আঃ হামিদ মধুপুর( টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
০৪:২০ পি.এম
টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের গাছাবাড়ি এলাকার হাওদা বিলে গোসল করতে গিয়ে ব্রীজ থেকে লাফ দেওয়ার পর অন্তর ম্রং (১৮) নামে এক আদিবাসী যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে, যখন তিনি পানিতে লাফ দেন। এর পর তিনি আর পানির ওপর ভেসে ওঠেননি।
রোববার সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ ব্রিজের নিচ থেকে উদ্ধার করে। নিখোঁজ অন্তর ম্রং গাছাবাড়ি গ্রামের সুকান্ত চিরানের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, খবর পেয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন যোগ দেন।
এ ঘটনার পর, পরের দিন সকালে আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ হওয়া যুবকের লাশ উদ্ধার করে। মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ,কে এম ফজলুল হক জানান, যুবকের মরদেহ ডুবুরি দলের সদস্যদের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরে এক অত্যন্ত উন্নত মানের মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, ইরাক সীমান্তবর্তী ওই এলাকায় ড্রোনটি শনাক্ত করার পর সেটিকে বাধা দিয়ে ধ্বংস করা হয়।
মার্কিন বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এমকিউ-৯ একটি দূরনিয়ন্ত্রিত বড় আকারের ড্রোন, যা মূলত গোয়েন্দা নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ এবং নির্ভুল বিমান হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, তারা টানা অষ্টম রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন ঘোষণা দেয় যে, জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং আর্থিক সংকট নিয়ে এগিয়ে চলেছেন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌরসভার উত্তর মাগুরা এলাকার দুই বোন সুপ্রিয়া সিনহা এবং প্রিয়ন্তী সিনহা। প্রতিকূলতার মধ্যেও ছোট বোন প্রিয়ন্তী সিনহা বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করার স্বপ্নকে লালন করছেন।
রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) জানা যায়, সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ও সুশীলা রাণী সিনহা দম্পতির দুই মেয়েই শারীরিক প্রতিবন্ধী। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বড় বোন সুপ্রিয়া সিনহা নিজের পড়াশোনা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে এগিয়ে নিতে পারেননি। তবে, তিনি প্রিয়ন্তীকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার জন্য উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা দিতে কখনোই ক্লান্ত হননি।
প্রিয়ন্তী সিনহা বর্তমানে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে অনার্স সম্পন্ন করেছেন এবং বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যদিও, আর্থিক সংকটের কারণে তার এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তা ও বিপত্তির মুখে পড়েছে।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে, টিম জার্নালিস্টের উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মাওলানা শাহ সৈয়দ রাশিদ আলী ফাউন্ডেশন এবং মরহুম ডিআইজি জালাল আহমদের পরিবার। তাদের এই মানবিক সহায়তা প্রিয়ন্তীর স্বপ্নপূরণের পথে নতুন আশার প্রদীপ প্রজ্বালিত করেছে।
জানা যায়, তাদের বাবা একজন সাবেক ভূমি অফিস সহকারী। বর্তমানে, চার সদস্যের এই পরিবারটি চরম আর্থিক সংকট পাড়ি দিচ্ছে। নানা অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই বোন শিক্ষা ও স্বপ্নের পথ থেকে কখনও পিছু হটেনি।
প্রিয়ন্তীর একমাত্র লক্ষ্য বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া। তার এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য পরিবারের সদস্যরা সমাজের বিত্তবান, দানশীল ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই মেধা, ইচ্ছাশক্তি এবং স্বপ্নকে থামিয়ে রাখতে পারে না। সুপ্রিয়া ও প্রিয়ন্তী সিনহার সংগ্রামী জীবন সেই সত্যেরই একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ফেসবুক আইডি এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষদের নিয়ে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘ডিপজল আমেরিকা’ নামের একটি ফেসবুক ফেক আইডি। এই ধরনের অপপ্রচার স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উদ্বেগ এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সর্বশেষ এই চক্রের অপপ্রচারের শিকার হয়েছে মো. ফারুক হোসেন, যিনি নাচোল সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। তিনি গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে নাচোল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যার নাম্বার হল ৭১৬ এবং ট্রাকিং নাম্বার BINYIF।
জিডি সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসের ১৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কালইত এলাকায় ফারুক হোসেন তার ব্যক্তিগত মোবাইলের মাধ্যমে ফেসবুকে প্রবেশ করে ‘Dipjol America’ নামের একটি আইডিতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের দ্বারা ছড়ানো বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেখতে পান। সেখানে তার নিজের নাম ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের নামে অপপ্রচার, হুমকি এবং অশ্লীল গালাগাল করা হয়েছে। অন্তত বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও উক্ত আইডি পরিচালনাকারী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে না পারায়, ভবিষ্যতে তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে মামলার প্রস্তুতি হিসেবে আপাতত থানায় এই সাধারণ ডায়েরিটি করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, নাচোল ও আশপাশের অঞ্চলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে মানহানিকর পোস্ট, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভয়ভীতি ছড়াচ্ছে। এর পাশাপাশি উড়ো চিঠি ও মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও এই চক্রের বিরুদ্ধে রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কণ্ঠস্বর নকল (ভয়েস ক্লোনিং) করে প্রতারণা চালানোর বিষয়টিও জানা গেছে।
নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকমল চন্দ্র দেবনাথ এই বিষয়ে নিশ্চিত করেন যে, অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও কিছু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার এখন নতুন ধরনের সামাজিক সন্ত্রাসে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া ভয়েস ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ বিষয়ে জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক আব্দুস সাত্তার মন্তব্য করেন, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে কাউকে অপমান, ভয়ভীতি বা চাঁদাবাজির শিকার করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রযুক্তিকে মানবকল্যাণে ব্যবহার করতে হবে, অপরাধে নয়।”
সিনিয়র সাংবাদিক মতিউর রহমান বলেন, “ভুয়া আইডি খুলে অপপ্রচার এবং ব্ল্যাকমেইল কোনো সাংবাদিকতা নয়। এটি স্পষ্ট সাইবার অপরাধ। দ্রুত পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।”
প্রবীণ সাংবাদিক কে. এম. জিলানী মন্তব্য করেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ছড়ানোর প্রবণতা সমাজের জন্য বিপজ্জনক। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, এ ধরনের অপকর্মের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেট জড়িত। এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা অতি জরুরী হয়ে পড়েছে।
আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যেকোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া বিশ্বাস না করা এবং সন্দেহজনক আইডি বা কনটেন্ট দেখলে দ্রুত রিপোর্ট করা এখন নাগরিক দায়িত্ব। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলতি বছরে টানা দুই বার বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ ইউএনও হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক। মে মাসের পর মাসের টানা শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছেন জুন মাসেও তার এ কার্যক্রমে।
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর কাছ থেকে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করছেন ইউএনও আবুজর মো. ইজাজুল হক। ছবিটি প্রকাশিত হয়েছে সময় সংবাদে।
বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলার ৪২টি উপজেলার মধ্যে গলাচিপা উপজেলা প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এই কার্যক্রম শূন্য থেকে এক বছর বয়সী শিশুদের জন্য পরিচালিত হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জুন মাসে গলাচিপা উপজেলার জন্ম নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২৮টি, তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জিত হয়েছে ৫১৯টি। মৃত্যু নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৬টি, যার বাস্তবায়ন হয়েছে ২৬৯টি। শতাংশের হিসেবে এখানে জন্ম নিবন্ধনের কাজ হয়েছে ১২১ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের কাজ হয়েছে ২৩২ শতাংশ। মোট জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে গড়ে কাজ হয়েছে ১৭৭ শতাংশ, যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে জুন মাসে পিরোজপুর জেলায় কাউখালী উপজেলা প্রথম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে গড়ে কাজ হয়েছে ১১৩.৫ শতাংশ। বরগুনায় বামনা উপজেলা প্রথম হয়েছে, যেখানেও কাজ হয়েছে ১০১ শতাংশ। ভোলার লালমোহন উপজেলার গড় অর্জন ৭৯ শতাংশ। ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার গড় কাজ ১০২ শতাংশ এবং বরিশাল জেলায় ৯৩.৫ শতাংশ কাজ করে মুলাদী উপজেলা প্রথম হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক সময় সংবাদকে বলেন, ‘এটা সত্যিকারের আনন্দের বিষয়। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গ্রাম পুলিশের সদস্যদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। মান্যবর জেলা প্রশাসক স্যার ও ডিডিএলজি স্যারের যথাযথ নির্দেশনায় এটি সম্ভব হয়েছে, সেজন্য সকলের প্রতি আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক গত অর্থবছরে (২০২৪-২০২৫) সারাদেশের ৫০৭ উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে বর্ষসেরা ইউএনও নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ