১১:৩৮ পি.এম
নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি পুরনো পুকুরে জলপরী দেখা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ার ফলে গত পাঁচ দিন ধরে সেখানে মানুষের ভিড় বেড়ে চলেছে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু মানুষ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের কল্পকাহিনীও তৈরি করছেন।
গুজবটি মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের আলালপুর গ্রামের কবির আহমেদ ভূইয়ার (৪৫) প্রায় ২০০ বছরের পুরনো পারিবারিক পুকুরকে কেন্দ্র করে ছড়িয়েছে।
গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর পুকুরটিকে ঘিরে বিভিন্ন আয়োজন শুরু হয়েছে। কেউ পুকুরপাড়ে ভোগ দিচ্ছেন, কেউ পূজা করছেন। আবার কেউ কেউ পুকুরের পানি শরীরে মাখছেন বা সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই পুকুরে কিছু পাওয়ার আশায় দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অবস্থান করছেন। এতে প্রতিদিনই সেখানে মানুষের ভিড় বাড়ছে।
আরও পড়ুন: ব্যবসায়ীদের ওপর ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে চার গুণ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ
পুকুরের মালিক কবির আহমেদ ভূইয়া জানান, তাদের পারিবারিক পুকুরটিতে সিলভার কার্পসহ স্থানীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়। কয়েক দিন আগে পুকুরে সিলভার কার্প মাছ একসঙ্গে সাঁতার কাটার দৃশ্য দেখে কিছু মানুষ সেটিকে জলপরী হিসেবে প্রচার করতে শুরু করেন। এরপর থেকে গত পাঁচ দিন ধরে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পুকুরপাড়ে ভিড় করছেন।
তিনি বলেন, কিছু মানুষ ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে নানা কাল্পনিক গল্প তৈরি করে প্রচার করছেন। এতে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন। মানুষের অযাচিত ভিড়ের কারণে পুকুরের মাছের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে।
কবির আহমেদ ভূইয়া আরও জানান, প্রশাসনের সহায়তায় পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে মাছ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ ধরনের গুজব বন্ধ করে পুকুরপাড়ে মানুষের অযাচিত জমায়েত বন্ধে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান তিনি।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুকুরে জাল ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। এতে মাছ ছাড়া অন্য কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: আলোকসজ্জা, নান্দনিক সাজসজ্জা আর ব্যতিক্রমী গণেশ মূর্তি-বাকেরগঞ্জে দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে দেবালয় পূজামণ্ডপ
তিনি বলেন, কিছু ভুঁইফোড় মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে জলপরী পাওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে যাচাই না করে নানা ধরনের কথা প্রচার করছেন এবং পুকুরটির সামনে ভিড় করছেন।
ইউএনও আরো বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া গুজব না ছড়ানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে গুজব ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন