মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৯ পি.এম
শারীরিক চেহারার উন্নতি, ঘুমের মান বৃদ্ধি এবং নিজেকে উন্নত করার বিভিন্ন প্রচেষ্টা বর্তমানে ইন্টারনেটে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে ‘ম্যাক্সিং’ শব্দটিকে ২০২৬ সালের সেরা শব্দ হিসেবে ঘোষণা করেছে ‘ডিকশনারি ডটকম’।
শব্দটি একটি অনলাইন প্রবণতাকে নির্দেশ করে, যেখানে মানুষ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জনের জন্য চেষ্টা করে। এটি শারীরিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি, ভালো ঘুম নিশ্চিত করা অথবা জীবনযাপনের মান উন্নত করার মতো বিষয়গুলোর সাথে সম্পর্কিত।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ডিকশনারি ডটকম অনলাইন অনুসন্ধান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা এবং সংবাদমাধ্যমে শব্দটির ব্যবহার বিশ্লেষণ করে এই ঘোষণা দেয়।
‘ম্যাক্সিং’ বলতে কী বোঝায়?
‘ম্যাক্সিং’ শব্দটি এসেছে ইংরেজি ‘ম্যাক্সিমাম’ এবং ‘ম্যাক্সিমাইজিং’ থেকে, যা নির্দেশ করে কোনো কিছুকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ধারণাকে। জীবনের কোনো একটি দিক, অভ্যাস বা কাজকে যতটা সম্ভব উন্নত করার প্রচেষ্টাকেই ‘ম্যাক্সিং’ বলা হয়।
বিবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ডিকশনারি ডটকমের নথিতে শব্দটির ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের মাসিক গড়ের তুলনায় ২০২৬ সালের আগস্টে ডিজিটাল মাধ্যমে শব্দটির ব্যবহার প্রায় ১৯ গুণ বেড়ে যায়।
শব্দটি এককভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য শব্দের সঙ্গেও যুক্ত হয়। যেমন শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে বলা হয় ‘জিমম্যাক্সিং’, ঘুমের মান উন্নত করার প্রচেষ্টাকে ‘স্লিপম্যাক্সিং’ এবং প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে ‘প্রোটিনম্যাক্সিং’ বলা হয়।
অর্থাৎ, নিজের কোনো একটি দিককে যতটা সম্ভব উন্নত বা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টাই হলো ‘ম্যাক্সিং’।
‘ম্যাক্সিং’ কীভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠল?
এই শব্দটির উৎপত্তি মূলত গেমিং বা ভিডিও গেমের পরিভাষা থেকে এসেছে। গেমিংয়ে ‘মিন-ম্যাক্সিং’ নামে একটি ধারণা বিদ্যমান, যেখানে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে শক্তিশালী করা হয়।
বর্তমানে এর জনপ্রিয়তার সঙ্গে ‘লুকসম্যাক্সিং’-এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এটি এমন একটি অনলাইন প্রবণতা, যা মূলত শারীরিক চেহারার উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেয়। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ম্যাক্সিং’ প্রবণতাটি প্রথমে পুরুষ-প্রধান অনলাইন কমিউনিটিগুলোতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং পরে এটি মূলধারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এই প্রবণতার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, সৌন্দর্য নিয়ে অবাস্তব মানদণ্ড তৈরি হওয়া এবং সব সময় নিজেকে উন্নত করার চাপ মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
‘ম্যাক্সিং’ কেন বেছে নেওয়া হলো?
ডিকশনারি মিডিয়া গ্রুপের অভিধান প্রণয়ন বিভাগের পরিচালক স্টিভ জনসন সিবিএস নিউজকে বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে শব্দটির ব্যাপক ব্যবহারই ‘ম্যাক্সিং’কে ২০২৬ সালের সেরা শব্দ হিসেবে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘লুকসম্যাক্সিং’ শব্দটির ব্যবহার ১ হাজার শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। শব্দটি মূলত নিজের শারীরিক সৌন্দর্য ও চেহারার আকর্ষণীয়তা বাড়ানোর প্রচেষ্টাকে নির্দেশ করে।
কর্মক্ষেত্রেও ‘ম্যাক্সিং’ শব্দটির ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে। এর একটি উদাহরণ হলো ‘টোকেনম্যাক্সিং’। এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার যতটা সম্ভব বাড়ানোর প্রবণতাকে বোঝানো হয়।
ডিকশনারি ডটকমের ২০২৬ সালের সেরা শব্দ নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় রয়েছে ২০২৫ সালের বিজয়ী শব্দ ‘৬৭’। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এই শব্দটি মূলত অদ্ভুত ও অর্থহীন ধরনের হাস্যরসের সঙ্গে যুক্ত।
‘ম্যাক্সিং’ শব্দটিকে বছরের সেরা শব্দ হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে আধুনিক ইংরেজি ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এটি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শারীরিক সৌন্দর্য উন্নত করা এবং ব্যক্তিগত জীবনে আরো ভালো করার প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরও প্রতিফলন ঘটায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘আমরা মাঠে তামাশা করতে বা খেলতে নামিনি। আমাদের দাবি হলো—সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্র মেরামতের দাবি, হাজার হাজার শহীদের রক্তের দায় নিয়ে মাঠে নেমেছি। তাই আমরা কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তে পা দেব না ইনশাআল্লাহ।’
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমাদের এই ঐক্য শুধুমাত্র ১১ দলের নয়, এটি জনগণের ঐক্য। বাংলাদেশের রূপরেখা ও গতিপথ নির্ধারণ করা, আধিপত্যবাদকে মোকাবিলা ও ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করার যে লড়াই—তাতে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং ধীরে ধীরে এই ঐক্যের পরিসর আরও বাড়বে।’
বৈঠকটি বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতা ও মহাসচিবরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া’ লংমার্চের প্রস্তুতিমূলক আলোচনার জন্য এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
গোপালগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে লংমার্চের সময় সেখানে হামলার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা সেই আশঙ্কা করি না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সজাগ থাকে, তবে এমন কোনো আশঙ্কা নেই। আমরা আমাদের কর্মসূচি স্বাভাবিকভাবেই পালন করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ মাঠে রয়েছেন। আমরা আশা করি গোপালগঞ্জে বিপুলসংখ্যক ইসলামপন্থী ও দেশপ্রেমিক জনগণ রাজপথে থাকবেন। যেকোনো দুর্ভিসন্ধিমূলক অপতৎপরতা বা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ রাজপথেই মোকাবিলা করা হবে ইনশাআল্লাহ। গোপালগঞ্জ প্রশাসনকে আমরা বলেছি—তারা যেন যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে; কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায় সম্পূর্ণ সরকার ও প্রশাসনকেই বহন করতে হবে।’
মামুনুল হক বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর করার দাবিসহ নাগরিক জীবনের বিভিন্ন সংকট সমাধানের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে পূর্বে চট্টগ্রাম ও রংপুরে লংমার্চ পালন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত তৃতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির (তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সার) মূল্যবৃদ্ধি রোধ, নির্লজ্জ দলীয়করণ বন্ধ, শরীফ ওসমান হাদী হত্যাকাণ্ড, জুলাই গণহত্যা ও শাপলা চত্বরের গণহত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জোরালো দাবি তোলা হবে।
মামুনুল হক আরো বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমরা আশা করছি, পূর্বের দুটি লংমার্চের মতোই ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই কর্মসূচি সফল হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে সার্বিক সহযোগিতা করবে এবং কোনো পক্ষ থেকে বাধা-বিঘ্ন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হবে না বলে আশা করি। কোনো অপতৎপরতা দৃষ্টিগোচর হলে তা প্রতিহত করেই লংমার্চ সফল করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবি আদায়ে ঘোষিত এই লংমার্চে সকল দেশপ্রেমিক নাগরিকে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি জানান, ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মাধ্যমে লংমার্চ শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে। লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে সংবাদ মাধ্যমসহ সবার ইতিবাচক ভূমিকা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চলমান জাতীয় সংকট প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথে সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়েই সহনশীল কর্মসূচি দিয়ে আসছি। কিন্তু মনে হচ্ছে, সরকার বিরোধী দলের এই সহযোগিতা গ্রহণে ইচ্ছুক নয় এবং তাদের সেই মানসিকতাও নেই। তাই স্পষ্ট বার্তা—জনগণের অধিকার আদায়ে আমরা প্রয়োজনে আরও কঠোর হব। সরকারকে আহ্বান জানাব—জনগণের যে আমানত নিয়ে ক্ষমতায় বসেছেন, তাদের মনোভাব অনুধাবন করুন; অন্যথায় পরিণতি ভালো হবে না।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে—এমন আস্থা আমরা রাখতে পারছি না। নির্বাচন কমিশনের সচিব পর্যায়ে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে সরকার যে ভূমিকা পালন করেছে, তা উদ্বেগজনক। ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা আশঙ্কাজনক। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করুক। ব্যত্যয় ঘটলে আমরা চুপ করে থাকব না, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপ নেব। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হব।’
সাম্প্রতিক আইজিপির বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের সাম্প্রতিক বক্তব্য অত্যন্ত আতঙ্কজনক ও উদ্বেগের বিষয়। দেশের আইনি ব্যবস্থার সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল পদ থেকে কীভাবে বিচারবহির্ভূত ‘ক্রসফায়ার’-এর মতো বক্তব্য দেওয়া হতে পারে? এতে আমরা স্তম্ভিত ও শঙ্কিত।’
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরের আয়োজন ও সফরসঙ্গীদের তালিকা দেখে দেশের মানুষ হতবাক। এমন ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন, যাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব বা রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল নেই। রাষ্ট্রীয় সফরকে বিনোদন ও ঘোরাঘুরির সফরে পরিণত করা হচ্ছে। দেশ কোথায় যাচ্ছে এবং কারা দেশ চালাচ্ছে—তা নিয়ে জাতির মনে সংশয় তৈরি হয়েছে।’
আসন্ন সংসদ অধিবেশন প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ‘সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ঘনাচ্ছে, যা নিয়ে বিরোধী দলের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে। জাতীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধান করার ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে আমরা সন্দিহান। আসন্ন সংসদ অধিবেশনের প্রাক্কালে বিরোধী দল আবার বৈঠকে বসবে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবে।’
ভারতের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যাঁরা এ ধরনের অভিযোগ করছেন, তারা বোধহয় সঙ্গে ছিলেন; তাই তাঁরাই ভালো বলতে পারবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানী ঢাকার পূর্বাঞ্চলের একটি বড় এলাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে হঠাৎ করে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে একযোগে এসব অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ঢাকার এলাকা গুলোর মধ্যে ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারিগরি কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
জাতীয় গ্রিড পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি’ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য তাদের প্রকৌশলীরা কাজ করে যাচ্ছেন। ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিড ন্যাশনাল লোড ডেসপাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, হঠাৎ এই বিপর্যয়ের পরও দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ সচল ও স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নব্বইয়ের দশকের হিন্দি গানের সোনালি সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় দুই কণ্ঠ, কুমার শানু এবং উদিত নারায়ণ। দীর্ঘ ২১ বছরের বিরতি ভেঙে আবারও সিনেমার গানে একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন এই দুই সংগীতশিল্পী। সানি দেওলের আসন্ন ক্রাইম থ্রিলার ‘সুরিয়া: অন্ত সে আরম্ভ তাক’ সিনেমার ‘সুনিয়ো জারা’ গানে শোনা যাবে তাদের কণ্ঠ।
সংবাদমাধ্যম ভ্যারাইটি ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বন্ধুত্বের আবহে তৈরি হয়েছে গানটি। পর্দায় এতে সানি দেওল ও রবি কিষানকে দেখা যাবে। শানু ও উদিতের সঙ্গে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন অনুপম আমোদ। জি মিউজিক কোম্পানির ব্যানারে আজ গানটি প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে।
শানু ও উদিতকে সর্বশেষ একসঙ্গে প্লেব্যাকে শোনা গিয়েছিল ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘নো এন্ট্রি’ সিনেমার ‘কাহা হো তুম’ গানে। সেই হিসাবে দীর্ঘ ২১ বছর পর আবারও সিনেমার গানে এক হল তাদের কণ্ঠ। এর আগে এই জুটি শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন ‘তেরি মেরি দোস্তি’, ‘বেপারওয়া বহুত দিন ঘুমে’, ‘ছোটে ছোটে ভাইয়ো কে বড়ে ভাইয়া’ এবং ‘হাম সাথ-সাথ হ্যায়’-এর মতো জনপ্রিয় গান।
তবে ভক্তদের জন্য চমক সিনেমার গানেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি মাসে একটি অডিও গানেও একসঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন এই দুই শিল্পী। ‘তেরা মেরা ইয়ারানা’ শিরোনামের গানটিতে উঠে এসেছে তাদের বন্ধুত্বের গল্প। সঞ্জীব চতুর্বেদীর কথা ও সুরে গানটি গত ১৫ অক্টোবর ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে, যে সিনেমার গান দিয়ে প্লেব্যাকে ফিরেছেন শানু ও উদিত, সেই ‘সুরিয়া’ নিয়েও চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সিনেমাটিতে চিকিৎসাব্যবস্থার অনিয়ম এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সূর্য প্রতাপ সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানি দেওল। ভুল চিকিৎসায় মেয়েকে হারানোর বেদনা বয়ে বেড়ানো এই চরিত্রটি চিকিৎসাব্যবস্থার দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামে।
তবে পর্দায় চিকিৎসকদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর সহিংসতার দৃশ্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। সেই আপত্তি ও বিতর্কের মধ্যেই আগামী ২০ নভেম্বর সিনেমাটি মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন নির্মাতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চলন্ত অবস্থায় আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথে ট্রেন চলাচল প্রায় আধা ঘণ্টা বন্ধ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি গফরগাঁও স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে ময়মনসিংহের দিকে যাওয়ার সময় উপজেলার মাইজহটি বটতলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে সোয়া ১১টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি গফরগাঁও স্টেশনে যাত্রাবিরতি করার পর মাইজহাটি বটতলা এলাকায় পৌঁছালে ট্রেনের ‘থ’ বগির সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ট্রেনে থাকা সংশ্লিষ্টরা বিচ্ছিন্ন হওয়া সংযোগ পুনরায় স্থাপন করতে সক্ষম হন, ফলে ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ওসি আকতার হোসেন বলেন, ‘সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে চালক ট্রেনটি থামিয়ে দেয় এবং পেছনে নিয়ে যায়। পরে ট্রেনের লোকোমাস্টার, পরিচালক ও রেল কর্মীদের প্রচেষ্টায় সোয়া ১১টার দিকে ট্রেনের বিচ্ছিন্ন দুই বগি পুনরায় সংযুক্ত করে ট্রেনটি ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ