ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

থানচিতে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি খাদে, নিহত ২


থানচিতে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি খাদে, নিহত ২

বান্দরবানের থানচি উপজেলার ডিমপাহাড়-টেন্ডুমুখ সড়কে একটি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় দুই পর্যটক নিহত হয়েছেন এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনাটি ঘটে সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে, যখন গাড়িটি টেন্ডুমুখ নৌঘাটের দিকে নামছিল। দুর্ঘটনাস্থল নৌ চেকপোস্ট থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে অবস্থিত।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত সামছু মিয়ার ছেলে মো. জিয়াবুল (৩৫) এবং মোজাহের হোসেনের ছেলে মো. জসিম ওরফে পালিশ (৩৭)। আহতদের মধ্যে আছেন শীষ মো. রাসেল (৩৮), লিটন সিকদার (৩৭), লিটন ড্রাইভার (৪০), কাদের হোসেন খলিফা কাদির (৪১) ও শাহজালাল হোসেন (৩৫)। নিহত ও আহত সকলেই কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে তরুণকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

স্থানীয় সূত্র ও বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, খুটাখালীর ওই পর্যটকরা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় চাঁদের গাড়িতে করে বান্দরবানের তিন্দু ও টেন্ডুমুখ এলাকায় ভ্রমণে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি ডিমপাহাড় থেকে টেন্ডুমুখের দিকে নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে গভীর খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস-এর নেতৃত্বে টেন্ডুমুখ বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে বিজিবির টহল দল ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চকরিয়া হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

আলীকদম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিয়েল চাকমা দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও পাঁচজন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, দুর্ঘটনার পর বিজিবির পক্ষ থেকে দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার বিষয়টিও সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে। নিহতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানচি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: চাটখিলে সাংবাদিক এস কে সৌরভের ওপর হামলার অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের নীতিমালা ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


মসজিদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের নীতিমালা ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুপারিশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি দেশের মসজিদগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়নের পাশাপাশি মসজিদে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করেছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ উত্থাপন করা হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল।

বৈঠকে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর, হজ ব্যবস্থাপনা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ওয়াক্‌ফ প্রশাসন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়। এ সময় ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি, জনবল, বাজেট, দফতর ও সংস্থাগুলোর ভিশন-মিশন, কার্যাবলি, উল্লেখযোগ্য অর্জন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়গুলো পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

উপস্থাপিত বিষয়গুলোর ওপর আলোচনা করে কমিটির সদস্যরা দেশের মসজিদগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন, মসজিদে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ এবং সরকারি খরচে হজে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেন।

এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত একই হাসপাতাল ও মিশনে দীর্ঘকাল ধরে কর্মরত ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত বদলির সুপারিশও করা হয়। মানুষের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই সুপারিশ করা হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, মো. জাহিদুর রহমান, নুরুল আমিন, সুবর্ণা সিকদার, মো. নুরুল আমীন, মোহাম্মদ আবুল হাসান এবং মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা, ট্রাস্ট ও ফাউন্ডেশনের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট তীব্র, লাহোরে পরিস্থিতি নাজুক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ পি.এম


পাকিস্তানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট তীব্র, লাহোরে পরিস্থিতি নাজুক

পাকিস্তানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটিতে বিদ্যুতের সামগ্রিক ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি হয়ে গেছে। একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণে ডিজেলের সংকটও দেখা দিয়েছে দেশটিতে।

এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) সূত্রে জানা যায়, দেশটির সংবাদমাধ্যম এআরওয়াই নিউজের বরাতে, কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ থাকার পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের হ্রাসের ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ঘাটতি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ প্রতিষ্ঠানগুলো (ডিসকো) লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বাড়িয়েছে। শহর ও গ্রাম উভয় এলাকার গ্রাহকদের দিনে তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে। কিছু কিছু এলাকায় হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখার সময়সীমা বেড়ে গেছে।

রাজধানী লাহোরে পরিস্থিতি সবচেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে। শহরটির বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছালেও সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৩ হাজার মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একটি বড় ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, গ্যাস সরবরাহে বিঘ্নের কারণে লাহোরে ডিজেলের সংকটও দেখা দিয়েছে বলে সূত্র জানাচ্ছে। এই কারণে শহরটির সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ফিডারের সামগ্রিক কারিগরি ও বাণিজ্যিক (এটিসি) ক্ষতির ভিত্তিতে লোডশেডিং করার কারণে কে-ইলেকট্রিকের (কেই) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ন্যাশনাল ইলেকট্রিক পাওয়ার রেগুলেটরি অথরিটি (নেপরা)। সংস্থাটি এ ধরনের লোডশেডিংকে অবৈধ ঘোষণা করে এটিসি ক্ষতির ভিত্তিতে অনির্ধারিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধকারী গ্রাহকদের ফিডারে ক্ষতির হার বেশি থাকার কারণে তাদের বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না বলেও জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

নেপরা আরও বলেছে, বিদ্যুৎ চুরি বা অন্য গ্রাহকদের অনিয়মের কারণে নিয়মিত বিল পরিশোধকারীদের শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। বিদ্যুৎ চুরিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে পুরো ফিডারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকের বিস্তার মহামারির পর্যায়ে, অভিযান শুধু বৈধ বারগুলোতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ পি.এম


মাদকের বিস্তার মহামারির পর্যায়ে, অভিযান শুধু বৈধ বারগুলোতে

দেশে অবৈধ মাদকের বিস্তার এখন আর শুধুমাত্র ভয়ানক অবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি মহামারির পর্যায়ে পৌঁছেছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে মাদক সেবীর সংখ্যা ৮২ লাখ। প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে হেরোইন, ফেন্সিডিল, ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ফেন্টানিল, ক্রোকোডিল (মাংস-খেকো মাদক), কোকেন ও ক্র্যাক কোকেন, এমডিএমএ বা এক্সট্যাসি, এলএসডির মতো প্রাণঘাতী মাদক। ইয়াবা এখন সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে।

তবে মাদকের বিস্তার রোধে দেশের একমাত্র সংস্থা ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর’ উল্লেখিত ভয়ানক মাদক ঠেকানোর পরিবর্তে কম ক্ষতিকর ও বৈধ মদের বারগুলোতেই অভিযান চালাতে বেশি আগ্রহী। দেশের বৈধ বারগুলোর মালিকরা সরকারী আইন-কানুন মেনে লাইসেন্স নিয়ে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং নিয়মিত সরকারকে ভ্যাট প্রদান করছেন। অথচ পারমিটবিহীন কেউ মদপান করছেন কিনা, এই অজুহাত তুলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এসব বারগুলোতেই অভিযান চালায়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঠিক মনিটরিং এবং দিক নির্দেশনার অভাবে, দুর্নীতির সাথে জড়িত কিছু কর্মকর্তা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। অভিযোগ রয়েছে, বারগুলোতে মাসোহারা পেতে দেরি হলেই তারা অভিযানে যান। কিন্তু ভয়ঙ্কর সব মাদকে দেশ সয়লাব হওয়ার দিকে তাদের নজর নেই। বন্ডেড ওয়্যারহাউজগুলোতে নারকোটিক্সের অভিযানের নিয়ম না থাকলেও, তারা সেখানে অভিযান চালাচ্ছে আইন ভঙ্গ করে। সম্প্রতি রাজধানীতে এমন একাধিক অভিযানের পর নারকোটিক্সের রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। বড় শিল্প গোষ্ঠীগুলো তাদের বিভিন্ন পণ্য বাজারে চড়া দামে বিক্রি ও প্রচার বাড়াতে ছোট-মাঝারি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানোর জন্য দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অভিযান পরিচালনা করছে।

অভিযোগ রয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় সবগুলো সংস্থা। তবে পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি, কোস্টগার্ড নিজেদের মূল দায়িত্বের বাইরে গিয়ে যে পরিমাণ অবৈধ মাদক দ্রব্য উদ্ধার করে এবং এর সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে, তার সিকিভাগও সাফল্য দেখাতে পারেন না নারকোটিক্স। মাঝে মাঝে কিছু ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসায়ীকে ধরলেও, তারা টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় এমন অভিযোগও রয়েছে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে, দু’একটি অভিযানের সামান্য সাফল্যের খবর তারা প্রচার করেন ঢাকঢোল পিটিয়ে বিশাল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে।

টাকা খরচ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের সফলতা জাহির করা হয়। এদিকে ভয়ঙ্কর সব মাদকের বিস্তার প্রসঙ্গে নারকোটিক্সের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "মদপান বা মদের বারগুলোতে প্রবেশ সহজীকরণ করা হলে ভয়ঙ্কর মাদক সেবনে অনিহা চলে আসবে। কাজেই মদ সহজলভ্য করা উচিত।"

২০২৫ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং আরএমসিএলের পরিচালিত জরীপ অনুযায়ী, দেশে মোট মাদকসেবীর সংখ্যা ৮,১৯৪,৬০৫ জন বা ৮২ লাখ। এটি মোট জনসংখ্যার ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ হিসেবে এটি মহামারির দিকে যাচ্ছে। একজন ব্যক্তি একাধিক ধরনের নেশায় আসক্ত হতে পারেন। ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে মাদক শুরু করেছেন। ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সি ৫৯ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ২৫ বছর বয়সে শুরু করেছেন। অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন, তারা ২০ বছর বা তার আগেই নেশা শুরু করেছে। জরীপ অনুযায়ী, ভয়ঙ্কর সব মাদক আসে দেশের বাইরে থেকে, বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত দিয়ে। ভারত সীমান্ত দিয়ে ফেন্সিডিল, গাঁজা ও হেরোইন এলেও ইয়াবা আসে টেকনাফের নাফ নদী হয়ে, যা মায়ানমারের তৈরি। কর্মকর্তারা জানান, আমাদের দেশে ইয়াবার কোনো কারখানার সন্ধান মেলেনি। জন্ম নিবন্ধন বড়ি দিয়ে বানানো ইয়াবা উদ্ধার হলেও সেটি আসলে ইয়াবার আদলে তৈরি। একমাত্র আমিন হুদার বাসার ভেতরে ইয়াবার কারখানাটি ছিল অরিজিন্যাল।

এদিকে নারকোটিক্স সূত্রে জানা যায়, মাদকের গডফাদার রয়েছে, এটি সত্য। তবে তাদের অবস্থান সর্বদা আড়ালে। ধরা পড়ে ছোটরা। সারাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মাদক বিক্রেতার সংখ্যা ২৩ হাজার। যদিও এ সংখ্যার হেরফের হয়। কারণ ত্রৈমাসিক জরীপের সময় এসব বিক্রেতার কেউ গ্রেফতার হন, কেউ জেলে থাকেন, কেউ বিদেশে পালিয়ে যান। আবার কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট বার লাইসেন্সের সংখ্যা ২৪৩টির মতো (যার মধ্যে হোটেল বার ১২৭টি, রেস্তোরাঁ বার ৬৪টি, ক্লাব বার ৪৮টি এবং রিসোর্ট বার ৪টি)। বিগত আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ মেয়াদকালে এর আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি মদের বার ও মাদকের লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছিল। তবে চব্বিশের পট পরিবর্তনের পর নতুন কোনো লাইসেন্স দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অপারেশ) মুকুল জ্যেতি চাকমা মঙ্গলবার ইনকিলাবকে বলেন, "মাদকের বিস্তার যে পর্যায়ে পৌঁচেছে তা নিয়ন্ত্রণ করা আসলেই চ্যালেঞ্জিং। সবার আগে পরিবার থেকে দায়িত্ব নিতে হবে যাতে কোনো তরুণ-কিশোর মাদকের সংস্পর্শে না আসে। এরপর রাষ্ট্রীয় বিষয়। মাদকের সঙ্গে জড়িতরা যাতে সহজে মুক্তি না পায়, সে বিষয়টি বিচার ব্যবস্থাকেও আমলে নিতে হবে। আইনজীবীদেরও ভূমিকা রয়েছে। যে সব ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকের অনেক মামলা রয়েছে, তার পক্ষে আদালতে না ওকালতি করা শ্রেয়।"

মাদকের সামাজিক বিস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "জেনেভা ক্যাম্পে সব সময় মাদক বিক্রি হয়। ক্যাম্পটির ভৌগোলিক অবস্থান, সেখানের বাসিন্দাদের সামাজিক মর্যাদা সব মিলিয়ে সেখানে অভিযান চালানো কষ্টকর। সরকারের উচিত আগারগাঁও বিএনপি বস্তির মতো জেনেভা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে সেখানে সরকারি অফিস আদালত তৈরি করা।"

মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র একক কোনো সংস্থার পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার সমন্বিত উদ্যোগ। মাদকের করাল গ্রাসে সমাজ বিপর্যস্ত হলেও মূল হোতা বা গডফাদাররা অতীতে যেমন ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে, এখনো তেমনই আছেন।

এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তারাই মাদক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে নিজেদের অর্থনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন। আবার মাদক মামলায় নিরপরাধ মানুষকে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে বা আসামিকে মামলা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে বড় অঙ্কের ঘুষ নেওয়া, জব্দকৃত মাদক ফেরত বা পরিমাণ কমানো, অভিযানে উদ্ধার করা ইয়াবা, ফেনসিডিল বা অন্যান্য মাদকের পরিমাণ কম দেখিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া কিংবা জব্দ করা আলামত সরিয়ে ফেলা, মাসিক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, "সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা আমাদের হাতে আছে। তাদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। এই অভিযান আরও তীব্র করা হবে।"

গত ১১ আগস্ট রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানাধীন কাদিপুর গ্রামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি অভিযানকে কেন্দ্র করে ১ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ, আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। রাজশাহী জেলা শাখার ‘খ’ সার্কেলের পরিদর্শক হেলাল উদ্দীনের নির্দেশনায় উপ-পরিদর্শক আল আমিনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়। গত ১ অক্টোবর নওগাঁর বদলগাছীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক সহকারী উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে এক নারী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ হাজারের পর আরও ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ ওঠে।

গত জুন মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ, চাঁদা দাবি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী ও লা পেসেতা ফ্যাশন অ্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক ফরহাদ বিল্লা রুবেল। জানা গেছে, দেশে মাদকের প্রবাহ রোধে কাজ করা সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রায় সময়েই বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হলেও বেশিরভাগ সময়েই সেই কমিটির প্রতিবেদন অন্ধকারেই থেকে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ বছর পর ভারতীয় দলে ডাক পেলেন গোবিন্দার জামাই নীতিশ রানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৩ পি.এম


৫ বছর পর ভারতীয় দলে ডাক পেলেন গোবিন্দার জামাই নীতিশ রানা

বলিউড হিরো গোবিন্দার জামাই নীতিশ রানা হংকং সুপার সিক্স প্রতিযোগিতায় ভারতীয় দলে সুযোগ লাভ করেছেন। ঐতিহ্যবাহী এই ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত হংকংয়ের তিন কাং রোড রিক্রিয়েশন গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘ ৫ বছর পর কলকাতা নাইট রাইডারের সাবেক এই ক্রিকেটার আবার ভারতীয় দলে ডাক পেলেন।

নীতিশ রানা ২০২১ সালে শেষবার ভারতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। তিনি আইপিএল ২০২৩-এর কেকেআরের অধিনায়কত্বের দায়িত্বও পালন করেছেন। এছাড়াও, একাধিক আইপিএল দলে খেলেছেন নীতিশ।

নীতিশ রানা দিল্লির হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেন। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটেছে, তবে সেভাবে সুযোগ পাননি। তিনি ভারতের হয়ে একটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।

এই টুর্নামেন্টে ভুবনেশ্বর কুমারও ডাক পেয়েছেন। ৬ জনের দলে রয়েছেন ভুবনেশ্বর কুমার, ক্রুনাল পান্ডিয়া, টি নটরাজন, নিতীশ রানা, রাহুল ত্রিপাঠী, রাহুল তেওয়াটিয়া ও শশাঙ্ক সিং।

এবার অনেকেই ভাবছেন, নীতিশ রানাকে তো সবাই চেনে। তিনি কীভাবে গোবিন্দার জামাই হলেন? জনপ্রিয় কমেডি শো ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল, যা শুনে সবাই অবাক হয়েছিল। আসলে গোবিন্দার ভাগ্নে কৃষ্ণা অভিষেক কপিল শর্মা শো-তে বলেছিলেন, নীতিশ রানার স্ত্রী সাঁচি মারওয়াহ চাচাতো বোন। সুতরাং, তিনি নীতিশ রানার শ্যালক হন। গোবিন্দার ভাইয়ের মেয়ে মারওয়াহের স্বামী হওয়ায় নীতিশ রানা জামাই হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%