১০:৪৯ পি.এম
কুমিল্লা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস মন্তব্য করেন যে, বর্তমানে একাডেমিক সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা যথেষ্ট নয়। বেকারত্ব দূরীকরণের জন্য একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা নির্ভর শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি।
আজ রোববার কুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইন্সটিটিউশন ফোরাম (টিভিইটি) কর্তৃক আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার শেষ দিনে ‘কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, পেশাগত স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, যখন আমরা কারিকুলাম ডেভেলপ করি, তখন শুধুমাত্র শিক্ষকদের উপর নির্ভর করি। এই প্রক্রিয়ায় একাডেমির সাথে ব্যবহারিক সেক্টরের মধ্যে মিসমেচ বিদ্যমান। ইন্ডাস্ট্রির সাপ্লাই এবং ডিমান্ডের মধ্যে গ্যাপটি রয়ে যাচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের যুগে আমাদের কারিকুলামকেও প্রযুক্তি ভিত্তিক করতে হবে। গতানুগতিক ধারায় চিন্তা করলে চলবে না।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ
ড. সায়মা বলেন, ছাত্রছাত্রীদের ইন্ডাস্ট্রি সম্পৃক্ততা অত্যন্ত জরুরি। তিন দিন ক্লাস করার পর বাকি তিন দিন ইন্ডাস্ট্রিতে হাতে কলমে শিখতে হবে। কিন্তু দেখা যায়, তারা শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষা নিয়ে বের হয়, ফলে ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশনের অভাবে চাকরি ক্ষেত্রে গিয়ে আবার দীর্ঘ সময় ধরে শিখতে হয়। এই কারণে তারা বৈষম্যের শিকার হয়। বলা হয়, "অভিজ্ঞতা নেই।"
অনেক বছর কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। তবে যদি তারা ইন্ডাস্ট্রি কোলাবোরেশনের সুযোগ পেতো, তাহলে তাদের অভিজ্ঞতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াকালীন সময়েই অর্জিত হতো।
কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর জন্য ইন্ডাস্ট্রি লিঙ্কেজ থাকা অপরিহার্য। অন্যথায়, তারা শিক্ষার অর্ধেকই শিখেছে। এই সুযোগটি রাষ্ট্রকে তৈরি করে দিতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিগুলোকেও বাধ্যতামূলকভাবে এডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি বা অফিসার নিয়োগ দিতে হবে।
বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বিদেশে লো স্ক্রিল শ্রমিক পাঠাচ্ছি। এর ফলে আমাদের শ্রমিক ভাইরা অবমূল্যায়িত হচ্ছেন। দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারলে, বিদেশে বাংলাদেশের শ্রমিক ভাইয়েরা মূল্যায়িত হবেন এবং বৈদেশিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির
তিন দিনব্যাপী কারিগরি শিক্ষা ও উদ্ভাবনী মেলার শেষ দিনে ‘কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, পেশাগত স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে প্যানেল স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিএসসি সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, সাবেক সচিব ও ডেসকো চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান ভুঁইয়া, ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার শাখাওয়াত আলী।
সঞ্চালনা করেন সিসিএন শিক্ষা পরিবারের ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী।
প্যানেলিস্টদের বক্তব্যে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার শাখাওয়াত আলী বলেন, আজকের আধুনিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ব্যাকডেটেড হয়ে যাবে। আজ থেকে ২০ বছর আগের প্রযুক্তি এখন অপ্রাসঙ্গিক। কারণ প্রযুক্তি দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে। তিন বছর আগের কারিকুলাম দিয়ে প্রযুক্তির ইতিহাস শেখানো সম্ভব, কিন্তু প্রযুক্তি শিক্ষানো সম্ভব নয়। একাডেমিক গুরুত্ব ছাড়া প্রযুক্তি ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধিও জরুরি।
অপর প্যানেলিস্ট সানোয়ার জাহান ভুঁইয়া বলেন, আমাদের নিয়মিত যে চাহিদা তা হলো প্রশিক্ষণ চাহিদা নিরূপণ করা। এটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করতে হবে। কারণ আজকের পদ্ধতি আগামীতে চলবে না।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, সবার আগে আমাদের শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের মানসিকতা পরিবর্তন জরুরি। শিক্ষার জন্য একটি সমন্বিত সিস্টেম প্রয়োজন। টেকনিক্যাল জেনারেল এডুকেশনের সমন্বয়ে একটি শিক্ষা নীতি প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পলিটেকনিক্যালে দেখা যায়, ডিপ্লোমা কোর্স ৩ বছরে শুধু সার্টিফিকেট দেয়। দক্ষতা কতটুকু অর্জন করতে পারলো, সেটি বিবেচনা করা হয় না। টেকনিক্যাল এডুকেশনে আমাদের মনোনিবেশ করতে হবে। আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ জরুরি। তাহলে শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক জ্ঞানের প্র্যাকটিক্যাল প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই উদ্ভাবনী মেলা গত শুক্রবার কুমিল্লা টাউনহল মাঠে শুরু হয়।
আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন