১০:০০ পি.এম
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গণবিরোধী এবং লুটপাটের বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীতে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
এই প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে জামায়াত শুক্রবার (১২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। সংবাদ সম্মেলনটি মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে দলের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াতের ইসলামির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব তথ্য জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানান, এবারের বাজেটের আকার বড় হলেও এটি অতিমাত্রায় ঘাটতি ও ঋণনির্ভর। ফলে এতে জনমুখী সংস্কার এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের স্পষ্ট প্রতিফলন নেই।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকোটকে সমর্থন জানাল আরব জোট, কোণঠাসা নেতানিয়াহু
এছাড়া, ছয় লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত নয়। সামগ্রিক মূল্যায়নে, কর সংস্কার এবং আদায় ব্যবস্থার বর্তমান দক্ষতার বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পরিকল্পনা বাজেটে নেই।
তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আহরণের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জন করতে বাস্তব ভিত্তিক পরিকল্পনা অনুপস্থিত রয়েছে। মোট বাজেটের প্রায় ৭০ শতাংশ পরিচালন ব্যয়, বেতন-ভাতা ও সুদ পরিশোধে চলে যাচ্ছে, যা উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় একটি বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করেছে।
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, উন্নত জাতি গঠনের জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন অপরিহার্য, কিন্তু শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ এবং অগ্রাধিকার এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেলেও এর বড় অংশ রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা লাভের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত দরিদ্রদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
গরিব মানুষের জন্য নীতিবাক্যের অভাব নেই, তবে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল এই বাজেটে অনুপস্থিত।
আরও পড়ুন: সন্ধ্যা হলেই বন্ধ চিকিৎসাকেন্দ্র, শিক্ষার্থীদের জন্য সংকট পরিবহনেও
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই বাজেটে ধনীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবে বলেও উল্লেখ করেন, এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ আরও বাড়বে। এক বোতল পানির জন্য ভ্যাট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোটিপতি এবং রিকশাচালকের মধ্যে কোনো পার্থক্য রাখা হয়নি, যা করব্যবস্থার বৈষম্যকে স্পষ্টভাবে উদ্ভাসিত করেছে। স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বাড়ানোর কথাও বলা হলেও স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক এবং কাঠামোগত বিনিয়োগের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন