সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:৩০ পি.এম
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, কানাডার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি ‘খুব শিগগিরই’ সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। তিনি রোববার এক নির্বাচনী সমাবেশে এই মন্তব্য করেন, যা আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র নয় দিন আগে ঘটে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত আগস্ট মাসে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকে উত্তর আমেরিকার প্রতিবেশী দেশ দুটি— যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণে ট্রাম্প কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর একের পর এক নতুন শুল্ক আরোপ করেছেন।
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কানাডা সীমান্তবর্তী শহর পোর্ট হুরনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই বিষয়টির নিষ্পত্তি করব। এই মুহূর্তে তারা আমাদের যেকোনো কিছু দিতে প্রস্তুত।’
শহরটি ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সমাবেশে ট্রাম্প আবারও কানাডার ওপর আরোপিত শুল্কের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, কানাডা বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করে আসছে।
গত আগস্টে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর আরোপিত শুল্কের আওতায় পড়ে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে হকি খেলার স্টিক থেকে শুরু করে সিমেন্টও।
কানাডা এর জবাবে সমপরিমাণ মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ট্রাম্প পরে কিছু পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপ করেন।
তবে শুক্রবার হোয়াইট হাউস এসব শুল্কের কিছু অংশ প্রত্যাহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্য মেইনের সিনেটর সুসান কলিন্সের অনুরোধের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে মেইন অঙ্গরাজ্য তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আগামী মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিতে চায় ডেমোক্র্যাটরা। এ লক্ষ্যে তারা কলিন্সের আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন।
তার অভিযোগ, বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অন্যায্য সুবিধা নিয়ে আসছে।
এ ছাড়া, তিনি কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের হুমকিকে সরাসরি রাজনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গেও যুক্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : চীন থেকে আসা বিপুল সংখ্যক পণ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাইরের দেশগুলো থেকে আসা পার্সেলের ওপর ২ ইউরো (২ দশমিক ২৫ ডলার) হ্যান্ডলিং ফি আরোপ করতে যাচ্ছে জোটটি।
এ খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ব্ল্যাক ফ্রাইডে, সাইবার মানডে ও বড়দিনের কেনাকাটার মৌসুম শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে এই নতুন ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ছোট পার্সেলের ওপর ইইউর আগে থেকে আরোপ করা ৩ ইউরো শুল্ক।
কীভাবে কার্যকর হবে নতুন ফি?
ইইউর বাইরের দেশ থেকে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পাঠানো পার্সেলের সকল ধরনের পণ্যের ওপর এই ফি প্রযোজ্য হবে। পার্সেলের মূল্য যাই হোক না কেন, ফি প্রদান করতে হবে।
যেমন, একটি পার্সেলে ১০টি টি-শার্ট থাকলে ফি হবে ২ ইউরো। কিন্তু একই পার্সেলে দুটি টুপি ও ১০টি টি-শার্ট থাকলে দুটি ভিন্ন ধরনের পণ্যের জন্য মোট ফি হবে ৪ ইউরো।
গত জুলাইয়ে ১৫০ ইউরোর কম মূল্যের ছোট পার্সেলের ওপর যে ৩ ইউরো শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, নতুন হ্যান্ডলিং ফি তার অতিরিক্ত।
তবে ইইউর দাবি, এই ফি সরাসরি ইউরোপীয় ভোক্তাদের দিতে হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যামাজনের মতো অনলাইন মার্কেটপ্লেস, চীনের আলিএক্সপ্রেস ও টেমুর মতো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম, বিক্রেতা এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানকে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
তবে এসব প্ল্যাটফর্ম ও বিক্রেতা চাইলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে বাড়তি খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপাতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রায় ৬০০ কোটি ছোট পার্সেল প্রবেশ করেছে।
ইউরোপে আসা কম দামের এসব পার্সেলের প্রায় ৯৩ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। এসব পণ্যের বড় অংশ আলিএক্সপ্রেস ও টেমুর মতো জনপ্রিয় এশীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আসে।
ব্রাসেলসের বক্তব্য, বিপুল সংখ্যক পার্সেল সামলাতে গিয়ে শুল্ক কর্তৃপক্ষের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে তাদের পরিচালন ব্যয়ও বাড়ছে। নতুন হ্যান্ডলিং ফি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে এ কার্যক্রমের ব্যয় সামাল দেওয়া হবে।
গত জুলাইয়ে ছোট পার্সেলের ওপর ৩ ইউরো শুল্ক চালুর পর আমদানি প্রায় ৬৪ শতাংশ কমেছে। তবে এ প্রবণতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য এখনই সময় হয়নি বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা।
এ ছাড়া, চীনা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করা এমন কিছু অনিরাপদ পণ্য নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপ, যেগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় নিয়ম লঙ্ঘনকারী খেলনাও রয়েছে।
২ ইউরোর হ্যান্ডলিং ফি স্থায়ীভাবে চালু থাকবে। অন্যদিকে, কম মূল্যের পার্সেলের ওপর আরোপিত ৩ ইউরো শুল্কটি সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে ২০২৮ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ওই তারিখ থেকে পণ্যের ধরন অনুযায়ী প্রচলিত শুল্কহার প্রযোজ্য হবে।
এদিকে, শুল্ক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যয়ের সঙ্গে নতুন ফি সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতি দুই বছর পর ফি-র পরিমাণ পর্যালোচনা করতে হবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় হিন্দু সংস্কৃতিতে কারওয়া চৌথ একটি পরিচিত ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব হিসেবে পরিচিত। এই বিশেষ দিনে বিবাহিত নারীরা সূর্যোদয় থেকে চন্দ্রোদয় পর্যন্ত উপবাস পালন করেন, যার উদ্দেশ্য স্বামীর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা। সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার পর বিশেষ আচার পালনের মাধ্যমে নারীরা উপবাস ভাঙেন। তবে এই উৎসবের সূচনা কবে হয়েছিল, তা নিয়ে নিশ্চিত ঐতিহাসিক তথ্য নেই।
উত্তর ভারত থেকে উৎসবের বিস্তার
ভারতের সরকারি পর্যটন ওয়েবসাইট ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’র তথ্য অনুযায়ী, কারওয়া চৌথ মূলত উত্তর ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানে বেশি পালিত হয়। ‘কারওয়া’ শব্দটি মাটির পাত্রকে নির্দেশ করে এবং ‘চৌথ’ চান্দ্র মাসের চতুর্থ দিনকে বোঝায়। এই উৎসব কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থ তিথিতে উদযাপিত হয়।
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, নারীরা ভোরে খাবার গ্রহণ করে উপবাস শুরু করেন। এরপর দিনভর খাবার ও পানি গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। সন্ধ্যায় চাঁদ ওঠার পর তারা চালুনি দিয়ে চাঁদ দেখেন, চাঁদের উদ্দেশে প্রার্থনা করেন এবং পরে স্বামীর হাতে পানি পান করে উপবাস ভাঙেন। অঞ্চলভেদে আচার ও নিয়মে কিছু পার্থক্য দেখা যায়।
কিভাবে শুরু হয়েছিল এই উৎসব?
কারওয়া চৌথের উৎপত্তি নিয়ে কয়েকটি প্রচলিত ব্যাখ্যা রয়েছে। ২০১৬ সালে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অতীতে পুরুষেরা যুদ্ধ বা অন্যান্য কাজে দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ি থেকে দূরে থাকতেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা কামনায় নারীদের প্রার্থনা ও উপবাসের রীতি গড়ে উঠতে পারে।
আরেকটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উত্তর ভারতের কৃষিজীবী সমাজের সঙ্গে উৎসবটির সম্পর্ক রয়েছে। ফসলের মৌসুম ও সামাজিক জীবনের নানা আচার থেকে এই উৎসবের কিছু রীতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে এসব ব্যাখ্যার কোনোটিকেই কারওয়া চৌথের নিশ্চিত ঐতিহাসিক সূচনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।
লোককথায় রয়েছে বীরাবতীর গল্প
কারওয়া চৌথের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বীরাবতী নামের এক নারীর লোককথা। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, বীরাবতী স্বামীর মঙ্গল কামনায় উপবাস করেছিলেন। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর তিনি দুর্বল হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে চাঁদ ওঠার আগেই চাঁদ ওঠার ভ্রম তৈরি হলে তিনি উপবাস ভেঙে ফেলেন। পরে স্বামীর বিপদের কথা জানতে পেরে তিনি অনুতপ্ত হন এবং প্রার্থনার মাধ্যমে স্বামীর জীবন ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করেন। কাহিনিটির বিভিন্ন সংস্করণ প্রচলিত রয়েছে। এটি ধর্মীয় লোককথা, যাচাই করা ঐতিহাসিক ঘটনা নয়।
রাজস্থানে কারওয়া চৌথের আচার ও লোককথা নিয়ে গবেষণা করেছেন নৃতত্ত্ববিদ অ্যান গ্রডজিনস গোল্ড। তার ‘ওয়েটিং ফর মুনরাইজ : ফাস্টিং, স্টোরিটেলিং, অ্যান্ড ম্যারেজ ইন প্রভিন্সিয়াল রাজস্থান’ গবেষণাটি ২০১৫ সালে ‘ওরাল ট্রেডিশন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এতে রাজস্থানের নারীদের উপবাস, সম্মিলিত আচার এবং গল্প বলার ঐতিহ্যের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সময় বদলেছে, রয়ে গেছে উৎসবের তাৎপর্য
সময়ের সঙ্গে কারওয়া চৌথের উদ্যাপনে পরিবর্তন এসেছে। এখন ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি নতুন পোশাক, মেহেদি, সাজসজ্জা এবং পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোও উৎসবের অংশ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় সিনেমা ও টেলিভিশনে এই উৎসবের উপস্থিতি এর জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
তবে কারওয়া চৌথের মূল তাৎপর্য এখনও স্বামীর মঙ্গল কামনা, দাম্পত্য সম্পর্কের প্রতি অঙ্গীকার এবং নারীদের পারস্পরিক সামাজিক বন্ধনের সঙ্গে যুক্ত। উৎসবটির উৎপত্তি নিয়ে নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত না থাকলেও লোককথা, আঞ্চলিক সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের সামাজিক রীতির মধ্যে দিয়ে এর ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের উজিরপুরের সাতলায় যুবদল কর্মী কাওছার হাওলাদার হত্যা মামলার ছয় নম্বর আসামি বিএনপি নেতা মো. কাঞ্চন মোল্লাকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে দলের পদ থেকে।
দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কাঞ্চন মোল্লাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
রোববার উজিরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এস এম আলাউদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন খানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মো. কাঞ্চন মোল্লা সাতলা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতিবিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন। এই কারণে তাকে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে।
উজিরপুর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. কাঞ্চন মোল্লা উজিরপুরের সাতলায় যুবদল কর্মী কাওছার হাওলাদার হত্যা মামলার ছয় নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
বহিষ্কারের বিষয়ে মো. কাঞ্চন মোল্লার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডিজিটাল যুগে, যখন শিশুদের একটি বড় অংশ কিবোর্ড ও স্মার্টফোনে লেখার প্রতি অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, তখন নেপালের প্রকৃতি মল্লার অসাধারণ হাতের লেখা বিশ্বজুড়ে নজর কাড়ে। তাঁর স্কুলের একটি অ্যাসাইনমেন্টের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে, অনেকেই প্রথমে সেটিকে কম্পিউটারে ছাপানো লেখা বলে মনে করেন। অক্ষরের নিখুঁত গঠন, শব্দের মধ্যে সমান ব্যবধান এবং প্রতিটি লাইনের সুশৃঙ্খল বিন্যাস লেখাটিকে প্রায় মুদ্রিত লেখার মতো করে তোলে।
২০১৭ সালে, যখন প্রকৃতি মল্লা অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছিলেন, তখন তাঁর হাতের লেখার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৪ বছর। নেপালের ভক্তপুরের বিরেন্দ্র সৈনিক আবাসিক মহাবিদ্যালয়ে পড়ার সময় তাঁর এই বিশেষ দক্ষতা মানুষের নজরে আসে। সাধারণ একটি স্কুলের অ্যাসাইনমেন্টই তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তোলে।
প্রকৃতির হাতের লেখার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল প্রতিটি অক্ষরের আকার ও গঠনের ধারাবাহিকতা। পুরো পাতাজুড়ে অক্ষরগুলো প্রায় একই রকম দেখাত। শব্দের মধ্যকার দূরত্ব ও লাইনের বিন্যাসও ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। ফলে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন, এত নিখুঁত লেখা কলম দিয়ে হাতে লেখা সম্ভব কি না। কেউ কেউ এমন মন্তব্য করেন, তাঁর হাতের লেখাকে কম্পিউটারের ফন্টে রূপান্তর করা যেতে পারে।
প্রকৃতির এই দক্ষতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরেও প্রশংসা পেয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫১তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে, দেশটির নেতৃত্ব ও জনগণের উদ্দেশে একটি অভিনন্দনপত্র লেখেন তিনি। নেপালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাস তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের সশস্ত্র বাহিনীর কাছ থেকেও হাতের লেখার জন্য সম্মাননা পেয়েছিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকৃতির হাতের লেখাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর’ বলে বর্ণনা করা হলেও, এটি কোনো সর্বজনস্বীকৃত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পাওয়া আনুষ্ঠানিক খেতাব নয়। বরং তাঁর লেখার অসাধারণ সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার কারণেই এই পরিচিতি তৈরি হয়েছে।
প্রকৃতি মল্লার গল্প এমন এক সময়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যখন দৈনন্দিন যোগাযোগে হাতে লেখার পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যবহার বাড়ছে। কম্পিউটার ও স্মার্টফোনে দ্রুত লেখা সম্ভব হলেও, হাতে লেখার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত যত্ন, মনোযোগ ও অনুশীলনের ছাপ থাকে। তাঁর হাতের লেখা দেখিয়েছে, নিয়মিত চর্চা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে সাধারণ একটি দক্ষতাও বিশ্বজুড়ে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ