০৪:২৩ পি.এম
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে দুই দলের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাফা মিয়া (৪০) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা চারজনে বেড়ে গেছে। একই সময়, এ ঘটনার মধ্যে বুলবুল মিয়া নামে একজন ব্যক্তি এখনও নিখোঁজ অবস্থায় রয়েছেন।
রবিবার (২১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাফা মিয়ার মৃত্যু ঘটে। মোস্তাফা হরিপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একটি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন। স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন, তিনি নাজিম উদ্দিনের সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আধিপত্য বিস্তার এবং পূর্বের বিরোধকে কেন্দ্র করে ১৬ জুন ভোরে নিলক্ষা ইউনিয়নে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মোস্তাফা মিয়া। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সেমিনার, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের বিরোধের ফলশ্রুতিতে ওইদিন ভোরে আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের সমর্থকরা এলাকায় প্রবেশ করে হামলা চালায়। পরে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীদের পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার ফলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে অভিযোগ রয়েছে যে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে সংঘর্ষের দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামের এক যুবক নিহত হন। পরবর্তী সময়ে মেঘনা নদী থেকে কাউছার মিয়ার এবং তার পরবর্তীতে আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মোস্তাফার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা চারজনে পৌঁছেছে। এছাড়া রাজু মিয়া নামে একজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে সংঘর্ষের পর এলাকা থেকে বাড়িঘরের ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনিক হত্যার ঘটনায় তার মাতা ৩০ জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে বর্তমানে পর্যন্ত চারটি মৃত্যুর ঘটনায় কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
আরও পড়ুন: জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত শিরিন খানমের সঙ্গে ইউএনওর সৌজন্য সাক্ষাৎ
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানায়, গুলিবিদ্ধ মোস্তাফা মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা চারজন। একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, কিন্তু অন্য তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি।
ঘটনার পর থেকে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, সংঘর্ষের পর থেকেই তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন