বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৯:২২ এম
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন, এদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। চরম উত্তেজনার মধ্যে কিয়েভের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষমতার লড়াই। আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জেলেনস্কির বিরুদ্ধে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি।
ইউক্রেনের আকাশে আবারও দেখা গেছে রুশ বোমারু বিমান ও ড্রোনের তান্ডব। বুধবার (০১ জুলাই) দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ, ওডেসা এবং খেরসন অঞ্চলে একযোগে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে পুতিন বাহিনী। স্থানীয় প্রশাসন জানাচ্ছে, এসব হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
পাল্টা আঘাত হানছে ইউক্রেনও। রুশ সীমান্তবর্তী এলাকার দিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে জেলেনস্কি বাহিনী। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, এসব হামলায় লক্ষ্য করা হচ্ছে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো।
রণক্ষেত্রের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় ধরনের পটপরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। সাবেক সেনাপ্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভলোদিমির জেলেনস্কিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
জালুঝনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশের জনগণ তার ওপর আস্থা রাখছে এবং তিনি জনগণের এই বিশ্বাসের অমর্যাদা করতে সক্ষম হবেন না।
ইউক্রেন সংকটের সমাধানে মার্কিন নীতিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না সে ব্যাপারে রাশিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানানো হয়নি বলে দাবি করেছে মস্কো।
এক সংবাদ সম্মেলনে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেন, দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসন তাদের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন সম্পর্কে ক্রেমলিনকে অবহিত করেনি। তবে যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আন্তরিকতা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই উল্লেখ করে মস্কো বলছে, আলাস্কা সম্মেলনের বোঝাপড়া অনুযায়ী যেকোনো ন্যায্য ও টেকসই সমাধানের প্রস্তাব বিবেচনা করতে তারা এখনও প্রস্তুত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রুটিন ট্রেইনিংয়ের একটি সাধারণ দিন যে কারো জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে ওঠে, তা প্রমাণ করলেন নিউ ইয়র্ক সিটির ফায়ার ডিপার্টমেন্টের (এফডিএনওয়াই) এক শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটার। সহকর্মীদের সহযোগিতায় এক উদ্ধার অভিযানের মহড়াকেই তিনি সিনেমার মতো এক রোমান্টিক বিয়ের প্রস্তাবে পরিণত করেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের বরাতে সম্প্রতি এই চমৎকার খবরটি প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।
এই ঘটনার প্রকৃতি ছিল র্যান্ডালস আইল্যান্ড ফায়ার একাডেমিতে এফডিএনওয়াই-এর বার্ষিক ‘ফ্যামিলি ডে’ অনুষ্ঠানে। এই বিশেষ দিনে শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটাররা তাদের পরিবার ও বন্ধুদের আমন্ত্রিত করেন, যাতে তারা তাদের গ্র্যাজুয়েশনের আগে জীবন বাঁচানোর কঠিন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা সশরীরে দেখতে পারেন।
জেসন রালফ নামে ওই শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটার এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে তার প্রেমিকা ডেজিয়া মুরকে চমকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এখন ধরা যাক, ডেজিয়াকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তিনি শুধু একটি উদ্ধার অভিযানের মহড়ার জন্য সাধারণ একজন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডেজিয়াকে একটি ভবনের জানালার কার্নিশে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে তাকে একটি নকল আগুন থেকে ‘উদ্ধার’ করা যায়। ডেজিয়া যখন জানালার পাশে গ্রহণযোগে অপেক্ষা করছিলেন, তখন জেসন পুরো ফায়ারফাইটিং গিয়ার ও ভারী পোশাক পরে নিরাপত্তার জন্য ভবনের ছাদ থেকে দড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসেন।
প্রেমিকাকে নকল আগুন থেকে সুরক্ষিতভাবে ‘উদ্ধার’ করার পর জেসন আসল চমকটি দেন। উদ্ধার কাজ শেষ করে তিনি সবার সামনে এক হাঁটু গেঁড়ে বসেন এবং পকেট থেকে আংটি বের করেন। ঠিক সেই সময়ে পাশে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য ফায়ারফাইটাররা বড় বড় অক্ষরে লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন, যাতে লেখা ছিল— ‘Marry me’ (আমাকে বিয়ে করবে?)।
প্রেমিকের এমন অভিনব ও সাহসী প্রস্তাব দেখে ডেজিয়া আর ‘না’ করতে পারেননি। তিনি সানন্দে জেসনের প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলে সম্মতি জানান।
এই মিষ্টি মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ শেয়ার করেছে ফায়ার ডিপার্টমেন্ট। তারা ক্যাপশনে লেখে, ‘শিক্ষানবিশ ফায়ারফাইটার জেসন রালফ গত শনিবার ফ্যামিলি ডে-তে এক হাঁটু গেঁড়ে বসে ছিলেন। এর জন্য ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সবাই একযোগে কাজ করেছিল। তার বর্তমান বাগদত্তা ডেজিয়া মুর ‘হ্যাঁ’ বলেছেন! অভিনন্দন, প্রোপি (শিক্ষানবিশ)!’
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর ইন্টারনেটে শুভেচ্ছার বন্যা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘যখন ভালোবাসার ‘স্ফুলিঙ্গ’ উড়ে! অভিনন্দন আপনাদের!’ অন্য একজন লিখেছেন, ‘শিক্ষানবিশদের কি একটুও মজা করার অধিকার নেই? দারুণ মিষ্টি একটা মুহূর্ত!’
পেশাদার জীবনের কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণের মাঝেও ভালোবাসার এমন প্রকাশ ফায়ার একাডেমির ‘ফ্যামিলি ডে’-কে উপস্থিত সবার কাছে এক অবিস্মরণীয় দিন হিসেবে স্মরণীয় করে রেখেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. মিন্টু পাটোয়ারী (৪৫), মো. হৃদয় (৩০), মো. মতিন (৩৫), মো. মিন্টু মিয়া (৩৮), মো. ইসমাইল হোসেন তারেক (২৫), মো. ওয়াহেদ আলী (৩৩), মো. শাহজালাল (১৯), মো. সম্রাট আহম্মেদ (২৬), মো. কাশেম (২০), বাবলু (২৪), মো. আলামিন রতন (২৩), মো. সোহাগ (৩৫), মো. নাসির উদ্দিন (৩০), মো. শরিফ (৩৪), মো. আল আমিন (২২), মো. জয়নাল হোসেন (২৬), মো. শাওন সরকার (২২), প্লাবন দাস (২৩), ইউসুফ আলী (৪০), আরিফুল ইসলাম (৪০), হামীম (২২), বেলাল হোসেন (২৪), মো. মনিরুল ইসলাম (৩৬), বেলাল হোসাইন (৩১), মো. আলতাফ হোসেন (২৮), মো. সেলিম (২৮), মো. জলিল, মো. ইমরান ওরফে কালা ইমরান, মো. মোশারফ হোসেন (৩০), মো. মামুন (২৪), মো. মুশফিকুর রহমান সুমন (৩০), মো. রুবেল মিয়া (১৯), মো. নূর আলম (২০), মো. সৌরভ হোসেন (১৯), মো. নাদিম (২৭), মো. জসিম (৫৮), মো. জুয়েল (৫২), মো. ঝন্টু (২৭), মো. হোসেন (২৬), মো. ইরফান (৩০), মো. রিংকু খান (২৮), মো. রুবেল (২৯), মো. সাগর (২৩), মো. সোহেল (২১), মো. রিয়াজুল ইসলাম, মো. কাউছার সিকদার (২৮), মো. কাউছার (৫০), মো. নাঈম (১৯), মো. সুলতান (১৮), মো. শান্ত (১৮), মো. আরিফ (২০), মো. বাচ্চু মিয়া, মো. নাহিদ (২২), মো. সালমান (৩০), মো. শুক্কুর মিয়া (৩০), রাশেদুল (১৮), মো. নাঈম (১৯), মো. ফরতাজ (৪৪), মো. দীন ইসলাম (৩২), মোছা. নীলা আলম (৪৫) এবং মো. জাহাঙ্গীর মিয়া (৩৬)।
বুধবার (১ জুলাই) রাতে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানা থেকে ৯ জন, শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ১৬ জন, মোহাম্মদপুর থানা থেকে ১৬ জন, আদাবর থানা থেকে ১০ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা থেকে ৪ জন এবং হাতিরঝিল থানা থেকে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী আজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার অংশগ্রহণে সারাদেশে শুরু হলো। এবার সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড রাখার জন্য পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে।
পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সময় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা থেকে বিরত থাকা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পরীক্ষার প্রথম দিনে রাজধানীর উত্তরা রাজউক মডেল কলেজ কেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। একইসঙ্গে কেন্দ্রের বাইরে মাইকে পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা ও নিয়মকানুন জানানো হচ্ছিল।
নির্ধারিত নিয়ম মেনে পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবার সকাল সাড়ে ৮টাতেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বডি ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল। এ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের মধ্যে সতর্কতা ও ভীতি তৈরি হয়। একই কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রেও এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে পুলিশের ধারণা।
শিক্ষা উপদেষ্টা আ ন ম এহছানুল হক মিলনও এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্ব পালনকারী সবার মধ্যে আরও বেশি সতর্কতা তৈরি হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এসএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করার পর নকলের ঘটনা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে আসে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার সিসিটিভি নজরদারির পাশাপাশি বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা যুক্ত করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষা আরও সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করা যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯ হাজার ৪৩৯টি এবং মোট পরীক্ষাকেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে অংশ নেবে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সাগাইং অঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিজেদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী কোন্দলে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কয়েকজন। চার মাসের মধ্যে প্রায় ৭ লাখ নাগরিক মিয়ানমার ছেড়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডং উপজেলায় আবারো বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে জান্তা বাহিনী। যুদ্ধবিমান থেকে শহরের আশপাশের গ্রামগুলোতে সেনারা মুহুর্মুহু বোমা ফেলেছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১০টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান।
এদিকে, জান্তাবিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে রক্তাক্ত হয়েছে সাগাইং অঞ্চলের মোনিওয়া শহর। সমান্তরাল জাতীয় ঐক্য সরকার বা এনইউজির অনুগত পিপলস ডিফেন্স ফোর্স পিডিএফ এবং পিপলস সিকিউরিটি ফোর্স পিএসএফ-এর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। পিডিএফের আকস্মিক অভিযান শেষে স্থানীয় পিএসএফ ক্যাম্পগুলোতে এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।
এমন চতুর্মুখী সহিংসতা ও জান্তা সরকারের বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ আইন থেকে বাঁচতে মিয়ানমারের নাগরিকরা দলে দলে দেশ ছাড়ছেন। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই প্রায় ৬ লাখ ৮৭ হাজার মিয়ানমার নাগরিক প্রতিবেশী থাইল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন।
মূলত, জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্তি এড়ানো, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণেই এই ব্যাপক দেশত্যাগ ঘটে। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত সংঘাতে এক লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এশিয়ার অন্যতম প্রাণঘাতী সংঘাত হতে পারে, যেখানে প্রকৃত প্রাণহানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, এই সহিংসতার ফলে ৩৭ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং প্রতি পাঁচজনের একজন তীব্র খাদ্যসংকটে ভুগছেন, যা প্রতিবেশী দেশগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ