কথা উল্লেখ করে বলেন, এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে যৌথভাবে গবেষণা কর্মসূচি পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, "এ ধরনের গবেষণা কার্যক্রম সরকারের নীতিমালা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং বেসরকারি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"

সমঝোতা স্মারকের আওতায় দুই প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, সেমিনার ও গবেষণাসহ বিভিন্ন জ্ঞান বিনিময় কার্যক্রমে সহযোগিতা করবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যে, এর মাধ্যমে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে তথ্যভিত্তিক গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা চেম্বারের মহাসচিব ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী, ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেমসহ ইআরএফের নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদি আরবের রক্ষায় পাকিস্তান ও তুরস্কের সহযোগিতায় ত্রিদেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:২২ পি.এম


সৌদি আরবের রক্ষায় পাকিস্তান ও তুরস্কের সহযোগিতায় ত্রিদেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

সউদী আরব হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের প্রধান শহর, তেল স্থাপনাগুলি এবং পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ৫ অক্টোবর রিয়াদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ কার্যকর করা হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তানকে নিয়ে যৌথ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে রিয়াদ, যেখানে তুরস্কও যুক্ত হতে যাচ্ছে।

পাকিস্তানের প্রায় এক স্কোয়াড্রন (১৬টি) 'জেএফ-১৭ থান্ডার' যুদ্ধবিমান সউদী আরবের পূর্বাঞ্চলীয় ধারানের কিং আব্দুলআজিজ বিমানঘাঁটিতে অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি সংস্করণে উন্নত এইএসএ রাডার এবং পিএল-১৫ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা তেল স্থাপনাগুলি ও আকাশসীমার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি পাকিস্তান তাদের সর্বাধুনিক চীনানির্দেশিত 'এইচকিউ-৯' সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল সিস্টেম এবং একাধিক ড্রোন স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে। সউদী আরবে ইতোমধ্যে বিদ্যমান আমেরিকার 'পেট্রিয়ট' এবং 'থাড' ব্যবস্থার সঙ্গে এই এইচকিউ-৯ মিসাইল যুক্ত হয়ে বহুমাত্রিক ও স্তরীভূত আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করবে।

প্রতিরক্ষা সহায়তা বাড়াতে প্রস্তুত আঙ্কারাও। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, তারা মূলত কারিগরি সহায়তা, ড্রোন বিরোধী ব্যবস্থা এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম নিয়ে রিয়াদের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের ড্রোন ধ্বংসে তুরস্কের 'করকুত' স্মার্ট গান সিস্টেম এবং 'হিসার' সিরিজের মিসাইল ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তুর্কি বিমান বা সেনা মোতায়েনের বিষয়টি দেশটির পার্লামেন্টের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।

সউদী প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এই পদক্ষেপকে সামূহিক প্রতিরোধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যদিও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ স্পষ্ট করেছেন যে মূল লড়াই সউদী আরবই করবে। বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর মূল ভূমিকা হবে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ ও আকাশসীমা রক্ষা করা।

তবে এই বহুজাতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি ও কমান্ড কাঠামোর মধ্যে সঠিক সমন্বয় ঘটানো। আমেরিকান পেট্রিয়ট এবং চীনা এইচকিউ-৯ কিংবা তুর্কি প্রযুক্তির সমন্বিত পরিচালনা একটি অত্যন্ত জটিল কাজ।

তা সত্ত্বেও, লোহিত সাগর সংলগ্ন ইস্ট-ওয়েস্ট ওয়েল পাইপলাইন, গুরুত্বপূর্ণ শহর ও ধর্মীয় স্থানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান ও তুরস্কের এই সমর্থন সউদী আরবের সার্বিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন এক মাত্রায় নিয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%