১০:৫০ পি.এম
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম মন্তব্য করেছেন, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শাসনের ফলে লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বারবার বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। এ বিষয়টি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় পরিবর্তনের আশা ছিল। বৈষম্য, অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল। তবে সেই প্রত্যাশা এখনো পূর্ণ হয়নি।
রোববার (৪ অক্টোবর) কক্সবাজার ঈদগাহ ময়দানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি
পীর চরমোনাই আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করে একটি স্বাধীন দেশ ও লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর যারা দেশ শাসন করেছেন, তাদের আমলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা আশা করেছিলাম, এবার একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এখানে বৈষম্য, অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থাকবে না। মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমরা এখনো সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পাইনি।’
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘আমরা যখন একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তখন জামায়াতে ইসলামীর একটি ভূমিকা আমাদের দুঃখ দিয়েছে। তারা আমাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানিতে তা সম্ভব হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করতে চাই না। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি নাগরিক মানবিক মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে।’
আরও পড়ুন: রাজউকের ১২৬৯ ভবনের মালিককে চূড়ান্ত নোটিশ, নির্দেশনা না মানলে আইনানুগ ব্যবস্থা
পীর চরমোনাই বলেন, ‘আমরা তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে বাংলাদেশ গড়তে চাই—মানবিক মর্যাদা, সহমর্মিতা ও ইনসাফ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইনসাফপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
কক্সবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ জেলায় অনেক বড় বড় আলেম-ওলামা রয়েছেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি অসংখ্য মানুষের সমর্থন রয়েছে। তাদের অংশগ্রহণ ও সমর্থনের কারণেই কক্সবাজারের এ সমাবেশ ব্যাপক জনসমাগমে পরিণত হয়েছে।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গেজেট প্রকাশের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন