০২:৩১ পি.এম
আসিয়ান ঢাকা কমিটির (এডিসি) চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান জানিয়েছেন, ঢাকাস্থ আসিয়ান মিশনগুলো বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে দৃঢ়টভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
সোমবার রাতে ঢাকায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের ৫৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং দক্ষিণ এশিয়ায় একটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে মূল্যায়ন করি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারদের সমন্বয়ে গঠিত আসিয়ান ঢাকা কমিটি (এডিসি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আরও পড়ুন: ভূমি খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
এডিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাংলাদেশ ও আসিয়ান একে অপরের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পরিপূরক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে; যা পারস্পরিক কল্যাণকর সুযোগ তৈরি এবং অভিন্ন সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
আসিয়ান সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি সফরের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই সফর আসিয়ানের সাথে ব্যাপক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে গুরুত্ব রয়েছে, তা-ই প্রমাণ করে।
তিনি উল্লেখ করেন, ৬৮ কোটিরও বেশি মানুষের আবাসস্থল আসিয়ান বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশেরও রয়েছে বিপুল কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী।
শুহাদা ওসমান বলেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ থেকে শুরু করে শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির এই প্রচেষ্টাগুলো আমাদের বিদ্যমান বন্ধুত্বের সম্পর্ক এবং গভীর সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনাকেই প্রতিফলিত করে।
আরও পড়ুন: এবি পার্টি: সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাসে জাতি বিরক্ত
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বাংলাদেশ যাতে আসিয়ানের ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ মর্যাদা অর্জন করতে পারে, সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আসিয়ান মিশনপ্রধানদের সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ান পরিবারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আরো ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে পারলে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরো অর্থবহ হবে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার আসিয়ান এবং এর ১১টি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন মেহেরদাদ আখলাঘি কেতাবচি
তিনি জানান, আসিয়ানের সঙ্গে খাতভিত্তিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলারের একটি মৎস্য ও জলজ চাষ (অ্যাকুয়াকালচার) প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রকল্পও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আমিন উর রশিদ বলেন, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধন দীর্ঘদিনের। ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত এ সম্পর্ক স্থল ও সমুদ্রপথে যোগাযোগের মাধ্যমে আরো সুদৃঢ় হয়েছে। শক্তিশালী জনসম্পৃক্ততা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও দুই পক্ষের বন্ধনকে আরো গভীর করেছে। এসব সংযোগ ভবিষ্যতে পারস্পরিক কল্যাণের স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরো এগিয়ে নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে আসিয়ান মিশনগুলোর প্রধানগণ, ঢাকায় দায়িত্বরত কূটনীতিকবৃন্দ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ময়লার ভাগাড় থেকে বাগান: প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ডিসি ফরিদার উদ্যোগে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন