০৩:১০ পি.এম
মারিয়া বিশ্বাস করেছিলেন যে, তিনি দুবাইয়ের একজন রাজপুত্রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক জড়িয়েছেন। তার মোহনীয় হাসি ও ভালোবাসার কথায় তিনি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন লাইভ ভিডিও কলে।
কিন্তু বাস্তবে সেই ‘প্রেমিক’ ছিলেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ডিপফেক, যা একটি অনলাইন প্রতারণার অংশ হিসেবে কাজ করেছিল।
সংবাদ সংস্থা এএফপি’র খবর অনুযায়ী, গবেষকদের মতে, এই ধরনের প্রতারণা ঘটনার মধ্যে অপরাধীরা বাস্তব জীবনের দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্সের ছদ্মবেশ ধারণ করে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং পরে টাকা হাতিয়ে নেয়। এমন কিছু ঘটনার সঙ্গে নাইজেরিয়ার অপরাধচক্র জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
মারিয়া প্রিন্স হামদান বিন মোহাম্মদের ছদ্মবেশ ধারণ করা এই প্রতারকের সঙ্গে একটি ডেটিং সাইটে পরিচিত হন। এই প্রতারককে ফাজ্জা ছদ্মনামে পরিচিত। এরপর তাদের কথোপকথন একটি মেসেজিং অ্যাপে চলে যায়, যেখানে সে মারিয়াকে অসংখ্য রোমান্টিক বার্তা পাঠাতে শুরু করে।
ভুক্তভোগী ফিলিপাইনের গৃহকর্মী মারিয়া এএফপি’কে জানান, ‘আমি ঘুমিয়ে থাকলেও সে বারবার আমাকে মেসেজ করত।’ তিনি বলেন যে, প্রতারক তার প্রকৃত নাম ও বয়স গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন।
তিনি জানান, ‘মনে হচ্ছিল যেন কোনো ভালোবাসার জাদু আমাদের মনকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে।’
এএফপি’র দেখা একটি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের রেকর্ডিংয়ে দেখা যায়, প্রতারকটি এআইয়ের সহায়তায় ওই প্রিন্সের চেহারার মতো উপস্থিত হয়েছে স্ক্রিনে। তার কথাগুলো ঠোঁটের নড়াচড়ার সঙ্গে মিলছিল, তবে কণ্ঠস্বরটি আসল প্রিন্সের ছিল না।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
কণ্ঠস্বরটি মারিয়াকে বলেন, ‘হ্যালো প্রিয়তমা। তোমার ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।’ মারিয়া বুঝতে পারেননি যাতে প্রতারণা হচ্ছে, কারণ তিনি প্রেমের আবেগে এতটাই আচ্ছন্ন ছিলেন যে, পরে তার এক বছরের সঞ্চয় হারান।
এভাবে প্রতারক তাকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে ১ লাখ পেসো (প্রায় ১ হাজার ৬২৫ মার্কিন ডলার) দিতে বাধ্য করেন। প্রতারক ওই অর্থ দাবি করেছিলেন বিয়ে নিবন্ধন ও একটি ‘রয়্যাল মেম্বারশিপ কার্ড’-এর জন্য, যা মারিয়ার ভাষায়, দুবাইয়ে চাকরি পেতে সাহায্য করবে।
তবে তার সন্দেহ শুরু হয়, যখন প্রতারক তাকে একটি হোটেলে দেখা করার প্রস্তাব দেয় এবং বুকিংয়ের জন্য আরও ৬০ হাজার পেসো (প্রায় ৯৭৪ মার্কিন ডলার) দাবি করে। মারিয়া এরপর তার ফেসবুক প্রোফাইলটিও ভালোভাবে যাচাই করে দেখেন, যা পরে মুছে ফেলা হয়েছিল। তখন লক্ষ্য করেন, ওই অ্যাকাউন্টটি সম্ভবত নাইজেরিয়া থেকে পরিচালিত হচ্ছিল।
পরে তিনি যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন এবং শেষ একটি বার্তা পাঠান: ‘জাহান্নামে যাও, প্রতারক।’
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন