বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৩৮ এম
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের অস্বস্তিকর বাস্তবতা হলো, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানে হামলার মাধ্যমেই মূলত সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার মূল্যের নকল সিগারেট জব্দ করেছে। এই অভিযানের সময় তিনজনকে আটক করা হয়। বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লোকমান খারকান্দি গ্রামের মোরশেদ মিয়ার ছেলে পিকআপ চালক নাদিম মিয়া (২৭), মাদারীপুর সদর উপজেলার ব্রাহ্মদী এলাকার মৃত আদেল উদ্দিনের ছেলে আতাহার মিয়া (৬২), এবং রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ সোহেল রানা (৫৪)।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, নিয়মিত চেকপোস্টের অংশ হিসেবে সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের মোবারকদী এলাকার সড়কে অভিযান পরিচালনা করে সদর মডেল থানা পুলিশ। এসময়ে সন্দেহভাজন একটি কাভার্ডভ্যানে সিগারেট ভর্তি তল্লাশি করা হয়। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সিগারেটগুলোকে নকল বলে নিশ্চিত করেন।
এই অভিযানে কাভার্ডভ্যান থেকে জব্দ করা হয় ১১০ কার্টন সিগারেট। যার বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা। এই ঘটনার জন্য দায়ী থাকা অপরাধের কারণে তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। জানা যায়, এসব নকল সিগারেট বাজারজাত করার মাধ্যমে ৫৩ লাখ ৪৬ হাজার টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হচ্ছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি সেনা জোনের উদ্যোগে একটি অসহায় প্রসূতি নারীর উন্নত চিকিৎসার জন্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় বুধবার (১ জুলাই) জুরাছড়ি উপজেলার জ্যামুরাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা সমাপ্তি চাকমা প্রসবজনিত জটিলতার কারণে শিলছড়ি বাজারস্থ গ্রিন হিল ক্লিনিকে ভর্তি হন। পরে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, তখন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাকে জরুরি ভিত্তিতে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে রেফার করে। কিন্তু অসচ্ছল অবস্থার কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে রাঙ্গামাটিতে স্থানান্তর করার প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভব ছিলো না।
বিষয়টি জানার পর জুরাছড়ি সেনা জোন মানবিক বিষয়টি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। সেইসাথে জোনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রোগীকে নিরাপদে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
এই মানবিক সহায়তার জন্য রোগীর স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং জুরাছড়ি জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং জননিরাপত্তা রক্ষার সাথে সাথে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ভবিষ্যতেও জুরাছড়ি জোন অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে জনকল্যাণমূলক এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে যাচ্ছেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। গতবারের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১৯ হাজার ৪৭২ জন। এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিতে যাচ্ছেন ২ লাখ ৮৬৯ জন শিক্ষার্থী।
গতবারের পরীক্ষা থেকে এবারের পরীক্ষায় সকল শিক্ষা বোর্ডে একসাথে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ড জানাচ্ছে, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই।
আজ বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে এবারের পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। সারা দেশে ২ হাজার ৯৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১৪৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ঢাকা শহরের ৪০টি কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রশ্নপত্র বিতরণ, উত্তরপত্র সংরক্ষণ, ক্যালকুলেটর ব্যবহার এবং শৌচাগার তল্লাশিসহ ৩৫টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেছেন, প্রশ্নফাঁসের কোনো সুযোগ নেই। নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যদি প্রশ্নফাঁসের মতো কোনো ঘটনা ঘটে, তবে সারা দেশে ওই দিনের পরীক্ষা স্থগিত করা হবে এবং পরে নতুন প্রশ্নে পরীক্ষাগ্রহণ করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, কোনো কেন্দ্রে নকল ধরা পড়লে শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাবিদদের মতামত হচ্ছে, সব বোর্ডে একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগটি ইতিবাচক। তবে প্রশ্নফাঁস রোধ করা এবং সব বোর্ডে একই মানদণ্ডে উত্তরপত্র মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এবারের লিখিত পরীক্ষা চলবে ২ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত, এবং ১৫ আগস্টের মধ্যে শেষ হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জানান, “জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে যে সংস্কার সনদ (চার্টার) তৈরি হয়েছিল, সেই সনদের ভিত্তিতে জনগণ গণভোট বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করতে পারেনি। যদি সংসদে সংবিধান সংস্কারের সুযোগ না হয়, তবে আমরা জনগণের কাছে যাব এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৩১টি দৃশ্যমান রাজনৈতিক সংগঠন একটি সংস্কার সনদে একমত হয়ে পৌঁছায়।
‘বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি’ ছাড়া বাকি সব দল সেগুলোতে শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করেছে-এমন দাবি করেন তিনি।
জায়াতের আমির বলেন, একইদিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে অর্থবহ করার বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের অঙ্গীকার ছিল। গণভোটে যে রায় আসবে, তা সবাই মেনে নেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এর ভিত্তিতে একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা ছিল এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল।
‘বিরোধী দলের সব সদস্য দুই ধরনের শপথ নিলেও সরকারি দলের সদস্যরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। সরকারের যুক্তি ছিল, বিষয়টি সংবিধানে নেই। অথচ অনেক বিষয়ই সংবিধানে আগে ছিল না। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনও সংবিধানে উল্লেখ ছিল না। অতীতে অনুষ্ঠিত প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় গণভোটও সংবিধানে ছিল না। কিন্তু জাতীয় প্রয়োজনেই সেগুলো কার্যকর হয়েছিল’-এটি উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি সুন্দরভাবে বলেন, গণভোটে প্রায় ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে সেই রায় উপেক্ষা করে, দেশে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে।
ডা. শফিক বলেন, সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করা হলেও তা কার্যকরভাবে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। পরে নোটিশের মাধ্যমে আলোচনা হলেও কোনো রুলিং বা সিদ্ধান্ত আসেনি। তখন বিরোধী দল সিদ্ধান্ত নেয়, সংসদে সুযোগ না পেলে জনগণের কাছে যাবে এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ