ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে


চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রোডম্যাপ তৈরিতে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে

চামড়া ও পাদুকা শিল্পের সমস্যা চিহ্নিত করে দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা কাজে লাগানো এবং রপ্তানি বাড়াতে বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করছে সরকার। বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানিয়েছেন, রোডম্যাপের খসড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় ‘দশম বাংলাদেশ লেদার অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্য সচিব উল্লেখ করেন, চামড়া শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বাণিজ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শিল্পটির জন্য কর্মমুখী রোডম্যাপ তৈরির কাজ করছে। এতে ট্যানারির মালিক, প্রস্তুতকারক, ব্যবসায়ী, প্রযুক্তিবিদসহ সংশ্লিষ্ট সবার বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদা প্রতিফলিত হবে।

আরও পড়ুন: ভারতের একক বৃহত্তম তেল শোধনাগার পরিদর্শনে রুবিও, কিন্তু কেন?

দেশীয় বাজারের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের কাঁচামাল দেশেই রয়েছে এবং এ খাতে দেশের প্রযুক্তিবিদদের সক্ষমতাও বেড়েছে। দেশের মানুষকে দেশীয় চামড়াজাত পণ্য ব্যবহারে আরও উৎসাহিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

রপ্তানি বাড়াতে বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণে সরকারের সহযোগিতার কথা জানান বাণিজ্য সচিব। তিনি বলেন, পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দিতে হবে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের একটি কাঠামো এবং জাতীয় ট্রেসেবিলিটি কাঠামো তৈরির কাজ করছে। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর জন্য পৃথক ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

চামড়া শিল্পে গবেষণা জোরদারে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মো. আতাউর রহমান খান। তিনি বলেন, চামড়া প্রযুক্তির শিক্ষার্থী ও গবেষকদের সঙ্গে ট্যানারি মালিক এবং উদ্যোক্তাদের সংযোগ আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বিষয়টি রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

অনুষ্ঠানে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পের পরই চামড়া শিল্পের অবস্থান। নতুন বাজারে প্রবেশ এবং বিদ্যমান বাজারে অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে এ শিল্পের। এ জন্য প্রয়োজন যথাযথ পরিকল্পনা ও বিশেষ উদ্যোগ। বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত চামড়ার পাশাপাশি জুতা, ভ্রমণব্যাগ, বেল্ট ও মানিব্যাগ রপ্তানি হচ্ছে। চামড়ার তৈরি বিভিন্ন শৌখিন পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে। দেশের অনেক হস্তশিল্প প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য তৈরি করে বিশ্ববাজারে পাঠাচ্ছে। বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশে প্রায় ৫ হাজার ৫০০টি ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানা রয়েছে। পাদুকা উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম দেশ এবং ভোক্তাবাজার হিসেবে নবম।

আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত

দেশে প্রতিবছর আনুমানিক ২৭ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়। এর বেশির ভাগ রপ্তানি করা হয়; অবশিষ্ট অংশ দেশের চামড়াজাত পণ্য শিল্পে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের চামড়া প্রধানত ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, হংকং ও তাইওয়ানে রপ্তানি হয়। দেশের বাজারেও পাদুকার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বের নামকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পাদুকা তৈরির ক্রয়াদেশ পাচ্ছে দেশীয় কোম্পানিগুলো। ফলে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ), লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস সোসাইটি, বাংলাদেশ (লেটস’বি) এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশনস প্রাইভেট লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনীটি ২৪ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রাজধানীর কুড়িলে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চলবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। দেশি-বিদেশি ২৫০টির বেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এক্সপোতে অংশ নিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. সাখাওয়াত উল্লাহ। এছাড়াও ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ও লেদার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্ট সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ী, প্রস্তুতকারক ও প্রযুক্তিবিদরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: নিছিদ্র নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি পরিদর্শন করলেন শতাধিক মণ্ডপ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ৪, আফগানিস্তানের পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৫১ পি.এম


পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত অন্তত ৪, আফগানিস্তানের পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি

পাকিস্তান আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা এবং ড্রোন মজুতাগারকে লক্ষ্য করে পাল্টা বিমান হামলা পরিচালনা করেছে। বৃহস্পতিবার কান্দাহার, পাক্তিয়া ও খোস্ত প্রদেশের ১০টি স্থানে এই বিমান হামলা সংঘটিত হয়। আফগান তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, গত বুধবার আফগান ভূখণ্ড থেকে ড্রোন ব্যবহার করে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব এবং সীমান্ত লঙ্ঘন করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাকিস্তানি বাহিনী একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক, নিখুঁত এবং সংহত সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি নিহত চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আফগানিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই আগ্রাসনের উপযুক্ত ও কার্যকর জবাব দেওয়া হবে।

আফগান তালেবান সীমান্ত পার হয়ে ড্রোন হামলার দায় অস্বীকার করলেও দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের একটি পুলিশ ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলায় ২১ জন নিহত হওয়ার পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এর আগে গত সোমবার আফগানিস্তানের নূর্গাল জেলায় এক বিমান হামলায় সাধারণ নাগরিকদের নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে চীন, তুরস্ক, কাতার এবং সৌদি আরব মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও পাকিস্তান-আফগানিস্তান বিমান হামলার কারণে পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ণ্ডারিয়ায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রবাসীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০০ পি.এম


ণ্ডারিয়ায় ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রবাসীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ১

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর বসতঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টা ৫ মিনিটের দিকে উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের বেতাগী সিংখালী ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেতাগী সিংখালী এলাকার বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী মো. আজম খান (৫০) তিনি দুবাই থেকে ফেসবুকে একটি বিতর্কিত পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যক্তিরা ওই রাতে তার বাড়িতে হামলা চালায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা বাড়ির দোতালায় উঠে ভাঙচুর করে এবং সেখানে অগ্নিসংযোগ করে। এতে ঘরের বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ঘটনার পর আজম খানের মা মোসা. মমতাজ বেগম বাদী হয়ে ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩৫ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আমির হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছে।

ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলাপাড়ায় খেয়ার নৌকা আছে, তবে ঘাটে পৌঁছানোর পথ জোয়ারের সময় পানিতে ডুবে থাকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:০২ পি.এম


কলাপাড়ায় খেয়ার নৌকা আছে, তবে ঘাটে পৌঁছানোর পথ জোয়ারের সময় পানিতে ডুবে থাকে

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাঝের খেয়া ব্যবহারকারী মানুষদের ঘাট আছে, নৌকা আছে, কিন্তু ঘাটে পৌঁছানোর পথ নেই। জোয়ারের সময় পানিতে ডুবে থাকে পথ, আর ভাটায় সেখানে জমে থাকে হাঁটু সমান কাঁদা। বাধ্য হয়ে সেই কাঁদা মাড়িয়েই খেয়ায় উঠতে হয় কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষকে। কখনো আবার অন্যের বাড়ির উপর দিয়ে ঘুরে যেতে হয় ঘাটে। বছরের প্রায় সাত/আট মাস ধরে এভাবেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন মাঝের খেয়াঘাট ব্যবহারকারী মানুষদের।

বৃ্‌হস্পতিবার সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থা চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মিঠাগঞ্জ গ্রামসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য এ ঘাটটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ প্রতিদিন এ পথে যাতায়াত করেন। কিন্তু সংযোগ পথের অভাবে বর্ষা মৌসুম ও জোয়ারের সময় তাদের ভোগান্তি বাড়ে। জোয়ারের পানি বাড়লে ঘাটের সংযোগ পথ পানিতে ডুবে যায়। ফলে পায়ে হেঁটে যাওয়ারও সুযোগ থাকে না। পানি নেমে গেলে তৈরি হয় আরেক বিড়ম্বনা। কাঁদায় পা আটকে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। এ কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে বা অন্যের বাড়ির উপর দিয়ে ঘুরে ঘাটে পৌঁছান। এটি টিয়াখালী ইউনিয়নের অংশের ঘাটের চিত্র। অপর প্রান্ত মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের অংশ তুলনামূলক ভালো হলেও বৃষ্টির সময় সেখানে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভাটার সময় কাঁদা মাড়িয়ে খেয়ায় ওঠা যাত্রীদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

টিয়াখালী ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকার স্থানীয় দোকানদার আব্দুর রহমান সিকদার বলেন, জোয়ারের সময় এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারে না। ছোটবেলা থেকেই রাস্তার এমন অবস্থা দেখে আসছি। অথচ শিক্ষক, শিক্ষার্থীরাও এই পথ ব্যবহার করেন। রাস্তা উঁচু করে দিলে সমস্যার সমাধান হবে।

মিঠাগঞ্জ বড় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. নেছার উদ্দিন জানান, জোয়ারের সময় খেয়া পার হতে হলে কাপড় অনেক ওপরে তুলতে হয়। নারীদের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর। আবার ভাটায় হাঁটুসমান কাঁদা পেরিয়ে ঘাটে উঠতে হয়।

খেয়া যাত্রী মো. আলামিন মিয়া বলেন, দুই পাড়েই সমস্যা রয়েছে। তবে উত্তর পাড়ের অবস্থা বেশি খারাপ। বেড়িবাঁধ থেকে খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি উঁচু করে নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে।

খেয়াঘাটের মাঝি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানায়, জোয়ারে ঘাটে আসার পথ পানিতে ভরে যায়, আর ভাটায় হাঁটুসমান কাঁদা থাকে। মানুষজন ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় যাত্রী না থাকায় সারাদিন বসে থাকতে হয়।

মিঠাগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দীপা সিকদার বলেন, তিন বছর ধরে এখানে চাকরি করছি। কলাপাড়া শহর থেকে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের দুর্ভোগ বেশি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কলাপাড়া শহর থেকে আসেন। এ ছাড়া এলাকায় দুটি মাদ্রাসা ও একটি উচ্চবিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষককেও এই খেয়া ব্যবহার করতে হয়। সংযোগ সড়ক উঁচু করা ছাড়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিষয়টি সমাধানের জন্য কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছি।

এবিষয়ে কলাপাড়া এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এই খেয়াঘাটে জোয়ারে পানি বেড়ে গেলে তলিয়ে যায়, আবার ভাটায় কাঁদায় ভরে যায়। আসলে সংযোগ সড়কটি মাটি দিয়ে উঁচু করা দরকার। ফান্ডিংয়ের জন্য এটা আমি সামনের উপজেলা পরিষদের মাসিক মিটিংয়ে উত্থাপন করবো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কিশোরকে গলা টিপে হত্যা: ১৯ বছর পর মামা-ভাগ্নের যাবজ্জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:২০ পি.এম


কিশোরকে গলা টিপে হত্যা: ১৯ বছর পর মামা-ভাগ্নের যাবজ্জীবন

ভোলা সদর উপজেলার আলোচিত কিশোর রেদোয়ান রাসেল হত্যা মামলায় আদালত দুই আসামির জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙাশিয়া গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সুজন এবং তার মামা মো. ইলিয়াস। ২০০৭ সালে মোবাইল বিক্রি না করায় কিশোরটিকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। প্রায় ১৯ বছর পর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের আদালতে এই রায় প্রদান করেন।

আদালত ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোর রেদোয়ান রাসেল তার বাবার হাওলাদার বাজারের মুদি দোকানে অবস্থান করছিল। তার কাছে মায়ের কেনা নোকিয়া ১১০০ মডেলের একটি মোবাইল ফোন ছিল। এ সময় প্রতিবেশী সুজন তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলার কথা বলে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রেদোয়ান নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবার ধারণা করেছিল, সে হয়তো নিকটাত্মীয়দের বাড়িতে গেছে। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সে কারো বাড়িতে যায়নি। নিখোঁজের পরদিন পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। ঘটনার দুই দিন পর ৩০ ডিসেম্বর স্থানীয়দের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, দক্ষিণ চরপাতা দারোগার খালের পাশে সিদ্দিক মালের বাড়ির সামনে এক কিশোরের মরদেহ পাওয়া গেছে। পরে মরদেহ দেখে পরিবারের সদস্যরা রেদোয়ানকে শনাক্ত করেন। মরদেহের মুখ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর রেদোয়ানের বাবা আব্দুল হক বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তাগণ সুজন ও ইলিয়াসকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০০৯ সালের ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. তৈয়ব বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞ আদালত আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এতে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছি। সামান্য একটি মোবাইলের জন্য হত্যাকাণ্ড—এটি সামাজিক অবক্ষয়ের নমুনা ও নির্মম হত্যাকাণ্ড এটি। ভুক্তভোগীকে গলা টিপে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে খালে ফেলে দিয়েছিল আসামিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%