ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কতো বছরের শিশু দিনে কয়টি লিচু খেতে পারবে?


কতো বছরের শিশু দিনে কয়টি লিচু খেতে পারবে?

শিশুদের মধ্যে লিচু অত্যন্ত প্রিয় একটি ফল, এটি রসালো ও সুস্বাদু। তবে বিশেষ করে শিশুদের জন্য লিচু খাওয়ার পরিমাণ কতো হওয়া উচিত তা খেয়াল করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ অতিরিক্ত লিচু খেলে কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাহলে, শিশুদের দিনে কয়টি লিচু খাওয়া উচিত?

পুষ্টিবিদদের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারনত সুস্থ ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া শিশুদের জন্য দিনে ৫ থেকে ১০টি মাঝারি আকারের লিচু খাওয়া নিরাপদ। তবে শিশুর বয়স, ওজন এবং শারীরিক অবস্থার ওপর এই পরিমাণ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।

আরও পড়ুন: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার: রিজভী

২ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশু দিনে ৩-৫টি লিচু খেতে পারে। ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশু ৫-১০টি লিচু খেতে সক্ষম। আর ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশুর জন্য ৮-১২টি লিচু খাওয়া নিরাপদ।

কেন অতিরিক্ত লিচু খাওয়া ঠিক হবে না?

লিচুতে প্রাকৃতিক চিনি বর্তমান থাকে। তাই খালি পেটে অথবা অতিরিক্ত পরিমাণে লিচু খেলে কিছু শিশুর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি থাকে।

এছাড়া অতিরিক্ত লিচু খেলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে:

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

১. পেটব্যথা বা হজমের সমস্যা হতে পারে।

২. ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।

৩. অ্যালার্জির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

৪. রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

লিচুর পুষ্টিগুণ দেখে নিন:

লিচুতে রয়েছে— ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, খাদ্যআঁশ এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান।

এসব উপাদান শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

লিচু খাওয়ানোর সময় মনোযোগ দেয়ার বিষয়গুলো:

আরও পড়ুন: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ

১. শিশুকে কখনো খালি পেটে লিচু খাওয়াবেন না।

২. ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ান।

৩. পচা বা অতিরিক্ত পাকা লিচু থেকে দূরে থাকুন।

৪. অন্যান্য ফলের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে লিচু খাওয়ান।

আরও পড়ুন: আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন করেছে সায়েল মিয়া

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে থাকা জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৫ এম


চট্টগ্রামে থাকা জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নিষেধাজ্ঞা

ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশের জাহাজ ভাঙা (শিপব্রেকিং) শিল্প এক নজিরবিহীন সংকটে পড়েছে। ভাঙার জন্য আমদানি করা ‘মেমেই’ নামের একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর ফলে, এই জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে (আউটার অ্যাঙ্করেজ) আটকে আছে এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এটিকে সৈকতে বা ইয়ার্ডে ভেড়াতে পারছে না।

উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের এই জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘এসএন করপোরেশন।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসবিআরএ এর এক সদস্য জানান, জাহাজটি আর ভাঙ্গার জন্য ইয়ার্ডে বিচিং হবে না, এটি এখন ফেরত পাঠানো হবে। জাহাজটি ক্রয় করার পর আমদানিকারক জানতে পারেন এই জাহাজটিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আগে যদি খবর পাওয়া যেত, তাহলে এসএন করপোরেশন জাহাজটি ক্রয় করতো না। বিষয়টি জানার পর সাথে সাথে জাহাজটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের কালো তালিকাভুক্ত জাহাজ ক্রয় করেন এসএন করপোরেশন। চট্টগ্রাম উপকূলে ৬১ কোটি টাকা মূল্যের “মেকেই” নামের একটি জাহাজ ভাঙার জন্য আনা হয়েছে, যা একটি বিশাল কেমিক্যাল ট্যাংকার। জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের অভিযোগে ‘মেমেই’ নামের জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে থাকা জাহাজটি এখন আর ভাঙার ইয়ার্ডে নেওয়া যাচ্ছে না। এই জটিল পরিস্থিতিতে জাহাজটিকে এর মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে এর আমদানিকারক শওকত আলী চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন। জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রামের আনোয়ারার পারকি থেকে অল্প দূরে নোঙর করে আছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পাওয়া জাহাজ ‘মেমেই’।

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংক্রান্ত তথ্য ও জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার রাসায়নিক ও তেলবাহী ট্যাংকার ‘মেমেই’ (আইএমও: ৯১৩৩০৮২) গত ২২ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। ১৯৯৭ সালে নির্মিত পালাউ-পতাকাবাহী এই জাহাজটি मूलত সমুদ্রপথে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হত।

গত ২৮ মে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরান থেকে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনে জড়িত ছিল। শুধু এই জাহাজই নয়, এর নিবন্ধিত মালিক হংকংভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেডকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে।

জাহাজ রিসাইক্লিং বাজারের সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ‘মেমেই’ জাহাজটির আনুমানিক স্ক্র্যাপ মূল্য প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬০ কোটি ৮৮ লাখ টাকার সমান। নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার ঠিক আগে জাহাজটি ভাঙার জন্য বিক্রি করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার ফলে এখন জাহাজটি ইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে ভাঙা সম্ভব হচ্ছে না। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট আইনি ও বাণিজ্যিক জটিলতায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জাহাজটি ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধ গুঁড়িয়ে দিয়েছে আমিরাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৩ এম


ইরান যুদ্ধ গুঁড়িয়ে দিয়েছে আমিরাতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা

উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য ছোট দেশের পরিণতি থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে সংযুক্ত আরব আমিরাত দুই দশক ধরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এ বিষয়ে, দেশটি বিভিন্ন ধরনের নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি বন্দর নির্মাণ, প্রভাব অর্জন, প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে মিলিশিয়া বাহিনী গড়ে তোলা, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার মতো কৌশল অবলম্বন করেছে। এইসব পদক্ষেপের মাধ্যমে আমিরাত দুই দশকে নিজেদের একটি চটপটে, ধনী এবং অত্যন্ত দরকারি দেশ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে এসেছে এবং ভৌগোলিকভাবে কোণঠাসা হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে চেয়েছে। এইভাবে, আমিরাত নিজেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের ‘লিটল স্পার্টা’ বা ‘ছোট অজেয় সামরিক শক্তি’ হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করেছে। ‘লিটল স্পার্টা’ শব্দটি ডাকনামের চেয়ে একটি মতবাদের মতো শোনায়। একটি ছোট ফেডারেশন হিসেবে, আমিরাতের রয়েছে মধ্যম শক্তির উচ্চাকাঙ্ক্ষা, তুলনামূলক সামরিক উৎকর্ষ এবং নিজস্ব শর্তে কৌশলগত পরিবেশকে পরিবর্তন করার যথেষ্ট নেটওয়ার্কগত প্রভাব। কিন্তু ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত তিন মাসে আবুধাবির উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে যে দুরত্ব, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আমিরাতসহ উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য অবকাঠামোতে ইরানের হামলা আবুধাবির মধ্যম শক্তির দেশ হিসেবে নিজেকে দেখার ধারণার সঙ্গে কাঠামোগত দুর্বলতার তফাত স্পষ্ট করেছে। আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সম্প্রতি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে প্রতিবেশী ও অংশীদারদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই পোস্টে, তিনি লিখেছেন, ‘বন্ধুরা অবিচল মিত্র ও সমর্থক না হয়ে মধ্যস্থতাকারীতে পরিণত হয়েছে।’ এই মন্তব্য ইরানের বিরুদ্ধে আরো আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করতে প্রতিবেশী ও অংশীদারদের ঐক্যবদ্ধতায় আবুধাবির হতাশাই তুলে ধরেছে। হাসবে গত মাসে একটি প্রবন্ধে আমিরাতের ভাষ্যকার তারেক আল-ওতাইবা ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত করতে আরব দেশগুলোর অক্ষমতার জন্য নিন্দা করেন। এর এক মাস আগে, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত আমিরাতের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ আল-ওতাইবা একটি মতামত কলামে হরমুজ প্রণালি আবার খোলার জন্য একটি ‘আন্তর্জাতিক উদ্যোগে’ যোগ দেওয়ার জন্য আবুধাবির প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছিলেন এবং আমিরাত পরিচালনাগত ব্যয় ভাগ করার জন্য প্রস্তুত বলে উল্লেখ করেন। এই সংকেতগুলোতে যে কঠিন সত্যটির আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে, তা হলো—ইরানের প্রবল সামরিক শক্তির মুখে আমিরাতের অর্জিত প্রভাবের উৎসগুলো বাস্তবে কার্যক্ষম নয়। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের অধীনে, আমিরাত সামরিক শক্তি অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপরিচালনার বিভিন্ন দিক নিখুঁত করেছে। ইয়েমেন থেকে সুদান পর্যন্ত, আমিরাত তার পক্ষের সশস্ত্র শক্তি বা প্রক্সিকে সমরাস্ত্র ও রসদ সরবরাহের করিডোর এবং কেন্দ্র তৈরি করেছে। পাশাপাশি, সার্বভৌম সম্পদ তহবিল গড়ে তোলা, তথ্য ও গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা, বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা করা এবং বেসরকারি সামরিক ও নিরাপত্তা সংস্থা স্থাপন করা, এসব কিছুর মাধ্যমে আমিরাত তার আকারের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করেছে। সাক্ষাৎ এই মডেলটি সংঘাত ও কূটনৈতিক দর-কষাকষির সুযোগ করে দিয়েছে, কিন্তু ইরান যুদ্ধ আমিরাতকে বাস্তব পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়েছে। আমিরাতে ইরানের হামলা প্রকাশ করেছে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্জিত ক্ষমতা ফল নির্ধারণে কার্যকর শক্তিতে রূপায়িত হয় না। যখন ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পরিস্থিতি আরও গুরুতর করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আমিরাতের নানামুখী সক্ষমতা ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। আমিরাত রুশ অর্থ এবং দেশটির অলিগার্কদের নিজেদের সক্ষমতার প্রতি আকৃষ্ট করতে পারলেও, মস্কো ইরানের বিরুদ্ধে আবুধাবির সমর্থনে এগিয়ে আসেনি। অপরদিকে, বেইজিং শুধু বিবৃতি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চিরাচরিত ভাষা ব্যবহার করেছে। ওয়াশিংটন, আমিরাতের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিলেও কার্যকর প্রতিরোধে সামান্যই এগোতে পেরেছে। যে কাঠামোটি আরব বিশ্বে আমিরাতকে অপরিহার্য করে তুলেছিল, সেটি এখন সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ করে দিয়েছে। বৈশ্বিক পুঁজির কেন্দ্র, বিশ্ববাণিজ্যের রসদ সরবরাহ কেন্দ্র এবং বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর অংশীদার হওয়ায়, সংযুক্ত আমিরাতকে আইআরজিসির প্রধান টার্গেটে পরিণত করেছে। কৌশলগতভাবে আমিরাতকে দুর্বল করার জন্য ইরানের শুধুমাত্র এটুকুই করা দরকার—বিনিয়োগকারী, বীমাকারী, জাহাজ কোম্পানি এবং প্রবাসীদের এটি মনে করিয়ে দেওয়া যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার ক্ষেত্রে আমিরাত কোন ব্যতিক্রম নয়। এ কারণে, আমিরাতের বর্তমান বাগাড়ম্বর তো ভঙ্গুর শোনাচ্ছে। আমিরাত তার ‘লিটল স্পার্টা’ বা অপরাজেয় সামরিক শক্তির ইমেজ বজায় রাখতে চায়। দেশটি চাচ্ছে যে, তারা সুশৃঙ্খল, প্রতিবেশীদের তুলনায় বেশি সক্ষম এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য ছোট রাষ্ট্রের মতো অরক্ষিত নয়। কিন্তু ইরান যুদ্ধ দেখিয়েছে যে, আমিরাতও উপসাগরীয় অন্য ছোট দেশের মতো একই ধরনের আঞ্চলিক চাপের সম্মুখীন হয়েছে। নিজেদের সুরক্ষিত—আমিরাতের এই আস্ফালন এখন মিথ্যা প্রমাণিত। আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ইরানের হামলার প্রতিশোধ নিতে পাল্টা হামলা, আইআরজিসির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সামান্যই ভূমিকা রাখবে। কারণ, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশের তুলনায় আইআরজিসির সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি। ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নিতে প্রতিবেশীদের আকৃষ্ট করার আমিরাতের প্রচেষ্টার পরই দেশে একাধিক হামলা চালায় ইরান। তবে, কোন দেশই আমিরাতের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এরপর থেকেই, আমিরাত এসব দেশের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত হয়নি। আমিরাত, জিসিসিকে একটি প্রয়োজনীয় আঞ্চলিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখার চেয়ে নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করেছে। তবে, এখন চাপের মুখে তারা বুঝতে পারছে যে, যেসব প্রতিবেশীকে তারা একসময় কৌশলগতভাবে পরাস্ত করেছিল, তাদের সহযোগিতা ছাড়া আমিরাত তার নিজের অবস্থানকে স্থিতিশীল করতে পারবে না। আমিরাতের নিরাপত্তার কার্যকর পথ হলো একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকা, যেখানে সৌদি আরব, কাতার, ওমান, কুয়েত, বাহরাইন এবং আরব আমিরাত স্বীকার করবে যে, তাদের নীতি ভিন্ন হলেও দুর্বলতাগুলো অভিন্ন। এমন ভান করার আর কোনো সুযোগ নেই যে, তাদের মধ্যে একজন নিজেকে সুরক্ষিত করবে এবং বাকিরা ঝুঁকি কমাবে কিংবা নিজেদের ক্ষতি করবে। আবুধাবিকে অবশ্যই পাকিস্তান, কাতার অথবা ওমানের মধ্যস্থতাকে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখা বন্ধ করতে হবে এবং এটিকে শ্রম বিভাজনের অংশ হিসেবে দেখতে হবে। সৌদি সতর্কতাকে দুর্বলতা হিসেবে দেখা বন্ধ করে, রিয়াদের কৌশলগত গভীরতা ও জ্বালানি শক্তিকে একটি সম্পদ হিসেবে স্বীকার করতে হবে, যা আমিরাতের নেতৃত্বাধীন কোনো নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিস্থাপন করতে পারে না। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অঞ্চলে যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছেন, তাতে আমিরাতের প্রতিরক্ষায় অভিযানিক সহায়তার জন্য ইসরাইলের সুবিধাবাদী মনোভাব, একটি অভিন্ন উপসাগরীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভৌগোলিক নৈকট্যের ক্ষতিপূরণ করতে পারে না। আবুধাবি তার ভাগ্য নিজেই গড়তে পারে তখনই, যখন সে স্বীকার করবে যে, সে একা তা গড়তে পারে না। একটি মধ্যম শক্তি হিসেবে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোনো সমস্যা নয়, সমস্যাটি হলো এই বিশ্বাস যে, মধ্যম শক্তির সক্রিয়তা ছোট রাষ্ট্রগুলোর দুর্বলতা মুছে ফেলতে পারে। আমিরাতের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা শ্রেষ্ঠত্বের জোরালো বক্তব্য দিয়ে সুরক্ষিত হবে না, কিংবা এই অলীক কল্পনা দিয়েও নয় যে ‘লিটল স্পার্টা’ উপসাগরীয় অঞ্চলের সম্মিলিত ভাগ্য থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে পারে। এর নিরাপত্তা যদি আদৌ সুরক্ষিত হয়, তবে তা হবে এই বাস্তবসম্মত উপলব্ধির মাধ্যমে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের সব দেশ একই ছায়ার নিচে বাস করে, যদিও তাদের ছায়াগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়।

মিডল ইস্ট আই থেকে ভাষান্তর: মেতালেব জামালী

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এখন জেমস বন্ড চরিত্রে ট্রাম্প, নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ০০৭’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:১৭ এম


এখন জেমস বন্ড চরিত্রে ট্রাম্প, নাম দিয়েছেন ‘ট্রাম্প ০০৭’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ব্রিটিশ গোয়েন্দা চরিত্র জেমস বন্ড হিসেবে নিজের পরিচয় নিয়ে একটি মিম পোস্ট করেছেন।

ট্রাম্পের রয়েছে বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে প্রশংসাসূচক তুলনা করার একটি দীর্ঘ ইতিহাস। তিনি এর আগে নিজেকে এলভিস প্রেসলি, স্যার উইনস্টন চার্চিল এবং মাদার তেরেসার সঙ্গে তুলনা করেছেন। এছাড়া সম্প্রতি তিনি বিতর্কিতভাবে যিশু খ্রিস্টের সঙ্গেও নিজের তুলনা করেন।

নতুন পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি পুরনো আর্কাইভ ছবি ব্যবহার করেছেন, যেখানে তাকে একটি প্যানেলযুক্ত আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশন ছিল ‘ট্রাম্প ০০৭’।

ট্রাম্পের বন্ধু জেফ বেজোসের মালিকানাধীন অ্যামাজন এমজিএম নতুন জেমস বন্ডের জন্য আনুষ্ঠানিক কাস্টিং প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। স্টুডিওটি ড্যানিয়েল ক্রেইগের উত্তরসূরি খুঁজছে। হোয়াইট হাউস রসিকতার ছলে ট্রাম্পকে এবার এই চরিত্রের জন্য মনোনীত করেছে।

পূর্বে গত ১৬ মে হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট থেকে আরেকটি মিম পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে ট্রাম্পকে একটি টাক্সেডো পরা অবস্থায় এবং হাতে একটি সাইলেন্সারযুক্ত পিস্তল নিয়ে ছায়ামূর্তির মতো দেখানো হয়েছিল।

ছবির নিচের ডান কোণে সোনালি সামরিক ধাঁচের ফন্টে তার স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লেখা ছিল।

ইয়ান ফ্লেমিং-এর মার্জিত গুপ্তচরের চরিত্রে পরবর্তী অভিনেতা কে হবেন, তা নিয়ে বর্তমানে তুমুল জল্পনা চলছে। শোনা যাচ্ছে অ্যারন টেলর-জনসন, টম হল্যান্ড, হ্যারিস ডিকিনসন, জ্যাকব এলর্ডি ও ক্যালম টার্নার সকলেই এই দৌড়ে আছেন।

শন কনারি, জর্জ লেজেনবি, রজার মুর, টিমোথি ডাল্টন এবং পিয়ার্স ব্রসনানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ক্রেইগ ২০২১ সালে ‘নো টাইম টু ডাই’ ছবিতে শেষবারের মতো এই চরিত্রে অভিনয় করেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও একটি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তাকে একটি জনসমাবেশের সামনে দেখা যায়। সেখানে তিনি নিজেকে ‘সর্বশ্রেষ্ঠ আকর্ষণ’ বলে দাবি করেন।

সূত্র: ইনডিপেনডেন্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে ফিরলেন হজযাত্রীদের প্রথম ফ্লাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২২ এম


চট্টগ্রামে ফিরলেন হজযাত্রীদের প্রথম ফ্লাইট

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ বছরের হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।

ওই flights বুধবার (৩ জুন) জেদ্দা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটের মাধ্যমে ৩৭৮ জন হজযাত্রী দেশে ফিরে আসেন।

দীর্ঘ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার আনন্দে হাজিরা আবেগঘন পরিবেশে বিমানবন্দরে পৌঁছান। ফ্লাইটটি অবতরণের পর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর হজযাত্রীদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কর্মকর্তারা, বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জেলা ব্যবস্থাপক, স্টেশন ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরের পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হজযাত্রীদের নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় আগমন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। লাগেজ হ্যান্ডলিং, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া এবং গ্রাউন্ড সার্ভিসে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই হাজিরা দ্রুত নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর চট্টগ্রাম থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি হজ ফ্লাইটে মোট ৪ হাজার ৭৪৮ জন যাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব গমন করেন।

এ ছাড়া অন্যান্য ফ্লাইটের মাধ্যমে আরও ৮২৬ জন হাজি সৌদি আরবে যান। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে মোট ৫ হাজার ৫৭৪ জন হজযাত্রী এবারের হজ মৌসুমে অংশ নেন।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ফিরতি হজ ফ্লাইটগুলো আগামী কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে। প্রতিটি ফ্লাইটে যাত্রীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং লাগেজ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পুরো ফিরতি হজ কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।

হজযাত্রীদের প্রথম ফ্লাইটের আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরে এক ধরনের আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে হাজিরা যখন বের হয়ে আসেন, তখন আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

অনেকেই আল্লাহর দরবারে হজ কবুল হওয়ার জন্য দোয়া করেন এবং দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হজ মৌসুমে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর এই সফল ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিকভাবে দেশের বিমান পরিবহন খাতের সক্ষমতার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%