বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:৩৫ এম
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, 'সার্বভৌম গ্যারান্টি' থাকার কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো চাইলেই বাতিল করা সম্ভব নয়।
তিনি বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য প্রদান করেন। মারদিয়া মমতাজের একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বললেন, “যেসব বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র অতীতে দেওয়া হয়েছিল, তাদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিতে সার্বভৌম গ্যারান্টি আছে। এটা রাষ্ট্রের গ্যারান্টি। এই গ্যারান্টি বাতিল করতে অনেক সময় লাগে।”
তিনি বলেন, চুক্তিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বিলম্বিত অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রের অতিরিক্ত ফি কমানোর বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। ফলপ্রসূ সমাধানে পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মন্ত্রী আরও জানান, কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তাই বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুতের দাম কমানোর ও জনগণকে সহনীয় মূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের জিজ্ঞাসার জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশে দৈনিক প্রায় ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে।
গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানগুলোতে চাহিদার তুলনায় কম গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদ্যুতের সঞ্চালন লস ছিল ৩ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং বিতরণ লস ছিল ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত সঞ্চালন লস দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং বিতরণ লস ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।
রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে বর্তমান দাম এখনও ব্রেক-ইভেন পর্যায়ের ওপরে থাকায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল বিক্রিতে প্রতিদিন প্রায় ৭৮ কোটি টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।
তিনি জানান, গত মার্চ থেকে জুনের ২৩ তারিখ পর্যন্ত বিপিসির মোট লোকসান হয়েছে ১৮ হাজার ৬৯৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম আরও কমে যায় তাহলে দেশের বাজারেও জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশ্নের উত্তরে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে কোনো কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু নেই এবং তাদের সঙ্গে কোনো চুক্তি কার্যকর নেই।
তিনি বলেন, দুটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ‘নো ইলেকট্রিসিটি, নো পেমেন্ট’ ভিত্তিতে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু না থাকায় কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ প্রদান করা হচ্ছে না।
এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তিনি জানান, ১৯৭৪ সালের প্রেস কাউন্সিল আইন যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার জন্য সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, বার কাউন্সিলের মতো সাংবাদিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানা এবং গুজব, ভুয়া খবর ও ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোক্তার আলীর প্রশ্নের উত্তরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে মোট ৩ হাজার ৩৩৮টি নিবন্ধিত পত্রিকা রয়েছে।
সংবাদ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এর মধ্যে দৈনিক পত্রিকা ১ হাজার ৪৩৬টি, সাপ্তাহিক ১ হাজার ২৩১টি, মাসিক ৪৫২টি, পাক্ষিক ২১৫টি এবং অর্ধ-সাপ্তাহিক, দ্বিমাসিক, ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক ও বার্ষিক পত্রিকা ৫৪টি।
সংরক্ষিত আসনের নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৮৪টি শিল্পনগরী বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এসব শিল্পনগরীতে মোট ১৩ হাজার ৩৬৪টি শিল্পপ্লট রয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৬৮৭টি প্লটে ৬ হাজার ৩৫৮টি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হামলার হুঁশিয়ারি ও যুদ্ধবিরতি শেষের ঘোষণায় পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ছে।
ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা গোটা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ‘আগুন ধরানোর ঝুঁকি’ তৈরি করছে।
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনির উর্ধ্বতন উপেদেষ্টা আলি আকবর বেলায়েতি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুঃসাহসিক অভিযানের তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিক শান্তিচুক্তি বাতিল নিয়ে ট্রাম্প যে নতুন উস্কানিমূলক মৌখিক ঘোষণা দিয়েছেন, তা এ অঞ্চলকে আগুন জ্বলে ওঠার দিকে ঠেলে দিয়েছে।”
বেলায়েতি জানান, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ইরানের প্রতিরোধের অক্ষ (ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠী ও মিত্রদের নেটওয়ার্ক) ‘ট্রিগারে আঙুল দিয়ে রেখেছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অর্ন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ‘শেষ হয়ে গেছে’ বলে এর আগে মৌখিক ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তুরস্কের আঙ্কারায় নেটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে যাওয়াটা কেবল সময়ের অপচয় এবং তিনি আর তাদের সাথে কোনও চুক্তি চান না।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আমার কাছে মনে হয়, এই যুদ্ধবিরতি শেষ।" তিনি সরাসরি ইরানের নেতাদের “অসুস্থ, সহিংস ও পাগলও” আখ্যা দেন।
ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলেছে, “আমরা ইতরামির জবাব ইতরামি দিয়ে দেইনা, বরং নির্ভয়ে এবং বাহাদুরির সঙ্গে কাজ করে দেখানোর মাধ্যমে দেই।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাঝারি থেকে একটুভারি বৃষ্টিপাত হলেই গাইবান্ধা জেলা শহর হাঁটু পানিতে ডুবে যায়। বৃষ্টির পরপরই শহরের প্রধান সড়ক, অলিগলি এবং বিভিন্ন মোড়ে হাঁটুসমান পানি জমে থাকার কারণে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকাসহ জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন ও মানুষ চলাচলে নানান দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বছরের পর বছর ধরেই দুর্যোগ চলতে থাকলেও এর ওপর নজর রাখার কেউ নেই। সুবিধাবঞ্চিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নালা-নর্দমা পরিষ্কারের অভাব এবং পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে। অল্প সময়ের বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী এবং যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করছে। বৃস্টি হলেই গাইবান্ধা শহরের মধ্যপাড়া, মাষ্টারপাড়া, মুন্সিপাড়া, ভিএইড রোড, খাঁ পাড়া, পুরাতন হাসপাতাল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অথচ গাইবান্ধা শহরের মধ্য দিয়েই বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। পরিকল্পিত সামান্য ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই অনেক স্বল্প বাজেটেই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞদের মতামত। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং অফিসগামী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। অনেককে হাঁটু পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন স্থানে যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনির ছাত্রী নাজমা বেগম জানালেন, স্কুল থেকে সে রাস্তার পানিতেই ভিজে বাড়ি ফিরেছে। একই অবস্থা আসাদুজ্জামান গালস হ্ইাস্কুলের ৮ম শ্রেনির ছাত্রী তাসলিমারও। নাগরিকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সমস্যা থাকার পরেও স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না। ফলে বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা যেন গাইবান্ধা শহরবাসীর নিত্যদিনের বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা পরিকল্পিত দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নালা-নর্দমা সংস্কার এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে জলাবধ্যতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিরলে বৃক্ষরোপণ এবং চারা বিতরণের কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংগঠনগুলোর মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ করা হয়।
বুধবার উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আয়োজনে স্নিগ্ধা ইয়ুথ উইমেন সোসাইটির সহযোগিতায় কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল ইসলাম এর পক্ষে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসার মাহফুজার রহমান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে স্নিগ্ধা ইয়ুথ উইমেন সোসাইটির সভাপতি মাহবুবা আক্তার বিথি এর সঞ্চালনায় বিরল সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আতিয়ুর রহমান, বিরল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আনিসুজ্জামান মিলন, প্রেস ক্লাবের সভাপতি আতিউর রহমান, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট উপজেলা শাখার আহ্বায়ক দিনেশ চন্দ্র রায়সহ উপজেলার বিভিন্ন যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্সের অর্থ আবারও প্রকাশ্যে গণনা করা হবে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির তত্ত্বাবধানে আগামী শনিবার এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
এটি হবে মাত্র ১৯ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো উন্মুক্ত পরিবেশে দানের অর্থ গণনার উদ্যোগ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। তিনি জানান, শনিবার দুপুর ১২টায় মাজার প্রাঙ্গণের উন্মুক্ত স্থানে দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হবে।
পুরো কার্যক্রম কমিটির সদস্য, প্রশাসনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে পরিচালিত হবে। এ আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি ও করণীয় চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কমিটির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, গত ২২ জুন প্রায় সাত শতকের প্রচলিত রীতি পরিবর্তন করে প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে মাজারের তিনটি ঐতিহাসিক দানের ডেক এবং একটি দানবাক্স খোলা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ অর্থ গোপনে গণনার প্রচলন থাকলেও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে প্রশাসন প্রকাশ্যে গণনার সিদ্ধান্ত নেয়।
সেদিন গণনা শেষে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৫৯ টাকা পাওয়া যায়। পরে পুরো অর্থ সোনালী ব্যাংকে জেলা প্রশাসনের নামে খোলা একটি নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের উদ্যোগ শুরু হয় গত ১২ জুন। ওই দিন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ১৮ জুন মাজারে চারটি নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয় এবং পুরোনো তিনটি দানের ডেক ও একটি দানবাক্স সিলগালা করে রাখা হয়, যাতে নির্ধারিত সময়ে সবার উপস্থিতিতে সেগুলো খোলা ও অর্থ গণনা করা যায়।
এদিকে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত ২৬ জুন ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কমিটিতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বিভাগীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মাজারের মতোয়াল্লি পরিবার এবং মসজিদ-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। জেলা প্রশাসক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে মাজারের দান ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও প্রাতিষ্ঠানিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হবে। কমিটি জানায়, গণনা শেষে প্রাপ্ত অর্থ আগের মতোই সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ