১২:৩৬ পি.এম
২০২০ সালে মৃত্যুর আগে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার শরীরে একাধিক 'সতর্কতামূলক সংকেত' দেখা দিয়েছিল। তবে এসব লক্ষণ যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে আদালতে জানান এক ফরেনসিক চিকিৎসক।
ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় আর্জেন্টিনায় চলমান মামলায় মঙ্গলবার সাক্ষ্য দেন ফরেনসিক চিকিৎসক কার্লোস ক্যাসিনেলি। সাতজন পেশাদার স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে চলমান এই মামলায় তাদের চিকিৎসায় সম্ভাব্য অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই সপ্তাহ পরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান ম্যারাডোনা। মৃত্যুর আগে তিনি অ্যাকিউট পালমোনারি এডিমায়ও আক্রান্ত ছিলেন।
আরও পড়ুন: ডিএনসিসি প্রশাসক: ফুটপাতে ব্যবসার পক্ষে কেউ নেই, সড়ক দখল উচ্ছেদে জনগণের সহযোগিতা জরুরি
বুয়েনস আয়ার্সের উত্তরের সান সিড্রো আদালতে ক্যাসিনেলি জানান, ম্যারাডোনার শরীরে নিচের অঙ্গে পানি জমা, আঙুল ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ এবং অস্বাভাবিক দ্রুত হৃদস্পন্দনের মতো উপসর্গ দেখা গিয়েছিল।
তার দাবি, এসব লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ম্যারাডোনার ফোলা বা শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ অনুসন্ধানে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের পদ্ধতিতেও এসব সতর্কতামূলক সংকেতের পর কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি বলেও আদালতকে জানান তিনি।
ক্যাসিনেলি আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ম্যারাডোনার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হচ্ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে একটি সতর্কবার্তা দেওয়া এবং চিকিৎসা পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন ছিল। বরং তাকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়াটিই ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করেন তিনি।
মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ক্যাসিনেলি জানান, মৃত্যুর আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা তীব্র যন্ত্রণার মধ্যে ছিলেন ম্যারাডোনা।
আরও পড়ুন: সরকার অবাধ ও সুষ্ঠু স্থানীয় নির্বাচন উপহার দেবে: মীর শাহে আলম
তবে মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসাকর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের কোকেন ও অ্যালকোহল আসক্তির সঙ্গে লড়াই করা ম্যারাডোনা স্বাভাবিক শারীরিক জটিলতার কারণেই মারা গেছেন।
ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চলমান এই বিচার আগস্টের পরও গড়াতে পারে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
