ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

স্ট্রোকের আগাম সংকেত: মাথাব্যথা ও উপসর্গে সতর্কতা


স্ট্রোকের আগাম সংকেত: মাথাব্যথা ও উপসর্গে সতর্কতা

রাতভর ঘুমানোর পর সকালে ঘুম ভেঙে মাথাব্যথা অনুভব করা একটি সাধারণ সমস্যা। কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে মাথা ভার হয়ে থাকে, আবার কারও ক্ষেত্রে কপাল বা মাথার এক পাশে তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়।

এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রথমে মনে করেন, ঘুমের অভাব কিংবা শরীরে পানির ঘাটতি রয়েছে। আবার কিছু লোক ভয় পেয়ে যান, এটি কি স্ট্রোকের কোনো পূর্ব সংকেত? বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে মাথাব্যথা হলেই তা স্ট্রোকের লক্ষণ নয়, তবে কিছু উপসর্গ রয়েছে, যেগুলো দেখা দিলে অবহেলা করা উচিত নয়।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে ভারতের গুরুগ্রামের মারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালের এমএআইআইএনএসের চেয়ারম্যান ও নিউরোলজিস্ট চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্ত কিছু ভুল ধারণা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে,

আরও পড়ুন: পাইকগাছায় ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে ৬ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসা সেবা

মাথাব্যথা ছাড়াও হতে পারে স্ট্রোক

অনেকে মনে করেন, স্ট্রোক হলে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হবেই। তবে চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্ত জানান, সব স্ট্রোকের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা দেখা দেয় না। অনেক সময় ব্যথা ছাড়াই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। হঠাৎ শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই মাথাব্যথার জন্য অপেক্ষা করলে স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।

তরুণদেরও স্ট্রোক হতে পারে

স্ট্রোক শুধু বয়স্কদের মধ্যে হয়, এমন ধারণাও ভুল। চিকিৎসকের মতে, বর্তমানে ৩০ ও ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও স্ট্রোকের ঘটনা ঘটছে। এর পেছনে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত ঘুমের মতো বিষয়গুলো দায়ী। তাই বয়স কম বলে স্ট্রোকের ঝুঁকি নেই, এমন মনোভাব ঠিক নয়। নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অপরিহার্য।

আরও পড়ুন: মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের জন্য ৫১ মেডিক্যাল সেন্টারের তালিকা প্রকাশ

উপসর্গ কমে গেলেও বিপদ কেটে যায় না।

হঠাৎ কয়েক মিনিটের জন্য মাথা ঘোরা, কথা জড়িয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়ার পর আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। অনেকেই তখন বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। কিন্তু চিকিৎসকের মতে, এমন সাময়িক উপসর্গও মিনি স্ট্রোক বা ট্রানজিয়েন্ট ইস্কেমিক অ্যাটাকের (টিআইএ) লক্ষণ হতে পারে। টিআইএকে অনেক সময় বড় স্ট্রোকের আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হয়। এর উপসর্গ সাময়িকভাবে চলে গেলেও ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকতে পারে।

স্ট্রোকের চিকিৎসা ঘুমিয়ে বা ঘরোয়া উপায়ে নয়।

মাথাব্যথা বা শরীরে অস্বাভাবিক কিছু অনুভব করলে অনেকেই বিশ্রাম নেন, ঘুমিয়ে পড়েন কিংবা ঘরোয়া উপশমের চেষ্টা করেন। কিন্তু স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এমন অপেক্ষা বিপজ্জনক হতে পারে।

আরও পড়ুন: অ্যালুমিনিয়ামের রান্নার পাত্রে সিসা মিশছে, গবেষণায় উদ্বেগ

চিকিৎসক প্রবীণ গুপ্তের মতে, স্ট্রোকের সময় প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। যত দেরি হয়, মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতির আশঙ্কা তত বাড়ে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে ঘরোয়া চিকিৎসা বা বিশ্রামের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া উচিত।

যে ৫ লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন

চিকিৎসকের মতে, কিছু নির্দিষ্ট উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। বিশেষ করে—

হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা: কোনো পূর্বলক্ষণ ছাড়াই আচমকা প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হলে, বিশেষ করে জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা মনে হলে।

আরও পড়ুন: ঢামেকে চীনা চিকিৎসক দলের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠান

শরীরের এক পাশ দুর্বল হওয়া: হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশের শক্তি কমে যাওয়া।

কথা জড়িয়ে যাওয়া: হঠাৎ কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, কথা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া।

দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন: হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, এক বা দুই চোখে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া কিংবা দৃষ্টি হারানো।

বিভ্রান্তি, বারবার বমি বা খিঁচুনি: মাথাব্যথার সঙ্গে হঠাৎ বিভ্রান্তি, বারবার বমি কিংবা খিঁচুনি দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: এনআরবিসি ব্যাংক ও পারফেক্ট গ্লোবাল হেলথ-এর মধ্যে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সেবায় চুক্তি স্বাক্ষর

এ ছাড়া কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে মাথাব্যথা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

স্ট্রোকের লক্ষণ চিনতে মনে রাখুন BE-FAST।

স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে চিকিৎসকরা BE-FAST পদ্ধতির কথা বলেন। এতে ছয়টি বিষয় খেয়াল রাখতে হয়।

B (Balance): হঠাৎ ভারসাম্য হারানো বা হাঁটতে সমস্যা হওয়া।

আরও পড়ুন: ‘আমরা নারী’ ও এরিস্টো আই হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি স্বাক্ষর

E (Eyes): হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তি হারানো।

F (Face): মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া।

A (Arms): এক হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া বা তুলতে না পারা।

S (Speech): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া।

T (Time): এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া।

প্রতিদিন সকালে মাথাব্যথা নিয়ে ঘুম ভাঙলে প্রথমেই এর ধরন ও কারণ বোঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না, রাতে পানি কম পান করছেন কি না, অতিরিক্ত মানসিক চাপ রয়েছে কি না এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা জরুরি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রমজানের প্রস্তুতি: ১০০ দিন আগে থেকেই শুরু করতে হবে প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ এম


রমজানের প্রস্তুতি: ১০০ দিন আগে থেকেই শুরু করতে হবে প্রস্তুতি

পবিত্র রমজান শুরু হতে এখনও প্রায় ১০০ দিন বাকি রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, রোজা রাখার প্রস্তুতি শেষ মুহূর্তে শুরু না করে এখন থেকেই দৈনন্দিন অভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তন আনা উচিত। ঘুম, খাবার, শরীরচর্চা ও ইবাদতের রুটিনে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনলে রমজানে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার সঙ্গে মানিয়ে নেয়া সহজ হতে পারে। খবর খালিজ টাইমস

সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রমজান শুরু হওয়ার আগে হঠাৎ করে সব অভ্যাস বদলে ফেলার চেষ্টা না করে অল্প অল্প করে পরিবর্তন আনা ভালো। এতে শরীর ও মনকে নতুন রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্য সময় পাওয়া যায়।

দুবাইয়ের এনজিএসের ইমাম ও ধর্মীয় আলোচক শেখ আয়াজ হাউজে বলেন, "রমজানের প্রথম দিন থেকে হঠাৎ ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত নয়।" তিনি যোগ করেন, "এখন থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ সময়মতো আদায়, প্রতিদিন কুরআনের কয়েকটি আয়াত পড়া এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখা যেতে পারে।" তার পরামর্শ হলো, একসঙ্গে সবকিছু বদলে ফেলার লক্ষ্য না রেখে ছোট অভ্যাস নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে।

যারা মাসিক, সাময়িক অসুস্থতা বা ভ্রমণের কারণে আগের রমজানে রোজা রাখতে পারেননি, তাদের পরবর্তী রমজানের আগে সম্ভব হলে সেই রোজাগুলো কাজা করে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ঘুম ও খাবারের রুটিনে পরিবর্তন আনতে হবে। দুবাইয়ের ইন্টারন্যাশনাল মডার্ন হাসপাতালের পুষ্টিবিদ স্বপ্না মেরি জনের পরামর্শ, "এখন থেকেই খাবারের নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা, অপ্রয়োজনীয় নাশতা কমানো এবং গভীর রাতে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস বাদ দেয়া উচিত।" তিনি আরও বলেন, "রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, তত ধীরে ধীরে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার সময় পরিবর্তন করে সেহরির উপযোগী রুটিন তৈরি করা যেতে পারে।"

দিনভর নিয়মিত পানি পান এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। যারা প্রতিদিন কয়েক কাপ চা বা কফি পান করেন, তাদেরও ধীরে ধীরে ক্যাফেইন গ্রহণ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি সতর্ক করেন যে, রমজানে হঠাৎ চা-কফি বন্ধ করলে মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও বিরক্তি দেখা দিতে পারে।

খাবারে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। রমজানের প্রস্তুতিতে প্রতিদিনের খাবারে আঁশসমৃদ্ধ খাবার, প্রোটিন, ফল ও শাকসবজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন স্বপ্না মেরি জন। সেহরিতে ওটস, পূর্ণশস্যের রুটি, ডিম, দই, শিমজাতীয় খাবার ও শাকসবজি রাখা যেতে পারে। ইফতারে শাকসবজি, প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার এবং পরিমিত শস্যজাতীয় খাবার খেলে খাদ্যতালিকায় ভারসাম্য বজায় থাকে।

অতিরিক্ত মিষ্টি, চিনিযুক্ত পানীয়, ভাজাপোড়া ও ঘন ঘন নাশতা খাওয়ার অভ্যাসও ধীরে ধীরে কমানো উচিত। তবে শরীরের প্রয়োজনীয় খাবার কমিয়ে দেয়াই লক্ষ্য নয়; বরং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য।

শরীরচর্চা বন্ধ করা উচিত নয়, বরং নিয়মিত অভ্যাস চালিয়ে যেতে হবে। দুবাইয়ের এনএমসি স্পেশালিটি হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সিদ্ধার্থ জয়মোহন উন্নিথান বলেন, "রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে শরীরচর্চা বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।" তিনি জানান, দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো ও হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে। তবে হঠাৎ ব্যায়ামের মাত্রা বা তীব্রতা বাড়ানো উচিত নয়।

রমজানে ইফতারের আগে হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। মাঝারি মাত্রার শরীরচর্চা বা শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের জন্য ইফতারের এক থেকে দুই ঘণ্টা পরের সময়টি তুলনামূলক উপযোগী। আঘাত বা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা থাকলে ব্যায়ামের রুটিন পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগে থেকেই কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি, নিয়মিত ওষুধ গ্রহণকারী কিংবা শারীরিক আঘাত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের রোজা রাখার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। রোজা অবস্থায় মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা তীব্র মাথাব্যথাকে স্বাভাবিক উপসর্গ ভেবে অবহেলা করা যাবে না। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মূল পরামর্শ হলো, রমজানের প্রথম দিন যেন ঘুম, খাবার, শরীরচর্চা ও ইবাদতের সম্পূর্ণ নতুন রুটিন শুরুর দিন না হয়। তার প্রস্তুতি শুরু হোক এখন থেকেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেহরবের সেঞ্চুরি, নাসুমের ফাইফার, আরাফাতের ৬ উইকেট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ এম


মেহরবের সেঞ্চুরি, নাসুমের ফাইফার, আরাফাতের ৬ উইকেট

জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ম্যাচে নিজেদের দক্ষতা ব্যাট ও বল উভয় ক্ষেত্রেই প্রদর্শন করেছেন ক্রিকেটাররা। রাজশাহীর এসএম মেহরব প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি অর্জন করেছেন। অন্যদিকে, বল হাতে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ক্যারিয়ারে ১৩ বারের মতো ৫ উইকেট শিকার করেছেন সিলেটের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। তবে রাজশাহীতে বৃষ্টির কারণে মাঠ অনুপযুক্ত হওয়ায় এখনও খেলা শুরু হয়নি।

রংপুরের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে রাজশাহী ২৩১ রানে গুটিয়ে যায়। দলের হয়ে অসাধারণ ব্যাটিং করে সেঞ্চুরি করেছেন মেহরব (১০১ রান)। রংপুরের মেহেদী ৪ উইকেট নিয়েছেন। জবাবে, প্রথম ইনিংসে রংপুর ৩ উইকেটে ১২২ রান তুলেছে। অনিক সরকার ৫৯ ও ইকবাল হোসেন ৪৫ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

এদিকে, নাসুম আহমেদের ফাইফারে (৫/৭২) চট্টগ্রামের প্রথম ইনিংস ২১০ রানে গুটিয়ে যায়। চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৮২ রান করেন মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম ইনিংসে সামান্য লিড পাওয়া সিলেট দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ৮৯ রান তুলে ৯৭ রানে এগিয়ে রয়েছে। জাকির ৩৫ রানে আউট হয়েছেন। সৈকত আলি ৩৬ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

অন্য ম্যাচে, নুরুল হাসান সোহান (১০৪) ও মোহাম্মদ মিঠুনের (১১৯) সেঞ্চুরিতে খুলনা ২৮৮ রান করলে ময়মনসিংহ ফলোঅনে পড়েছে। ময়মনসিংহের ইয়াসিন আরাফাত একাই ৬ উইকেট শিকার করেছেন। প্রথম ইনিংসে ১০৮ রানে অলআউট হওয়া ময়মনসিংহ দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে রয়েছে।

এদিকে, গত দুই দিন বৃষ্টি না হলেও, রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড খেলার অনুপযুক্ত হওয়ায় বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের মধ্যকার ম্যাচটি মাঠে গড়ায়নি। তবে আজ দুপুরের দিকে খেলা শুরু হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র গরমে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ১,৭৫০ কোটি ডলার ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ এম


তীব্র গরমে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ১,৭৫০ কোটি ডলার ক্ষতি

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৫ সালে দেশের সম্ভাব্য আয়ের তুলনায় তীব্র গরমের ফলে ক্ষতি হয়েছে ১৭.৫ বিলিয়ন বা ১,৭৫০ কোটি মার্কিন ডলার। একই সময়ে, ১৯৮৬-২০০৫ সালের তুলনায় শিশুদের মধ্যে তাপপ্রবাহের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি ১৬২ শতাংশ এবং প্রবীণদের মধ্যে ১৩৬ শতাংশ বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, মানবসৃষ্ট সূক্ষ্ম কণাদূষণের কারণে ২০২৩ সালে দেশে আনুমানিক দুই লাখ ৩৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

‘ল্যানসেট কাউন্টডাউন ২০২৬ : স্বাস্থ্য ও জলবায়ু পরিবর্তন’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। গতকাল রোববার ঢাকার ব্র্যাক সেন্টার ইনে বাংলাদেশের জন্য প্রতিবেদনটির তথ্য তুলে ধরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর)।

প্রতিবেদনে জলবায়ু পরিবর্তনকে জনস্বাস্থ্যের বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং নীতিনির্ধারণ, কার্বন নিঃসরণ কমানো ও অর্থায়নে স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০১৬-২০২৫ সময়ে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতির অনেক সূচক আগের দশকের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিট (সিসিএইচপিইউ)।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিবেশ অর্থনীতিবিদ শৌর্য দাশগুপ্ত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. ইকবাল কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিইআর-এর পরিচালক গোলাম রব্বানী।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জলবায়ুনীতিতে কৃষি ও পানির পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে এসব নীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় মনোযোগ ও অর্থায়নের ঘাটতি রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে কৃষক, বাইরে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষ এবং শহরের বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ডেঙ্গু নিয়মিত জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এসব ঝুঁকি মানুষের স্বাস্থ্য, জীবিকা এবং নিরাপদে কাজ করার সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

প্রতিবেদনের তথ্য কাজে লাগিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, আগাম সতর্কতা এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

মূল প্রবন্ধে তিনি বলেন, ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে গরমের কারণে প্রতি বছর গড়ে ২৬ বিলিয়নের বেশি শ্রমঘণ্টা নষ্ট হয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের বার্ষিক গড়ের তুলনায় এ ক্ষতি ৭১ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে এক বছরের কম বয়সি শিশু এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সি মানুষ যথাক্রমে ৭.৬ ও ৭.২ দিন তাপপ্রবাহের মধ্যে কাটিয়েছে। ১৯৮৬ থেকে ২০০৫ সালের তুলনায় এ হার যথাক্রমে ১৬২ ও ১৩৬ শতাংশ বেশি। এছাড়া, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ৬৫ বছরের বেশি বয়সি মানুষের তাপজনিত মৃত্যুর আর্থিক মূল্য বছরে গড়ে ৩৮০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০০০ থেকে ২০০৪ সালের তুলনায় এ ক্ষতি ৪৯৫ শতাংশ বেশি। এ অর্থ ওই বয়সি মানুষের গড় বার্ষিক আয়ের প্রায় দুই লাখ ১৬ হাজার গুণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট অতিক্ষুদ্র বস্তুকণায় (পিএম ২.৫) বায়ুদূষণের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৩ সালে এ ধরনের দূষণজনিত মৃত্যুর ৩৭.৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল জীবাশ্ম জ্বালানি। একই বছরে গৃহস্থালি বায়ুদূষণের সঙ্গে ৭৭ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যুর সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার ৭০০। বায়ুদূষণের কারণে অকালমৃত্যুর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭.৬ বিলিয়ন বা ৭,৭৬০ কোটি ডলার, যা বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৬.৪ শতাংশের সমান।

অন্যদিকে, ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি ব্যবস্থার কার্বন নিঃসরণ তীব্রতা ৯.৯ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে জীবাশ্ম জ্বালানিতে নিট ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৫৩০ কোটি ডলার, যা জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটের ৫২.৯ শতাংশের সমান। এতে আরো বলা হয়েছে, ৪৮টি উন্নয়নশীল দেশের স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বছরে অন্তত ৩৩০ কোটি ডলার প্রয়োজন। অথচ ২০২৪ সালে এ খাতে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে মাত্র ১১০ কোটি ডলার, যা চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) এবং জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় (ন্যাপ) স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন এসব অঙ্গীকার বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে হবে। বায়ুদূষণে দুই লাখ ৩৯ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য দূষণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজের (সিএসডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাপমাত্রা বাড়ানোর কারণে শ্রমজীবী মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একই সঙ্গে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়তি ঝুঁকিতে পড়ছে।

তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যথাযথ পদক্ষেপ নিতে আমরা দেরি করে ফেলেছি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, ল্যানসেট কাউন্টডাউনের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। তবে পদক্ষেপ নিতে হবে স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায়। তীব্র গরমের মধ্যেও অনেক মানুষ জীবিকার প্রয়োজনে বাইরে কাজ করতে বাধ্য হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেন্টমার্টিনে কোটি টাকায় স্থায়ী ‘বেওয়ারিশ কুকুর আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ এম


সেন্টমার্টিনে কোটি টাকায় স্থায়ী ‘বেওয়ারিশ কুকুর আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা

প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। খাবারের অভাব, রোগব্যাধি ও চিকিৎসার অভাবে এসব কুকুরের দুর্ভোগ ক্রমশ বাড়ছে। এ অবস্থায় দ্বীপের কুকুরগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও পরিচর্যার উদ্দেশ্যে কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের প্রথম স্থায়ী কুকুর আশ্রয়কেন্দ্র। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নির্মিত এ আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসার পাশাপাশি বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমও পরিচালিত হচ্ছে। উদ্যোগটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন জার্মানি ও পেরুর দুই তরুণী।

মানবিকতার টানে জার্মানি থেকে সেন্টমার্টিনে এসেছেন জলপিয়া। তার সঙ্গে রয়েছেন পেরুর জেসিকা মারিয়া। তারা আশ্রয়কেন্দ্রে অসুস্থ ও বিপন্ন কুকুরগুলোর খাবার, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় কাজ করছেন। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, কেবল অসুস্থ কুকুরের চিকিৎসা নয়, দ্বীপে কুকুরের অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রাণীগুলোর জন্য তুলনামূলক নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা অনুযায়ী, সেন্ট মার্টিন দ্বীপে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা চার হাজারের বেশি। কিন্তু এত বিপুলসংখ্যক কুকুরের জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক কুকুর অপুষ্টি ও নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসার অভাবে কিছু কুকুর প্রাণও হারাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সীমিত সামর্থ্যের কারণে এত বিপুলসংখ্যক প্রাণীর দায়িত্ব নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্রে কুকুরের খাবার ও চিকিৎসার পাশাপাশি বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। উদ্যোক্তারা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে বন্ধ্যাকরণ করা গেলে কুকুরের অনিয়ন্ত্রিত বংশবৃদ্ধি কমবে। এতে ভবিষ্যতে খাবার ও চিকিৎসার সংকটও কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

পেরুর জেসিকা মারিয়া বলেন, "একটি স্ত্রী কুকুর বছরে একাধিকবার বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে কুকুরের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। এ কারণে বন্ধ্যাকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, "অনেক কুকুরের শরীরে টিউমার ও চর্মরোগ দেখা যাচ্ছে। এসব রোগের কারণে প্রাণীগুলো প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছে। তাদের দুর্ভোগ কমাতে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।"

জার্মানির জলপিয়া বলেন, "রাস্তা থেকে অসুস্থ কুকুর উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। সেখানে তাদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কিছু কুকুরের বন্ধ্যাকরণও করা হচ্ছে, যাতে ধীরে ধীরে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আসে।" তার মতে, কুকুরের সংখ্যা কমলে তাদের খাবার, চিকিৎসা ও অন্যান্য দুর্ভোগও কমানো সম্ভব হবে।

জলপিয়া আরও বলেন, "আগে দ্বীপে কুকুরের সংখ্যা আরও বেশি ছিল বলে তিনি শুনেছেন। এত বেশি কুকুরের কারণে তাদের নানা ধরনের কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। এখন ধাপে ধাপে বন্ধ্যাকরণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা চলছে। তবে অসুস্থ কুকুরের সংখ্যা দেখে তার খারাপ লাগে। একসঙ্গে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব না হলেও একেকটি কুকুরকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।"

আশ্রয়কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কিশোর কুমার দাশ। তিনি বলেন, "সেন্ট মার্টিনে এসে কুকুরগুলোর অবহেলিত অবস্থা এবং কয়েকটি কুকুরকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা তাকে ব্যথিত করে। তখনই দ্বীপের কুকুরগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয় তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি।"

কিশোর কুমার দাশ বলেন, "কুকুরদের নিয়ে অনেকেই কথা বলেন, কেউ কেউ এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ব্যবসাও করেন। কিন্তু প্রাণীগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর সমাধানের উদ্যোগ খুব বেশি দেখা যায় না। শুধু সাময়িক খাবার বা চিকিৎসা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। কুকুরগুলোর জন্য স্থায়ী ও মানবিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।"

তিনি আরও বলেন, "দ্বীপের প্রকৃতি, মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। কুকুরগুলোর নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে তাদের দুর্ভোগ কমাতে কাজ করতে চান তারা।"

আশ্রয়কেন্দ্রটিতে রয়েছে ২০টি শেল্টার। প্রতিটি শেল্টারে ১২টি করে কুকুর রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব কুকুরের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন দুই চিকিৎসক।

উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা, আশ্রয়কেন্দ্রটির মাধ্যমে সেন্ট মার্টিনের বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি পরিকল্পিত চিকিৎসা ও বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থানের একটি মানবিক দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%