১০:৩৪ এম
মক্কার পবিত্র কাবাঘর মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে সম্মানিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের সব মুসলমান নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ান এবং প্রতি বছর লাখো মানুষ হজ ও ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় অতিথি হিসেবে আসেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, পবিত্র কাবাঘরের চাবি কার কাছে থাকে?
ইসলামপূর্ব যুগ হতে আল-শাইবি পরিবার বংশানুক্রমে কাবাঘরের চাবির দায়িত্ব পালন করে আসছে। প্রায় ১৬০০ বছর ধরে এই পরিবারের সদস্যরা কাবাঘরের দরজা খোলার এবং চাবি সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে আছেন।
কাবাঘরে প্রবেশের জন্য কেবল একটি দরজা রয়েছে, যা ‘বাবে কাবা’ নামে পরিচিত। এই দরজা কাবার উত্তর-পূর্ব দেয়ালে অবস্থিত এবং হাজরে আসওয়াদের নিকটবর্তী একটি স্থানে রয়েছে।
আরও পড়ুন: মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে মসজিদুল হারামে নামাজ ও কাবা শরিফের তাওয়াফ অব্যাহত
ইসলামের শুরুতে কাবাঘরের চাবির দায়িত্বে ছিলেন উসমান ইবনে তালহা। সে সময়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেননি। অনেকে বর্ণনা করেছেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) কিছুমাত্র সাহাবিকে নিয়ে কাবাঘরে প্রবেশ করতে চাইলে উসমান ইবনে তালহা তাকে চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এসময় ধৈর্য্য ধারণ করে বলেছিলেন, একদিন এই চাবি তার হাতে আসবে এবং তিনি যাকে ইচ্ছা দায়িত্ব দেবেন।
পরবর্তীতে হিজরতের অষ্টম বছরে মক্কা বিজয়ের দিনে কাবার দরজা খুলতে হলে উসমান ইবনে তালহার কাছ থেকে চাবি নেওয়া হয়, এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) কাবাঘরে প্রবেশ করেন।
এরপর আল্লাহ তাআলা সুরা নিসার ৫৮ নম্বর আয়াত নাজিল করেন, যেখানে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন, আমানত তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে, এবং যখন তোমরা মানুষের মধ্যে বিচার করো তখন ন্যায়বিচার করতে।
আরও পড়ুন: আমিরাতে শুরু হলো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব
এই নির্দেশের পর রাসুলুল্লাহ (সা.) কাবাঘরের চাবি উসমান ইবনে তালহার হাতে ফিরিয়ে দেন। এরপর থেকে তার বংশধরদের হাতে এই দায়িত্ব বজায় রয়েছে।
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) উসমান ইবনে তালহাকে জানান যে, কেয়ামত পর্যন্ত কাবাঘরের চাবি তার বংশধরদের হাতে থাকবে। সেই ধারাবাহিকতা আজকালও বজায় রয়েছে।
বর্তমানে আল-শাইবি পরিবারের সদস্যরাই কাবাঘরের চাবির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। বিশেষ বিশেষ সময়ে যখন সৌদি আরবের বাদশাহ, রাষ্ট্রীয় অতিথি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কাবাঘরে প্রবেশ করেন, তখন এই পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্যরাই দরজা খুলে দেন।
কাবাঘরের তালা এবং চাবির বিভিন্ন ঐতিহাসিক সংস্করণও রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন সময় ধাতব এবং মূল্যবান উপাদানে তৈরি চাবি ব্যবহৃত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরেও কাবার পুরোনো চাবি সংরক্ষিত আছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ২৭ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
পবিত্র কাবাঘরের চাবি কেবল একটি দরজা খোলার সরঞ্জাম নয়, এটি ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, এবং আমানত রক্ষার এক অনন্য প্রতীক। মক্কা বিজয়ের পর ক্ষমতা হাতে থাকা সত্ত্বেও রাসুলুল্লাহ (সা.) চাবি তার প্রকৃত দায়িত্বশীল পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যা ন্যায়বিচার ও আমানত রক্ষার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন