ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভূমি প্রতিমন্ত্রী আকস্মিক অফিস পরিদর্শন, নির্ধারিত সময়ে ৮ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ৬


ভূমি প্রতিমন্ত্রী আকস্মিক অফিস পরিদর্শন, নির্ধারিত সময়ে ৮ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ৬

সাভারের আমিনবাজার ও আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল। তিনি সোমবার (৮ জুন) কোন সরকারি পতাকা, পুলিশ প্রটোকল কিংবা সরকারি দেহরক্ষী ছাড়াই ব্যক্তিগত গাড়িতে এই পরিদর্শনে অংশ নেন। পরিদর্শনের সময় দুই কার্যালয়ের সেবা কার্যক্রম, কর্মকর্তা উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম ও ঘাটতি উঠে আসে।

পরিদর্শনের শুরুতে আমিনবাজার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে দেখা যায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহাদাত হোসাইন খান নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি প্রতিমন্ত্রীর আগমনের প্রায় ১৫–২০ মিনিট পরে কার্যালয়ে আসেন।

এ সময় পরিদর্শনে দেখা যায়, ৮ জন কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র দুইজন—সার্ভেয়ার ও নামজারি সহকারী—নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: পুলিশের ১১ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে

অফিসের বাইরে অবস্থান করা কয়েকজন সেবাপ্রার্থী জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অফিসে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। প্রতিমন্ত্রী তাদের সঙ্গে কথা বলে সেবা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরিদর্শনের পর তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে কর্মকর্তাদের উপস্থিতির সময় যাচাই করেন এবং তথ্য কেন্দ্র-কাম-হেল্প ডেস্কের দুর্বল অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রেকর্ড কিপিং ও ডেটা এন্ট্রি টিমের সঙ্গে কথা বলে দেখা যায়, ওই ইউনিটের কর্মকর্তারা যথাসময়ে উপস্থিত ছিলেন এবং কার্যক্রম চলমান ছিল। প্রতিমন্ত্রী একাধিক রেকর্ড রুম ঘুরে দেখেন।

এ সময় কর্মকর্তারা জানান, সার্ভার সমস্যার কারণে মিউটেশন (নামজারি) কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি সার্ভার-সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিতদের শোকজ করার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ হিমশিম খাচ্ছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

তিনি তথ্যকেন্দ্রকে ডেডিকেটেড জনবল দিয়ে পরিচালনার নির্দেশ দেন এবং সময়ের চেয়ে সেবার মান ও কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এরপর প্রতিমন্ত্রী আশুলিয়া রাজস্ব সার্কেল (পলাশবাড়ী), সাভার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় লাইসেন্সবিহীন নামজারি কার্যক্রম এবং অবৈধ দোকানপাট তার নজরে আসে।

তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে বিষয়টি অবহিত করেন এবং অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এই আকস্মিক পরিদর্শনে আমিনবাজার ও আশুলিয়া—দুই রাজস্ব সার্কেলেই সেবাদান ব্যবস্থাপনা, উপস্থিতি শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে একাধিক অনিয়ম ও ঘাটতি উঠে আসে।

আরও পড়ুন: ‘গণঅভ্যুত্থানের পরতে পরতে হাসনাত ও সারজিসের গাদ্দারি খুঁজে পাওয়া যাবে’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাগেরহাটে বাসের চাপায় মৃত্যু এক নারীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১২ পি.এম


বাগেরহাটে বাসের চাপায় মৃত্যু এক নারীর

জেলার মোল্লাহাট উপজেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বাসের চাপায় এক নারী নিহত হয়েছেন, যার নাম আমেনা বেগম (৫৫)। দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে, উপজেলার দেড় বোয়ালিয়া এলাকার রহিমা ফিলিং স্টেশনের সামনে।

 স্থানীয় সূত্রে জানায়, একটি ইজিবাইক যখন মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছিল, তখন ঢাকাগামী ধলেশ^র পরিবহনের দ্রুতগতির একটি বাস ইজিবাইককে চাপা দেয়। এই ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেই আমেনা বেগমের মৃত্যু ঘটে।

 পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামে মৃত্যুর ঘটনায় ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


হামে মৃত্যুর ঘটনায় ড. ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন

হাম ও রুবেলার ভ্যাকসিন (টিকা) যথাসময়ে আমদানি না করে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং টিকার অভাবে দেশব্যাপী মহামারি সৃষ্টি করে শিশু মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমও আছেন।

ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে সোমবার কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ২৭০, ৩০৪ ও ৩৪ ধারায় এই মামলার আবেদন করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান আদালতে উপস্থিত আছেন। মামলায় অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান, এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

মামলার আবেদনে বাদী উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে শিশু জন্মের পর সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের জন্য সরকারিভাবে হাম ও রুবেলার টিকা নিয়মিত ও বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া হয়। তবে ১নং আসামি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর, ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা আমদানির প্রচলিত প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ওপেন টেন্ডার বা উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, দীর্ঘ দেড় বছর সময়ক্ষেপণের কারণে দেশের টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স (যিনি মামলার ২নং সাক্ষী) গণমাধ্যমে ২০ মে জানিয়েছেন, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকট সম্পর্কে তৎকালীন সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। আসামিরা সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি, যার ফলে দেশে টিকার অভাবে হামের মহামারি দেখা দেয়।

মামলার আরজিতে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি হিসাব মতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৫,৭০৮ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়। টিকার অভাবে প্রায় ৬১০ জন শিশু মৃত্যুবরণ করেছে এবং ৭৫,৭০০ শিশু শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষ করে, বিগত ২ জুন চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে আবদুল্লাহ আল ফাহিম ও ইশরাত জাহান দম্পতির সন্তান এবং ২২ মে ঢাকার হাসপাতালে আবদুল্লাহ আল নোমান নামে আরেক শিশু মারা যায়। এছাড়া ২২ এপ্রিল ঢাকা শহরের হাসপাতালে জাফরজান ইসলাম ও হেলাল ভূঁইয়া দম্পতির একমাত্র সন্তান ফাইয়াজ হাসান তাজিমের মৃত্যুরও উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, আসামিরা অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ভিআইপি ব্যক্তি হওয়ায় বনানী থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলাটি গ্রহণ করেনি এবং আদালতে দায়ের করার পরামর্শ দেয়। তাই বিজ্ঞ আদালতে এই মামলা করা হয়েছে। আবেদনে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরয়ানা জারি করে জেলহাজতে আটকে রাখার এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের প্রার্থনা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণের তারিখ নির্ধারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:১৯ পি.এম


এইচএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণের তারিখ নির্ধারণ

আগামী ১৫ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার প্রবেশপত্র (অ্যাডমিট কার্ড) বিতরণ। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা এই প্রবেশপত্র বিতরণ করবে।

বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জেসমিন তাসলিমা বানুর সই করা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে রোববার (৭ জুন) এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ জুন সকাল ১০টা থেকে প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হবে টাংগাইল, নরসিংদী, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলার জন্য। পরবর্তী দিন, ১৬ জুন, মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকা মহানগর, ঢাকা জেলা, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রবেশপত্র বিতরণ করা হবে।

প্রবেশপত্র নিতে হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিজে অথবা তার প্রাধিকারপ্রাপ্ত শিক্ষককে (স্বাক্ষর সত্যায়িতসহ) অফিস চলাকালীন সময়ে প্রবেশপত্র সংগ্রহের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তবে শিক্ষক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রবেশপত্র গ্রহণের দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।

বোর্ড জানিয়েছে, যদি কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হন, তাহলে আবেদনপত্রে গভর্নিং বডির সভাপতি, জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর থাকতে হবে। প্রবেশপত্র সংগ্রহ করার পর তিনি তা তার কেন্দ্রের অধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্রুত বিতরণ করবেন।

যদি প্রবেশপত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি দেখা যায়, তবে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। প্রবেশপত্র যাচাইয়ের পর যেকোনো ধরনের ত্রুটি, কম বা বেশি দেখা গেলে তা অবশ্যই আগামী ১৮ জুন থেকে ২৫ জুনের মধ্যে সংশোধন করে নিতে হবে। এজন্য নির্ধারিত ছক অনুযায়ী উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের (উচ্চমাধ্যমিক) কাছে আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশোধন না করা হলে পরীক্ষায় কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হলে তার দায়ী থাকবেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নদীগ্রাসে ছোট হচ্ছে বরিশাল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


নদীগ্রাসে ছোট হচ্ছে বরিশাল!

নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে মাইলের পর মাইল ফসলি জমি, ঘরবাড়ি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ৩৮ বছরের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণের ফলে দেখা যাচ্ছে, নদীভাঙনের কারণে বরিশালের ভৌগলিক মানচিত্র ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে।

বর্তমানে বরিশাল বিভাগের প্রায় ১০২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবেশ গবেষক ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে বিভাগের অন্তত ১২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। সচেতন মহলের সূত্রে অভিযোগ উঠছে, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হয়ে যাচ্ছেন।

গত ৩০ বছর ধরে মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙনের ফলে বরিশালের হিজলা উপজেলার গৌরবদী ইউনিয়ন বিলীনের পথে রয়েছে। সরেজমিনে কথা হচ্ছে উপজেলার সত্তরোর্ধ্ব বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ মোল্লার সঙ্গে। মেঘনাপ্রবাহের দিকে তাকিয়ে তিনি স্মৃতিচারণ করছেন তার হারিয়ে যাওয়া বসতভিটা নিয়ে।

অশ্রুসজল চোখে নুর মোহাম্মদ মোল্লা বলেন, যে মাটিতে আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে, আজ তার পুরোটাই মেঘনা নদীর গর্ভে। পাকা ঘরবাড়ি, ধani জমি, বাপ-দাদার ভিটে; সবকিছু আমার চোখের সামনে তলিয়ে গেছে।

একই এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগমের আশঙ্কা, নদী যেভাবে এগোচ্ছে, দ্রুত বাঁধ নির্মাণ না হলে পুরো ইউনিয়ন একদিন মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। মফিজুল ইসলাম বলেন, ত্রাণ চাই না, বরং আমরা স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ চাই।

শুধু মেঘনা নদী নয়, কীর্তনখোলা, কালাবদর, আড়িয়াল খাঁ, সন্ধ্যা, তেঁতুলিয়া, কারখানা ও সুগন্ধা নদীর ভাঙনের ফলে বরিশালের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কীর্তনখোলা নদীর ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরবাড়িয়া এলাকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও গত বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

চরবাড়িয়ার বাসিন্দা আবদুল খালেক মিয়া বলেন, নদী আমাদের সব কেড়ে নিয়েছে। আমি তিনবার বাড়ি হারিয়ে এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন এই জায়গাটাও ভাঙনের মুখে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমাদের নদীতে ডুবে মরা ছাড়া উপায় থাকবে না।

১৯৮৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বছরের পর বছর নদীভাঙনের কারণে বরিশালের মানচিত্র সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন এই ঝুঁকিকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরও অনেক এলাকায় নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) বরিশাল বিভাগীয় আহ্বায়ক রফিকুল আলম বলেন, অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদী থেকে অনিয়ন্ত্রিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণেই প্রতি বছর বরিশালে লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুহারা হচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১০২ কিলোমিটার বাঁধ বর্তমানে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বরিশাল বিভাগ (দক্ষিণাঞ্চল)-এর প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বকর সিদ্দিক ভুঁইয়া বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধের পাশাপাশি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জন্য কয়েকটি বড় প্রকল্প প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%