০৪:৩৭ পি.এম
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে একটি ব্রিফকেস হাতে সংসদ ভবনে প্রবেশ করেন তিনি। এটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রীদের জন্য দীর্ঘকাল ধরে পরিচিত একটি ঐতিহ্য। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এই ব্রিফকেসে আসলে কী থাকে এবং কেন যুগের পর যুগ ধরে এই রীতি চলে আসছে?
অনেকে মজা করে মনে করেন, অর্থমন্ত্রীর ব্রিফকেসে হয়তো বিপুল পরিমাণ টাকা কিংবা বিশেষ কোনো অর্থনীতির পরিকল্পনার গোপন চাবিকাঠি থাকে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। এই ব্রিফকেসে রাখা হয় বাজেট বক্তৃতার খসড়া, অর্থ বিল এবং কর-শুল্ক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ গোপন নথিপত্র। এসব নথির মধ্যে সরকারের আগামী এক বছরের আয়-ব্যয়, রাজস্ব সংগ্রহ এবং অর্থনৈতিক কর্মকৌশলের বিস্তারিত পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা আকবর আলি খানের ‘বাংলাদেশে বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি’ বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিফকেস ব্যবহারের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, শিল্পবিপ্লবের পর বাজেট-সংক্রান্ত নথির পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকায় সেগুলো বহনের জন্য ছোট থলি বা মানিব্যাগ যথেষ্ট ছিল না। ফলে ব্রিফকেস ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
দ্বিতীয়ত, বাজেটের কর ও শুল্কসংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাজেট ঘোষণার আগে এসব তথ্য ফাঁস হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে প্রভাব বিস্তার বা শুল্ক সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পেতে পারেন। এজন্য গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে লক করা ব্রিফকেস ব্যবহারের রীতি চালু হয়।
ইতিহাস বলছে, ১৮৬০ সালে ব্রিটেনের তৎকালীন অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ইয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন লাল রঙের একটি স্যুটকেসে করে বাজেট নথি সংসদে নিয়ে আসেন। এরপর থেকেই ‘বাজেট ব্রিফকেস’ বিশ্বজুড়ে একটি প্রতীকী ঐতিহ্যে পরিণত হয়। উপমহাদেশে এই রীতির সূচনা করেন জেমস উইলসন, যিনি ১৮৬০ সালের ৭ এপ্রিল কলকাতায় প্রথম বাজেট পেশ করেছিলেন। পরে পাকিস্তান আমলে পূর্ব বাংলার অর্থমন্ত্রী হামিদুল হক চৌধুরী এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদও বাজেট উপস্থাপনের সময় এই ঐতিহ্য অনুসরণ করেন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বাজেট পেশকারী প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ও আবুল মাল আবদুল মুহিতও নিয়মিত ব্রিফকেস বহন করে বাজেট উপস্থাপন করেছেন। সময়ে সাথে ব্রিফকেসের রং বদলালেও—কখনো লাল, কখনো কালো, আবার কখনো মেরুন—তবে এর মূল উদ্দেশ্য ও প্রতীকী গুরুত্ব আজও একই রয়েছে। এই অর্থমন্ত্রীর ব্রিফকেস আসলে দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের নকশা বহনকারী একটি ঐতিহাসিক প্রতীক।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন