০৪:৩৯ পি.এম
খেলাফত মজলিস জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আগামী সেপ্টেম্বরে বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরে গণসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যথাসম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। পাশাপাশি তারা জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার তৃতীয় সাধারণ অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের অধিবেশন পরিচালনা করেন।
অধিবেশন শেষে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের মাধ্যমে প্রদত্ত গণরায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে যথাসম্ভব প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইবে খেলাফত মজলিস।
আরও পড়ুন: এনসিপির আহ্বায়ক হলেন নাহিদ, সদস্যসচিব আখতার
অধিবেশনে নেতারা অভিযোগ করেছেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ রায়কে পাশ কাটিয়ে সরকার সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। তারা দাবি করেছেন, গণরায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা ও জুলাই গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।
১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য প্রসঙ্গে অধিবেশনে বলা হয়, এই ঐক্য মূলত নির্বাচনী সমঝোতা ছিল। নির্বাচন শেষ হওয়ার কারণে ওই সমঝোতার কার্যকারিতা শেষ হয়েছে। তাই এখন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের সব কর্মসূচি থেকে খেলাফত মজলিস বিরত থাকবে। তবে দেশ, জাতি ও ইসলামের স্বার্থে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে বৃহত্তর ঐক্য গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সেই সঙ্গে সংসদে দলের সংসদ সদস্য বিরোধী দলের ভূমিকা পালন অব্যাহত রাখবেন বলেও জানানো হয়েছে।
অধিবেশনে শোক প্রস্তাবসহ মোট চারটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। অন্যান্য প্রস্তাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মাদক, সামাজিক অবক্ষয়, স্বাস্থ্য খাতের সংকট, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা সংকট, ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ও মুসলিম নির্যাতনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, মুফতি আবদুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, মুফতি আবুল হাসান এমপি সহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্যরা।
আরও পড়ুন: জাতীয় নাগরিক পার্টির ১৯৫ সদস্যের পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন