০২:২৬ পি.এম
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় একটি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার ফলে চরম যাতায়াত দুর্ভোগে পড়েছেন ১৫টি গ্রামের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। ভেঙে যাওয়া অংশের ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) গাছের খুঁটি ও কাঠ দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামত করে দিলেও, তার ওপরে কোনো হালকা কিংবা পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এর ফলে ব্রিজের দুই পাড়ের বাসিন্দাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন যাতায়াতও ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতর জানিয়েছে, জনগণের সাময়িক কষ্ট লাঘবে দ্রুত বিকল্প রাস্তা তৈরি করা হবে এবং নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের মাঝখানের একটি বড় অংশ ভেঙে নিচে খালের খাদে পড়ে গেছে। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৪ মে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের মুছল্লীপাড়া এলাকায় হাজীনি খালের ওপর নির্মিত এই ব্রিজটি দিয়ে একটি ভারী ট্রাক্টর পার হওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ট্রাক্টরের অতিরিক্ত ভার সইতে না পেরে ব্রিজের পাটাতনটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এই ঘটনা ঘটার সময় ট্রাক্টরের ৬ জন আরোহী গুরুতর আহত হলেও অলৌকিকভাবে তাদের প্রাণে বেঁচে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি
এই দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ দুই সপ্তাহ ওই রুটে সব ধরনের পথচারী ও যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে এলজিইডি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে ব্রিজের ভাঙা অংশে গাছের খুঁটি ও কাঠের তক্তা দিয়ে একটি অস্থায়ী পাটাতন তৈরির ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে, এই নড়বড়ে জোড়াতালির ওপর দিয়ে কেবল পথচারী, বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল আমি ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে পারছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের মতে, নওয়াবস, ছত্রপুর, নয়ারহাট, ভেলুরবাজারসহ চরাঞ্চলের ১০টি গ্রাম এবং মূল ভূখণ্ডের ৫টি গ্রাম মিলিয়ে মোট ১৫টি গ্রামের মানুষের জন্য এই ব্রিজটি জেলা শহর ও স্থানীয় প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। বর্তমানে সব ধরনের যাত্রীবাহী ও পণ্যবোঝাই হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তারা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
মুছল্লীপাড়া গ্রামের কৃষক আবু বকর বলেছেন, এই ভাঙা ব্রিজের ওপর কাঠের যে পাটাতন দেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে মানুষ কোনো রকমে হাঁটতে পারলেও ফসলের বস্তা বা ভ্যান দ্বারা পার করা সম্ভব হচ্ছে না। মাঠের পর মাঠ যে ফসল ফলেছে, তা বাজারে নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে চরের হাজার হাজার কৃষক ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তথ্যমতে, কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের মুছল্লীপাড়া এলাকায় হাজীনি খালের ওপর ১৯৯০ সালে এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ১৩২ ফুট দৈর্ঘ্যের এই ব্রিজটি। দীর্ঘ ৩৬ বছরের পুরোনো এবং উদ্দেশ্যহীন ব্রিজটি আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফিরোজুর রহমান জানান, ব্রিজটি ধসে যাওয়ার পর আমরা সেখানে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘যানবাহন চলাচল বন্ধ’ লেখা সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছি। যেহেতু বর্তমানে ওই খালটিতে পানি প্রবাহ নেই, তাই মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা দ্রুত সময়ে খালের ওই অংশে মাটি ভরাট করে একটি বিকল্প চলাচলের রাস্তা (ডাইভারশন) তৈরি করে দেব। এছাড়া স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন