ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মহিপুরে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে হাজারো পরিবার


মহিপুরে তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে হাজারো পরিবার

মহিপুরে তিস্তা নদীর সেতুর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ধস এসেছে। রবিবার দুপুরে সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ভাঙন এলাকার দৃশ্য দেখা যায়। ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বৃষ্টির প্রভাবে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে।

সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৫০ মিটারের বেশিকিছু অংশ ধসে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যদি দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

রবিবার (২১ জুন) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির উত্তর-পশ্চিম পাশে নির্মিত প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ রক্ষা বাঁধের একটি বড় অংশ ভেঙে গেছে। পানির তীব্র স্রোত বাঁধের নিচের মাটি সরিয়ে নিয়ে বিশাল গর্ত সৃষ্টি করেছে। এতে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহারকারী ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের যাতায়াতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

এদিকে, ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টিপাত ও দেশের অভ্যন্তরে টানা বর্ষণের ফলে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত রংপুরে ১৭ দশমিক ০১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরও একই স্থানে প্রায় ১০০ ফুট এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছিল। সে সময়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১৪ লাখ টাকার বাজেটে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করে ভাঙন রোধের চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এবার সেই পাইলিং পানির তোড়ে ভেঙে গেছে।

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী অভিযোগ করেন, ‘গত বছর ভাঙনের সময় আমরা ব্লক ফেলে স্থায়ীভাবে বাঁধ সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটি না করে বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল। এখন সেই পাইলিংও টেকেনি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেতুর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।’

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতেও নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে সেতু রক্ষা বাঁধে ধসের কারণে অন্তত তিনটি গ্রামের এক হাজারের বেশি পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: নোয়াখালী সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৯টায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার এবং কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে ২৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে দুপুর নাগাদ পানি আরও বেড়ে বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান,‘সকাল থেকেই তিস্তার পানি বাড়ছে। দুপুর ১২টায় পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

তিস্তার চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মহিপুরের কৃষক মকবুল হোসেন বলেন,‘পানির প্রবাহ দেখে মনে হচ্ছে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। আমন মৌসুমের জন্য তৈরি করা বীজতলা ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে।’

চর ইচলি এলাকার কৃষক আমজাদ আলী জানান, তার দেড় বিঘা জমির বাদামখেত পানিতে ডুবে গেছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: বিএনপির বিরুদ্ধে টাকা বিতরণের অভিযোগ জামায়াত প্রার্থীর

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন বলেন, ‘উত্তরের কয়েকটি জেলার নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।’

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনপ্রবণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে শুধু সেতু নয়, পুরো আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। একই সাথে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পেলে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ‘ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের গেট খুলে দেওয়ার পর এবং উজানে ভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি বাড়ছে। ব্যারাজের সব জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে।’

রংপুর বিভাগীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, তিস্তাপাড়ের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে তিস্তাপাড়ে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। তবে অন্যান্য নদীর পরিস্থিতিও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় প্রবাসী আকাশ মিয়ার বিরুদ্ধে বানোয়াট কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ করায় একই পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা

 

কুয়ালালামপুরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয় এবং গার্ড অব অনারও প্রদান করা হয়। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে (Bunga Raya Complex) এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে।

ভিভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্ম মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী। প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন শিশুকন্যা মাইসা নুর আইশা, যিনি প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময় বাংলাদেশ হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাই কমিশনার মিস সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহধর্মিণীকে প্রেজেন্ট করা হয় লালগালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অনার। সুসজ্জিত বাহিনীর প্রদত্ত গার্ড অব অনারের সময়ে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।

পরবর্তীতে বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে একটি বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়; এই সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিনী এবং সফরসঙ্গীরা এই হোটেলে থাকবেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটের সড়কপথ সজ্জিত করা হয় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায়।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারের প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় এটি তার প্রথম সফর।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানের প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও আছেন।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান সরকার গঠন করার পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাকে আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণের ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক এ সফর। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার পরে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ।

তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া অনেকটাই এগিয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন আগামীকাল সোমবার সকালে পুত্রাজায়ায় তার কার্যালয়ে।

সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী প্রথম একান্ত বৈঠক করবেন এবং এরপর উভয় দেশের সরকার প্রধানের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দুই প্রধানমন্ত্রী পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক সহযোগিতার জন্য দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


সিরাজগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধের ঘোষণা

সিরাজগঞ্জে ডিমের উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার অভিযোগের কারণে জেলার পোল্ট্রি খামারিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করেছেন। খামারিদের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব স্থানীয় বাজারে ইতোমধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে।

রবিবার (২১ জুন) জেলার খামার মালিকরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে রয়েছেন, কারণ উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। শনিবার সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকায় অনুষ্ঠিত খামারিদের বৈঠকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডিম বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

খামার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ৯ টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু খামারিদের কাছ থেকে ডিম কেনা হচ্ছে মাত্র ৭ টাকা ৭০ পয়সা দরে। এই হারে উৎপাদন ব্যয়ও উঠে আসছে না। দীর্ঘদিন ধরে এই লোকসান বহন করতে না পেরে খামারিরা ডিম বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

খামারিদের অভিযোগ, একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। সদর উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার খামারি লোকমান হোসেন বলেন, 'ডিম উৎপাদন করছেন খামারিরা, অথচ মূল্য নির্ধারণ করছেন কিছু ব্যবসায়ী। তারা কম দামে ডিম কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন। এতে প্রকৃত উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।'

তিনি এটাও জানান, খাদ্য, ওষুধ, শ্রমিকসহ খামার পরিচালনার সব ধরনের ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে ডিমের দাম বাড়েনি। এর ফলে অনেক খামারি ইতোমধ্যে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি দাবি জানান যে বাজারে সিন্ডিকেট বন্ধ করে উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ডিমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

এদিকে, খামারিদের ডিম বিক্রি বন্ধের কারণে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শহরের এক ডিম ব্যবসায়ী বলেন, 'খামার থেকে আগের মতো ডিম পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে।'

ক্রেতাদের মতে, ডিম সাধারণ মানুষের অন্যতম জরুরি খাদ্য। বাজারে সংকট তৈরি হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বে। এজন্য তারা দ্রুত আলোচনা ও সমন্বয় মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছেন।

তবে এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, 'ডিমের মূল্য সরকার নির্ধারণ করে। কোনো ব্যবসায়ী বা ব্যাপারী ইচ্ছা মতো দাম নির্ধারণ করতে পারেন না। বর্তমানে বাজারে ডিমের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় দামও কম রয়েছে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিজাব ছাড়া গান গাওয়ার কারণে ইরানি শিল্পীকে ৭৪ ঘা করে চাবুক মারার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


হিজাব ছাড়া গান গাওয়ার কারণে ইরানি শিল্পীকে ৭৪ ঘা করে চাবুক মারার নির্দেশ

২০২৪ সালে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে লাইভস্ট্রিম করা একটি কনসার্টে অংশ নেওয়ার অপরাধে ইরানি সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি এবং তার প্রযোজনা দলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে দোররা (চাবুক) মারার সাজা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক মাধ্যম ইউটিউব লাইভে ‘আজ খুনে জাভানানে ওয়াতান’ শিরোনামে একটি দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেছিলেন ২৯ বছর বয়সি ইরানি সংগীতশিল্পী পারাস্তু আহমাদি। ঐ সময়ে তিনি হিজাব ছাড়াই পারফর্ম করেছেন। পরবর্তী সময়ে গানটি সামাজিক মাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়ে। কিন্তু ওই কনটেন্টটিকে ‘অশ্লীল’ আখ্যা দিয়েছেন ইরানের একটি আদালত।

গান প্রকাশের কিছুদিনের মধ্যেই পারাস্তু আহমাদি ও তার কয়েকজন সতীর্থকে আটক করে ইরান প্রশাসন। যদিও পরে তারা মুক্তি পেয়েছিলেন, কিন্তু আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সেই মামলার রায়ে দোররা ও নিষেধাজ্ঞার মতো সাজা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ‘অশ্লীল ও অনৈতিক কনটেন্ট’-এর অভিযোগে গায়িকা পারাস্তু আহমাদিকে কঠোর শাস্তি দিয়েছেন দেশটির আদালত। তিনি এবং তার দলের আট সদস্যকে ৭৪টি করে দোররা মারা হবে। এ ছাড়া এ সংগীতশিল্পীকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন কোম প্রদেশের আদালত।

সম্প্রতি দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সারা বিশ্বে সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার ও সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, এই রায় কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়; বরং ভিন্নমত ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাকে দমনের একটি উদাহরণ। সরকারের সমালোচনামূলক অবস্থানে থাকা শিল্পীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের পদক্ষেপ ইরানে দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে তাদের অভিমত। এছাড়া, এ ঘটনায় ইরানি-ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বোনিয়াদি এবং নির্বাসিত ইরানি অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকিসহ অনেকেই প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ইরানি অ্যাক্টিভিস্টদের আইনি সহায়তাদানকারী সংগঠন ‘দাদবান’-এর মানবাধিকার আইনজীবী মইন খাজায়েলি বলেছেন, এ রায়ের কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। ইরানের প্রচলিত আইনে নারীদের গান গাওয়া কিংবা সংগীত পরিবেশন করাকে অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এজন্য এসব কর্মকাণ্ডকে ‘অশ্লীল কনটেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করা আইনের অপপ্রয়োগ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস ইন ইরান’-এর অ্যাডভোকেসি পরিচালক বাহার ঘান্দেহারি বলেছেন, গান গাওয়া এবং হিজাব ছাড়া উপস্থিত হওয়ার কারণে একজন শিল্পীকে ৭৪ দোররা মারার সাজা দেওয়া অত্যন্ত কঠোর ও উদ্বেগজনক। এটি ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাটোরে একটি বানরের আক্রমণে ৩২ জন আহত, জেলা প্রশাসকের কাছে রেহাই পেতে আবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪৪ পি.এম


নাটোরে একটি বানরের আক্রমণে ৩২ জন আহত, জেলা প্রশাসকের কাছে রেহাই পেতে আবেদন

নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লায় একটি বানরের আক্রমণে ৩২ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১৫ জন। বানরের প্রতি মানুষের অতিষ্ঠতা এতো বেড়ে গেছে যে, এলাকার বাসিন্দারা বানরটির হাত থেকে রেহাই পেতে নাটোর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

গণস্বাক্ষরিত এই আবেদনকারীর নাম মোঃ মিলন আখন্দ, যিনি নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লার বাসিন্দা। তিনি বলেন, লালবাজার মহল্লার শতাধিক বাসিন্দার পক্ষে তিনি একটি খ্যাপা বানরের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। দরখাস্তে তিনি উল্লেখ করেন, বানরটি ভিন্ন জায়গা থেকে এসে প্রায় তিন মাস আগে লালবাজার মহল্লায় অবস্থান নিয়েছে।

ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি এই বানরটি মহল্লার রাস্তাঘাটে ও বিভিন্ন ঘরবাড়ির ছাদ ও চালের উপর দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। প্রকাশ্যে এসব বাড়ির রান্নাঘর, খাবার টেবিল, খাবার হোটেল এবং বিভিন্ন দোকানে ঢুকে মহল্লাবাসীকে আক্রমণ করে খাবার নিয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে এলাকার মানুষকে বাড়িতে থাকার সময় আক্রমণের ভয়ে সারাক্ষণ বাড়ি ঘরের দরজা দিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময়ও বানরের আক্রমণের ভয় পাচ্ছে।

এখন পর্যন্ত বানরটির আক্রমণে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। এই বানরের হামলায় মহল্লার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। লালবাজার এলাকার বাসিন্দা কাকলী রায় (৩০) নামের এক গৃহবধূ জানান, প্রায় দু’মাস আগে তিনি বাড়ির পাশের এক দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বানরটি লাফ দিয়ে তার হাতে কামড় দেয় যাতে একটি আঙ্গুলের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে অপারেশন করে তার আঙ্গুলের রগ জোড়া দিতে হয়েছে এবং এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। প্রতিবেশী শ্রী সঞ্জয় রায় (২৫) বলেন, একদিন বানরটি তার ঘরে ঢুকে ফ্রিজ খোলার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি দৌড়ে এসে দরজা আটকে দিতে গেলে বানরটি তার হাতের কুনইয়ের নিচে কামড় দেয়।

এর জন্য তাকে হাসপাতালে গিয়ে সাতটা ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে। একই এলাকার অপর প্রবীণ বাসিন্দা কল্যাণী পাল (৬০) জানান, বানরটি তাদের খাবার টেবিল থেকে পাউরুটি নিয়ে পালাতে চাইলে বাধা দিলে বানরটি তার হাতে কামড় দেয়, ফলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আরো বয়ঃবৃদ্ধা পূর্ণীমা সেন (৭৫) বলেন, বানরটি বাড়িতে ঢুকে তাকেও কামড় দিয়ে গেছে। বানরটি বেশ শক্তিশালী, ওর সাথে ধস্তাধস্তি করেও পারিনি। বর্তমানে তিনি এবং এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আছেন। প্রতিবেশী জিসান ও নাজমুল ইসলাম বলেন, বানরটির ভয়ে তারা আর মহল্লার কোনো চায়ের দোকান বা খাবারের দোকানে দাঁড়িয়ে বসতে পারছেন না। বাবা-মা তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেতে দিতে ভীষণ ভয় পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা খুবই কষ্টের মধ্যে আছেন।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন শাখার দায়িত্বরত নার্স পারভিন আক্তার বলেন, মাঝেমাঝেই বানরের আক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে রোগী আসছেন। গত তিন মাসে তারা এমন ১৫ জনকে ভ্যাকসিন দিয়েছেন। অনেকেই বাইরে থেকে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। বনবিভাগের রাজশাহী কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লালবাজারের বানরটি অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বারবার চেষ্টা করলেও তারা বানরটিকে ধরতে পারছেন না। কী করা যায় সেই বিষয়টি নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। নাটোর পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক আরিফ হোসেন রোববার বিকেলে বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। তিনি নিজে ঢাকা ও রাজশাহী থেকে বনবিভাগ ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাটোরে ডেকে আনেন। বনবিভাগের লোকজন ম্যানুয়ালী বানরটিকে ধরার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। তারা আগামী দিনে গুলি করে বা অচেতন করে বানরটিকে ধরার চেষ্টা করবে বলে জেলা প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%