১০:৫৬ এম
রাজধানীর বাজারে আবারও ডিমের দাম বেড়ে গেছে। এরই মধ্যে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে; সোনালি ও লেয়ার মুরগির দাম কমে গেছে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম পূর্বের বাড়তি দামেই স্থিতিশীল রয়েছে। সবজির বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না; বেশিরভাগ সবজি ৫০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে এসে ডিমের দাম শোনার পর হতাশ ক্রেতারা নিজেদের অভিব্যক্তি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, নিত্যপণ্যের বাড়তি দামের মধ্যে ডিম ছিল তুলনামূলক সাশ্রয়ী উৎস। কিন্তু বর্তমানে সেটির দামও বাড়তে থাকায় সংসারের খরচ সামলাতে খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি, তীব্র বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
পারিজাত নামে এক ক্রেতা বলেন, 'ডিম এমন একটা খাবার, যেটা কমবেশি সব পরিবারই কিনে। কিন্তু একাধিকবার দাম বাড়ালে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ পড়ে। বাজারের খরচ তো আর কমছে না।'
সাইফুল নামে আরেক ক্রেতা বলেন, 'মাংসের দাম অনেক বেশি। তাই ডিম কেনার চেষ্টা করছি। কিন্তু এখন ডিমের দামও বাড়তে থাকলে কম আয়ের মানুষের জন্য বাজার করা কঠিন হয়ে যাবে।'
সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজনে ১০ টাকা বেড়ে লাল ডিম বর্তমানে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি ডজনে ১০ টাকা বাড়িয়ে সাদা ডিম ১৪০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। ডিম বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ ও পাইকারি বাজারের দামের ওপর নির্ভর করে খুচরা বাজারে দাম নির্ধারণ হচ্ছে।
ডিম বিক্রেতা সোলেয়মান জানান, 'পাইকারি বাজারে দাম বেড়েছে। যদি আমরা বেশি দামে কিনি, তবে খুচরাতেও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। সরবরাহ বাড়লে দাম আবার কমতে পারে।'
আরও পড়ুন: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা বনানী থেকে গ্রেফতার
এদিকে মুরগির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে সোনালি ও লেয়ার মুরগির দাম প্রতি কেজিতে ২০ টাকা করে কমেছে। বর্তমানে সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং লেয়ার ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম পূর্বের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়।
মুরগি বিক্রেতা মনির জানান, 'সোনালি ও লেয়ারের সরবরাহ কিছুটা ভালো হওয়ায় দাম কমেছে। ব্রয়লারের ক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন নেই। বাজারে যে দামে আসছে, সে অনুযায়ীই আমাদের বিক্রি করতে হচ্ছে।'
অন্যদিকে সবজির বাজারে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন নেই। বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকার আশপাশে। বর্তমানে পটল ৫০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কচু ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজি বিক্রেতারা বলেছেন, বাজারে সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমার সুযোগ রয়েছে। কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহাবুদ্দিন বলেন, 'এখন বেশিরভাগ সবজির সরবরাহ মোটামুটি ভালো। তাই দামও খুব বেশি বাড়েনি। বাজারে আরও বেশি সবজি এলে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে।'
আরও পড়ুন: অপরাধীরা যত ক্ষমতাবানই হোক, ছাড় পাবে না: আইজিপি
সবজি কিনতে আসা একজন ক্রেতা বলেন, 'সবজির দাম এখন মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে নেমেছে। পটল, ঢ্যাঁড়শ, বরবটি ৫০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে টমেটো আর গাজরের দাম এখনো বেশি।'
তবে সবজিতে স্বস্তি থাকলেও মাছের বাজারে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। বেড়েছে রুই ও কাতলার দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি রুই মাছ ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং কাতলা ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে মাছের দাম উঠানামা করছে। এক বিক্রেতা বলেন, বড় মাছের সরবরাহ তুলনামূলক কম। তাই রুই-কাতলার দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। বাজারে সরবরাহ বাড়লে দামও কমে আসবে।
আরও পড়ুন: রিজভী: দীর্ঘ আন্দোলনে অবদান রাখা নারীরাই ঢাকা-২৩ আসনে মনোনয়ন পাবেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন