ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সাত পথে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার রূপরেখা দিলেন মোদি


সাত পথে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার রূপরেখা দিলেন মোদি

৮০তম স্বাধীনতা দিবসে পুরানো দিল্লির লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি 'বিকশিত ভারতের' স্বপ্নের বীজ বপন করেছেন। দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে তুলে ধরেছেন এবং সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পথ দেখাবে ‘সপ্তধারা’।

যেমন বলা হয়েছে, 'সপ্তধারা' শব্দের অর্থ হচ্ছে সাতটি ধারা বা স্রোত। ভারতীয় সংস্কৃতিতে সাত সংখ্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমন, সপ্তর্ষি, সপ্তসিন্ধু বা সাতটি পবিত্র নদী। মোদী তাঁর বক্তব্যে 'সপ্তসিন্ধু' প্রসঙ্গ টেনে বর্তমানে ভারতের উন্নয়ন এবং 'সপ্তধারা'-র সঙ্গে যোগ স্থাপন করেছেন।

মোদীর বক্তব্যের মূল ভাবনা হচ্ছে, এক সময়ে ভারতের শক্তির প্রতীক ছিল সাত নদী। এখন দেশের শক্তি বাড়াতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেই সাতটি ক্ষেত্র হলো— উৎপাদন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গতি শক্তি, প্রতিরক্ষা শক্তি, সবুজ ও নীল অর্থনীতি এবং ভারতের সফট পাওয়ার।

আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে

প্রথমেই মোদী উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং-এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ভারতকে শুধু বিদেশি পণ্যের বড় বাজার হিসেবে নয় বরং বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তাঁর মতে, বিশ্ববাজারে স্থান করে নিতে ভারতীয় পণ্যের দাম কমাতে এবং গুণমান উন্নত করতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত পুরো উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ক্ষেত্র হল কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ। এখানে মোদী বলেছেন, শুধু ফসল ফলানোই যথেষ্ট নয়, সেই পণ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে বিশ্বের বাজারে পৌঁছাতে হবে। বাজরা, মশলা, ফল, সব্জি-সহ ভারতীয় কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এর উপর জোর দিয়েছেন মোদী। কৃষকদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে মূল্য বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তৃতীয় ক্ষেত্রে মোদী প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনের কথা বলেছেন। ইউপিআই এবং ডিজিটাল পরিষেবার সাফল্যের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, 'এবার আরও উন্নত প্রযুক্তির দিকে এগোতে হবে।' ডেটা সেন্টার, রোবোটিক্স, নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং দেশের তৈরি ৬জি-র মতো ক্ষেত্রে কাজ বাড়ানো জরুরি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

চতুর্থ দিক গতি শক্তির দিকে। এর মূল কথা হচ্ছে দ্রুত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন। হাইস্পিড রেল, রাস্তা, বিমানবন্দর, বন্দর, জলপথ এবং মাল্টিমোডাল পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষ এবং পণ্য দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব করতে চাইছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, দেশের বন্দরগুলিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ

পঞ্চম ক্ষেত্র হল প্রতিরক্ষা। সরকার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অস্ত্রশস্ত্রে বিদেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি তৈরির উপর জোর দিচ্ছে। ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্যোগী হয়েছে।

ষষ্ঠ ক্ষেত্র হল সবুজ ও নীল অর্থনীতি। পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন মোদী। পুনর্নবীকরণীয় শক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং বিদ্যুৎ সংরক্ষণে দৃষ্টি দেওয়ার কথাও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। মৎস্য, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং উপকূলীয় পর্যটনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

শেষত ভারতের সফট পাওয়ারের প্রসঙ্গটি আসছে। অর্থাৎ ভারতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতাকেও দেশের শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চান মোদী। যোগ, হস্তশিল্প, সিনেমা, অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স, গেমিং, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং পর্যটনের মত ক্ষেত্রে ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাব বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছেন তিনি। এ থেকে নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশাবাদী তিনি।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইজিজেটের কেবিন ক্রুদের ধর্মঘটে ফ্রান্সে ১০০ ফ্লাইট বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


ইজিজেটের কেবিন ক্রুদের ধর্মঘটে ফ্রান্সে ১০০ ফ্লাইট বাতিল

কর্মীদের ডিউটি ও সময়সূচিতে বারবার পরিবর্তনের প্রতিবাদে কেবিন ক্রুদের ধর্মঘটের কারণে, ব্রিটিশ এয়ারলাইন ইজিজেট ফ্রান্সের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে শনিবার এবং রোববারের মধ্যে প্রায় ১০০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে।

সংবাদটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

ইউনিয়নগুলোর দাবি, ফ্রান্সে ইজিজেটের প্রায় ৯০০ কেবিন ক্রুর মধ্যে অর্ধেকের মতো এই ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন। এর ফলে প্যারিসের দুটি বিমানবন্দর, নিস, বোর্দো ও লিয়ন থেকে পরিচালিত প্রায় অর্ধেক ফ্লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ইজিজেট ধর্মঘটকে ‘সুযোগসন্ধানী’ আখ্যা দিয়েছে। কারণ, ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ছুটির সপ্তাহান্তে সাধারণত বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের ভিড় থাকে।

ফ্রান্স ইজিজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজার। সম্প্রতি মার্কিন প্রাইভেট-ইকুইটি প্রতিষ্ঠান অ্যাপোলো ৭৭০ কোটি ডলারের চুক্তিতে ইজিজেটের মালিকানা নিয়েছে। ফ্রান্সে যাত্রীসংখ্যার দিক থেকে ইজিজেটের অবস্থান এয়ার ফ্রান্সের পরেই।

ইজিজেট জানায়, যাত্রীদের বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতে, বেশিরভাগ ফ্লাইট শুক্রবারই বাতিল করা হয়েছে।

কেবিন ক্রুদের ইউনিয়ন এসএনপিএনসি-এফও-এর নেতা উইলিয়াম বুরদোঁ বলেন, কর্মীরা তাঁদের ডিউটিতে ‘স্থিতিশীলতা’ চান। তাঁর দাবি, কোনো কোনো কর্মীর কাজের সময় ও গন্তব্য সপ্তাহে ৫০ থেকে ৬০ বার পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়।

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘ব্যক্তিগত জীবন বা সন্তানদের দেখাশোনার মতো বিষয়গুলো পরিকল্পনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ বেশিরভাগ পরিবর্তনই শেষ মুহূর্তেÑফ্লাইটের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগেÑজানানো হয়।’

আলোচনায় থাকা তিনটি ইউনিয়ন ৭ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে।

বুরদোঁ জানান, কোনো বিমানবন্দরে ইজিজেটের কর্মী সংকট দেখা দিলে, অন্য ঘাঁটি থেকে কর্মী এনে ঘাটতি পূরণ করা হয়। এতে আবার ওই ঘাঁটিতেও কর্মী সংকট তৈরি হয়।

এপ্রিলে হওয়া আগের ধর্মঘটে তুলনামূলকভাবে সীমিত প্রভাব পড়েছিল। ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ ছিল, ওই ধর্মঘটের দিন কাজে যোগ দিতে কর্মীদের ৭০০ ইউরো (প্রায় ৮১০ ডলার) পর্যন্ত বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল ইজিজেট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের সব ব্যাংকে মোবাইল ফোন কেনায় ইএমআই সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ: তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


দেশের সব ব্যাংকে মোবাইল ফোন কেনায় ইএমআই সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ: তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা

প্রথমে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সব ব্যাংক খুব শিগগিরই মোবাইল ফোন কেনার জন্য ইএমআই বা কিস্তি সুবিধা প্রদান করবে। এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

রবিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ তথ্যটি তুলে ধরেন।

এই গোলটেবিল বৈঠকটি টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ বা টিআরএনবির উদ্যোগে আয়োজন করা হয়, যেখানে টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এতে রেহান আসাদ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারের সুবিধা গ্রাহকরা কিভাবে পাচ্ছেন, সেটির জবাব দিতে হবে টেলিকম অপারেটরদের।

তিনি আরও জানান, টেলিকম খাত দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এই খাত থেকে ১৫ শতাংশ জিডিপির অবদান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া, সরকার এ খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে স্থান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে এবং এজন্য একটি পাঁচ বছর মেয়াদি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। বাজেটের পর এই রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে, যা সম্পূর্ণ পূর্বানুমেয় হবে এবং এতে কোনো প্রকার অনিশ্চয়তা থাকবে না।

এ প্রসঙ্গে বলেন, গত ছয় সপ্তাহে টেলিকম খাত সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকগুলোতে উপস্থাপিত হওয়া তাদের চাহিদা, সমস্যা এবং প্রত্যাশা শোনা হয়েছে। এদিকে, টেলিকম খাতের করহার তুলনামূলকভাবে বেশি, কিন্তু দেশের সামগ্রিক ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত এখনও কম। বর্তমানে টেলিকম খাত সরকারী রাজস্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস।

এবারের বাজেটে কর কমানোর সম্ভাব্য প্রভাবের ওপর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটি বাজেটে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও, সরকার বাস্তবভিত্তিক সমাধানে উদ্যেগ নিচ্ছে। গার্মেন্টস খাতের মতো, বাংলাদেশকে একটি হাব করতে আমরা ইলেকট্রনিকস খাতেও তেমন সুযোগ সুবিধা দেব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


ঢাকায় সন্ধ্যার মধ্যে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আজ সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে হালকা বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

অবস্থান অনুযায়ী, শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা থাকতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ৭ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আর্দ্রতা পাওয়া যায় ৬৭ শতাংশ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাওয়া যায় সাড়ে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে এবং রোববার (১৬ আগস্ট) সূর্যোদয় ভোর ৫টা ৩৪ মিনিটে।

আজ দুপুর ১টার আগের ছয় ঘণ্টায় রাজধানী ঢাকায় কোনো বৃষ্টি হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেঘনা-ভুলুয়ার ভাঙনে বিপর্যস্ত রামগতির বয়ারচর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


মেঘনা-ভুলুয়ার ভাঙনে বিপর্যস্ত রামগতির বয়ারচর

মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বয়ারচর ক্রমেই বিক্ষত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বয়ারচরের গাবতলী স্লুইসগেইট এলাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীর ভাঙনে একের পর এক ঘরবাড়ি, দোকানপাট, সড়ক ও স্থাপনা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে বদলে যাচ্ছে জনপদের চিত্র।

ভাঙন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নদীপারের মানুষ। তাদের দাবি, নদীভাঙন থেকে বয়ারচরকে রক্ষা করতে দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে নদীর জোয়ারের সময় মেঘনা ও ভুলুয়া নদীর পানি বাড়লে ভাঙনের তীব্রতা বাড়ে। কোথাও নদীর পাড় ধসে পড়ছে, কোথাও বসতভিটা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। গত বছরও বয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনে বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বয়ারচরের দক্ষিণে ভুলুয়া নদী এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী অবস্থিত। দুই নদীর মাঝে থাকা জনপদ হওয়ায় ভাঙনের ঝুঁকি যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের ভাষ্য, নদী দুটির গতিপথ ও পানির প্রবল স্রোতের কারণে প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের শিকার হচ্ছে, ফলে অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।

রামগতি চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার এই চরটি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী, যা মেঘনা ও ভুলুয়া নদীবেষ্টিত। মেঘনার বুকে পলি জমে জেগে ওঠা এ চরে একসময় ছিল নদী ও চরাঞ্চলের নিঃসঙ্গ জনপদ। সময়ের পরিক্রমায় সেই ভূমিতে মানুষের বসতি, কৃষি, বাজার ও যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। কিন্তু যে নদী থেকে এসব চর সৃষ্টি হয়েছে, সেই মেঘনা ও পাশের ভুলুয়া নদীই এখন বয়ারচরের জন্য বড় আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। পলি জমে যে ভূমির জন্ম, নদীভাঙনে সেই ভূমিই আবার হারিয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, বয়ারচরের ইতিহাস একটা দিকে নতুন ভূমি সৃষ্টির, অন্যদিকে সেই ভূমি রক্ষার নিরন্তর সংগ্রামের। এ চরে বর্তমানে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস রয়েছে।

২০০২ সালে সিডিএসপি ২ প্রকল্পের আওতায় বয়ারচরের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয় এবং ২০০৫ সাল থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম আরও জোরালো হয়। বিবেচনায়, এই চরটি মেঘনা ও ভুলুয়া নদীর মাঝখানের বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ অঞ্চল।

শুধু বসতবাড়িই নয়, নদীভাঙনে হুমকিতে রয়েছে বয়ারচরের গুরুত্বপূর্ণ বাজার, সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভুলুয়া নদীর ভাঙনে বয়ারচর সেতুর দুই পাশের মাটি সরে গিয়ে সড়কে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়, যার ফলে রামগতি-নোয়াখালী সড়ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তখন স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নদী খনন, জিও ব্যাগ ডাম্পিং এবং বাঁধ নির্মাণ করার দাবি করা হয়েছিল।

এদিকে, মেঘনা ও ভুলুয়া নদীর জোয়ারের চাপেও বয়ারচরের তেগাছিয়া বাজার এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ভাঙনে একটি পুলিশ ফাঁড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায় এবং স্থানীয় তেগাছিয়া বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানও নদীতে বিলীন হয়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে গুরুত্বপূর্ণ বাজারটি রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। চলতি বর্ষা মৌসুমে বয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরই নদী ভাঙছে এবং মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে। পাউবো সাময়িক কিছু ব্যবস্থা নিলেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছে না। তারা জানান, চলতি বর্ষায় রামগতি উপজেলার বয়ারচরের সেতু ঘাট থেকে চেয়ারম্যান ঘাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধের একাধিক অংশ ভেঙে যায়। স্লুইসগেট এলাকার বাঁধ ভেঙে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে এবং পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে।

তাদের ভাষ্য, নদীভাঙনের কারণে একদিকে মানুষ বসতভিটা হারাচ্ছে এবং অন্যদিকে কৃষিজমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কমে যাচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও পণ্য পরিবহনেও চরম দুর্ভোগ নেমে আসছে এ চরে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওয়ারেছ মাঝি বলেন, "বয়ারচরে এখন প্রতিদিন জোয়ারের তীব্র স্রোতে পানি প্রবেশ করে এবং রাস্তাঘাট, স্কুল, মাদ্রাসা সব নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে। মনে হয় নদী আমাদের এ চরকে গিলে ফেলছে।" চরবাসীর দাবি, বয়ারচর রক্ষায় দ্রূত টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হোক।

স্থানীয় চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মো. দিদার উদ্দীন বলেন, "দ্রূত টেকসই বাঁধ নির্মাণ না হলে আগামী বর্ষার আগেই রামগতি উপজেলার মানচিত্র থেকে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস করা এই চরটি বিলীন হয়ে যাবে।" তিনি জানান, সম্প্রতি চরের বাসিন্দারা ‘নদী ভাঙ্গন ঠেকাও, বয়ারচর বাঁচাও’ দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন ও পাউবোকে অনেকবার জানানো সত্ত্বেও কোন লাভ হয়নি।

লক্ষ্মীপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খান বলেন, "বয়ারচরে মেঘনার ভাঙন নতুন নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ভাঙন রোধে বিভিন্ন সময় পাউবো অস্থায়ী কাজ করেছে। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ‘সবুজ পাতা প্রকল্প’-এ রামগতির বয়ারচরকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।" নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, প্রকল্পের আওতায় নদীতীরে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধের কাজ করা হবে। প্রকল্পটির অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%