ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

কুড়িয়ানায় রেস্ট হাউস উদ্বোধন, সন্ধ্যা পার্ক আধুনিকায়নে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে নতুন আশার আলো


কুড়িয়ানায় রেস্ট হাউস উদ্বোধন, সন্ধ্যা পার্ক আধুনিকায়নে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে নতুন আশার আলো

নেছারাবাদের কুড়িয়ানায় পর্যটনশিল্পের বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। ৬ নভেম্বর আটঘর-কুড়িয়ানার ভাসমান পেয়ারা বাগানখ্যাত এলাকায় উপজেলা পরিষদের নবনির্মিত রেস্ট হাউসের উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন। একই দিনে তিনি সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত সন্ধ্যা পার্ক পরিদর্শন করেন এবং পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত ও পার্কটি আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। প্রতিমন্ত্রীর এই উদ্যোগে নেছারাবাদের পর্যটনশিল্প নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

রেস্ট হাউস উদ্বোধন ও বিভিন্ন পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থান পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নেছারাবাদের পর্যটনশিল্পের বিকাশে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদ-নদী, ঐতিহ্য ও শিল্পকে যথাযথভাবে তুলে ধরতে পারলে পর্যটনশিল্প স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে।" পর্যটনের প্রসার ঘটলে এই জনপদের অর্থনৈতিক ভিত্তিও আরও শক্তিশালী হবে।

সন্ধ্যা পার্ক পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, "পার্কটিতে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি রয়েছে।" বিশেষ করে যাতায়াতের রাস্তা, আলোকসজ্জা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধা উন্নয়নের মাধ্যমে এটিকে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: প্লাস্টিক দূষণ বন্ধের এখনই সময়: বরিশালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আলোচনা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদ-নদী, ঐতিহ্য ও গ্রামীণ জীবনবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ নেছারাবাদ ইতোমধ্যে দেশের পর্যটন মানচিত্রে বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছে। পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দেশের মধ্যে ১৪তম অবস্থানে উঠে আসা এ জনপদে পর্যটনশিল্প বিকাশের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত জানান, নেছারাবাদে পর্যটনশিল্প বিকাশের জন্য অসংখ্য আকর্ষণীয় স্থান ও ঐতিহ্য বিদ্যমান। তিনি বলেন, "সন্ধ্যা, বেলুয়া ও কালীগঙ্গা নদীর অপরূপ সৌন্দর্য, আটঘর-কুড়িয়ানার ভাসমান পেয়ারা বাজার, শতবর্ষের নৌকার হাট, বলদিয়া ইউনিয়নের ভাসমান সবজি চাষ ও চারা উৎপাদন, ক্রিকেট ব্যাট শিল্প, আলংকারকাঠীর ফুলের রাজ্য, মুড়ি পল্লী এবং ঐতিহ্যবাহী কাঠশিল্প পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারে।" এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে পারলে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

নেছারাবাদ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মইনুল ইসলাম জানান, পর্যটন সম্ভাবনা থাকলেও এখানে পর্যটকদের জন্য আধুনিক বাসস্ট্যান্ড, মানসম্মত আবাসন, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার, বিশ্রামাগার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, "কুড়িয়ানায় উপজেলা পরিষদের রেস্ট হাউস উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী পর্যটনশিল্প বিকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপন করেছেন।" পর্যটন উন্নয়নে তাঁর বিশেষ গুরুত্ব ও আন্তরিকতা রয়েছে। তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি জানান।

নেছারাবাদ ট্যুয়াসের প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, নেছারাবাদে পর্যটকদের আগমন ক্রমেই বাড়ছে। তবে পর্যটনশিল্পকে সম্ভাবনার জায়গা থেকে বাস্তব অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দিতে প্রয়োজন পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন। তিনি আধুনিক বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসম্মত গণশৌচাগার, বিশ্রামাগার, নিরাপদ যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

নেছারাবাদ ট্যুরসের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও কুড়িয়ানায় উপজেলা পরিষদের রেস্ট হাউস উদ্বোধনের জন্য মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে প্রশংসা ও স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কুড়িয়ানায় এতদিন পর্যটকদের রাত্রিযাপনের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা ছিল না। নতুন রেস্ট হাউস চালুর ফলে পর্যটকদের অবস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা এ অঞ্চলের পর্যটন বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পর্যটন গাইডের প্রত্যাশা, প্রতিমন্ত্রীর সুদৃষ্টি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে নেছারাবাদে আধুনিক পর্যটনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে উঠবে। এতে পর্যটকদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

নেছারাবাদ শুধুমাত্র একটি দর্শনীয় জনপদ নয়, এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার এক অনন্য জনপদ। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও সময়োপযোগী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চল সারা বছর দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

আরও পড়ুন: হারানো পোষা বিড়াল ফিওনা’র সন্ধানে পুরস্কার ঘোষণা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নাসিরনগরে বিএনপির র‍্যালি, অংশগ্রহণের আহ্বান জামাল আহমদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ পি.এম


৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে নাসিরনগরে বিএনপির র‍্যালি, অংশগ্রহণের আহ্বান জামাল আহমদের

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় আয়োজিত র‍্যালিতে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. জামাল আহমদ।

তিনি জানান, র‍্যালিটি নাসিরনগরের সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে শেষ হবে।

জামাল আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কারণেই বাংলাদেশে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিকাশের পথ তৈরি হয়েছিল। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি সবাইকে র‍্যালিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে তিনি ও তাঁর পরিবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁকেও কারাবরণ করতে হয়েছে। রাজনৈতিক জীবনে তাঁর এই ত্যাগ ও অবদান দল মূল্যায়ন করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

এ সময় আগামীতে নাসিরনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের কথাও জানান জামাল আহমদ।

তিনি বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে নাসিরনগর উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে কাজ করবেন। পাশাপাশি চুরি-ডাকাতিসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেবেন। তাঁর লক্ষ্য, এলাকার মানুষ যেন নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করা।

তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‍্যালি সফল করতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমনের অবিশ্বাস্য জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ পি.এম


এবার লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমনের অবিশ্বাস্য জয়

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমন। এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত প্রথম ব্যক্তি হিসেবে শহরটির নেতৃত্বে আসতে চলেছেন। খবরটি প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, নিত্যা রমন ৫২ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির মতো প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতাদের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও, ক্যারেন বাসের কাছে তিনি জয়ী হন।

রমনের নির্বাচনি প্রচারে সমর্থন প্রদান করেছিল ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এই বামপন্থি সংগঠনের ধারাবাহিক সাফল্যের সর্বশেষ উদাহরণ হলেন রমন।

গত মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডিএসএ অনুমোদিত বা সমর্থিত রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী জয়লাভ করেছেন। তাদের ওয়েবসাইটে ডিএসএ জানিয়েছে, তারা এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে অন্তত ৩০০ জন প্রার্থী বা গণভোটের উদ্যোগে অবদান রেখেছে, যার মধ্যে অন্তত ১০৫টিতে জয় সুনিশ্চিত।

এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি জয় এসেছে কংগ্রেসের দৌড়ে। দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার, ক্লেয়ার ভালদেজ, মেলাট কিরোস এবং ক্রিস র‍্যাবের মতো ব্যক্তিত্বরা প্রথমবার মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

গত বছর নিউইয়র্ক সিটিতে আরেক প্রখ্যাত ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট জোহরান মামদানির মেয়র নির্বাচিত হয়ে তাক লাগিয়ে দেন। এবার তার পথ অনুসরণ করে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র পদে আসীন হতে যাচ্ছেন রমন। তিনি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় জন্মগ্রহণ করেন।

ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান রমন। পরে ভারতে ফিরে চেন্নাইয়ে একজন নগর পরিকল্পনাবিদ হিসেবে কাজ করেন তিনি।

২০১৩ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে ফিরে আসেন রমন। সেখানে নগর প্রশাসনে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার পর ‘গৃহহীনতা দূরীকরণে’ একটি অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। গৃহহীনতার ইস্যুকে সামনে রেখে নির্বাচন করে তিনি শেষ পর্যন্ত বিজয় অর্জন করলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সচিবালয় স্থানান্তরে নতুন জটিলতার শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ পি.এম


সচিবালয় স্থানান্তরে নতুন জটিলতার শঙ্কা

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে নতুন জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) প্রশাসন নিজেদের জমির মালিকানা দাবি করে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। কৃষি গবেষণার স্বার্থে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা।

এই আন্দোলনের ফলে প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শেরেবাংলা নগরের মূল মহাপরিকল্পনা নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জমির মালিকানা ও ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠের জমি দীর্ঘদিন ধরে গণপূর্তের নামে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। জমির খাজনা এবং ভূমিসংক্রান্ত হালনাগাদ কার্যক্রমও মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে শেকৃবি প্রশাসনের দাবি, কৃষি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে বরাদ্দ দেওয়া জমির অংশ এটি। এ-সংক্রান্ত দলিলপত্রও তাদের কাছে রয়েছে। ফলে জমির প্রকৃত মালিকানা ও ব্যবহারের অধিকার নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার ২৫তম বৈঠকে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বর্তমান বাংলাদেশ সচিবালয় শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৯ সালের মধ্যে নতুন স্থানে সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সিদ্ধান্তের পরপরই মাঠটি কৃষি গবেষণার কাজে ব্যবহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, জমিটি তাদের মালিকানাধীন সরকারি সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রণালয়ই এর দেখভাল করে আসছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বিভিন্ন সময়ে সরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি নেওয়া হলেও অবশিষ্ট জমির মালিকানা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেই থাকার কথা।

শেকৃবির প্রক্টর অধ্যাপক আরফান আলী "আমার দেশ"কে বলেন, ১৯২০ সালে ব্রিটিশ সরকারের উদ্যোগের পর ১৯৩৮ সালে শেরেবাংলা একে ফজলুল হক বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন। পরে কৃষি গবেষণার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ২০০ একর জমি দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, হৃদরোগ ও পঙ্গু হাসপাতাল, পরিকল্পনা কমিশন এবং গণপূর্ত ভবন নির্মাণের জন্য জমি নেওয়া হয়। অবশিষ্ট জমির একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ছিল।

অধ্যাপক আরফান আলীর দাবি, ১৯৮৮-৮৯ সালে এরশাদ সরকারের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হল, ডেইরি ফার্ম ও মসজিদ সরিয়ে অস্থায়ীভাবে মেলার জন্য জমিটি নেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন জমিটি ফেরত চাওয়ার উদ্যোগ না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর আন্দোলন করার সুযোগ না থাকলেও চব্বিশের ৫ আগস্টের পর থেকে শিক্ষার্থীরা জমিটি ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। কৃষি গবেষণা সম্প্রসারণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে জমিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। জমির মূল মালিকানাসংক্রান্ত সব কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সড়ক অবরোধ, বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন

জমি হস্তান্তরের দাবিতে গত ২৭ অক্টোবর থেকে আন্দোলন করছেন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। ওই দিন পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় নির্মাণের উদ্দেশ্যে মাটি পরীক্ষার কাজ চলার সময় যন্ত্রপাতি ও গাড়ি জব্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিয়ে যান তারা। পরদিন মাঠে মেলা বন্ধের আল্টিমেটাম দেন আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে মাঠের বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

২৯ অক্টোবর দাবির পক্ষে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিনই মাঠে জাতীয় যুব মেলাসহ সব ধরনের মেলা স্থগিতের ঘোষণা দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

তবে মাঠের স্থাপনা অপসারণ না করা এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রতিবাদে ২ নভেম্বর আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা। ওই দিন মাঠটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণাও দেন আন্দোলনকারীরা।

এরপর গত মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মতবিনিময় সভায় সব পর্যায়ের পরীক্ষা বর্জন এবং বেলা ১১টার পর ক্লাসে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণে সব ব্যাচের শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউনের ঘোষণা দেন।

বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা স্ট্যান্ড থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়ে চীন মৈত্রী সিগন্যালে অবস্থান নেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী। এতে ওই এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে শেরেবাংলা নগরে গণপূর্ত কমপ্লেক্সের সামনে কুশপুত্তলিকা দাহের কর্মসূচিও ঘোষণা করেন তারা। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

সচিবালয়ের জন্য মূল পরিকল্পনা সংরক্ষণের সুপারিশ স্থাপত্য অধিদপ্তরের

এদিকে, শেরেবাংলা নগরের প্রশাসনিক এলাকার মূল মহাপরিকল্পনা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে স্থাপত্য অধিদপ্তর। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে জাতীয় সংসদ ভবনসহ পুরো প্রশাসনিক এলাকার পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার নিশ্চিতের সুপারিশ করা হয়েছে। এজন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীপুরের সালনায় বরাদ্দ করা জমিতে স্থানান্তরের প্রস্তাবও রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবন ও শেরেবাংলা নগরের প্রশাসনিক এলাকা স্থপতি লুই আই কানের প্রণীত মহাপরিকল্পনার অংশ। এই এলাকার ভূমি ব্যবহার ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনা হলে সংসদ ভবনের আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যগত স্বীকৃতি অর্জনের প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনকে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের সম্ভাব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।

স্থাপত্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, তৎকালীন পূর্ত বিভাগের হিসাব ও রাজধানীর স্থপতিদের মতামতের ভিত্তিতে তৎকালীন এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজন মেটাতে প্রায় ১,০০০ একর জমির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৬৪ সালে সংসদ ভবন নির্মাণের জন্য ৪০৮ একর জমি অধিগ্রহণের পর প্রশাসনিক এলাকার জন্য আরো ৫০০ একর জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংসদ ভবনের উত্তর পাশে চিলড্রেন উদ্যানের উত্তরে জাতীয় সচিবালয়সহ প্রশাসনিক ব্লক নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিলেন লুই আই কান। তবে স্বাধীনতা-পরবর্তী অর্থনৈতিক ও সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। ১৯৮২ সালে সংসদ ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও প্রস্তাবিত সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ আর এগোয়নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সচিবালয়ের জন্য নির্ধারিত জমির বিপরীতে শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে গাজীপুরের সালনায় স্থানান্তরের শর্তে জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়নি। প্রশাসনিক এলাকার মূল পরিকল্পনার সঙ্গে বিশেষায়িত কৃষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মনে করছে স্থাপত্য অধিদপ্তর।

এছাড়া সচিবালয় নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হওয়ায় একপর্যায়ে জমিটি সবুজ পার্ক ও খেলাধুলার মাঠ হিসেবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী নকশাও প্রণয়ন করে স্থাপত্য অধিদপ্তর। তবে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক অবকাঠামোর সম্প্রসারণের প্রয়োজন বিবেচনায় জমিটি সচিবালয়ের সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে সংরক্ষণের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

জমি মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত : গণপূর্ত সচিব

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ওবায়দুর রহমান এ বিষয়ে "আমার দেশ"কে বলেন, পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠের জমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। মাঠ ও বিভিন্ন স্থাপনা মিলিয়ে মোট ১৫৭ একর জমি মন্ত্রণালয়ের নামে রেকর্ডভুক্ত।

তিনি বলেন, এটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত। সেখানে সচিবালয় স্থানান্তর করা হবে। এর অন্য কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে গণপূর্ত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বলেও জানান তিনি।

সচিব বলেন, আগে এই মাঠে বাণিজ্যমেলা হয়েছে, এখনো বিভিন্ন মেলা হচ্ছে। কোনো সমস্যা হয়নি। এখন হঠাৎ করে কারা ইন্ধন দিচ্ছে। এ বিষয়ে এসবির রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, কিছু লোক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। গত ১৭ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা ফ্যাকাল্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব ঘটনায় ইন্ধন দিচ্ছেন।

শেকৃবির গবেষণার মাঠের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণপূর্ত সচিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে গবেষণার জন্য মাঠ থাকলেও সেগুলোর উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বরং ধান চাষের জমি নষ্ট করে হোস্টেল ও বিভিন্ন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে সরকার অন্য জায়গায় হোস্টেল নির্মাণের জন্য জমি দিতে পারে।

নতুন সচিবালয়ে ১৪টি ১২ তলা ভবনের পরিকল্পনা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আবদুল গনি রোডে ১৭.৫৭ একর জমির ওপর বাংলাদেশ সচিবালয়ের ১৩টি ভবন রয়েছে। এর মধ্যে আটটি ভবন স্বাধীনতার আগে নির্মিত। পুরোনো ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবন ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং ৫ নম্বর ভবনটি ১৯৪৭ সালে নির্মিত হয়। এসব ভবন ভূমিকম্প সহনশীল করে নির্মাণ করা হয়নি। ঢাকা ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনায় এসব ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাবেও স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে একনেক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে নতুন সচিবালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য স্থাপত্য অধিদপ্তর একটি ধারণাগত স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ৩১.৫৮ একর জমিতে মোট ৩৩.১৬ লাখ বর্গফুট আয়তনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এতে তিনটি বেজমেন্টসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন থাকবে। ৩,৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে, যার মধ্যে ২০০টি ভূউপরিস্থ পার্কিং। এছাড়া মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতার দুটি বহুমুখী হল, ক্যাফেটেরিয়া ও ডাকঘরসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য রাখা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজপরিবারের নানা সমাচার: চার্লস ও ডায়ানার জীবন ও মৃত্যুর কাহিনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:১৬ এম


রাজপরিবারের নানা সমাচার: চার্লস ও ডায়ানার জীবন ও মৃত্যুর কাহিনী

ব্রিটিশ রাজপরিবারের আলোচিত ও পরিচিত নাম চার্লস ও ডায়ানা। তাদের জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এবার দেখা যাক সমালোচকরা তাদের জীবনের মিল ও অমিল সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছেন–

১. চার্লস ঘোড়ায় চড়তে ভালোবাসেন। অন্যদিকে, ডায়ানা ঘোড়া থেকে সব সময় দূরে থাকেন। রাজপরিবারের একজন হিসেবে এর কারণ কী? কারণ, তিনি ছোটবেলায় একবার তাঁর প্রিয় পনি থেকে পড়ে যান। আট বছর বয়সের সেই স্মৃতি তাঁকে ঘোড়াবিমুখ করে রেখেছে।

২. চার্লস বড় বড় রেস্টুরেন্ট এবং ডিসকোতে যেতে অপছন্দ করেন। কিন্তু ডায়ানা এসব জায়গায় গিয়ে তরুণদের সঙ্গে মিশতে ও নাচতে ভালোবাসেন। চার্লস একান্তে নাচেন।

৩. চার্লস পোলো খেলতে খুব পছন্দ করেন। ডায়ানা বলেন, খেলা তো দূরের কথা, পোলো দেখতে গেলেও তাঁর ভীষণ বোরিং লাগে।

৪. চার্লস মাছ ধরতে ভালোবাসেন। ডায়ানা মাছ ধরতে একটুও পছন্দ করেন না।

৫. চার্লস প্রকৃতির সঙ্গে কথা বলতে ভালোবাসেন। হেদারের বনে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটতে তাঁর পছন্দ। অন্যদিকে, ডায়ানা বলেন, এমন করলে তাঁর চুল ভিজে যায়, যা তাঁর একেবারে অপছন্দ। ফলে হেদারের বনে হাত ধরাধরি করে সঘন বর্ষণে তাদের হাঁটা হয়নি কখনও।

৬. চার্লস বাখ ও বেটোফেনের সঙ্গীত শুনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটান। ডায়ানা এসব ভালোবাসেন না, তিনি হালকা গান পছন্দ করেন।

৭. চার্লস ইতিহাস ও দর্শনের বই পড়তে ভালোবাসেন। ডায়ানা রোমান্টিক নভেল পড়তে ভালোবাসেন। বারবারা কার্টল্যান্ডের বই তিনি বারবার পড়েছেন।

৮. চার্লস ভালোবাসেন এমন সব মানুষের সঙ্গে ডিনার খেতে, যারা বড় বড় বুদ্ধিমানের বিষয়ে কথা বলতে আনন্দ পায়। কিন্তু ডায়ানার এ ধরনের কাজ পছন্দ নয়, স্বামীর বুদ্ধিমান বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো। ফলে ডায়ানা চার্লসের বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে চান না।

৯. চার্লস অপেরা পছন্দ করেন। ডায়ানা মিউজিক্যাল।

১০. চার্লস সব বিষয়ে খুব সিরিয়াস। তিনি কেমব্রিজ থেকে বিএ অনার্স পাস করেছেন। ডায়ানার পড়াশোনা কখনোই পছন্দ ছিল না (রোমান্টিক নভেল বাদে)। স্কুলে সবাই তাঁকে বোকা বলত। সুইজারল্যান্ডের যে স্কুলে তিনি পড়তেন, সেখানে ম্যাট্রিক পাস করতে হয় স্কুলের শেষ বছরে। তিনি তা না করে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে আসেন পরীক্ষার আগে। রাজপরিবারের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন ডায়ানার মস্তিষ্কের সাইজ মটরশুঁটির সমান। কেউ যদি আফগানিস্তানকে উল্লেখ করে, তিনি মনে করেন এটি এক ধরনের চিজ। ডায়ানার আত্মীয়া বারবারা কার্টল্যান্ডের মেয়ে বলেন, "যে জীবনে একটা ও লেভেল করল না, তার সঙ্গে কী করে কথা বলা যায়।" বেচারা ডায়ানা। পড়াশোনায় ভালো করাই কি সবকিছু।

এবার আসা যাক অন্য প্রসঙ্গে। বিভিন্ন রাজপরিবারের সদস্যদের মৃত্যুর নানা কাহিনী রয়েছে। এদের মধ্যে প্রথমে নাম করতে হয় রাসপুটিনের।

১. রাসপুটিন রাশিয়ার শেষ জার নিকোলাস এবং তাঁর স্ত্রী এমপ্রেস আলেকজান্দ্রার বিশেষ প্রিয় পাত্র ছিলেন। তাঁর হিলিং করার ম্যাজিক্যাল ক্ষমতা ছিল। ফলে জার ও জারিনার একমাত্র ছেলের হিমোফিলিয়া ভালো করে তিনি রাজপরিবারের প্রিয় পাত্র হয়ে ওঠেন। তিনি আলেকজান্দ্রাকে নানা কাজে উৎসাহিত করেন। কিন্তু রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ঠিক করেন এই শয়তান রাসপুটিনকে মেরে ফেলতে হবে। ১৯১৬ সালের ১৭ ডিসেম্বর তারা রাসপুটিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তাঁর কফির সঙ্গে আর্সেনিক মেশানো হয়েছিল যাতে করে ঘরের সবাই মারা যেতে পারে। কিন্তু রাসপুটিন পুরো কফি শেষ করে জিভ চাটতে থাকেন। এরপর এক ঘণ্টা ধরে নানা বাদ্যযন্ত্র শ্রবণ করেন। এরপর লোকজন তিনবার তাঁকে বন্দুকের গুলি ছোড়ে। একটি গুলি বুকে, একটি কাঁধে এবং একটি পিঠে লাগে। তাতেও কিছু হয় না। এরপর তারা ছুড়ি দিয়ে তাঁকে আঘাত করে। এর পরও যখন সে উঠে পালাতে চান, তখন অন্যান্য লোকজন তাঁকে ধরে দুই হাত বেঁধে নদীতে ছুড়ে মারে। বরফডোবা নদীতে ফেলবার মতো জায়গা বের করে দেখা যায় রাসপুটিন সেখান থেকেই ভয়ানক চিৎকার করছে। যেখানে পড়বার সঙ্গে সঙ্গে জমে যাবার কথা। এরপর লোকজন চুলের মুঠি ধরে তাঁকে পানিতে চুবিয়ে রাখে যতক্ষণ না তিনি মারা যান। এরপর তিনি মারা যান বলে সবার ধারণা।

২. চার্লস কিন্তু একই পোলো খেলতে ভালোবাসতেন না। ১২১০ সালে ভারতের সিংহাসনে বসেন কুতুব উদ্দিন আইবেক। তিনিও পোলো খেলতে খুব ভালোবাসতেন। একবার পোলো খেলবার সময় মাথা খুব নিচু করে খেলতে গিয়ে অন্য একজন দুর্ঘটনাবশত তাঁর মাথায় আঘাত করে। তিনি মারা যান। ভেবেছিলেন এই খেলার মাধ্যমে বেশ আধুনিক মানুষ হবেন। কিন্তু পোলোই তাঁকে শেষ করে।

৩. রিচার্ড দ্য থার্ডের ভাই জর্জ—ডিউক অব ক্লারেন্সের মৃত্যু হয়েছিল একটু ভিন্নভাবে। ভাইকে ধরে তাঁকে মেরে ফেলবার আদেশ দেন রিচার্ড দ্য থার্ড। ভাই মদপান করতেন না। তাই তাঁকে মদের ব্যারেলে চুবিয়ে মারা হয় ১৪৭৮ সালে। পরে তাঁর মেয়ে এই ঘটনা মনে রাখতে গলায় একটি সোনার ব্যারেল পরে থাকতেন। ১৫৪১ সালে তিনি মারা যান। জীবনেও এক দিনের জন্যও গলা থেকে সোনার ব্যারেল খোলেননি। বাবার প্রতি ভক্তিতে।

৪. ১২৯০ সালে কিং এডওয়ার্ড যুদ্ধ করতে গিয়ে একটি ক্ষত হয় এবং তা থেকে সারা শরীরে বিষক্রিয়া শুরু হয়। তাঁর প্রিয়তমা রানী কুইন এলেনোর কোনো ডাক্তারকে বিশ্বাস করতে পারেননি। মুখ দিয়ে সমস্ত রক্ত চুষে বের করেছিলেন এই রানী। এতে রাজা বেঁচে ওঠেন। রানী মারা যান। কিং এডওয়ার্ড এতে ভয়ানক আঘাত পান। এমন ঘটনা তাঁকে বিস্ময়াহত করে। যেদিক দিয়ে এলেনোরের কফিন গিয়েছিল, বারো জায়গায় কফিনকে একটু নামিয়ে রেখে বিশ্রাম নিয়েছিলেন কফিন বহনকারীরা। এই বারো জায়গায় ‘এলেনোর ক্রস’ নির্মাণ করা হয়। যা আজও আছে এর সঙ্গে আছে জীবনের চাইতে বড় ভালোবাসার প্রেম এলেনোর দ্য কুইন।

৫. ৫৪৭ সালে ওয়েলসের রাজা মালেগিনের মৃত্যু ঘটে এক অদ্ভুতভাবে। তিনি গেনেদের রাজা ছিলেন। যখন ব্ল্যাক প্লেগ সারা ওয়েলস ছেয়ে ফেলে, তিনি তা থেকে বাঁচতে রস নামের একটি চার্চের ভেতর গিয়ে আশ্রয় নেন। গার্ডরা দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা তাঁকে সেখানে পাহারা দিত। এরপর গার্ডরা চিন্তিত হয়ে পড়ল। কারণ রাজা মালেগিন খাবারের ট্রে ফেরত পাঠাতে শুরু করেন। লোকজন জোর করে ঢুকে দেখতে পায় রাজা মারা গেছেন। কারণ প্লেগ।

৬. ফ্রান্সের রাজা নবম লুইয়ের ঘটনা একটু ভিন্ন। ১২৪৪ সালে তিনি প্লেগে মারা যান। যখন ফিউনারাল সার্ভিস শুরু হয়েছে, তিনি হঠাৎ সোজা হয়ে বসেন। চিৎকার করে বলেন—এসবের মানে কী? তিনি কি মারা গেছেন? তিনি মোটেই এখন মারা যেতে চান না। এই বলে তিনি গটগট করে বাড়ির ভেতরে চলে যান। ১২৭০ পর্যন্ত তিনি বেঁচে ছিলেন। এরপর ১২৭০ সালে তিনি মারা যান প্লেগে। ২৭ বছর পরে সবাই ঘোষণা করে তিনি একজন সেন্ট।

৭. ‘মার্গারেট দ্য মেইড অব নরওয়ে’ ১২৯০ সালে স্কটল্যান্ডের রানী হবার জন্য মাত্র সাত বছর বয়সে জাহাজে স্কটল্যান্ডে আসছিলেন। কিন্তু রাস্তায় সি সিকনেস হয়ে সাত বছরের ভবিষ্যৎ রানী মারা যান।

৮. ১৬০৩ সালে রানী প্রথম এলিজাবেথ টনসিলে সেপটিক হয়ে মারা যান। সারা রাত জেগে ছিলেন। ঘুমালে মারা যাবেন। কিন্তু সকালবেলা ধপাস করে পড়েই শেষ।

৯. নরওয়ের রাজা কিং হাকোন গোসল করতে গিয়ে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যান তাঁর মার্বেল বাথে। এরপর মারা যান। মাথা লেগেছিল বাথটাবের সঙ্গে।

১০. স্যার মাধো রাও সিন্ধিয়া বাহাদুর শ্রীনাথ গোয়ালিওরের মিলিওনেয়ার মহারাজা ডায়াবেটিস থেকে একটি কার্বাঙ্কল হওয়াতে মারা যান। ১৯২৫ সালে এ ঘটনা ঘটে। প্যারিসে কিছু গ্লামারাস সময় কাটাতে এসেছিলেন। ভাগ্য বিরূপ।

১১. আলবার্ট নামে বেলজিয়ামের একজন রাজা ছিলেন। তিনি খ্যাতির মধ্য গগনে উঠেছিলেন। বলা হয়, দ্য বেস্ট কনস্টিটিউশনাল মনার্ক এভার রুলড ইন ইউরোপ। একবার তিনি পাহাড়ে উঠেছিলেন। সবচেয়ে উঁচু শিখরে উঠে যখন এই আরোহণকে নিজের শৌর্যবীর্যের সঙ্গে তুলনা করছিলেন, মারা যান। পা পিছলে পড়ে ছিলেন। গর্ব সব সময় ভালো ফল দেয় না। এবার আসা যাক অন্য একরকম মৃত্যু ঘটনায়। একে বলা হয় ‘রয়াল সেক্সি ডেথ’।

১২. কিং আটিলা ছিলেন হানের রাজা। ৪৫৩ সালে অত্যন্ত চমৎকার এক সেক্সসিম্বল নারীকে বিয়ে করেন। যার রূপের খ্যাতি ছিল জগজ্জোড়া। রানীর নাম ছিল ইলডেকো। অনেক রাত পর্যন্ত খাওয়াদাওয়া চলে। এরপর রাজা-রানী তাদের জন্য নির্মিত বিশেষ তাঁবুতে যান ঘুমোতে। পরদিন সবাই দেখে যখন সূর্য ডুবুডুবু, দু-একজন অবাক হয়ে ভাবে ব্যাপার কী? কী করছেন তারা। একজন দরজা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বলে—কী খাবেন স্যার সুপ না রুটি? দেখেন রানী হাপুস নয়নে কাঁদছেন। রাজা মারা গেছেন। রাজা নাকি এমন একটা আসন বেছে নিয়েছিলেন, যা কামসূত্রে ছিল না। ফল? এই আসনের নাম এক পা কবরে।

এর পরের মৃত্যুগুলো একটু অন্যমত

১৩. রাজা চার্লস ছিলেন ফরাসি দেশের ক্যারোলিংজিয়ান ডাইনাস্টির রাজা। অত্যন্ত অত্যাচারী রাজা ছিলেন, যার প্রাণে দয়ামায়া ছিল না। ৮৭৭ সালে তাঁকে সিংহাসন থেকে প্রায় টেনে নামানো হয়। দশ বছর পরে ৬৫ বছর বয়সে একেবারে পথের ভিক্ষুক হয়ে মারা যান। এবার হয়তো বুঝতে পেরেছেন অভাব ও অনাহারের মানে।

১৪. কুইন মেরি অব মেডিচি রাজা তৃতীয় হেনরির রানী ছিলেন। ১৬১৭ সালে তিনি যে সন্তানের জন্ম দেন তিনিই পরে ত্রয়োদশ লুই নামে বিখ্যাত ছিলেন। মায়ের স্বভাব বা জীবনযাপন তাঁর পছন্দ ছিল না। একদিন সে মাকে জেলে পুরে। মা নিজের যৌবন ও বয়সের সব রহস্যে একজন ওয়ার্ডেনকে বশ করে। এরপর দেশ ছেড়ে পালায়। এর পরের এগারো বছর পথের ফকিরের মতো ঘুরে বেড়ায়। একদিন যখন সে মারা যায়, সবাই দেখে অনাহারে একটা কঙ্কাল খড়ের গাদার ভেতর পড়ে আছে। সেই কঙ্কালই ত্রয়োদশ লুইয়ের মা।

১৫. উগান্ডার রাজা কাবাকা জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৪ সালে। ডক্টর মিলটন ওবোটো তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এরপর উগান্ডার রাজা ব্রিটেনে এসে সরকারের মুষ্টিভিক্ষা পাওয়ার জন্য দরখাস্ত করেন। যাকে বলা হয় সোশ্যাল সিকিউরিটির টাকা। ১৯৭৯ সালে যখন তিনি মারা যান, তাঁর পকেটে এক পয়সাও ছিল না। ভাগ্য।

এবার প্রিন্স চার্লস দিয়ে আজকের রচনা শেষ করি।

চার্লস কেবল যে বর্তমান কামিলার সঙ্গে প্রেম করেছিলেন তা নয়। এর আগে অসংখ্য মেয়ে এসেছে তাঁর জীবনে। কিন্তু কামিলার ভেতর তিনি কী পেয়েছেন, সেটা তাঁর নিজের ব্যাপার। ১৯৬৭ সালে যখন তাঁর বয়স মাত্র ১৯ বছর, একজন বালকের মতো তিনি এসেছিলেন টিমবারটপে। ফিরে গিয়েছিলেন পুরুষ হয়ে। জীবনের প্রথম প্রেম তাঁকে বালক থেকে পুরুষ করেছিল। কেমব্রিজে জীবনের প্রথম প্রেমের স্বাদ উপভোগ করেন। মেয়েটির নাম ছিল লুসি সান্তা ক্রুস। চমৎকার বুদ্ধিমতী দীর্ঘদেহী মেয়েটি চিলির অ্যাম্বাসাডরের মেয়ে। সবাই বলে তিনি লুসিকে ভীষণ ভালোবেসেছিলেন। কিন্তু বিয়ের কথা কোনো পক্ষই আলোচনা করেনি।

১৯৭৭ সালে স্থানীয় কাগজ বড় বড় হেডলাইনে জানিয়েছিল চার্লস লুক্সেমবার্গের রাজকুমারী মারি আসট্রিডকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। রাজকুমারীর বয়স ছিল ২৩ বছর। চার্লস বলেছিলেন—বিয়ের খবর সত্যি নয়।

১৯৭০ সালে লর্ড মাউন্টব্যাটনের নাতনি আমান্ডা কাঞ্চবুলের সঙ্গে একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক হয়েছিল তাঁর। হলিডেতে গিয়েছিলেন একসঙ্গে। কিন্তু বিয়ে হয়নি।

১৯৭২ সালে গ্রেস কেলির মেয়ে মোনাকোর রাজকুমারী কারোলিনের সঙ্গে সখ্য করেন। সবকিছু হলেও বিয়ে হয়নি।

১৯৭০ সালে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের মেয়ে ট্রিসিয়ার সঙ্গে তাঁর একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। নিক্সন তাঁকে জামাই হিসেবে পেতে খুব আগ্রহী ছিলেন। তিনি মেলামেশার পর বলেন—মেয়েটা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। একেবারে কৃত্রিম।

অসংখ্য নারীর কয়েকজন। কামিলার সঙ্গ ও সান্নিধ্য তাঁকে কতখানি প্রভাবিত করেছে তা এখন জানে বিশ্ববাসী। তাহলে কামিলার আইকিউ কি ডায়ানার চেয়ে ভালো? না হলেও চার্লস আর কামিলার কেমিস্ট্রিগত ভয়ানক মিল ছিল। না হলে এমন হয়?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%