০৮:৫৫ পি.এম
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাইসুল ইসলাম রোজ, যিনি জুল মাসে হামলা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হয়েছেন, তবুও তিনি নিজ পদে বহাল রয়েছেন। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কর্তৃক একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তার কর্মস্থলে পুনরায় যোগদানপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে রুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী রাইসুল ইসলাম রোজ, সেই সময় আবাসিক হলে শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে আলোচনায় আসেন। পরবর্তীতে বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি রুয়েটের গবেষণা ও সম্প্রসারণ দপ্তরে সেকশন অফিসার পদে যোগদান করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের হামলার ঘটনায় রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় একটি ফৌজদারি মামলায় রাইসুল ইসলাম রোজ এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৩, ৩২৪, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২ ও ৫০৬ ধারাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার পর, দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পর সম্প্রতি রুয়েটের রেজিস্ট্রার কর্তৃক স্বাক্ষরিত ৫৫৭০ নম্বর স্মারকের বিজ্ঞপ্তিতে, কর্তব্য-কর্মে যোগদান প্রসঙ্গে শিরোনামে তার যোগদানপত্র গ্রহণ করেছেন বলেও জানানো হয়। এই বিষয়ে রুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আরিফ আহমেদ চৌধুরী বক্তব্য রেখে বলেন, রাইসুল ইসলাম রোজের বিরুদ্ধে জুলাই হামলাসংক্রান্ত কোনো লিখিত নথি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নেই। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো মামলার ক্ষেত্রে তিনি এজাহারভুক্ত আসামি কি না— প্রশাসন সে বিষয়ে অবগত নয়। অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের ২০২৩ সালের ৩১ আগস্টের অনুসন্ধান নথিতে, তৎকালীন রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সেখের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকায় রাইসুল ইসলাম রোজের নামও উল্লেখ রয়েছে। জানা গেছে, একই জুলাই হামলা মামলার এজাহারভুক্ত আরও দুই ব্যক্তি, রফিকুল ইসলাম বিপু ও মুফতি মাহমুদ রনি, বর্তমানে রুয়েটে কর্মরত রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন