১০:৫৭ এম
মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি (শুল্কসংক্রান্ত চুক্তি) পর্যালোচনা করা দরকার, এ মন্তব্য করেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে, তবে জোরপূর্বক শ্রম সমস্যা সমাধান হবে না। বরং এর ফলে জোরপূর্বক শ্রম আরও বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
গত মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় বা ইউএসটিআর বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়। তারা জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যমালার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপে ব্যর্থতার অভিযোগ করে। এসব দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত ১০ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে আগ্রহী। বাজেটকে সামনে রেখে সিপিডির পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন।
জবাবে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উভয় দেশের বাস্তবতা প্রতিফলিত হয় না। অনেক সময় যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের দেশের পরিস্থিতিকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করে না। মতো, আমাদের ইটভাটা ও অন্যান্য স্থানে শিশুশ্রম বিদ্যমান। তবে বাস্তবতা হলো, সত্যিকার অর্থে অনেক সময়ে পরিবারগত প্রয়োজনেই শিশুরা কাজে যায়। তাই, শিশুশ্রম কমাতে সহায়তা তহবিল না দিলে এবং উল্টো রপ্তানির ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
মোস্তাফিজুর রহমান জানালেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা শুল্ক বসিয়েছিল ৬০টি দেশের ওপর, যার মধ্যে মাত্র ৯টি দেশ চুক্তি করেছে। বাংলাদেশের গড় শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ১৫ শতাংশ। এর ওপর অতিরিক্ত ১৯ শতাংশসহ মোট ৩৪ শতাংশ শুল্ক বসে। আমরা এর জন্য চুক্তি করেছি। পুরোনো শুল্কের সঙ্গে নতুনভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক যোগ হলে মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৪৪ শতাংশ। এই শুল্ক আরোপ হলে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কোথায় দাঁড়াবে, সেটি ভালো করে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
উত্থিত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে মার্কিন শুল্ক চুক্তিটি পর্যালোচনা করা খুবই দরকার। এই চুক্তি এখন পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
আরও পড়ুন: দেশে ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন