বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৬:৩০ পি.এম
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার একজন যুবককে ইতালি নেওয়ার প্রলোভনে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা দীর্ঘ ২ বছর ধরে জিম্মি রেখেছিল। অবশেষে বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘ প্রচেষ্টার মাধ্যমে তার দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপোল এবং লিবিয়া পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর যৌথ উদ্যোগে ভুক্তভোগী যুবক পরিবারে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।
ফেরত আসা যুবক নাবিদুল ইসলাম ফাহিম, যিনি বাপ্পু নামে পরিচিত, তার বয়স ২৩ বছর। তিনি নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার বাংলাপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীন সিকদার ও রাজিয়া সুলতানা (কল্পনা) দম্পতির পুত্র।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোরে নাবিদুল ইসলাম ফাহিম, অর্থাৎ বাপ্পু, দেশে পৌঁছান। সকাল ৬টার সময় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পেকুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা তাকে গ্রহণ করেন।
স্বজনরা জানান, গত ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই সংগঠিত মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে বাপ্পুকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখানো হয়। উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে প্রথমে তাকে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর এই চক্রটি তাকে জিম্মি করে এবং পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে। তাদের দাবির মুখে পরিবার তিন দফায় মোট ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে, কিন্তু এরপরও চক্রটি আরও অর্থ দাবি করে। এই কারণে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। সেই দীর্ঘ সময় ধরে বাপ্পু মানবপাচারকারী চক্রের হাতে নির্যাতিত হন এবং মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়েছিলেন।
এ বিষয়ে বাপ্পুর মা বাদী হয়ে গত ২০২৫ সালে নভেম্বর মাসে মানবপাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যের নাম উল্লেখ করে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তের সূত্র ধরে ভিকটিমকে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শেষে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টারের এনসিবি (ইন্টারপোল বাংলাদেশ) বিষয়টি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে লিবিয়া পুলিশের এনসিবির কাছে উপস্থাপন করে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপোল এবং লিবিয়া পুলিশের এনসিবির সমন্বিত উদ্যোগে বাপ্পুর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কূটনৈতিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অবশেষে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি নিরাপদে বাংলাদেশে ফিরে আসেন।
পেকুয়া থানার ওসি মেহেদী হাসান এই ব্যাপারটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মানবপাচার মামলাটি রুজুর পর বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপোল-বাংলাদেশ এবং লিবিয়া পুলিশ এনসিবির সমন্বিত উদ্যোগে মাত্র সাত মাসের মধ্যে ভিকটিমকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এটি মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ।’
ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জনারদন্দি এলাকায় সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে প্রবাসী জনসেবা সংগঠন-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক অফিস উদ্বোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত এক অসহায় নারীর চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল বেলায় দক্ষিণ জনারদন্দি বাজারে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির নতুন কার্যালয়ের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী জনসেবা সংগঠন-২০২৬ বর্তমানে ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবীর সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৫০ জন প্রবাসে অবস্থান করে আর্থিক ও নানাবিধ সহযোগিতা প্রদান করছেন, এবং ১০ জন যুবক দেশে থেকে সংগঠনের বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।
সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক ও মানবিক সহায়তা নিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠানে দক্ষিণ জনারদন্দি এলাকার ক্যান্সারে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সী রিনা বেগমের হাতে চিকিৎসার ব্যয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় সংগঠনের প্রবাসী সদস্যরা বলেছেন, মানবসেবাই তাদের মূল লক্ষ্য। তারা জানিয়েছেন, রিনা বেগমের চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি, এলাকার অসহায় মানুষের কল্যাণে সংগঠনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।
অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও সংগঠনের সফলতা কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা প্রবাসী জনসেবা সংগঠনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে মা ও দুই মেয়ের মৃত্যুর পর ঢাকায় নেয়ার পথেই মারা গেছেন মেজো মেয়ে। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা সন্দেহভাজন ঘাতক যুবককে গণপিটুনি দেয়। এভাবে, এই নৃশংস ঘটনাটির মৃতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোডের ধানহাটা সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: মা শাহীনুর বেগম (৩৫), বড় মেয়ে সায়মা (২১), মেজো মেয়ে ইকরা (১৭) এবং ছোট মেয়ে সিফা (১৩)। গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার সন্দেহভাজন অভিযুক্ত যুবকের নাম অন্তর মজুমদার (২৮)। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন। নিহতদের যারা আগে থেকেই চিনতেন। পুলিশ ও স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, শাহীনুর বেগমের আদি বাড়ি কুমিল্লার হোমনা থানার লটিয়া গ্রামে। ২০১৯ সালের দিকে তার স্বামী, যিনি হাঁড়ি-পাতিল ব্যবসায়ী ছিলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে শাহীনুর তার তিন মেয়ে ও ছেলে সিফাতকে (১৬) নিয়ে ওই ভবনে ভাড়া থাকতেন। সন্দেহভাজন ঘাতক অন্তর মজুমদারও বছরখানেক আগে একই ভবনে নীলেজ বাস করেছিলেন। ঘটনায়, শাহীনুরের ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। তারা জানালার মাধ্যমে ঘরের ভেতরে সবাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তখন অন্তর মজুমদার নামে ওই যুবক পালাতে চাইলে, তার শরীরের রক্তের দাগ দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়রা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় অন্তরকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে। এদিকে, পুলিশ সহযোগিতায় স্থানীয়রা শাহীনুর বেগম এবং তার বড় ও ছোট মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। গুরুতর আহত মেজো মেয়ে ইকরাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে, ঢাকায় নেয়ার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় ইকরার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১৬ বছর বয়সী কিশোর সিফাত। সিফাত পাশের একটি দোকানের কর্মচারী। সে জানায়, ঘটনার সময় সে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গিয়েছিল। ঘটনার পর জেলা পুলিশ সুপার, ডিবি এবং সিআইডি পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেছেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে এ হত্যাকাণ্ড কেন ঘটেছে সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হলো ‘বাংলাদেশ ফর্মুলা স্টুডেন্ট অ্যান্ড অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং সামিট ২০২৬’। আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর সেনানিবাসস্থ মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি) প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
এমআইএসটির শিক্ষার্থীভিত্তিক ফর্মুলা স্টুডেন্ট দল ‘এমআইএসটি ব্লিটজ’ এবং বাংলাদেশ ফর্মুলা স্টুডেন্ট কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।
এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পর্যায়ের এ ধরনের ইভেন্ট, যেখানে শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, অটোমোবাইল শিল্পের পেশাজীবী এবং নীতিনির্ধারকেরা একসঙ্গে অংশ নেন। আয়োজকরা আশা করেন, এই আয়োজন দেশের অটোমোবাইল কমিউনিটির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে।
শিক্ষার্থী, প্রকৌশলী, গবেষক, শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং নীতিনির্ধারকদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসে দেশের অটোমোটিভ ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং একাডেমিয়া ও শিল্পের মধ্যে টেকসই সহযোগিতা গড়ে তোলাই সামিটের মূল উদ্দেশ্য। আয়োজনে প্রায় ২,৫০০-এর বেশি অতিথি ও দর্শনার্থী অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। অনুষ্ঠানটির আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ শরীফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞদের পরিচালনায় অটোমোটিভ ও ফর্মুলা স্টুডেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর টেকনিক্যাল সেশন এবং দেশের অটোমোটিভ ও ওইএম (OEM) খাতের উন্নয়ন সংক্রান্ত ফর্মুলা স্টুডেন্ট কমিউনিটি, ইন্ডাস্ট্রী প্রফেশনাল ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশেষভাবে ফর্মুলা ফিউচার বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা, আইসি ইঞ্জিন মাস্টারক্লাস ও কুইজ, ফর্মুলা স্টুডেন্ট কনসেপ্ট কার চ্যালেঞ্জ, ক্যাড ডিজাইন প্রতিযোগিতা এবং পোস্টার প্রেজেন্টেশন আয়োজন করা হয়।
এছাড়া দর্শনার্থীদের জন্যে ইভেন্টে আকর্ষণ হিসেবে ছিল কার শো, গো-কার্ট রেসিং, সিমুলেটর রেসিং। এর মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ছিল 'কার শো', যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি ফর্মুলা স্টুডেন্ট রেসিং কারের পাশাপাশি স্বনামধন্য ব্র্যান্ড ও সংগ্রাহকদের হাই-পারফরম্যান্স গাড়ি প্রদর্শিত হবে।
মূল আয়োজনের পূর্বে 'ট্র্যাকটক ২০২৬' শীর্ষক একটি অনলাইন ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফর্মুলা স্টুডেন্ট, ফর্মুলা ওয়ান ও হাই-পারফরম্যান্স গাড়ি উন্নয়নে অভিজ্ঞ দেশি-বিদেশি অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রী প্রফেশনালরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাঁদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।
এমআইএসটি প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই ইভেন্ট বাংলাদেশের অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে এবং বাংলাদেশে ফর্মুলা স্টুডেন্ট প্রতিযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের মাস্টারবাড়ী এলাকায় অবস্থিত এসকিউ কারখানার ঝুট (ওয়েস্টেজ) ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলস্বরূপ, প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে কয়েকশত লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এলাকায় মিছিল ও মহড়া দেন। এই সময় তাদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। এর ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এসকিউ কারখানার ঝুট সংগ্রহ ও বিক্রির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের ফলস্বরূপ সাম্প্রতিক উত্তেজনার উৎপত্তি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের কারণে এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তারা যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এর আগে একই বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম বাসান উল্লেখ করেছেন, "আওয়ামী লীগের কিছু লোক ও মামলার আসামিরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছিল। তাদের প্রতিহত করতেই মিছিল বের করা হয়।" অন্যদিকে, এসকিউ কারখানার ঝুট ব্যবসার কার্যাদেশ দাবিদার উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোহাম্মদ মুর্শেদ আলম দাবি করেছেন, "আমি দীর্ঘ ২২ বছর ধরে ওই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একটি পক্ষ তাঁর ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে।" তিনি জানান, বৃহস্পতিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কারখানা থেকে ঝুট বের করতে পারেননি।
এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, "মাস্টারবাড়ি এলাকায় গোলযোগের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমার কাছে তথ্য নেই।" উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন জানিয়েছেন, ঝুট ব্যবসা নিয়ে এর আগে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল। তিনি বলেন, "কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে মালামাল বের না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো ভূমিকা নেই।" স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহাম্মেদ বাচ্চু জানিয়েছেন, "ফ্যাসিবাদপন্থী লোকজন একত্রিত হওয়ার খবর পেয়ে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল করেছেন। তবে এই ঘটনায় কারখানার ব্যবসা-সংক্রান্ত কোনো বিষয় সম্পর্কে আমার জানা নেই।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ