মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৪৭ পি.এম
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ মেখল মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা উসমান ফয়েজী মারা গেছেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টায় তিনি চট্টগ্রামের নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক ও মেখল মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পেটের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন।
মাওলানা উসমান ফয়েজীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে মাওলানা এখলাস ফয়েজী।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে মেখল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ভক্ত-অনুরাগী ও আলেম সমাজের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তবে মাওলানা উসমান ফয়েজীর নামাজে জানাজা ও দাফনের সময়সূচির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, মাওলানা উসমান ফয়েজী দেশের প্রখ্যাত সুপরিচিত আলেম পরিবারের সদস্য এবং মুফতি আজম আল্লামা ফয়জুল্লাহ (রহ.)-এর ছোট নাতি।
তিনি মেখল মাদরাসার সাবেক মুহতামিম আল্লামা নোমান ফয়েজী (রহ.)-এর ছোট ভাই। মাওলানা নোমান ফয়েজীর মৃত্যুর পর এক জরুরি শুরা বৈঠকে মাওলানা উসমান ফয়েজীকে প্রতিষ্ঠানটির নতুন মুহতামিম হিসেবে মনোনীত করা হয়।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখলে অবস্থিত জামিয়া হামিউচ্ছুন্নাহ দেশের অন্যতম প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা দীর্ঘকাল ধরে ইসলামি শিক্ষা ও দ্বীনি দাওয়াতের প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনে সংঘাতের নতুন পর্যায়ে এক লাখের বেশি মানুষ দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়া, আরও কয়েক হাজার মানুষ সমুদ্রপথে পালিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর উল্লেখ করে, ইয়েমেনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, টেলিযোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে ত্রাণ ও মানবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করছে এবং ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ধরে বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সেবা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম প্রটোকল ছাড়াই আঞ্চলিক কার্যালয়-৫ এ ঝটিকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রশাসক গোপনীয়তা রক্ষা করে সার্বিক পরিস্থিতি সরাসরি দেখতে ব্যক্তিগত গাড়ি চালককে নিয়ে বের হন। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে তিনি আঞ্চলিক কার্যালয়-৫ এ পৌঁছান এবং বাইরে দাঁড়িয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আগমন পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর সকাল ৯টা ২ মিনিটে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করে মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন, যাতে বিলম্বকারী কেউ প্রবেশ করতে না পারে।
এ সময় প্রশাসক কার্যালয়ের প্রতিটি কক্ষ পর্যবেক্ষণ করেন। হাজিরা খাতা যাচাই করার পর তিনি দেখতে পান, প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী অনুপস্থিত। এই অনিয়ম ও অবহেলার বিষয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অনুপস্থিতদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলীকে নির্দেশ দেন।
আঞ্চলিক কার্যালয় পরিদর্শনের পর প্রশাসক ডিএসসিসির ১১ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাহানপুর এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের উপস্থিতি ও হাজিরা খাতা তদারকি করেন। সেখানেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অনুপস্থিতি দেখে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রধান বর্জ্যব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মাহবুবুর রহমান তালুকদারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
পরবর্তীতে প্রশাসক মতিঝিল পীর জঙ্গির মাজার থেকে আইডিয়াল স্কুল, ফকিরাপুল, আরামবাগ ও দৈনিক বাংলা হয়ে বঙ্গভবন পর্যন্ত এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ সময় অবৈধ দোকানপাট ও সাময়িক স্থাপনা উচ্ছেদ করে পথচারীদের চলাচলের পথ সুগম করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বেমালীয়া নদীতে সংঘটিত একটি দুর্ঘটনায় দুজন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার এক যুবকও রয়েছে। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে, উপজেলার ভলাকুট ইউনিয়নের খাগালিয়া গ্রামের নিকটে।
নিহত সজীব মিয়া কুলিয়ারচর উপজেলার বড়খারচর গ্রামের হানিফ মিয়ার পুত্র। অপর নিহত ব্যক্তি দয়াল মিয়া নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের চাতলপাড় গ্রামের রায়হান ভূঁইয়ার সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাতের বেলায় একটি অসুস্থ রোগীকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে দেওয়ার পর স্পিডবোটটি চাতলপাড়ের দিকে ফিরছিল। খাগালিয়া গ্রামের কাছে বেমালীয়া নদীতে পৌঁছানোর পর, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি স্টিলের বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।
এই সংঘর্ষে স্পিডবোটে থাকা তিনজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার তীব্র শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সজীব মিয়া ও দয়াল মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে আহত অবস্থায় তিনজনকে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপরজনের প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়েছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে যায়। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে, সজীব মিয়ার মৃত্যুর খবর কুলিয়ারচরের বড়খারচর গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজা উপত্যকায়, যা ফিলিস্তিনের একটি অবরুদ্ধ এলাকা, ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে, জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক তদন্তকারীদের গাজার পুরো অঞ্চলে অবাধ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে, যাতে ইসরায়েল বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের প্রমাণ সংরক্ষণ করা যায়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ফলকার তুর্ক এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, "ইসরায়েলি হামলায় মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া স্থানগুলো থেকে একের পর এক পুরো পরিবারের সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। আমার আশঙ্কা, এ পর্যন্ত যে পরিমাণ মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় খুবই সামান্য। গাজার একটি বড় অংশ ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।"
তুর্ক আরও উল্লেখ করেছেন যে, বুলডোজার দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর সময় সেখানে মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ বা আলামতের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
ফিলিস্তিনের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৬৩০টিরও বেশি মরদেহ ও মানবাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া এসব দেহের অধিকাংশই নারী ও শিশুদের। বোমাবর্ষণের দীর্ঘ সময় পরও যেভাবে ব্যাপক হারে মানবাবশেষ পাওয়া যাচ্ছে, তা ইসরায়েলি বাহিনীর সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় বলে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ