মোঃ উজ্জ্বল মিয়া জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:১৭ পি.এম
নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জে যাত্রীবাহী একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় জাকির হোসেন মৃদুল (২১) নামের এক তরুণকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সেন্টু মিয়ার নেতৃত্বে চেকপোস্টে ক্রাউন ডিলাক্স নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। বাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১২-০৪৮২।
তল্লাশির সময় ৪০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল (Laborate Codeine Phosphate) উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জাকির হোসেন মৃদুলকে আটক করা হয়।
আটক জাকির হোসেন মৃদুল কলমাকান্দা উপজেলার বামনগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম গিয়াস উদ্দিন এবং মায়ের নাম মোছা. তাসলিমা খাতুন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্নো লেপার্ড (তুষার চিতা) বন্যপ্রাণীদের মধ্যে অন্যতম, যাদের দেখা পাওয়া সহজ নয়। বর্তমানে স্নো লেপার্ড দেখা একটি বিরল ঘটনা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। লাদাখ ও হিমালয়ের উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলে বাস করা এই প্রাণীটি প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও পাথুরে পরিবেশে টিকে থাকার জন্য নিজেকে উপযুক্ত করে তুলেছে। স্নো লেপার্ডের শরীরের হালকা ধূসর ও সাদা রঙের লোমে কালো ছোপ থাকে, যা তাদের আশপাশের বরফ ও পাথরের সঙ্গে সহজে মিশে যেতে সহায়তা করে।
সাধারণত শীতকালে স্নো লেপার্ডের দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসের কারণে বন্য পরিবেশে তাদের জীবনযাপন সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু অজানা রয়ে গেছে। তবে এবার বিরল এই প্রাণী দেখার স্থান হিসেবে ভারতের লাদাখ আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব অর্জন করেছে। পর্যটকরা লাদাখে গিয়ে স্নো লেপার্ডকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে খোঁজার সুযোগ পাচ্ছেন।
ভ্রমণ সংস্থা বেইলি রবিনসনের প্রকাশিত ‘ওয়াইল্ডলাইফ এক্সপেরিয়েন্স ইনডেক্স’-এ স্নো লেপার্ড দেখার জন্য লাদাখকে বিশ্বের চতুর্থ সেরা অভিজ্ঞতা হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় লাদাখের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৮৫ দশমিক ৫।
‘ওয়াইল্ডলাইফ এক্সপেরিয়েন্স ইনডেক্স’-এ বিশ্বের বিভিন্ন এলাকার ৩০টি বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতার তুলনা করা হয়েছে। তালিকা তৈরির সময় ছয়টি বিষয়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো হলো, প্রাণীটির বিরলতা, সেটি দেখতে যাওয়ার স্থান কতটা দুর্গম, প্রাণী সংরক্ষণে এর গুরুত্ব, অভিজ্ঞতাটি কতটা বিশেষ বা সীমিত সুযোগের, সেখানে পৌঁছানোর সহজতা এবং প্রাণীটির দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা।
‘কনডে নাস্ট ট্রাভেলার’-এর প্রতিবেদনে বেইলি রবিনসনের সেলস ডিরেক্টর সারাহ পার্কার বলেন, বিরল প্রাণী এবং দুর্গম এলাকার মধ্যে একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে—এটি তাদের বিশেষভাবে নজরে এসেছে। তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে অসাধারণ বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতার জন্য সাধারণত অনেক দূরে যেতে হয় এবং আরও গভীর দুর্গম এলাকায় প্রবেশ করতে হয়। ফলে এমন কিছু দেখার সুযোগ মেলে, যা খুব কম পর্যটকই জীবনে দেখার সুযোগ পান।
তালিকায় প্রথম স্থান পেয়েছে রুয়ান্ডা ও উগান্ডায় মাউন্টেন গোরিলা দেখার অভিজ্ঞতা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যান্টার্কটিকায় এম্পেরর পেঙ্গুইন দেখার অভিযান। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কাজাখস্তানে সাইগা অ্যান্টিলোপ দেখার ভ্রমণ। লাদাখে স্নো লেপার্ড দেখার অভিজ্ঞতা চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে। আর ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে জাভান গণ্ডার খোঁজার অভিজ্ঞতা পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
তালিকায় ভারতীয় উপমহাদেশের আরও দুটি বন্যপ্রাণী দেখার অভিজ্ঞতা স্থান পেয়েছে। নেপাল, ভুটান বা ভারতে রেড পান্ডা দেখার অভিজ্ঞতা ১৫তম স্থানে রয়েছে, যার স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৭৮ দশমিক ৫। অন্যদিকে, ভারত বা নেপালে একশৃঙ্গ গণ্ডার দেখার সাফারি ২১তম স্থানে রয়েছে, যার স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৭৪ দশমিক ৫।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : পুলিশ গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত মামলায় ৪৯৭ জনকে গ্রেফতার করেছে।
এ তথ্য আজ চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৭৫ জন, পূর্ববর্তী মামলায় ১২৮ জন, পুলিশ অ্যাক্ট ৩৪ ধারায় ১৭ জন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৪ ধারায় ১০ জন, কার্যবিধির ১৫১ ধারা ও অন্যান্য আইনে ৪৫ জন, পরোয়ানামূলে ৯২ জন এবং সাজা পরোয়ানা মূলে ২০ জন রয়েছেন।
এছাড়া, মাদক মামলায় ১১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিন জন মাদক বহনকারী এবং ১০৭ জন মাদকসেবী। নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় ২৭ জন মাদক ব্যবসায়ীসহ অভিযানে মোট ১৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪৬ জনকে কারাদণ্ড এবং ১১ হাজার ৮৫০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এ সময় ২৫টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানে ১৮ হাজার ৩১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৯৫ গ্রাম গাঁজা ও ১০৭ লিটার ৪৫০ মিলিলিটার চোলাইমদ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জনস্বার্থে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথমবারের মতো ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জনকারী ৩৪ শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের এই শিক্ষকেরা গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য এ পুরস্কার লাভ করেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষাদান ও ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করাও এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।" তিনি গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষকদের চিন্তার পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গবেষণাভিত্তিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে গবেষণায় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা আরো বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।" তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে গবেষণার পরিধি আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। পুরস্কারপ্রাপ্তদের মতো অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও গবেষণায় আরও উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, "স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ শুধু স্বীকৃতি নয়, গবেষণায় আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা।" তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পুরস্কারপ্রাপ্ত ৩৪ শিক্ষকের মধ্যে ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একজন এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে একজন রয়েছেন।
গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, অধ্যাপক, গ্রন্থাগারিক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিবহন প্রশাসক ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। পরে তাদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একই দিনে পৃথক ঘটনাবলীতে সাজেদা বেগম (৩০) ও সিদ্দিকা খাতুন (২৩) নামে দুই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সিদ্দিকা খাতুনের আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে থানায় মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের পূর্ব শিবরাম গ্রাম থেকে মরদেহদুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের মধ্যে পূর্ব শিবরাম গ্রামের আউয়াল মিয়ার স্ত্রী সাজেদা বেগম (৩০) এবং নেংটিপাড়া এলাকার হিরা মিয়ার স্ত্রী সিদ্দিকা খাতুন (২৩) রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার সময় সিদ্দিকা খাতুনের মরদেহ তার বাড়ির টিনের ঘরের ধরনার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে তারা বিষয়টি থানায় জানায়। এরপর রাত সাড়ে ৮টার দিকে একই ইউনিয়নের পূর্ব শিবরাম গ্রামের আরেকটি বাড়িতে সাজেদা বেগমের মরদেহও টিনের ঘরের ধরনার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে স্বজনরা বিষয়টি থানায় জানান। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহদুটি উদ্ধার করে।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, "পৃথক ঘটনায় দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিদ্দিকা খাতুনকে আত্মহত্যা প্ররোচনায় থানায় মামলা হয়েছে। অন্যটির আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ