ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে কাজ করবে


পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস যৌথভাবে কাজ করবে

ঢাকা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে।

আজ সচিবালয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী মোঃ শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সাথে সাক্ষাৎকালে, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এসময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতা বিনিময়, শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ এবং গবেষণার ক্ষেত্রে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী উদ্যোগের কথা বললেন

তিনি উল্লেখ করেন, "নেদারল্যান্ডস বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী। নেদারল্যান্ডসের সাথে বাংলাদেশের অত্যন্ত সুদৃঢ় সম্পর্ক বিরাজমান।"

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহযোগিতার জন্য নেদারল্যান্ডসের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিলেন।

নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস ব-দ্বীপ। ভূ-প্রকৃতিভাবে উভয়ের মধ্যে মিল রয়েছে।" তিনি জানান, বাংলাদেশে টেকসই পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীর তীর সংরক্ষণ এবং ভাঙন প্রতিরোধে ডাচ সরকার কাজ করতে আগ্রহী।

এসময় তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নেদারল্যান্ডসের অবদানের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে তা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: বাঁশপাতার চায়ের উদ্ভাবনী ধারণায় দেশসেরা বেরোবির মাহিদ-আজিজ, পাচ্ছেন লাখ টাকার ফান্ড

বৈঠকে পানিসম্পদ সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন এবং অতিরিক্ত সচিব মহা. এনামূল হক উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ পি.এম


দুর্গাপূজায় নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু

ঢাকা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানিয়েছেন, দুর্গাপূজায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। তিনি উল্লেখ করেছেন, যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তবে তদন্তের পর দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ রোববার, ঢাকা জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা জেলা ও মহানগর এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ঢাকা জেলার আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দীর্ঘকাল ধরে একটি ঐতিহ্য। দেশের মানুষ পরস্পরের ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে আসছে। এই সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উক্তি ‘এ দেশে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু হিসেবে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই-আমরা সবাই বাংলাদেশি’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশপ্রেম ধারণ করে সবাইকে একসঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় কাজ করতে হবে। এই লক্ষ্যে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার এবং মহানগর এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। পূজা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও মহড়া জোরদার করতে হবে। ভোররাতে নিরাপত্তা ও পাহারা আরও জোরদারের ওপর তিনি গুরুত্ব প্রদান করেন।

পূজা উদযাপন কমিটিগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিজ নিজ মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে। প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, পূজামণ্ডপে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। নারী ও পুরুষের চলাচল ব্যবস্থাপনায় পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ এবং নিরাপত্তায় আনসার সদস্যদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা থাকবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন শেষ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা কমিটিকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে মাদক সেবনসহ কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১ এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুবির দুই প্রফেসর পাচ্ছেন জাতীয় ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ পি.এম


খুবির দুই প্রফেসর পাচ্ছেন জাতীয় ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’

খুলনা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : বিশ্ব শিক্ষক দিবসের উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ অর্জন করতে যাচ্ছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কৃতি শিক্ষক।

এঁরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মুরছালিন বিল্লাহ এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. নাসিফ আহসান।

শিক্ষাক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং শিক্ষকতায় উৎকর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ তারা এই সম্মাননার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম এই মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় সম্মাননা অর্জনের জন্য প্রফেসর ড. মো. মুরছালিন বিল্লাহ ও প্রফেসর ড. মো. নাসিফ আহসানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি মন্তব্য করেন, "তাদের এ অর্জন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষা ও গবেষণায় আরও উৎকর্ষ অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে।

এছাড়া, উপাচার্য গুণী শিক্ষকদের অবদানকে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি ও সম্মান জানানোর জন্য সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমানও তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

আগামীকাল ৫ অক্টোবর (সোমবার) বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের ক্রেস্ট, চেক ও সম্মাননা সনদ সম্মাননা হিসেবে প্রদান করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য দক্ষতা নির্ভর শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরলেন ড. সায়মা ফেরদৌস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ পি.এম


বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য দক্ষতা নির্ভর শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরলেন ড. সায়মা ফেরদৌস

কুমিল্লা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে একাডেমিক সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়। বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা নির্ভর শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি।

আজ রোববার কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইন্সটিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) কর্তৃক আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার শেষ দিনে ‘কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, পেশাগত স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, যখন আমরা কারিকুলাম ডেভেলপ করি, তখন শুধুমাত্র শিক্ষকদের উপর নির্ভর করি। এই প্রক্রিয়ায় একাডেমির সাথে ব্যবহারিক সেক্টরের মধ্যে মিসমেচ বিদ্যমান। ইন্ডাস্ট্রির সাপ্লাই এবং ডিমান্ডের মধ্যে গ্যাপটি রয়ে যাচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে আমাদের কারিকুলামকেও প্রযুক্তি ভিত্তিক করতে হবে। গতানুগতিক ধারায় চিন্তা করলে চলবে না।

ড. সায়মা বলেন, ছাত্রছাত্রীদের ইন্ডাস্ট্রি সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। তিন দিন ক্লাস করার পর বাকি তিন দিন ইন্ডাস্ট্রিতে হাতে কলমে শিখতে হবে। কিন্তু দেখা যায়, তারা শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষা নিয়ে বের হয়, ফলে ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশনের অভাবে চাকরি ক্ষেত্রে গিয়ে আবার দীর্ঘ সময় ধরে শিখতে হয়। এই কারণে তারা বৈষম্যের শিকার হয়। বলা হয়, "অভিজ্ঞতা নেই।"

অনেক বছর কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। তবে যদি তারা ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশনের সুযোগ পেতো, তাহলে তাদের অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াকালীন সময়েই অর্জিত হতো।

কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর জন্য ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্কেজ থাকা অপরিহার্য। অন্যথায়, তারা শিক্ষার অর্ধেকই শিখেছে। এই সুযোগটি রাষ্ট্রকে তৈরি করে দিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিগুলোকেও বাধ্যতামূলকভাবে এডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি বা অফিসার নিয়োগ দিতে হবে।

বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বিদেশে লো স্ক্রিল শ্রমিক পাঠাচ্ছি। এর ফলে আমাদের শ্রমিক ভাইরা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারলে, বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমিক ভাইয়েরা মূল্যায়িত হবেন এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে।

তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার শেষ দিনে ‘কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, পেশাগত স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে প্যানেল স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিএসসি সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, সাবেক সচিব ও ডেসকো চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান ভুঁইয়া, ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার শাখাওয়াত আলী।

সঞ্চালনা করেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।

প্যানেলিস্টদের বক্তব্যে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার শাখাওয়াত আলী বলেন, আজকের আধুনিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ব্যাকডেটেড হয়ে যাবে। আজ থেকে ২০ বছর আগের প্রযুক্তি এখন অপ্রাসঙ্গিক। কারণ প্রযুক্তি দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। তিন বছর আগের কারিকুলাম দিয়ে প্রযুক্তির ইতিহাস শেখানো সম্ভব, কিন্তু প্রযুক্তি শিক্ষানো সম্ভব নয়। একাডেমিক গুরুত্ব ছাড়া প্রযুক্তি ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধিও জরুরি।

অপর প্যানেলিস্ট সানোয়ার জাহান ভুঁইয়া বলেন, আমাদের নিয়মিত যে চাহিদা তা হলো প্রশিক্ষণ চাহিদা নিরূপণ করা। এটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করতে হবে। কারণ আজকের পদ্ধতি আগামীতে চলবে না।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, সবার আগে আমাদের শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি। শিক্ষার জন্য একটি সমন্বিত সিস্টেম প্রয়োজন। টেকনিক্যাল জেনারেল এডুকেশনের সমন্বয়ে একটি শিক্ষা নীতি প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পলিটেকনিক্যালে দেখা যায়, ডিপ্লোমা কোর্স ৩ বছরে শুধু সার্টিফিকেট দেয়। দক্ষতা কতটুকু অর্জন করতে পারলো, সেটি বিবেচনা করা হয় না। টেকনিক্যাল এডুকেশনে আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ জরুরি। তাহলে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক জ্ঞানের প্র্যাকটিক্যাল প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে।

উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই উদ্ভাবনী মেলা গত শুক্রবার কুমিল্লা টাউনহল মাঠে শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াত আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: পীর সাহেব চরমোনাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৫০ পি.এম


জামায়াত আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম মন্তব্য করেছেন, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির শাসনের ফলে লাখ লাখ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ দুর্নীতিতে বারবার বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে। এ বিষয়টি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় পরিবর্তনের আশা ছিল। বৈষম্য, অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত একটি সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ছিল। তবে সেই প্রত্যাশা এখনো পূর্ণ হয়নি।

রোববার (৪ অক্টোবর) কক্সবাজার ঈদগাহ ময়দানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখা আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পীর চরমোনাই আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করে একটি স্বাধীন দেশ ও লাল-সবুজের পতাকা অর্জন করেছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর যারা দেশ শাসন করেছেন, তাদের আমলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরে আমরা আশা করেছিলাম, এবার একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। এখানে বৈষম্য, অন্যায়, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থাকবে না। মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমরা এখনো সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ পাইনি।’

ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘আমরা যখন একটি বৈষম্যহীন ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, তখন জামায়াতে ইসলামীর একটি ভূমিকা আমাদের দুঃখ দিয়েছে। তারা আমাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানিতে তা সম্ভব হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করতে চাই না। আমরা চাই এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি নাগরিক মানবিক মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে।’

পীর চরমোনাই বলেন, ‘আমরা তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে বাংলাদেশ গড়তে চাই—মানবিক মর্যাদা, সহমর্মিতা ও ইনসাফ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইনসাফপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

কক্সবাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ জেলায় অনেক বড় বড় আলেম-ওলামা রয়েছেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতি অসংখ্য মানুষের সমর্থন রয়েছে। তাদের অংশগ্রহণ ও সমর্থনের কারণেই কক্সবাজারের এ সমাবেশ ব্যাপক জনসমাগমে পরিণত হয়েছে।

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%