ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভুল চিকিৎসায় কলেজছাত্রীর মৃত্যুর, ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন


ভুল চিকিৎসায় কলেজছাত্রীর মৃত্যুর, ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

ফরিদপুরের একটি ঘটনায়, অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের কারণে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

নিহত আয়েশা আফরিন (১৭) সদরপুর উপজেলার আকোটের চর ইউনিয়নের কৈলাশের ডাঙ্গী গ্রামের প্রবাসী লিটন মাতুব্বরের মেয়ে। তিনি ফরিদপুর সরকারি ইয়াসিন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের মতে, বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়েশার তীব্র পেটব্যথার কারণে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত আল জারা প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।

আরও পড়ুন: কাউখালীতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পর থেকে আয়েশার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। রাত ৩টার দিকে তাকে টেপাখোলা এলাকার রেজোয়ান মোল্লা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে।

নিহতের মা আলেয়া বেগম অভিযোগ করেন যে, চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে তার সুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।

স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারির এক চিকিৎসক অস্ত্রোপচারটি পরিচালনা করেন। ঘটনার পর চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পরিবার ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে তারা চিকিৎসকের অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে স্বজনদের দাবি রয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক হাসপাতালে ত্যাগ করেন এবং তার সঙ্গে অগণিতবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপত্তা সড়ক দিবস ২০২৬ পালিত হল জেলা প্রশাসন কার্যালয়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে কারও অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ওডেসা বন্দরে জাহাজে হামলা, ৪ ভারতীয় নাবিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৪ পি.এম


ওডেসা বন্দরে জাহাজে হামলা, ৪ ভারতীয় নাবিক নিহত

ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় একটি ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে চার ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর ভারতীয় নাবিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

হামলার ঘটনা গত বুধবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় ঘটেছে, যা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে।

হামলার শিকার ‘এমভি গোল্ডেন লিও’ নামের এই জাহাজটিতে ভারতীয় এবং সিরীয় নাগরিকসহ মোট ১৭ জন ক্রু ছিলেন। এর মধ্যে পাঁচজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী এবং ভুট্টাবোঝাই এই জাহাজটির মালিকানা মুম্বাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ওশান গ্রেস শিপিং লিমিটেড’-এর।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো, বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা কিংবা মুক্ত নৌচলাচল ও বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকা উচিত।’ একই সাথে ইউক্রেনে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস জানায় যে তারা উদ্ধারকাজ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর দাবী অনুযায়ী, রুশ বাহিনী জাহাজটি লক্ষ্য করে তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। রাতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, জাহাজটির ৯ জন ক্রু এবং ১ জন মেরিন পাইলট নিহত হন।

কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে উল্লেখ করেছে ওডেসা বন্দর কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসে ওডেসা অঞ্চলে রুশ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, একই দিনে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ হামলায় আরো ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাগুলি মিলিয়ে দুই পক্ষের সংঘাত সম্প্রতি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৫ পি.এম


দ্রুত ছড়াচ্ছে ইবোলা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৩০

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাস ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৯৩০-এ দাঁড়িয়েছে। এছাড়া অন্তত ২,৩৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার থেকে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ১৫ মে ডিআরসিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির ঘটনাগুলোর একটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত সপ্তাহে সতর্ক করেছিল, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোয় ইবোলা ভাইরাস আগের যেকোনো প্রাদুর্ভাবের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ছে।

ডব্লিউএইচও-র প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেইয়েসুস সাংবাদিকদের বলেন, "২০১৮-২০২০ সালের ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সময় ২,০০০ নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হতে ১০ মাসেরও বেশি সময় লেগেছিল। অথচ এবার ২,০০০ নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হতে সময় লেগেছে মাত্র দুই মাস।" সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা এর অন্তত দ্বিগুণ হতে পারে।

টেডরস আরও বলেন, "এটি এখন পর্যন্ত রেকর্ড করা ইবোলার তৃতীয় বৃহত্তম প্রাদুর্ভাব। গত এক মাসে এটি আগের যেকোনো প্রাদুর্ভাবের চেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়েছে।" ডিআরসিতে ইবোলার ১৭তম এই প্রাদুর্ভাবটি প্রথম শনাক্ত হয় খনিজ-সমৃদ্ধ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ইতুরিতে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর পর। এলাকাটিতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে।

ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ ও আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ইবোলার সংক্রমণ এখন পর্যন্ত ডিআরসির পাঁচটি প্রদেশ এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় শনাক্ত হয়েছে। টেডরস জানান, উগান্ডা এখন "ভাইরাস-মুক্ত" হওয়ার পথে থাকলেও ডিআরসিতে ইবোলা নজিরবিহীন হারে ছড়িয়ে পড়ছে।

ইতুরিতে মৃতের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে গত সপ্তাহে স্বাস্থ্যকর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেন এবং বুনিয়া জেনারেল হাসপাতালের প্রবেশপথ অবরোধ করেন। কর্মীদের অভিযোগ, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে কঠিন ও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রোগীদের সেবা দেওয়ার সত্ত্বেও তারা কাজের জন্য কোনো পারিশ্রমিক বা ক্ষতিপূরণ পাননি।

টেডরস উল্লেখ করেন, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশেরও বেশি রোগী "পরিচিত বা শনাক্তকৃত সংস্পর্শের তালিকার বাইরে" পাওয়া যাচ্ছে, যা ইঙ্গিত দেয় সংক্রমণের উৎস বা শৃঙ্খলগুলো এখনো শনাক্তের বাইরে থেকে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, বর্তমানে ৭২৪ জন রোগী হাসপাতালে আইসোলেশনে রয়েছেন এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি মোকাবিলার কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ২২ জন রোগী সুস্থ হয়ে ওঠায় রোগীদের সেবা ও সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা আরও সুসংহত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৭ পি.এম


কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের দেয়াল টপকে সাজাপ্রাপ্ত বন্দি মোছা. রিম্পা (২১) পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলার শিরিন আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সময়ে সিনিয়র জেল সুপার কাওয়ালিন নাহারকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছে। এটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে সোমবার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কারা-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে এই একই ঘটনায় ৩ মেট্রন ও ৪ নারী কারারক্ষীসহ মোট ৭ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বন্দি পলায়নের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই কারণে তদন্তকাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলার শিরিন আখতারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, যাতে তারা তদন্তে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন।

এছাড়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত গাফিলতির কারণে জেল সুপার কাওয়ালিন নাহারকে রাজশাহী বদলি করা হয়েছে।

কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, গত ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাত ৮টার কিছু আগে ওই নারী বন্দি পালিয়ে যান। এই ঘটনাটি তদন্ত করার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের সময় জানা যায়, বন্দিদের সেলে আবদ্ধ করার কথা থাকলেও তা যথাসময়ে করা হয়নি। নির্ধারিত সময়ের পরে ৪০ জন বন্দিকে ইট ভাঙনের কাজ করানো হচ্ছিল, যার ফাঁকে পালিয়ে যায় ওই বন্দি। তদন্তে জেলার ও জেল সুপারের দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর কারা অধিদপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বড় বোনকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার, গর্ভের সন্তান হারালেন ছোট বোন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২০ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৮ পি.এম


বড় বোনকে রক্ষা করতে গিয়ে হামলার শিকার, গর্ভের সন্তান হারালেন ছোট বোন

বড় বোনের মারধরের খবর পেয়ে ছোট বোন ময়না আক্তার বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিলেন। ঘটনাক্রমে, হামলার সময় বড় বোনের বাড়িতে হামলার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করার চেষ্টা করলে, তিনি প্রতিপক্ষের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। পেটে লাঠির আঘাতের ফলে ময়না আক্তার তিন মাসের গর্ভের সন্তান হারান। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা এলাকায় গত ১৭ জুলাই হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের নতুনবাজার গ্রামের আব্দুল জলিল খানের চারটি মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে পারভিন বেগম (৪৬) কয়েক বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসেন এবং চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা এলাকায় জমি কিনে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। স্বামী না থাকার কারণে তিনি একা থাকেন এবং মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।

স্থানীয় প্রতিবেশী মজিবর, মোজাফফর, বাবলু এবং শহীদসহ কয়েকজন বিভিন্ন সময় ওই জমিটি দখল করার জন্য অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। সবশেষ শুক্রবার (১৭ জুলাই) মজিবর ও মোজাফফরের বিরুদ্ধে বড় বোন পারভিন বেগমের ওপর হামলার খবর পেয়ে ছোট বোন ময়না আক্তার দ্রুত সেখানে ছুটে যান। হামলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করার চেষ্টা করার সময় ময়না আক্তারের ওপরও হামলা চালানো হয় মজিবর ও তার সহযোগীদের দ্বারা।

এই সময় ময়না আক্তার জানান, তার পেটে তিন মাসের শিশু রয়েছে এবং বাঁচার আকুতি জানানোর পরও নির্যাতন থামেনি প্রতিপক্ষের। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ময়না আক্তারকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার গর্ভপাত ঘটে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সদরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়না আক্তার বলেন, ‘হামলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে গেলে তারা আমার ওপরও হামলা চালায়। পেটে তিন মাসের সন্তান রয়েছে বলার পরও তারা নির্যাতন চালিয়েছে। আমার পেটে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমার পেটের সন্তানের মৃত্যু হয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

বড় বোন পারভিন বেগম জানান, ‘আমার জমি দখল করার জন্য প্রতিনিয়ত ওরা আমাকে মারধর ও হুমকি দেয়। আমার স্বামী না থাকায় অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আমার ওপর হামলা চালানাে হচ্ছে। স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বলেও কোনো সমাধান পাইনি। আমাকে তো মারছেই, মারধর করার সময় আমি হাতজোড় করে বলেছিলাম আমার বোনের পেটে সন্তান রয়েছে, তাকে মারিস না। কিন্তু তারা শোনেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোনের স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী। কয়েক মাস আগে দেশে এসেছেন, কিছুদিনের মধ্যেই চলে যাবেন; আর এ অবস্থায় এ ঘটনা ঘটালো ওরা। থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমরা যা উল্লেখ করেছি, পুলিশ তা নেয়নি।’

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সামনে মেঝেতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা যায় ময়না আক্তারকে। হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স মিনতি সরকার জানান, আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ময়না আক্তারের গর্ভপাত হয়ে গেছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানান, জড়িতদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে। তবে মামলায় ভ্রূণ নষ্টের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার জন্য তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে এ বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এই বিষয়ে হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%