বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:১৫ পি.এম
প্রকল্প পাসের পর বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ আর বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা ওয়াসার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ওয়াসা বোর্ডগুলো কাজের গতি কমিয়ে দেওয়ার কারণে সরকার আইন সংশোধন করে সারা দেশের সকল ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান আইনে ওয়াসাগুলোতে বোর্ড রাখার বিধান থাকলেও সরকার যেকোনো সময় তা গঠন বা ভেঙে দিতে পারে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বোর্ডগুলো জনসেবামূলক কাজে বাধা বা অনাবশ্যক হস্তক্ষেপ করছে।
ঢাকা মহানগরীতে পানির বর্তমান দৈনিক চাহিদা ও সরবরাহ ৩১৪ কোটি লিটার উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত সাত মাসে ওয়াসার কার্যক্রমে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন বা গতি দেখা যায়নি। পানির তীব্র সংকট তৈরি হলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তায়, তাই নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের হার কমিয়ে ২০-২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সারফেস ওয়াটারভিত্তিক প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা অঞ্চলের পাইপলাইন সংযোগ এবং পূর্বাচল এলাকায় পানি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
একই সঙ্গে শহরের অবৈধ পানির লাইন বিচ্ছিন্ন, বিলিং ব্যবস্থা অটোমেশন ও সিবিএ সংগঠনের রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী দুই মাস পর তিনি পুনরায় পর্যালোচনায় এসে আমূল পরিবর্তন দেখতে চান।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি ও সিবিএ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের থেনি জেলার একটি উপকারাগার থেকে বন্দিদের পালানোর ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া ১৭ বিচারাধীন বন্দিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার কারণে কয়েকজন বন্দি পালানোর পরিকল্পনা করে। একজন বন্দি অভিনয় করে মৃগীরোগের খিঁচুনি হচ্ছে বলে কারারক্ষীদের ব্যস্ত রাখে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পালানোর পরিকল্পনা করা হয় এবং রাত ১০টার দিকে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা শুরু হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর বন্দিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, যা পালানোর পরিকল্পনার পেছনে একটি কারণ।
তদন্তে জানা গেছে, ২৬ বছর বয়সী বিচারাধীন বন্দি লিঙ্গা প্রসাদ এই পরিকল্পনার মূল হোতা। তিনি কারারক্ষীদের বিভ্রান্ত করতে চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করার পরামর্শ দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডাকাতির মামলায় অভিযুক্ত আরেক বন্দি মুথু ইলাঙ্গোভান অভিনয় করে মৃগীরোগের খিঁচুনি হচ্ছে বলে। এতে কারারক্ষীরা তার সহায়তায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বন্দিরা পালানোর চেষ্টা করে।
কারারক্ষীরা খিঁচুনির অভিনয় করা বন্দির কাছে এগিয়ে এলে অন্য বন্দিরা হইচই শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তারা নিজেদের ব্লক থেকে বের হয়ে রান্নাঘরের সরঞ্জাম দিয়ে কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালায়। পরে প্রবেশপথের কাছে থাকা অন্য কারাকর্মীদেরও কাবু করে চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং কারাগার থেকে পালিয়ে যায়।
দক্ষিণাঞ্চলের পুলিশ মহাপরিদর্শক বিজয়েন্দ্র বিদারি এনডিটিভিকে জানান, বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পালানোর পরিকল্পনাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পালানোর পরিকল্পনাটি মূলত লিঙ্গা প্রসাদই করেছিলেন। তিনি শারীরিকভাবে আংশিক অক্ষম। সেদিন সন্ধ্যায় কয়েকজন বন্দি জামিনের আবেদন খারিজ হওয়া নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখনই লিঙ্গা প্রসাদ পালানোর প্রস্তাব দেন। অন্য বন্দিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই প্রস্তাবে রাজি হন বলে মনে হচ্ছে।’
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, লিঙ্গা প্রসাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ, ছিনতাই, চোরাই মাল রাখা ও হস্তান্তরসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া, সেদিন জামিন না পাওয়ায় আরও দুই বন্দি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাদের ক্ষোভও পালানোর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।
ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য এবং কে কী ভূমিকা রেখেছিলেন তা খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা পালিয়ে যাওয়া ১৭ বন্দিকেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। যে ব্লক থেকে বন্দিরা পালিয়েছিলেন, সেখানে মোট ৩২ জন বিচারাধীন বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন পালিয়ে যান। বাকি বন্দিরা এ ঘটনায় কোনোভাবে সহায়তা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দিদের পালানোর পরিকল্পনাটি দীর্ঘদিন ধরে করা হয়নি। বরং ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিজেদের মধ্যে আলোচনার সময়ই পরিকল্পনাটি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বন্দিরা কীভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করেছিলেন এবং কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা কীভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে দেশীয় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ মো.সাইফুল ইসলাম ওরফে শাকের (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় একটি একনলা বন্দুক, বন্দুকের বিভিন্ন অংশ এবং অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন। এর আগে বুধবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আকরাম উদ্দিন হাজী বাড়ির একটি কাচারি ঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সাইফুল ইসলাম দেওটি ইউনিয়নের আকরাম উদ্দিন হাজী বাড়ির মুমিন উল্লার ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ওসমান গনির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই কাচারিঘরে অভিযান চালায়। এ সময় অস্ত্র তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়।
পরে তার কাচারিঘরে তল্লাশি চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, বন্দুকের কাঠের বাট, লোহার বাট ও বডির বিভিন্ন অংশ, ট্রিগার, বোল্ট এবং এসএস স্টিলের আটটি ছোট-বড় অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত তিনটি প্লাস, তারসহ একটি গ্রাইন্ডিং মেশিন ও তিনটি রেত উদ্ধার করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন আরও বলেন, আসামীর বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহান আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং জ্ঞান ও স্বাধীনতা প্রদান করেছেন। তবে, এই স্বাধীনতা বল্গাহীন নয়। ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করেই সবকিছু করতে হবে।
ইসলামে ব্যবসার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যবসায়ীদের নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও নেককারদের সঙ্গে পরকালে হাশর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে, এই ফজিলত শুধু তাদের জন্য, যারা ব্যবসায় ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করবে। ইসলামে ব্যবসার দশ মূলনীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
ব্যবসায় কারো ক্ষতি করা যাবে না
ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের উপকার করার মানসিকতা সবসময় থাকতে হবে। কারও ক্ষতি যেন না হয়, সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিদ্ধান্ত দেন যে,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَضَى أَنْ لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ। নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং অন্যের ক্ষতি করা উভয়ই উচিত নয়। (ইবনে মাজাহ: ২৩৪১)
ব্যবসায় গ্রাহকের কাছ থেকে লাভের পাশাপাশি তাদের জিনিস ও সেবা প্রদান করা হয়। যদি যৌক্তিক লাভ হয় এবং একচেটিয়া ব্যবসা না করা হয়, তবে এটি সমাজের জন্য বড় সহায়তা। ভালো জিনিস যৌক্তিক দামে প্রদান করায় সমাজের মানুষ সন্তুষ্ট হবে, এতে মহান আল্লাহও আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হবেন। যখন ব্যবসায়ী ও গ্রাহক উভয় পক্ষ অনুভব করবে যে তারা উপকৃত হয়েছে, তখন সেখানে একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হবে। ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হয়ে যাবে, যা একটি সুগঠিত সমাজের জন্য প্রয়োজন। এতে উভয় পক্ষই পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার সাওয়াব পাবেন।
ধোঁকা, প্রতারণা ও ফাঁকিবাজি করা যাবে না।
এ ধরনের অপকর্ম ইসলামে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত। মন্দ জিনিস ভালো বলে চালিয়ে দেওয়া, ভালোর সঙ্গে মন্দের মিশ্রণ ঘটিয়ে ধোঁকা দেওয়া ইত্যাদি সম্পূর্ণ হারাম। বিখ্যাত সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى صُبْرَةِ طَعَامٍ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهَا، فَنَالَتْ أَصَابِعُهُ بَلَلًا فَقَالَ: «مَا هَذَا يَا صَاحِبَ الطَّعَامِ؟»। খাদ্য বিক্রেতা বলল, এতে বৃষ্টি পড়েছিল। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি সেটাকে খাবারের উপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকেরা দেখতে পেত? যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মত নয়। (মুসলিম: ১০২)
মিথ্যার আশ্রয় নেয়া যাবে না
মিথ্যা একটি নিন্দনীয় ও বড় ধরনের অপরাধ। ব্যবসার সাথে মিথ্যার সংমিশ্রণ আরও মারাত্মক ও ক্ষতিকর। কোনো মুসলিম সত্যের সঙ্গে মিথ্যার সংমিশ্রণ করতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَلۡبِسُواْ ٱلۡحَقَّ بِٱلۡبَٰطِلِ وَتَكۡتُمُواْ ٱلۡحَقَّ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ। তোমরা সত্যের সঙ্গে অসত্যের মিশ্রণ ঘটাবে না। জেনেশুনে সত্য গোপন করো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪২)
একজন মুমিনের দোষ-ত্রুটি থাকা স্বাভাবিক, যা মেনে নেওয়া যায়; কিন্তু একজন মুমিনের মধ্যে মিথ্যা ও খিয়ানতের দোষ থাকাকে কোনোক্রমেই মেনে নেওয়া যায় না। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো,
أيكون المؤمن جبانًا؟ قال: نعم। قيل: أيكون بخيلاً؟ قال: نعم। قيل: أيكون كذابًا؟ قال: لا। একজন মুমিন দুর্বল হওয়া কি স্বাভাবিক? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আবারও জিজ্ঞাসা করা হলো, মুমিন কি কৃপণ হতে পারে? বললেন, হ্যাঁ। তারপর জিজ্ঞাসা করা হলো, একজন মুমিন মিথ্যুক হতে পারে? বললেন, ‘না’। (বাইহাকি শুআবুল ঈমান: ৪৮১২)
হাদিসে একজন মুমিনের অন্যান্য দুর্বলতা বা দোষের কথা স্বাভাবিক বলা হলেও মিথ্যাকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া হয়নি।
ওজনে নিজ স্বার্থরক্ষায় কমবেশি করা যাবে না।
অন্যকে দেয়ার সময় ওজনে কম দেওয়া আর নেয়ার সময় বেশি করে নেয়া জঘন্য অপরাধ। মহান আল্লাহ বলেন,
وَيۡلٞ لِّلۡمُطَفِّفِينَ -ٱلَّذِينَ إِذَا ٱكۡتَالُواْ عَلَى ٱلنَّاسِ يَسۡتَوۡفُونَ - وَإِذَا كَالُوهُمۡ أَو وَّزَنُوهُمۡ يُخۡسِرُونَ। ধ্বংস যারা পরিমাপে কম দেয় তাদের জন্য। যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে। আর যখন তাদেরকে মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। (সুরা মুতাফফিফিন: ১-৩)
সুতরাং তুমি যখন কাউকে দেবে, তখন কম দেবে না। তুমি যে কাজটি তোমার নিজের জন্য পছন্দ করো না, তা অন্যের জন্য কীভাবে পছন্দ কর। তুমি যখন নিজের জন্য নাও, তখন তো তোমাকে মাপে কম দিলে তুমি সন্তুষ্ট হবে না। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لاَ يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ، حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ। তুমি তোমার নিজের জন্য যা ভালোবাসো, তা অন্যের জন্যও ভালোবাসার আগ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না। (বুখারি: ১৩)
পণ্য বিক্রির জন্য মিথ্যা শপথ করা যাবে না।
মিথ্যা মানবতাবোধকে লোপ করে, নৈতিক চরিত্রের অবক্ষয় ঘটায়। মিথ্যাবাদীর উপর মহান আল্লাহর অভিশাপ। মিথ্যা বলে বা মিথ্যা শপথ করে পণ্য বিক্রি করার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ثَلَاثَةٌ لَا يُكَلِّمُهُمُ اللهُ وَلَا يَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ: الْمَنَّانُ الَّذِي لَا يُعْطِي شَيْئًا إِلَّا مَنَّهُ، وَالْمُنَفِّقُ سِلْعَتَهُ بِالْحَلِفِ الْفَاجِرِ، وَالْمُسْبِلُ إِزَارَهُ। কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তিন ব্যক্তির সাথে কোনো ধরনের কথা বলবেন না, তাদের প্রতি ভ্রূক্ষেপ করবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তাদের একজন- যে তার ব্যবসায়িক পণ্যকে মিথ্যা কসম খেয়ে বিক্রি করে। (মুসলিম: ১০৬)
অপর একটি হাদিসে এ দৃষ্টান্ত এভাবে তুলে ধরা হয়েছে-
رجل حلف على سلعة بعد العصر، لقد أعطي بها كذا، وكذا، فصدقه المشتري وهو كاذب। এক ব্যক্তি আসরের পর তার পণ্য সম্পর্কে কসম খেয়ে বলে, তাকে পণ্যটি এত এত মূল্যে দেয়া হয়েছে। তার কথা ক্রেতা বিশ্বাস করল, অথচ সে মিথ্যুক। (আবু দাউদ: ৩৪৭৪)
নিজে ঠকা যাবে না এবং অপরকেও ঠকানো যাবে না।
এক ব্যক্তি রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে অভিযোগ করল, যে সে বেচা-কেনাতে প্রতারিত হয়। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
إِذَا أَنْتَ بَايَعْتَ، فَقُلْ: لَا خِلَابَةَ، ثُمَّ أَنْتَ فِي كُلِّ سِلْعَةٍ ابْتَعْتَهَا بِالْخِيَارِ ثَلَاثَ لَيَالٍ। যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করবে, তখন তুমি বলে দেবে যে কোনো প্রতারণা বা ঠকানোর দায়িত্ব আমি নেব না। তোমার জন্য তিনদিন পর্যন্ত পণ্য ফেরত দেওয়ার অধিকার রয়েছে। (বুখারি: ৬৯৬৪)
ব্যবসার সাথে সুদকে মেশানো যাবে না
সুদ একটি মারাত্মক অপরাধ। সুদ থেকে অবশ্যই দূরে থাকতে হবে। ব্যবসার নামে কোনো প্রকার সুদ চালু করা যাবে না। সুদের পরিণতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন,
ٱلَّذِينَ يَأۡكُلُونَ ٱلرِّبَوٰاْ لَا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ ٱلَّذِي يَتَخَبَّطُهُ ٱلشَّيۡطَٰنُ مِنَ ٱلۡمَسِّۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ قَالُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡبَيۡعُ مِثۡلُ ٱلرِّبَوٰاْۗ وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْۚ। যারা সুদ খায় তারা কেয়ামতের দিন দণ্ডায়মান হবে শয়তানের আসরে মোহাবিষ্টদের মতো। কারণ, তারা বলে ক্রয়-বিক্রয় (ব্যবসা) ওতো সুদের মতো, অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫)
মহান আল্লাহ আরও বলেন,
يَمۡحَقُ ٱللَّهُ ٱلرِّبَوٰاْ وَيُرۡبِي ٱلصَّدَقَٰتِۗ আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খায়রাতকে বর্ধিত করেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৬)
লেনদেন যদি সুদ সংক্রান্ত হয় তবে হাদিসে এসেছে, জাবের ইবন আব্দুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন যে,
لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ آكِلَ الرِّبَا، وَمُؤْكِلَهُ، وَكَاتِبَهُ، وَشَاهِدَيْهِ» ، وَقَالَ: «هُمْ سَوَاءٌ। আল্লাহর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, হিসাবকারী এবং সাক্ষী সবার প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন এবং তিনি বলেন তারা সবাই সমান। (মুসলিম: ১৫৯৮)
অনুমানভিত্তিক ব্যবসা করা হতে বিরত থাকা।
বৃক্ষস্থিত ফলকে বৃক্ষ হতে আহরিত ফলের বিনিময়ে অনুমান করে বিক্রি করাকে মুযাবানা বলে। বিভিন্ন ধরনের মুযাবানা বর্তমানেও প্রচলিত আছে। ক্ষেতে অকীর্তিত খাদ্য শস্য যথা গম, বুট ইত্যাদিকে শুকনা পরিষ্কার করা খাদ্য যথা, গম, বুট ইত্যাদির বিনিময়ে অনুমান করে বিক্রি করাকে মুহাকালা বলে। সুদের আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলোকেও সুদের অন্তর্ভুক্ত করে দেন। (ইবনে কাসির)
অপরের মাল হনন করার চেষ্টা করা যাবে না।
ব্যবসার জটিল মারপ্যাঁচে অন্যের মাল হরণ করা হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٖ مِّنكُمۡۚ। হে ঈমানদারগন, তোমরা একে অপরের মাল অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। মাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯)
হাদিসে এসেছে একটি ব্যবসায়িক লেনদেনে উভয় পক্ষই খুঁতসহ পণ্যেও সঠিক বর্ণনা দিতে হবে। ইসলামের বিজনেস কনডাক্ট সম্পর্কে জাবির (রা.) এভাবে বর্ণনা করেন রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
رَحِمَ اللَّهُ رَجُلًا سَمْحًا إِذَا بَاعَ، وَإِذَا اشْتَرَى، وَإِذَا اقْتَضَى। আল্লাহ তার প্রতি দয়া বর্ষণ করুক যে বিক্রির সময়, ক্রয়ের সময় এবং অভিযোগের সময় সদয় থাকে। (বুখারি: ২০৭৬)
মজুত করা যাবে না
অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে অন্তঃসারশূন্য ও বরবাদ করার জন্য যত প্রকার অর্থনৈতিক দুর্নীতি আছে, তন্মধ্যে অন্যতম হল মজুতদারি। মজুতদারির প্রভাবে দ্রব্যমূল্য আকাশচুম্বী হয়। এতে মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, لاَ يَحْتَكِرُ إِلَّا خَاطِئٌ। মাত্র পাপী ব্যক্তিই মজুতদারি করে থাকে। (মুসলিম: ১৬০৫)
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদীতে নিজের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটবাড়ি দখল, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ তুলেছেন কাজী আজিজ উল্যা নামে এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, বাড়ির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা নিজেদের বসতবাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা।
ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম পাড়ার কাজী বাড়ির বাসিন্দা। তার দাবি, ৯৮ নম্বর মাইজদী মৌজায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। বাড়িটির নাম আজিজ টাওয়ার।
লিখিত বক্তব্যে কাজী আজিজ অভিযোগ করেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ মাঠকর্মী এবিএম আবদুল মতিন চৌধুরী ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বোনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন। পরে তিনি আরো দেড় শতাংশ জমির জাল দলিল তৈরি করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটবাড়ির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।
কাজী আজিজ বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ মে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দাপট দেখিয়ে আবদুল মতিন চৌধুরী ও তার স্ত্রী আজিজুর নাহারের নেতৃত্বে একদল লোক তার ফ্ল্যাটবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার বৃদ্ধ মা সারেজাহান বেগম ও বোন সেলিনা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। পরে বাড়িটির একতলা ইউনিট দখল করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মতিন চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেলে তিনি পুনরায় বাড়ির দখল বুঝে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর আবদুল মতিন চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী, ছেলেরা এবং বিভিন্ন এলাকার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও বাড়িটিতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন কাজী আজিজ। এ সময় তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পুনরায় বাড়িটি দখল করা হয়।
কাজী আজিজের অভিযোগ, বর্তমানে বাড়ির ভেতরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান করিয়ে তাঁকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এতে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাঁদের।
কাজী আজিজ উল্যা তার বসতবাড়ি দখল, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মতিন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ