বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০২ পি.এম
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের কারণে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রদত্ত এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং জীবনমানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, পৃথিবীর সব দেশেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই যুগ প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি : রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’ বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ১ অক্টোবর ২০২৬ এ দেশেও ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ পালিত হচ্ছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল প্রবীণ নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, এবারের দিবসের প্রতিপাদ্যটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ হিসেবে বার্ধক্যে উপনীত হওয়া অনিবার্য। তাই প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতা প্রদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।
তিনি জানান, প্রবীণদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের কল্যাণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে রাষ্ট্রপতি মনে করেন।
প্রবীণদের অবদান উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা কেবল অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, ঘাম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।
তিনি আরো বলেন, প্রবীণদের একটি বড় অংশ অবনতিশীল স্বাস্থ্য, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের কল্যাণে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসবে।
তিনি বলেন, প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ ও নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে একটি চমৎকার দুপুরের খাবারের আয়োজন করেছিলেন। খাবার শেষে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইকে নিয়ে তিনি একটি মজার মন্তব্য করেন।
হঠাৎ করে ট্রাম্প সুন্দর পিচাইকে ‘দানব’ বলে উল্লেখ করেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে তার সফল ও ঝামেলাহীন জীবনের প্রশংসাও করেন। ট্রাম্পের মুখে এমন অদ্ভুত মন্তব্য শুনে উপস্থিত সবাই বিস্মিত হন, এবং ভিডিওতে দেখা যায় যে সুন্দর পিচাইও হাসিমুখে তার মন্তব্যের একটি চমৎকার উত্তর দেন।
এটি ঘটে যখন ট্রাম্প সুন্দর পিচাইকে কিছু বলার জন্য ডাকেন। তিনি বলার জন্য ডাকতে গিয়ে নিজেই থেমে গিয়ে বলেন, এই লোকটা একটা দানব, আর কেউ তাকে সেভাবে চেনেই না। কী দারুণ একটা জীবন! দানব হয়েও তাকে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। আপনার শুধু এটুকুই জানা দরকার—সুন্দর! সুন্দর হলো তার নাম...।
ট্রাম্পের এ মজার মন্তব্যের জবাবে সুন্দর পিচাই মুচকি হেসে বলেন, আশা করি এটি আমার সম্পর্কে বলা অন্য যেকোনো কথার চেয়ে বেশ ভালো একটা ট্যাগলাইন হবে...।
এদিকে এই হাস্যরসের বাইরেও অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি জগতের বড় বড় নেতারা একত্রিত হয়েছিলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের সঙ্গে গুগলের সুন্দর পিচাই, মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলা, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়ার প্রধানরা একটি বড় চুক্তিতে সই করেছেন।
‘দ্য হোয়াইট হাউস অ্যাকর্ড অন সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামের এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো, উন্নত প্রযুক্তি যেন নিরাপদে মানুষের উপকারে আসে এবং কোনো ঝুঁকি তৈরি না করে।
অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই জানান, গুগল গত দুই বছরে তাদের এআই প্রযুক্তির পেছনে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রাখবে। মানুষের জীবন সহজ করা এবং প্রযুক্তির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কড়া নিয়ম মেনে ও যাচাই-বাছাই করে এআই মডেলগুলো তৈরি করতে সম্মত হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেরপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়, যেখানে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মোট ২৯৪ জন সেবাপ্রার্থী তাদের সমস্যা ও আবেদন উপস্থাপন করেন। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬৯ জনকে মোট ৮০ হাজার নয়শ’ টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
এছাড়া, গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক বিভিন্ন সহায়তার জন্য আবেদন গ্রহণ করেন। এর মধ্যে সেলাই মেশিনের জন্য ৫ জন, ঢেউটিনের জন্য ১৬ জন, ঘরের জন্য ৪ জন, ভ্যানগাড়ির জন্য ১ জন, হুইলচেয়ারের জন্য ৪ জন, বিধবা ও বয়স্ক ভাতার জন্য ১০ জন, চাকরির জন্য ২ জন এবং নলকূপের জন্য ১ জনের আবেদন গ্রহণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১৩ কনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্টের (GRT) অর্থায়নে তিন অসচ্ছল পরিবারের মেয়ের যৌতুকমুক্ত গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ওয়েল বিং বাংলাদেশ সোসাইটির (WBS) তত্ত্বাবধানে এবং ইমপ্লিমেন্টর হাফেজ মাওলানা মো. শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে এ গণবিবাহের আয়োজন করা হয়।
গণবিবাহে রাবেয়ার সঙ্গে নুরনবী, রুখসানার সঙ্গে সাগর এবং পারুলের সঙ্গে মাসুদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনটি বিয়েই কোনো ধরনের যৌতুক ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে তিন কনের জন্য ঘর সাজানোর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র ও সামগ্রী প্রদান করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের সামগ্রীই কনেদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, পুরো আয়োজনটি ছিল সম্পূর্ণ যৌতুকমুক্ত। তিন পরিবারের কাউকেই বিয়ের জন্য কোনো ধরনের অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। বিবাহের যাবতীয় খরচ গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্ট বহন করেছে।
বিবাহ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ১৩ কনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এতে কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিয়ে শেষে নবদম্পতিদের জন্য দোয়া মাহফিল ও অতিথিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
ইমপ্লিমেন্টর হাফেজ মাওলানা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্ট সারা বাংলাদেশে অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এ ধরনের গণবিবাহের আয়োজন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে তিনটি অসচ্ছল পরিবারের মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন বলেন, “অর্থের অভাবে অনেক অসচ্ছল পরিবার মেয়েদের বিয়ে দিতে সমস্যায় পড়েন। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য সহায়ক। ভবিষ্যতেও আরও অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হবে—এটাই প্রত্যাশা।”
আয়োজকরা জানান, অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং যৌতুকমুক্ত বিয়ের মাধ্যমে সামাজিকভাবে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বছরের পর বছর রহস্যজনক কারণে উৎপাদন বন্ধ থাকার ফলে রংপুর অঞ্চলের একমাত্র রাষ্টায়ত্ব ভারী শিল্প শ্যামপুর সুগার মিলের দেনার পরিমাণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। গুনেগুনে ৫ বছর ধরে বন্ধ থাকার কারণে মিলটিতে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই, শ্রমিক-চাষি কিংবা দর্শনার্থীদের আনাগোনা নেই। এক সময়ের জমজমাট ও ব্যস্ততম এলাকা মিল চত্বরটি এখন সন্ধ্যা হলেই ভূতুড়ে পরিবেশে পরিণত হয়। অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে মূল্যবান মেশিনপত্র ও যানবাহন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ব্যবহার না করায় মরিচা ধরে ভেঙে-খুলে পড়ছে একের পর এক ট্রাক্টর। লোকসান ঠেকাতে এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান বজায় রাখতে বিকল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের প্রস্তাবটিও আমলাতন্ত্রের লাল ফিতায় বন্দি হয়ে আছে, ফলে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বিষয়টি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। অনেকের ধারণা, মিলটিকে ব্যক্তি মালিকানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
যদিও এই মিলটি চালু হলে একদিকে কয়েক শত বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে রংপুর জেলার ৮টি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় আখ চাষের মাধ্যমে হাজার হাজার কৃষিজীবি ও কৃষক পরিবার উপকৃত হবে। শুধু কৃষক ও কৃষি সম্পৃক্ত মানুষ নয়, এর সাথে আয়ের পথ সুগম হবে আরও অনেক মানুষের।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকায় প্রায় ১’শ ৪৫ একর জমির ওপর নির্মিত হয় শ্যামপুর সুগার মিল। রংপুর অঞ্চলের একমাত্র ভারী শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই মিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মাড়াই শুরু হয় ১৯৬৭ সালে। মিলটির দৈনিক আখ মাড়াইয়ের ক্ষমতা ১ হাজার ১৬ মেঃ টন। সে হিসেবে বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ধরা হয় ১০ হাজার ১’শ ৬১ টন। বছরে আখ মাড়াই মৌসুমে মিলটি চালু থাকে তিন মাস। চালুর পর থেকেই মিলটি অত্যন্ত সাফল্যের সাথে লাভের মুখ দেখলেও কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা/কর্মচারীর অনিয়ম-দুর্নীতি, অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা এবং নানা কারণে ২০০০ সাল থেকে টানা লোকসানের মুখে পড়ে মিলটি। ব্যাংক ঋণ, ঋণের সুদ, বকেয়া বেতন ও শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন খাত মিলে শেষ পর্যন্ত লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৬’শ কোটি টাকায়। এ অবস্থায় শিল্প, বাণিজ্য, অর্থ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি মিলটির মাড়াই কার্যক্রম বন্ধের সুপারিশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০-২১ মাড়াই মৌসুমে মিলের কার্যক্রম বন্ধ করে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন। এই বন্ধের ঘটনাটির শেষ পরিণতি কী আদমজী পাটকলের অনুরুপ হতে চলেছে? এমন মন্তব্য সচেতন মহলের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মিলটি চালু থাকা অবস্থায় ৪শ ৯৩ জন স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন। বন্ধের পর অনেকেই অবসর গ্রহণ করেছেন এবং কিছু জনবল অন্য মিলে বদলি করা হয়েছে। অনেকেই এখনও বকেয়া বেতন না পেয়ে এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পেরে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সরেজমিনে মিলটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, লোকসানের অজুহাতে বন্ধ করে দেয়া মিলটি এখন গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নিরবে-নিভৃতে পড়ে আছে সব মেশিনপত্র ও পরিবহনগুলো। মিল চত্বরে কর্মচাঞ্চল্য নেই, শ্রমিক-কর্মচারী ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা নেই। ফাঁকা জমিগুলোতে শ্রমিকরা ভুট্টা, আলু ও ধানসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন। মিল চত্বরে চরে বেড়াচ্ছে গরু-ছাগল আর ভেড়া। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কোটি কোটি টাকার মেশিনগুলোতে মরিচা ধরে ভেঙে পড়ছে। বাইরে পড়ে থাকা আখ পরিবহনে ব্যবহৃত অসংখ্য ট্রাক্টর রোদ-বৃষ্টিতে মরিচা ধরে ভেঙে পড়ছে। ছাউনি ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে মূল্যবান মেশিনগুলির যন্ত্রপাতি মরিচায় ক্ষয়ে যাচ্ছে। গোটা কারখানার ভিতরে গজিয়ে উঠেছে জঙ্গল। দুস্কৃতিকারীরা মেশিনসহ পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরগুলোর যন্ত্রাংশ খুলে নিয়ে গেছে। এলাকাবাসী জানায়, মিলটি বন্ধের পর থেকে এর মূল্যবান সম্পদগুলো নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বেহাত হয়ে যাচ্ছে এবং এখনও যাচ্ছে। এগুলো যেন দেখার কেউ নেই। যে যেভাবে পারছে যন্ত্রপাতি খুলে নিয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই মিল চত্বরে ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মাদক সেবিদেরও আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে মিল চত্বরটি।
এদিকে, বিষয়গুলি নিয়ে মিল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। মিল এলাকায় আখ উৎপাদন কমে যাওয়া ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে লোকসানের বোঝা বাড়ছে বলে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও তা মানতে নারাজ শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষিরা। শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষীদের দাবী- সাবেক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, অদক্ষ জনবল ও অব্যবস্থাপনা সহ নানা কারণে লোকসানে পড়ে মিলটি। আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন, পুরনো মেশিনপত্র মেরামত এবং সর্বোপরি দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে চালু করলে যথেষ্ট লাভের মুখ দেখবে। পাশাপাশি মিলের নিজস্ব জায়গায় আলুর কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন এবং পিপি ব্যাগ ও চিনির প্যাকেট তৈরির কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিত্যক্ত সম্পদ ব্যবহার করা যেতে পারে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা বেশ কিছুদিন আগে দেয়া হলেও এখনও তার আলোর মুখ দেখছে না।
মিলের একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার কারণে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বিকল্প আয়ের উৎস করতে না পারায় অনেকেই কৃষিকাজ কিংবা অটো চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। চরম আর্থিক সমস্যা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন শ্রমিক-কর্মচারীগণ।
মোস্তাফিজুর রহমান নামের একজন ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, চিনিকলটি সচল থাকাকালে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক গতি ছিল। মিল চত্বর এবং আশপাশের এলাকা মিলে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেন-দেন হতো। কিন্তু এখন এলাকা নিরব-নিস্তব্ধ। কর্মচঞ্চল এলাকাবাসী এখন দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। আখচাষিরা বেকার, পরিবহন শ্রমিক ও কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত। সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে মিলটি চালু হলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে গতি ফিরে আসবে। বদলে যাবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-যাত্রা।
মিলের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, উত্তরাঞ্চলের অন্যতম একটি ভারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান শ্যামপুর সুগার মিল। এই মিলের সাথে জড়িত ছিল কয়েক হাজার পরিবার। কিন্তু মিলটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিক-কর্মচারী ও আখ চাষীদের মাঝে দুর্বিষহ অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে মিলটি উৎপাদনমুখী করতে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মিলের নিজস্ব জায়গায় আলুর কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন এবং পিপি ব্যাগ ও চিনির প্যাকেট তৈরির কারখানা স্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কিছু প্রস্তাবনা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেসব প্রস্তাবনা আলোর মুখ দেখছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক ড, আবদুল মজিদ ইনকিলাবকে বলেন, শ্যামপুর চিনিকলের আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। যত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ততই হবে মঙ্গলজনক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ