ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রক্তক্ষয়ী কঙ্গোতে সেনাবাহিনীর বীরত্বে শান্তির পতাকা উত্তোলন


রক্তক্ষয়ী কঙ্গোতে সেনাবাহিনীর বীরত্বে শান্তির পতাকা উত্তোলন

বিশ্বজুড়ে অশান্ত ও যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘের অধীনে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। প্রতি বছর ২৯ মে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ পালিত হয়। ১৯৪৮ সালে এই মিশনের যাত্রা হলেও বাংলাদেশ এতে যুক্ত হয় ১৯৮৮ সালে।

কঙ্গো, মালি, সুদান ও সোমালিয়ার মতো পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন শান্তিরক্ষী প্রেরণে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি। আফ্রিকার খনিজ সমৃদ্ধ দেশ ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, পরিবেশ ও ভাষাগত চ্যালেঞ্জ সহ ঐতিহাসিক চে অঞ্চলে সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব বিষয় নিয়ে জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টিভি নিউজ ২৪-এর মুখোমুখি হয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইমদাদুল হক, জেনারেল মাহবুব হায়দার খান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু মুসা শারফ্উদ্দিন। তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে বীরত্বের কথা।

প্রশ্ন : প্রতি বছর ২৯ মে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হয়। এ দিবসটির তাৎপর্য কী?

আরও পড়ুন: জাপান বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়

জেনারেল মাহবুব হায়দার খান : শান্তিরক্ষা দিবসটি ১৯৪৮ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী পালিত হলেও বাংলাদেশে আমরা প্রথম যৌথভাবে (স্থানীয় জাতিসংঘ অফিস ও সশস্ত্র বাহিনী) ২০০৭ সালে এটি উদ্যাপন শুরু করি। এ দিনটির বড় তাৎপর্য হলো আমরা সারা পৃথিবীতে শান্তির বাণী পৌঁছে দেব। সাধারণ মানুষের ধারণা সেনাবাহিনী শুধু যুদ্ধ করার জন্য। কিন্তু সেই ধারণা বদলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ যে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজেও ব্যবহার করা যায়, সেই বিশেষ ভাবনাটি আমরা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। আমাদের শান্তিরক্ষীদের অবদানের কারণে আজ বহু দেশে শান্তি ফিরে এসেছে এবং মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ধাবিত হচ্ছে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে শান্তির পতাকা উড়িয়ে যাচ্ছে। কবে বাংলাদেশের এই শান্তিরক্ষা মিশনের যাত্রা হয়েছিল?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু মুসা শারফ্উদ্দিন : বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথম অংশ নেয় ১৯৮৭-৮৮ সালে ‘অবজারভার’ বা ‘পর্যবেক্ষক মিশন’ হিসেবে। পরে জাতিসংঘের প্রধান শাখা (ডিপিকেও) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল পেশাগত দক্ষতা ও সুনামের ওপর ভরসা করে আমাদের ট্রপস বা পূর্ণ সেনাদল মোতায়েনের আমন্ত্রণ জানায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোতে অংশ নিয়ে আসছে। যার মধ্যে সোমালিয়া, সুদান এবং কঙ্গো অন্যতম। অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে আমাদের বাহিনী দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

প্রশ্ন : এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পেরেছি ১৭৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বশান্তির জন্য প্রাণ দিয়েছেন। বাংলাদেশিদের এ আত্মত্যাগকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের মধ্যে বিরোধ

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইমদাদুল হক : এই ১৭৪ জনের আত্মত্যাগ একদিকে যেমন অত্যন্ত হৃদয়বিদারক, অন্যদিকে এটি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল বীরত্বগাথা। যুদ্ধক্ষেত্রে যখন সংঘাত তৈরি হয়, তখন আমরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে দেশের সম্মান ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা করতেই ব্যস্ত থাকি। এটা আমাদের সেনাদের ‘সুপ্রিম স্যাক্রিফাইস’ বা সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ। এ ত্যাগের নেপথ্যের গল্পগুলো দেশবাসীর জানা উচিত।

প্রশ্ন : জাতিসংঘ কেন কঙ্গোতে মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং কঙ্গো কীভাবে এতটা ভয়াবহ সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে জড়িয়ে পড়ল?

জেনারেল মাহবুব হায়দার খান : কঙ্গো এক দুর্ভাগা দেশ, যা আগে ‘জায়ারে’ নামে পরিচিত ছিল। দেশটি সোনা, হীরা, কোবাল্ট, কোল্টানের মতো মহামূল্যবান খনিজ সম্পদে ঠাসা। এর জমিও এত উর্বর যে কোনো সার ছাড়াই চমৎকার ফসল ফলে। এ বিপুল সম্পদের প্রতি বহির্বিশ্বের এবং ভিতরের স্বার্থান্বেষী মহলের লোলুপ দৃষ্টি ছিল। প্রায় ২৫০ বছর ঔপনিবেশিক শোষণের পর ১৯৬০ সালে তারা স্বাধীনতা পেলেও জাতিগত বিভেদ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সংঘাত থামেনি। ১৯৯৪ সালে পাশের দেশ রুয়ান্ডায় যে ভয়াবহ গণহত্যা (জেনোসাইড) হয়, তার ফলে অনেক সশস্ত্র বিদ্রোহী দল কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ঢুকে পড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। এ হানাহানিতে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ মারা যাওয়ার পর ১৯৯৯ সালে ‘লুসাকা চুক্তি’ অনুযায়ী জাতিসংঘ সেখানে শান্তিরক্ষী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু মুসা শারফ্উদ্দিন : আমি একটু যোগ করি। ১৯৬০ সালে স্বাধীনতার পরপরই অরাজকতার কারণে জাতিসংঘ ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সেখানে প্রথমবার শান্তিরক্ষী পাঠিয়েছিল। পরে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে মিশন গুটিয়ে নেওয়া হয়। ১৯৯৯ সালের চুক্তির পর আবার ‘মনুক’ মিশন শুরু হয় এবং ২০১০ সাল থেকে এটি ‘মনুস্কো’ নামে চলছে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ২০০৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কঙ্গোতে সক্রিয় অবদান রেখে চলেছে।

আরও পড়ুন: সার্বিয়ার নির্বাচনে ভুচিচের পরাজয়, বিরোধী জোট ‘স্টুডেন্ট লিস্ট’ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন

প্রশ্ন : কঙ্গোতে আপনারা ‘চ্যাপ্টার সেভেন’ অপারেশনের অধীনে কাজ করেছেন, এটি আসলে কী ধরনের অপারেশন ছিল?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু মুসা শারফ্উদ্দিন : ২০০৩ সালে কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ‘ইতুরি’র রাজধানী ‘বুনিয়া’তে জাতিসংঘের ক্যাম্পের ওপর মিলিশিয়ারা অতর্কিত ও ভয়াবহ আক্রমণ চালায়। পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে গেলে জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিল ‘চ্যাপ্টার সেভেন’ অনুমোদন করে। এর আওতায় শান্তিরক্ষীদের কেবল আত্মরক্ষা নয়, বরং সাধারণ বেসামরিক নাগরিক, জাতিসংঘ কর্মী ও এনজিওদের জীবন বাঁচাতে সরাসরি আক্রমণাত্মক সামরিক অপারেশন ও বলপ্রয়োগের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়। বিশ্বের খুব কম মিশনে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়, কঙ্গো তার একটি। সুদানে একটি, তার পরে লেবাননে একটি। এ তিন-চারটি শুধু জাতিসংঘের এই চ্যাপ্টার সেভেনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রশ্ন : যুদ্ধ বলতে সাধারণ দর্শক টিভি পর্দা বা পত্রিকার পাতা বোঝে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব পরিস্থিতি আসলে কতটা ভয়ংকর ও জটিল?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইমদাদুল হক : যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতার ডাইমেনশন বা মাত্রা সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা যখন কঙ্গোতে চ্যাপ্টার সেভেন অপারেশনের অধীনে ইতুরি ননগ্রেন্ডার অপারেশন পরিকল্পনা করছিলাম, উদ্দেশ্য ছিল এ্যভেবা নামক এলাকার একটি স্কুল ও তার চারপাশের অঞ্চল থেকে মিলিশিয়াদের প্রধান ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে তাদের উৎখাত করা।

আরও পড়ুন: সৌদিতে আটকে পড়া ৪০ ওমরাহ পালনকারী দেশে ফিরলেন

এ অভিযানে আমাদের শক্তি বাড়ানোর জন্য কঙ্গোর রাজধানী থেকে একটি বিশেষ কমান্ডো ব্যাটালিয়ন এসে আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। কিন্তু তারা যখন ‘আবা’তে এসে পৌঁছাল, আমরা দেখলাম তারা ছিল অত্যন্ত ‘ইল-ফেড’ এবং ‘ইল-ইকুইপড’ (খাবার ও সরঞ্জামহীন)। তাদের নিজেদের কোনো খাবার ছিল না, পর্যাপ্ত অস্ত্র বা গোলাবারুদও ছিল না। প্রথম দিন থেকেই আমাদের নিজেদের তহবিল থেকে তাদের খাবার, অস্ত্র ও অ্যামুনিশন (গোলাবারুদ) দিয়ে সাহায্য করতে হয়েছিল। সবচেয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হলো যখন আমরা অপারেশন শুরু করে একদম শত্রুর লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম। তীব্র যুদ্ধক্ষেত্রে কঙ্গোলিজ কমান্ডোরা প্রচুর ‘ক্যাজুয়ালটি সাফার’ করল, অর্থাৎ তাদের অনেক সেনা মারা গেল এবং গুরুতর আহত হলো। এ ক্ষয়ক্ষতি দেখে তারা আতঙ্কিত হয়ে হঠাৎ যুদ্ধ করতে অস্বীকৃতি জানাল। তারা বিদ্রোহ করে বসল এবং আমাদের বলল, ‘তোমরা আর সামনে যেতে পারবে না’।

কঙ্গোলিজ সেনারা গাড়ি থেকে নেমেই নিজেদের রিজনাল কমান্ডারের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ‘ইনডিসক্রিমিনেটলি’ (এলোপাতাড়ি) গুলি ও গ্রেনেড হামলা শুরু করল। তাদের ক্ষোভ ছিল রাজধানী কিনশাসা থেকে আসার পর তাদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি এবং যথাযথ সরঞ্জাম ছাড়াই তাদের মরার জন্য যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সামরিক পরিভাষায় একে বলি ‘কোঅর্ডিনেশন’-এর অভাব। অর্থাৎ ভিন্ন দুটি বাহিনী যখন একসঙ্গে যুক্ত হয়, তখন অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও বিশ্বাস না থাকলে শত্রুর চেয়েও নিজের ফ্রেন্ডলি ফোর্স বা মিত্রবাহিনী কত বড় ভীতি ও জটিল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, কঙ্গোর এ ঘটনাটি তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

প্রশ্ন : আপনাদের মিশনে কোন কোন দেশের বাহিনী যুক্ত ছিল এবং তাদের সঙ্গে সমন্বয় কীভাবে করেছেন?

জেনারেল মাহবুব হায়দার খান : ‘মনুক’ মিশনে বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, নেপাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, গুয়েতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, ইন্ডিয়াসহ প্রায় ১২টির বেশি দেশের শান্তিরক্ষী যুক্ত ছিল। সেখানে ভারতীয় বিমানবাহিনীর অ্যাটাক হেলিকপ্টার এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ইউটিলিটি হেলিকপ্টারও মোতায়েন ছিল। আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাটি আয়তনে প্রায় গোটা বাংলাদেশের সমান বড় ছিল। এত বড় দুর্গম এলাকায় বিভিন্ন দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত চমৎকার সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা আমাদের সামরিক অপারেশন পরিচালনা করেছি।

আরও পড়ুন: আজ নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে, বৃষ্টির শঙ্কা চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশালে

প্রশ্ন : বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন-৩-এর ওপর মূলত কোন কোন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু মুসা শারফ্উদ্দিন : আমাদের মূল দায়িত্ব ছিল কঙ্গোর আসন্ন সাধারণ নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে হতে পারে, সেজন্য একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা। তখন সেখানে চরম অরাজকতা চলছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা ৩ হাজারের বেশি ছোটবড় অভিযান পরিচালনা করেছি। এর বাইরে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা রক্ষা, সাধারণ নাগরিকদের গণহত্যা থেকে বাঁচানো, মিলিশিয়াদের ক্যাম্প উচ্ছেদ এবং জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থাকে এসকর্ট বা নিরাপত্তা দেওয়া ও পুনর্গঠনমূলক কাজ করাই ছিল আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

প্রশ্ন : আপনাদের পরিচালিত প্রথম বড় অভিযান ‘অপারেশন বোগা’ কখন শুরু হয়েছিল এবং এর অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু মুসা শারফ্উদ্দিন : ২০০৫ সালের ২২ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে আমাদের ‘অপারেশন বোগা’ পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। বোগা অঞ্চলটি আমাদের মূল ক্যাম্প থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে গভীর জঙ্গল ও উঁচু পাহাড়ে ঘেরা এলাকা ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং কোনো পূর্ব তথ্য বা ‘গ্রাউন্ড রেকি’ করার সুযোগ ছাড়াই ৯ সেপ্টেম্বর প্রবল বৃষ্টির মধ্যে আমরা রওনা হই। আমাদের সঙ্গে বাংলাদেশি সেনা ছাড়াও লোকাল আর্মি, সেনেগালি ও মরোক্কান ফোর্স ছিল। এক দিনে পৌঁছানোর কথা থাকলেও রাস্তার করুণ অবস্থার কারণে তিন দিনে আমরা অর্ধেক পথও যেতে পারিনি। কাঠের বড় বড় গুঁড়ি দিয়ে কালভার্ট বানিয়ে ৫০-৬০টি সাঁজোয়া গাড়ি পার করতে হয়েছে। তৃতীয় দিনে ভারতীয় বিমানবাহিনীর মাধ্যমে জানতে পারি ১৫ কিলোমিটার সামনে পাহাড়ের চূড়ায় ২০০ মিলিশিয়া আমাদের অ্যামুশ করার জন্য প্রস্তুত। এর মধ্যেই পিচ্ছিল রাস্তায় পিছলে একটি এপিসি ১০ জন সেনা নিয়ে ৫০ ফুট নিচে খাদে পড়ে যায়। ভাগ্যক্রমে আমরা দ্রুত সবাইকে জীবিত ও বড় কোনো আঘাত ছাড়াই উদ্ধার করতে সক্ষম হই। পরে বিকল্প প্ল্যান অনুযায়ী হেলিকপ্টাওে সেনা পাঠিয়ে অভিযান সম্পন্ন করা হয়।

আরও পড়ুন: বিএনপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে নারীর কুরুচিপূর্ণ পোস্ট, অতঃপর আটক সাথী আক্তার

প্রশ্ন : পরিবেশগত বৈরিতার পাশাপাশি ভাষাগত পার্থক্য তো ছিলই। যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে আপনারা কী ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু মুসা শারফ্উদ্দিন : কঙ্গোতে ফ্রেঞ্চ এবং স্থানীয় সোয়াহিলি ভাষা ব্যবহার করা হতো। তথ্য সংগ্রহের জন্য আমরা বিশ্বস্ত লোকাল ইন্টারপ্রেটার ব্যবহার করতাম। এ ছাড়া আমাদের গোয়েন্দাদল এবং টহলদল স্থানীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে তথ্য আনত। ‘ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম’-এর মতো জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থা থেকেও তথ্য পেতাম। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বিদ্রোহীদের ভয়ে সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবননাশের আশঙ্কায় সহজে মুখ খুলতে বা তথ্য দিতে চাইত না। আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের চেয়ে এখানকার তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি ছিল অনেক বেশি জটিল ও সীমাবদ্ধতাপূর্ণ।

প্রশ্ন : ‘চে’ অঞ্চলে প্রথম দুটি অভিযান কেন ব্যর্থ হয়েছিল এবং পরে ‘অপারেশন ইতুরি এক্সপ্লোরার’ কীভাবে নতুনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল?

জেনারেল মাহবুব হায়দার খান : কঙ্গোর ‘চে’ রুয়ান্ডা ও উগান্ডার সীমান্ত সংযোগস্থলে অবস্থিত অত্যন্ত গভীর জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকা। দুর্গম হওয়ায় মিলিশিয়ারা একে তাদের মূল প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং অস্ত্রাগার বানিয়েছিল। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে ‘চে’ দখল করা অত্যাবশ্যকীয় ছিল। এর আগে ২০০৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্যান্য দেশের বাহিনী নিয়ে দুটি অভিযান চালানো হলেও বিদ্রোহীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তা ব্যর্থ হয়। তৃতীয়বার মে মাসে যখন আমরা অপারেশনের দায়িত্ব পাই, তখন আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ‘ওয়ারগেমিং’ বা রণকৌশল মহড়া করি। ভাষার ভিন্নতা ও যোগাযোগের সমস্যা দূর করার পরিকল্পনা করা হয়। আগে শুধু একদিক থেকে আক্রমণ করা হয়েছিল, এবার আমরা তিন দিক থেকে (উত্তর, কেন্দ্র ও দক্ষিণ টাস্কফোর্স) একযোগে সাঁড়াশি আক্রমণ চালাই এবং কঙ্গো সরকারি বাহিনীকে সামনে রেখে সফলভাবে শত্রুর দুর্গ ধ্বংস করি।

প্রশ্ন : এই পুরো অপারেশনের সময় চ্যালেঞ্জগুলো কী ছিল?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইমদাদুল হক : বড় সমস্যা ছিল ‘মাল্টি-লিঙ্গুয়েস্টিক’ বা বহুভাষিক জটিলতা। ৮-১০টি দেশের যৌথ বাহিনীর সবাই ইংরেজি জানত না, এমনকি আমাদের সঙ্গে থাকা কঙ্গোলিজ সেনারাও না। দোভাষী থাকলেও যুদ্ধের তীব্র উত্তেজনার মুহূর্তে মনের ভাব হুবহু প্রকাশ করা কঠিন হতো। এ ছাড়া সিগন্যাল যন্ত্রাদির বিভিন্নতা অপারেশনের চ্যালেঞ্জ বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেয়।

প্রশ্ন : কঙ্গোতে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের সবচেয়ে বড় অর্জন কী ছিল?

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু মুসা শারফ্উদ্দিন : আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও ওই রক্তাক্ত এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা। যার ফলে স্থানীয় মানুষ আশ্বস্ত হয়ে কঙ্গোর ইতিহাসে প্রথম একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে ভোট দিতে পেরেছিল এবং বিদ্রোহী মিলিশিয়াদের চলাচল ও কার্যক্রম বহুলাংশে সীমিত করা সম্ভব হয়েছিল।

প্রশ্ন : সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের এ অভিজ্ঞতা থেকে সাধারণ দর্শকদের উদ্দেশে শেষ কী বলবেন?

জেনারেল মাহবুব হায়দার খান : এই আন্তর্জাতিক মিশন থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদার প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের কৌশলের ওপর আমাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বেড়ে গেছে। আমরা যে ধ্রুপদি রণকৌশল ব্যবহার করে ‘চে’ অঞ্চল মুক্ত করেছি, তা ছিল বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে অনন্য। এ বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের শিক্ষা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনিয়া গান্ধী কি মমতাকে কংগ্রেসে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৭ এম


সোনিয়া গান্ধী কি মমতাকে কংগ্রেসে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছেন?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে নতুন একটি জল্পনা শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, সোনিয়া গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের দলে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছেন। কংগ্রেস গত প্রায় তিন দশক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হাতে তৃণমূল গড়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দলীয় ভাঙন, নেতৃত্ব সংকট এবং দুর্নীতির অভিযোগের চাপে তৃণমূল কংগ্রেস অস্তিত্বের জন্য লড়াই করছে।

সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, দলটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়ক ও সাংসদ প্রকাশ্যে বা আড়ালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের সমালোচনা করছেন।

এমন অস্থিরতার মধ্যে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অংশ নিতে ৮ জুন দিল্লি যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই দিনের সফরের পর বুধবার (১০ জুন) কলকাতায় ফিরে আসেন। তার আগের দিন কলকাতায় তার বাসভবন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে সিআইডির তল্লাশি নতুন করে রাজনৈতিক চাপ বাড়িয়েছে। দুর্নীতির একাধিক অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্তও জোরদার হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

দিল্লি সফরের সময়ে ১০ জনপথে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে মমতা এবং অভিষেকের বৈঠকটি সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল।

ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ওই বৈঠকে সোনিয়া গান্ধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহসভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে দলে ফেরার প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব বা তৃণমূল কংগ্রেসের কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্তব্য করেননি।

এখন তৃণমূলের দুর্বল অবস্থানকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে শুরু করেছেন মমতা-বিরোধী শিবিরও। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মমতা ও অভিষেককে কটাক্ষ করেন।

তিনি দাবি করেছেন যে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সংকট এবং নেতৃত্বের ব্যর্থতার ফলেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে দল ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই দলটি গত আড়াই দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছে। কিন্তু ২৮ বছর পর দলীয় বিভাজন, নির্বাচনী বিপর্যয় এবং আইনি চাপের মুখে এখন তৃণমূল কষ্টদায়ক সময় পার করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের অগ্রযাত্রায় শিক্ষাই হবে মূল চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


দেশের অগ্রযাত্রায় শিক্ষাই হবে মূল চালিকাশক্তি: শিক্ষামন্ত্রী

 শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা খাতেই ভবিষ্যতের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে বাংলাদেশে। তিনি বলেন, দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা অর্জন এবং জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে শিক্ষায় বিনিয়োগের সর্বোচ্চ গুরুত্ব রয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর শহীদ ইয়ামিন অডিটোরিয়ামে বুধবার রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্র্যাজুয়েশন ডিনারের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে দেশের শিক্ষা খাতের জন্য সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট বৃদ্ধির মাধ্যমে এটি ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা হয়েছে যা গত অর্থবছরের ৮৮ হাজার কোটি টাকার তুলনায় অনেক বেশি।

তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় দেশের সবচেয়ে বড় মন্ত্রণালয়। এবার আমরা ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেয়েছি। গত বছর এটি ৮৮ হাজার কোটি টাকা ছিল, তবে গত বছরে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের ব্যয় একত্রে হিসাব করা হয়েছিল, এবারে তা আলাদা করা হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধাপে ধাপে আরও বাড়ানো হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশ এত বিশাল সম্পদের দেশ, এত সুন্দর দেশ। আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? আমাদের পিছিয়ে থাকার একমাত্র ক্ষেত্র প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাত।’ শিক্ষা খাতে উন্নয়ন ঘটালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের তরুণ সমাজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। জনসংখ্যাকে অভিশাপ হিসেবে নয় বরং আশীর্বাদ হিসেবে নিতে হবে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য তিনি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ড. মিলন জানান, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নিজ দেশে ফিরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। পরে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি আবার বলেন, ‘দেশকে সেবা করার জন্য আমি দেশে ফিরেছিলাম, দুর্নীতির জন্য নয়। দুর্নীতির জন্য আমি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করিনি।’

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার আঞ্চলিক কেন্দ্র বা ‘ক্রস-বর্ডার এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন উচ্চমানের বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনায় আগ্রহী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যপ্রাচ্যে ১৮ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি আইআরজিসির, টার্গেটে মার্কিন ঘাঁটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩১ এম


মধ্যপ্রাচ্যে ১৮ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি আইআরজিসির, টার্গেটে মার্কিন ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন আরো বেড়ে গেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডবাহিনী (আইআরজিসি) তাদের দাবি পেশ করেছে, যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।

এই লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বিশেষভাবে জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই ঘাঁটিতে অবস্থান করা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর বিরুদ্ধে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তারা জানাচ্ছে, এই বিমানগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

লক্ষ্যবস্তুতে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ মডেলের বিমান ছিল বলেও আইআরজিসি দাবি করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। তবে এই দাবির সত্যতা বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শুধু জর্ডান নয়, কুয়েতের দুটি বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের একটি বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের এই বাহিনী আরো জানিয়েছে, তাদের কয়েকটি হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি। তারা দাবি করেছে, এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হামলার প্রভাব ছিল ব্যাপক।

আইআরজিসির মতে, এসব অভিযান পরিচালনার সময়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের দাবি, হামলাগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালিত হয়েছে।

এই কর্তৃপক্ষ বলছে, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে সাম্প্রতিক হামলা চালিয়েছে, তার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আইআরজিসি তারা জানিয়েছেন, রাতের এক বা দুই দফায় মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়েছে। আঞ্চলিক দেশগুলো এখন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এভাবে বাড়তে থাকলে সংঘাত আরো বড় আকার নিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় ইট নিক্ষেপের ভিডিও ভাইরাল, যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:৩২ এম


মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় ইট নিক্ষেপের ভিডিও ভাইরাল, যা জানা গেল

রাজধানীর ঢাকা শহরের মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায় একটি চলন্ত মোটরসাইকেল আরোহীর মাথায় ইট নিক্ষেপের ঘটনাটি ঘিরে ছিনতাইয়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

এই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক রাতের সময়ে তার ‘ইয়ামাহা এফজেড ভার্সন ৩’ মোটরসাইকেল নিয়ে গলিপথের মাধ্যমে যাচ্ছিলেন। তার মাথায় হেলমেট ছিল না। এ সময় দুই দুর্বৃত্তের মধ্যে একজন আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিল এবং চলন্ত অবস্থায় যুবকের মাথায় সজোরে একটি ইট নিক্ষেপ করে। এই কারণে যুবক মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় পড়ে যান। পরে দেখা যায়, দুর্বৃত্তদের একজন দ্রুত মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে যায়।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ঘটনার পরেই অপর একজন ব্যক্তি ঘটনাটিকে “দুর্ঘটনা” বলে চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং আহত যুবককে রিকশায় তুলে হাসপাতালে পাঠানোর নাটকীয় ভূমিকা পালন করে।

কাফরুল থানা পুলিশ জানায়, ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তারা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করেন এবং ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেন।

থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বশত্রুতার কারণে পরিকল্পিত ছিনতাই বলে ধারণা পোষণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদেরকে খুব শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে।

উদ্ধারকৃত মোটরসাইকেলটি বর্তমানে থানা হেফাজতে রক্ষিত আছে। ঘটনার তদন্তে একাধিক টিম কাজ করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%