ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বেরোবিতে দ্বিতীয়বারের মতো মহালয়া উদযাপন, দুর্গোৎসবের আগমনী আবহে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের বর্ণাঢ্য আয়োজন


বেরোবিতে দ্বিতীয়বারের মতো মহালয়া উদযাপন, দুর্গোৎসবের আগমনী আবহে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের বর্ণাঢ্য আয়োজন

পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে। এরই ধারাবাহিকতায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে মহালয়া ১৪৩৩ উদযাপন করেছে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা, ভক্তিমূলক সংগীত, ধুনুচি নাচ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ভিডিওচিত্র প্রদর্শনী এবং মহাপ্রসাদ বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—‘ওঁ তৎ সৎ, জ্ঞান • সংস্কার • ঐক্য’। ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করা, সনাতন ধর্মের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন সুদৃঢ় করার উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ ও ‘দুর্গা দুর্গতিনাশিনী’ বিষয়ক ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে দেবী দুর্গার মাহাত্ম্য, অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির বিজয়ের তাৎপর্য তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ‘মহালয়া আসলে কী?’ শীর্ষক পর্বে মহালয়ার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন: শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে: ইউজিসি চেয়ারম্যান

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়া পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এই দিন থেকেই সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে দুর্গাপূজার আগমনী আবহ আরও গভীর হয়ে ওঠে। চণ্ডীপাঠ, দেবী দুর্গার স্তব ও ভক্তিমূলক সংগীতের মধ্য দিয়ে ভক্তদের হৃদয়ে জাগ্রত হয় দেবীর আগমনকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ ও প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানের ধর্মীয় পর্বে চণ্ডীপাঠ ও বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া ভক্তিমূলক পূজার গান এবং ধুনুচি নাচ অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সমন্বয়ে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও ভক্তদের মধ্যে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় মহালয়ার মূল আয়োজন।

অনুষ্ঠান সম্পর্কে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক শুভ কর্মকার বলেন, “পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে। মহালয়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। এই শুভক্ষণে সবাইকে দুর্গোৎসব ১৪৩৩-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। সবার পূজা সুন্দর, আনন্দময় ও উৎসবমুখর হয়ে উঠুক—এই প্রত্যাশা করি।”

সংগঠনটির সভাপতি কাকলি রায় বলেন, “আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে আয়োজন করার চেষ্টা করেছি। আমাদের ক্যাম্পাসে দ্বিতীয়বারের মতো মহালয়া উদযাপিত হচ্ছে, যা আমাদের জন্য আনন্দের বিষয়। আয়োজনের কোনো কমতি না রাখার চেষ্টা করেছি। সকালে প্রজেক্টরের মাধ্যমে মহিষাসুরমর্দিনী প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে আমাদের মূল অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই আয়োজন সফল করতে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। পাশাপাশি সবাইকে দুর্গাপূজার অগ্রিম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”

আরও পড়ুন: ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবা ‘মাইগভ’ প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন

সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চর্চার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মহালয়ার এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সনাতন সংস্কৃতি চর্চাকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

‘ওঁ তৎ সৎ—জ্ঞান, সংস্কার ও ঐক্য’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবকে স্বাগত জানিয়েছে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকৃবিতে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ উপলক্ষে ৩৫০০ ডিম বিতরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


বাকৃবিতে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’ উপলক্ষে ৩৫০০ ডিম বিতরণ

‘বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়েছে। এই দিবসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ক্যাম্পাসের সাতটি স্কুলের শিক্ষার্থী, পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে সাড়ে তিন হাজার ডিম বিতরণ করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের সামনে বেলুন উড়িয়ে দিবসটির উদ্বোধন করেন অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।

এরপর সকাল ১০টায় অনুষদের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন চত্বর, প্রশাসনিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অনুষদে এসে শেষ হয়। সেখানে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ডিম বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি পথচারী, যানবাহন চালক ও স্কুল, মাদ্রাসার শিশুদের মাঝে ডিম বিতরণ করা হয়।

ডিম বিতরণ কর্মসূচি শেষে অনুষদের মেডিসিন গ্যালারিতে 'প্রোটিন দ্যাট পাওয়ারস অ্যান্ড প্রোটেক্টস' শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে ডিমের গুরুত্ব ও উৎপাদন বৃদ্ধির প্রতি আলোকপাত করা হয়।

ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক, ডিম দিবস উদযাপন কমিটির আহবায়ক এবং সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ডিম দিবস উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব এবং মাইক্রোবায়োলজি ও হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মারজিয়া রহমান। এসময় ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, ডিমকে বলা হয় সুপারফুড। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ খাবার, যা ৭২ ক্যালরি শক্তি ও ৬ দশমিক ৩ গ্রাম প্রোটিন ধারণ করে। এছাড়া এতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন, সেলেনিয়াম বিদ্যমান। ডিমে সর্বোচ্চ বায়োলজিক্যাল স্কোর (৯৪) এবং প্রয়োজনীয় নয়টি অ্যামাইনো এসিডের সব ডিমে উপস্থিত রয়েছে। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক ১ থেকে ২ টি ডিম খাওয়া উচিত। বয়স্কদের জন্য সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, মস্তিষ্ক ও মাংসপেশির বিকাশ, দৈহিক শক্তি ও এনজামের কার্যকারীতা বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধে ডিম অপরিহার্য। ডিমে ভিটামিন ডি ও ভিটামিন কে থাকায় হাড় ও দাঁতের সুস্বাস্থ্যের জন্য উপযোগী। ডিমে উপস্থিত কোরিন ২৪ শতাংশ স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। সপ্তাহে চারটি ডিম খেলে ৩৮ শতাংশ ডায়াবেটিসের ঝুকি কমে। এছাড়া হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ডিম সহায়ক।

গত দশ বছরে দেশে ডিমের উৎপাদন ২ দশমিক ৩ গুণ বেড়েছে। ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান নবম।

এসময় অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডিম উৎপাদন হয়। তবে আমাদের বার্ষিক চাহিদা ১৮ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন। সুতরাং আমরা ডিম উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ন এবং উদ্বৃত্ত ডিম রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বিশাল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে ডিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে মুরগির ফিডের উচ্চমূল্য ও নানাবিধ রোগের মতো প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান। বর্তমানে ভ্যাকসিন খরচ, খামার ব্যবস্থাপনা ও ফিডের খরচ মিলিয়ে একটি ডিম উৎপাদনে ১০ থেকে ১১ টাকা খরচ হয়। এমতাবস্থায় কৃষির মতো পোল্ট্রি খাতে সরকারি ভর্তুকির দাবি জানাচ্ছি। এর ফলে একই সাথে খামারির স্বার্থ রক্ষা হবে এবং গ্রাহকের কাছে স্বল্পমূল্যে ডিম পৌঁছাবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রাণী চিকিৎসার জন্য প্রতি উপজেলায় একজন ভেটেরিনারিয়ান আছেন। তবে একজনের জন্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার পশুর চিকিৎসা প্রদান করা কষ্টসাধ্য। এজন্য প্রতি উপজেলায় অন্তত ৫ থেকে ৬ জন ভেটেরিনারিয়ানের পোস্ট দেয়ার দাবি জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘দিল্লিকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো করে তোলার এখনই সময়’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৯ পি.এম


‘দিল্লিকে নেপাল ও বাংলাদেশের মতো করে তোলার এখনই সময়’

ভারতের জাতীয় রাজধানীর কেন্দ্রে তরুণ ও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি দমনপীড়ন ও গ্রেফতারের ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

নয়াদিল্লির কনট্যুর প্লেস এলাকায় পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত ২৯ বছর বয়সী তরুণ সন্তোষ কুমার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাস্তায় তরুণদের ওপর পুলিশি বাধা ও নির্বিচার আটক দেখে তার ধৈর্যের সীমা ভেঙে গেছে। বর্তমান সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক আচরণের কঠোর সমালোচনা করে তিনি মন্তব্য করেছেন, মোদি সরকারের আচরণ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকদের চেয়েও বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপাল এবং বাংলাদেশে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল। ওই আন্দোলনের চাপের কারণে দুই দেশের অজনপ্রিয় সরকারগুলো পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। প্রতিবেশী দেশগুলোর সফল আন্দোলনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি ভারতীয়দেরও রাজপথে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তরুণদের ওপর সরকারের দমনপীড়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সন্তোষ উল্লেখ করেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এভাবে আন্দোলন থামাতে পারবে না। তিনি বলেন, পুলিশ যদি রাস্তা থেকে ১০ জনকে আটক করে, তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে আরও ৫০ জন তরুণ যোগ দিচ্ছে। জনগণের এই প্রতিরোধকে তিনি স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বৈরাচারী মনোভাবের সময় এখন শেষ হয়ে এসেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, আগামী ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত এই সরকার টিকবে না। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ যেভাবে বাড়ছে, তাতে পরিবর্তন খুব বেশি দূরে নয় বলেই তিনি মনে করেন।

আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সন্তোষ আরও বলেন, এখনই সময় দিল্লিকে নেপাল ও বাংলাদেশের রূপ দেওয়ার। ওই দুটি দেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতীয়দের নিজেদের অধিকার এবং দেশ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো এখানেও জনগণের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও ঐক্যই পারে অন্যায় শাসনের অবসান ঘটাতে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপাল ও বাংলাদেশে জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক আন্দোলন পুরো অঞ্চলের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। ওই দুটি দেশে প্রবল গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন অপ্রিয় সরকারগুলো পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। নয়াদিল্লির বিক্ষুব্ধ নাগরিকরা এখন প্রতিবেশী অঞ্চলের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত সামনে রেখে নিজেদের রাজনৈতিক দাবি আদায়ে সোচ্চার হওয়ার কথা বলছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘৭১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ মিথ্যা কথা বলে আসতেছে’: শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৩০ পি.এম


‘৭১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ মিথ্যা কথা বলে আসতেছে’: শামা ওবায়েদ

আওয়ামী লীগের স্বভাব হচ্ছে মিথ্যা কথা বলা। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু মন্তব্য করেছেন যে, একাত্তর সাল থেকে তারা মিথ্যা কথা বলে আসছে। তিনি বলেন, “ক্ষমতায় থাকাকালে তারা দেশে-বিদেশে গুজব ছড়াত যে, বিএনপি সরকারের আমলে নাকি হিন্দু ধর্মের মানুষরা ভালো থাকে না। এটা ডাহা মিথ্যা কথা।”

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “বিএনপি সরকারের আমলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তারেক রহমানের ভূমিকার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।”

শামা ওবায়েদ বলেন, “মা-বোনেরা ও ছেলে-মেয়েরা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে যাতে শারদীয় উৎসব পালন করতে পারে, সে জন্য আমরা কাজ করছি। সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় প্রশাসন ও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় মন্দির পাহারা দেওয়ার জন্য আমাদের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা সংখ্যালঘু শব্দে বিশ্বাস করি না। পূজায় আমরা আনন্দ ভাগাভাগি করে নিই। কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। গুজব থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। স্বৈরাচারের কোনো দোসর যাতে দুর্গাপূজায় ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে, সেদিকেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভোটারদের হাতের কালি শুকানোর আগে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারীদের সততা, দায়িত্বশীলতা ও নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভাণ্ডারিয়ায় নকল ফুল এস্কেল ডিটারজেন্ট বিক্রি, জরিমানা ও পিকআপ জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৬ পি.এম


ভাণ্ডারিয়ায় নকল ফুল এস্কেল ডিটারজেন্ট বিক্রি, জরিমানা ও পিকআপ জব্দ

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামে নকল ‘ফুল এস্কেল’ ডিটারজেন্ট পাউডার বিক্রির দায়ে নাসির উদ্দিন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ছোট পিকআপ জব্দ করা হয়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে ভাণ্ডারিয়া বন্দরের জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ অর্থদণ্ড দেন।
অভিযুক্ত নাসির উদ্দিন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার মৃত ইউনুস বিশ্বাসের ছেলে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, বাজারে প্রায় ৩২০ টাকা মূল্যের ডিটারজেন্ট পাউডার মাত্র ১০০ টাকায় দুই কেজি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল। প্যাকেটগুলোতে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ যথাযথভাবে উল্লেখ ছিল না। বরং এসব তারিখ ইচ্ছামতো নির্ধারণ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্যাকেটের উপাদানের সঙ্গে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) লাইসেন্স ও অনুমোদিত নমুনার মিল পাওয়া যায়নি।

এসব অনিয়মের কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী অভিযুক্তকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ছোট পিকআপ জব্দ করা হয়। অভিযানকালে পুলিশ ও প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান বলেন, প্যাকেটজাত ডিটারজেন্ট পাউডার অত্যন্ত নিম্নমানের। এ ধরনের পণ্য বিক্রির মাধ্যমে ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নকল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মোঃ তরিকুল ইসলাম
ভাণ্ডারিয়া, পিরোজপুর।
০১৭১০০২০৩৮২

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%