০৪:০০ পি.এম
৮০তম স্বাধীনতা দিবসে পুরানো দিল্লির লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি 'বিকশিত ভারতের' স্বপ্নের বীজ বপন করেছেন। দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে তুলে ধরেছেন এবং সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পথ দেখাবে ‘সপ্তধারা’।
যেমন বলা হয়েছে, 'সপ্তধারা' শব্দের অর্থ হচ্ছে সাতটি ধারা বা স্রোত। ভারতীয় সংস্কৃতিতে সাত সংখ্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেমন, সপ্তর্ষি, সপ্তসিন্ধু বা সাতটি পবিত্র নদী। মোদী তাঁর বক্তব্যে 'সপ্তসিন্ধু' প্রসঙ্গ টেনে বর্তমানে ভারতের উন্নয়ন এবং 'সপ্তধারা'-র সঙ্গে যোগ স্থাপন করেছেন।
মোদীর বক্তব্যের মূল ভাবনা হচ্ছে, এক সময়ে ভারতের শক্তির প্রতীক ছিল সাত নদী। এখন দেশের শক্তি বাড়াতে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সেই সাতটি ক্ষেত্র হলো— উৎপাদন, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, গতি শক্তি, প্রতিরক্ষা শক্তি, সবুজ ও নীল অর্থনীতি এবং ভারতের সফট পাওয়ার।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
প্রথমেই মোদী উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং-এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ভারতকে শুধু বিদেশি পণ্যের বড় বাজার হিসেবে নয় বরং বিশ্বের অন্যতম বড় উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চান। তাঁর মতে, বিশ্ববাজারে স্থান করে নিতে ভারতীয় পণ্যের দাম কমাতে এবং গুণমান উন্নত করতে হবে। উৎপাদন বাড়ানোর জন্য যন্ত্রাংশ তৈরি থেকে শুরু করে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত পুরো উৎপাদন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় ক্ষেত্র হল কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ। এখানে মোদী বলেছেন, শুধু ফসল ফলানোই যথেষ্ট নয়, সেই পণ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে বিশ্বের বাজারে পৌঁছাতে হবে। বাজরা, মশলা, ফল, সব্জি-সহ ভারতীয় কৃষিপণ্যকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এর উপর জোর দিয়েছেন মোদী। কৃষকদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে উৎপাদিত পণ্যের সঙ্গে মূল্য বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তৃতীয় ক্ষেত্রে মোদী প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনের কথা বলেছেন। ইউপিআই এবং ডিজিটাল পরিষেবার সাফল্যের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, 'এবার আরও উন্নত প্রযুক্তির দিকে এগোতে হবে।' ডেটা সেন্টার, রোবোটিক্স, নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং দেশের তৈরি ৬জি-র মতো ক্ষেত্রে কাজ বাড়ানো জরুরি বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
চতুর্থ দিক গতি শক্তির দিকে। এর মূল কথা হচ্ছে দ্রুত ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন। হাইস্পিড রেল, রাস্তা, বিমানবন্দর, বন্দর, জলপথ এবং মাল্টিমোডাল পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষ এবং পণ্য দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব করতে চাইছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, দেশের বন্দরগুলিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
পঞ্চম ক্ষেত্র হল প্রতিরক্ষা। সরকার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে অস্ত্রশস্ত্রে বিদেশের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই অস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি তৈরির উপর জোর দিচ্ছে। ড্রোন, ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্যোগী হয়েছে।
ষষ্ঠ ক্ষেত্র হল সবুজ ও নীল অর্থনীতি। পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন মোদী। পুনর্নবীকরণীয় শক্তি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং বিদ্যুৎ সংরক্ষণে দৃষ্টি দেওয়ার কথাও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। মৎস্য, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং উপকূলীয় পর্যটনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শেষত ভারতের সফট পাওয়ারের প্রসঙ্গটি আসছে। অর্থাৎ ভারতের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতাকেও দেশের শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চান মোদী। যোগ, হস্তশিল্প, সিনেমা, অ্যানিমেশন, ভিএফএক্স, গেমিং, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং পর্যটনের মত ক্ষেত্রে ভারতের সাংস্কৃতিক প্রভাব বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছেন তিনি। এ থেকে নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশাবাদী তিনি।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন