০৪:৪৩ পি.এম
চট্টগ্রাম, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর দিয়ে আমদানি করা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এর মধ্যে ৩৪ কনটেইনারে থাকা ৯৩৫ টন খেজুর এবং ৪০ কনটেইনারে থাকা ১ হাজার ২০ টন মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশ রয়েছে। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইমস্টোন, বেনটোনাইট পাউডার, পচা কমলা, পচা পেঁয়াজ, নষ্ট কাজুবাদামসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যও ধ্বংস করা হচ্ছে।
গত ২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের রিপাবলিক ক্লাবের পেছনে বড় গর্ত খননের মাধ্যমে এসব পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু হয়। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত এক সপ্তাহে মোট ৮৮ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং বিধি অনুযায়ী ১২৬ কনটেইনারে থাকা নিম্নমানের, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রথম দিন ১০টি এবং দ্বিতীয় দিন ২৩টি কনটেইনার ধ্বংস করা হয়। এক সপ্তাহে ধ্বংস করা হয়েছে মোট ৮৮টি কনটেইনারের পণ্য।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
এর আগে গত ৬ আগস্ট বন্দরের কাস্টমস নিলাম শেডে রোলার দিয়ে পিষে ‘রয়েল টাইগার এনার্জি ড্রিংক’ ও ব্যক্তিগত পরিচর্যার পণ্য শ্যাম্পুসহ পাঁচ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হয়।
বর্তমান ধ্বংস কার্যক্রমে খেজুর ও সোডা অ্যাশের পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইমস্টোনের ১৮টি কনটেইনার, মেয়াদোত্তীর্ণ বেনটোনাইট পাউডারের ৮টি কনটেইনার এবং পচা কমলা, পেঁয়াজ, কাজুবাদামসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য রয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনায় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা ১২৬ কনটেইনারের নিলাম-অযোগ্য, নিম্নমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ মোট ৩ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন পণ্য পরিবেশবান্ধব উপায়ে ধ্বংস করছে।
সূত্র জানায়, গত ২৪ আগস্ট সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনে নির্ধারিত স্থানে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ধ্বংস কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি, আনসার এবং বন্দর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থেকে নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
এনবিআর মনে করছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের উদ্যোগে পচনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য ধ্বংসের এ কার্যক্রম বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা নিলাম-অযোগ্য ও পচনশীল পণ্য দ্রুততার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সহযোগিতায় ধ্বংস করা হবে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
সূত্র জানায়, জাহাজ থেকে বন্দরের ইয়ার্ডে পণ্য আসার পর ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে তা খালাস করতে হয়। নির্ধারিত সময়ে পণ্য খালাস না করলে আমদানিকারককে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশের পরও ১৫ দিন পণ্য খালাস না হলে তা নিলামে তোলা যেতে পারে। নিলামে পণ্য বিক্রি না হলে কিংবা পণ্যের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় তা ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ বলেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী কমিটি কোন কোন পণ্য ধ্বংসের উপযোগী তা যাচাই ও নির্ধারণ করে।
তিনি বলেন, বন্দরে রেফ্রিজারেটেড কনটেইনার থাকলে দীর্ঘ সময় সেগুলো বিদ্যুৎ সংযোগে রাখতে হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ হয়। একই সঙ্গে শিপিং এজেন্টের কনটেইনারগুলো বন্দরে আটকে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল ও অফডকে কনটেইনার জটের ঝুঁকি বাড়ে। পণ্য ধ্বংসের পর শিপিং এজেন্ট খালি কনটেইনারগুলো ফেরত নিতে পারে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন